Logo
 বর্ষ ১১ সংখ্যা ২৫ ১৪ই অগ্রহায়ন, ১৪২৫ ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ 
প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
এই সময়/রাজনীতি
ডায়রি/ধারাবাহিক
স্বাস্থ্য
খেলা
প্রতিবেদন
সাহিত্য সংস্কৃতি
বিশ্লেষন
সাক্ষাৎকার
প্রবাসে
দেশজুড়ে
অনুষ্ঠান
ফিচার ও অন্যান্য
নিয়মিত বিভাগ
দেশের বাইরে
প্রতিবেদন
 
http://sadiatec.com/
ঝিনাইদহ : ৭ম পর্ব- বারোবাজারের প্রাচীন নিদর্শন  

বাংলালিংক বাংলারপথে। চ্যানেল আই-এর একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। ধারাবাহিক এ অনুষ্ঠানের এক একটি পর্বে তুলে ধরা হয় দেশের একটি স্থান। তুলে ধরা হয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটন বিবরণ। ব্যাপক দর্শকপ্রিয় অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় রয়েছেন হাসান ইমাম চৌধুরী টিংকু। তার চিত্রনাট্য অনুযায়ী অনুষ্ঠানটির পর্ব অবলম্বনে সাপ্তাহিক-এর পাঠকদের জন্য এই স্পট ফিচার। এবারে থাকছে ‘ঝিনাইদহ’ বাংলালিংক বাংলারপথে অনুষ্ঠানটিতে এই পর্বে তুলে ধরা হয়েছে ঝিনাইদহর বিভিন্ন স্থান। সব স্থান একসঙ্গে উপস্থাপন সম্ভব নয়। তাই পর্ব ভাগ করে ঝিনাইদহর
স্পটগুলোকে তুলে ধরা হলো...

আরিফুর রহমান

ঝিনাইদহ শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণে কালিগঞ্জের বারোবাজার একটি প্রাচীন সমৃদ্ধনগরী। যার অনেক নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে পীরপুকুর মসজিদ। এই মসজিদটি ১৯৯৩ সালে প্রতœতত্ত্ব বিভাগ আবিষ্কার করে।  বারোবাজার সম্পর্কে একটি ধারণা দেই। লুপ্ত গৌরবের বারোবাজার কারা প্রতিষ্ঠা করেছিল তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। প্রাচীনকালে এ বারোবাজারের পরিধি ছিল ১০ বর্গমাইল। এই ১০ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে ছিল প্রাচীন ইটে ছড়াছড়ি। যা থেকেই প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সহযোগিতায় আবিষ্কৃত হয়েছে অনেক প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং প্রাচীন জলাশয়। বারোবাজারে মোট ১৬টি মসজিদ পাওয়া গেছে, এদের মধ্যে গোড়ার মসজিদ, সাদিকপুর মসজিদ, গলাকাটা মসজিদ, জোড়বাংলা মসজিদ, সাতগাছিয়া মসজিদ, মনোহর মসজিদ, নুনগোলা মসজিদ, শুকুর মল্লিক মসজিদ, পাঠাগার মসজিদ, জাহাজঘাটা হাসিলবাগ, নামাজগাঁও, শাহ সিকান্দারের বাড়ি ও পীরপুকুর মসজিদ। এই মসজিদগুলো আপনারা ঘুরে ঘুরে  দেখতে পারেন। মসজিদগুলো দেখে মনে হতে পারে যেন সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
বারোবাজারের প্রতিটি প্রাচীন নির্দশনের দূরত্ব খুব বেশি না। একটির পর একটি মসজিদ দেখতে পাবেন । প্রথমে গোড়ার মসজিদের পথ। ১৯৮৩ সালে প্রতœতত্ত্ব বিভাগ এই মসজিদটি আবিষ্কার করে। মসজিদটির পাশে গোরাই নামে একজন দরবেশের কবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার নামেই নাম হয়েছে গোরই মসজিদ। ধারণা করা হয় সুলতান হোসেন শাহ বা তার পুত্র নসরত শাহ এই মসজিদটি নির্মাণ করেছেন।
বারোবাজার এক সময় প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ রাজাদের রাজধানী ছিল। গ্রিক ইতিহাস থেকে জানা যায় এখানে গঙ্গা রিজি নামে এক শক্তিশালী জাতি বাস করত। এদেরও রাজধানী ছিল বারোবাজার। তখন এ এলাকার নাম ছিল গঙ্গা রিজিয়া। বারোবাজার সমতট রাজ্যের অধীন ছিল। হিন্দু ও বৌদ্ধ শাসন আমলে এ এলাকা সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল। পরবর্তীতে সুলতানি আমলেও বারোবাজার সমৃদ্ধি অর্জন করে। পালবংশ, সেনবংশ, মোগল, পাঠান, ইংরেজ বহুজাতি এই বারোবাজারের বুকে এসেছিল এবং কালে কালে সমৃদ্ধ হয়েছিল এ বারোবাজার। নিঃসন্দেহে বারোবাজারকে বাংলাদেশের প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনের অন্যতম স্থান বলা যেতে পারে। কারণ এত অল্প জায়গায় এতগুলো প্রাচীন স্থাপনার বা জনপদের চিহ্ন মহাস্থানগড় ছাড়া আর কোথাও তেমন দেখা যায় না। বারোবাজারের প্রাচীন গোড়ার মসজিদটিসহ সকল স্থাপনা আবিষ্কারের আগে মাটির ঢিবির মধ্যে লুকিয়েছিল।
 মসজিদটির পাশেই যে রাস্তাটি দেখবেন এটি তাহেরপুর রোড। এ রাস্তা ধরে এগুলেই এসব মসজিদ দেখতে পাবেন। এর পর দেখতে পারেন গলাকাটা মসজিদ । বারোবাজার এলাকায় যতগুলো মসজিদ প্রায় অক্ষত অবস্থায় আবিষ্কৃত হয়েছে তাদের মধ্যে গলাকাটা মসজিদ অন্যতম। এটি খননের সময় শাহ সুলতান মাহমুদ ইবনে হুসাইনের আমলের ৮০০ হিজরির আরবি ফারসিতে লেখা কয়েকটি পাথর পাওয়া গেছে যা থেকে গলাকাটা মসজিদের নির্মাণ সময় অনুমান করা যায়। সব মসজিদের সঙ্গেই একটি করে পুকুর রয়েছে। বারোবাজারে এ পর্যন্ত ১২৭টি প্রাচীন পুকুর আবিষ্কার হয়েছে। প্রাচীনকালে কোনো জনপদ গড়ে তুলতে প্রথম যে কাজটি করা হত তা হলো পুকুর বা দীঘি খনন। বারোবাজারের এলাকায় ১২৭টি পুকুরকে পুকুর খনন বিষয়ক একটি রেকর্ড হিসেবে ধরা যেতে পারে। যার মধ্যে সবচেয়ে গভীর পুকুরটি হচ্ছে পীরপুকুর।  গলাকাটা মসজিদ। বহুবছর এই মসজিদগুলো লোকচক্ষুর অন্তরালে মাটির ঢিবির নিচে চাপা পড়ে ছিল। এলাকায় মাটি খুঁড়তে গিয়ে বা চাষাবাদের সময় বেরিয়ে এসেছে এসব মসজিদ। ১৯৬১ সালে সর্বপ্রথম প্রতœতত্ত্ব বিভাগের জরিপে এই এলাকায় প্রাচীন জনপদের নিদর্শন সম্পর্কে তথ্য বেরিয়ে আসে। খননের সময় শুধু এই প্রাচীন স্থাপনাগুলোই নয়, বেরিয়ে এসেছে ব্যস্ত জনপদের নিদর্শন, মানুষ এবং পশুদের কংকাল, মুদ্রা, অস্ত্র, তৈজসপত্র, শিলালিপি, হাতে লেখা কোরান শরিফসহ অনেক মূল্যবান নিদর্শন। যা বাংলাদেশের প্রতœতত্ত্বকে করেছে সমৃদ্ধ।

 বাংলালিংক বাংলার পথে প্রচারিত হয় চ্যানেল আইতে প্রতি মঙ্গলবার
রাত ১১টা ৩০ মিনিটে

অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে যে কোনো তথ্য ও মতামত জানাতে
ই-মেইল করুন :
tinkutraveler@gmail.com

Bookmark and Share প্রিন্ট প্রিভিও | পিছনে 
নিয়মিত বিভাগ
  • [স ম্পা দ কী য়] ভিকারুননিসা নয়, শিক্ষাব্যবস্থারই সংকট
  • ভারতে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি বাড়ছে
  • [পাঠক ভাবনা] ভূমি ও প্লট ক্রয়ে রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক শুল্ক ফি
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.
    বর্তমান সংথ্যা
    পুরানো সংথ্যা
    Click to see Archive
    Doshdik
     
     
     
    Home | About Us | Advertisement | Feedback | Contact Us | Archive