আবের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ রদবদল

Print Friendly and PDF

জা পা ন

রাহমান মনি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে তার মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগসহ ব্যাপক রদবদল করেছেন। ৩ জুলাই ২০১৭ বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগকৃতদের মধ্যে অভিজ্ঞ আইনপ্রণেতা তারো কোনোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইৎসুনোরি অনোদেরাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করেন।
২৯ জুলাই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী তোমোমি ইনাদা পদত্যাগপত্র দাখিল করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন আবে। আর কিশিদা এমনি এক সময় দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান যখন মিশাইল নিক্ষেপ নিয়ে জাপান-উত্তর কোরিয়া চরম উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় এবং উভয় দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পতিত।
প্রধানমন্ত্রী আবের কেবিনেটের অত্যন্ত পরাক্রমশালী প্রতিরক্ষামন্ত্রী তোমোমি ইনাদা (৫৮) ২৯ জুলাই ২০১৭ পদত্যাগ করার ঘোষণার পর মন্ত্রিসভার রদবদল ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। হয়েছেও তাই। কট্টর রক্ষণশীল মনোভাবাপন্ন এবং আবের অত্যন্ত কাছের ও বিশ্বস্ত মন্ত্রী হিসেবে তোমোমি ইনাদাকে জাপানের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাবতে শুরু করেন অনেকেই। ইনাদার পরিচালনায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা ভুলভ্রান্তি এবং তথ্য লুকোচুরির ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী আবের জনপ্রিয়তা দিন দিন ক্রমাগত হ্রাস পেতে শুরু করে। একপর্যায়ে তা সর্বনিম্ন ৩০%-এর নিচে নেমে যায়। তাই আবের কেবিনেটে রদবদল অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে দেখা দেয়। আবেও তা অনুধাবন করতে পারেন এবং জনপ্রিয়তা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের ফিরিয়ে নিয়ে এবং নবাগতদের সুযোগ দিয়ে জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনার কৌশল অবলম্বন করেন।
২০১২ সালে দ্বিতীয়বার এবং একটানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণের পর এবারের রদবদল ছিল আবে প্রশাসনের চতুর্থবারের মতো রদবদল।
নতুন মন্ত্রিসভায় আবে ৬ জনকে নতুন নিয়োগ (যাদের ইতিপূর্বে মন্ত্রিসভায় কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না) এবং ১৩ জন (যাদের মন্ত্রিসভার অভিজ্ঞতা রয়েছে) নিয়োগ বা পুনঃনিয়োগ দেন। ফুমিও কিশিদা এবং কোযো ইয়ামামোতোদের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের তিনি দলীয় কাজে পুনঃনিবেশ করার জন্য মন্ত্রিসভার বাইরে রাখেন।
নতুন মুখদের মধ্যে কেন সাইতো (৫৮)-কে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় কৃষি, বন ও মৎস্য সম্পদ- এই তিনটি বিভাগকে নিয়ে গঠিত একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন। জাপানে এই মন্ত্রণালয়টির গুরুত্ব অপরিসীম। ২০১২ সালে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা মন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশিকে পুনরায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন।
আবে কেবিনেটের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী এবং সবচেয়ে বর্ষীয়ান মন্ত্রী তারো আসো (৭৮)-কে এবং সরকারের মুখপাত্র (চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি) ইয়োশিহিদে সুগাকে স্বপদে পুনর্বহালসহ ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরিক কোমেইতো পার্টির আইনপ্রণেতা কেইচি ইশিই (৫৯)-কেও মন্ত্রিসভায় পুনঃনিয়োগ দেন। এছাড়াও বিচার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব ইয়োকো কামিকাওয়া (৬৪)-কে পুনরায় নিয়োগ দান করেন।
নতুন মন্ত্রিসভায় ২ জন নারীর অংশগ্রহণসহ মোট ২০ জন সদস্য (আবেসহ) স্থান হয়। এদের মধ্যে তারো আসো সর্বোচ্চ ৭৬ বছর এবং হাচিরো অকোনোসি সর্বনিম্ন ৫২ বছর বয়সী এবং মন্ত্রীদের গড় বয়স ৬১.৬ বছর। প্রধানমন্ত্রী আবের হাতে কোনো মন্ত্রণালয় রাখা হয়নি এবং মাসাজি মাৎসুয়ামাকে ৮টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়াও কেনতারো সোনোউরাকে বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে ৫ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।
সকালে মন্ত্রিপরিষদ রদবদল করে বিকেলে স্বীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন আবে। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আবে মন্ত্রিসভার রদবদলের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ বর্ণনা দেন।
বিকেল ৬টায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আবে প্রথমেই তার মন্ত্রিপরিষদের একাধিক অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য জাপানি জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
আবে বলেন, জাপানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন নিয়োগকৃত সদস্যদের সহযোগিতায় আমি তার ব্যাপারে আশাবাদী। নতুন সদস্যদের অনেকেই বেশ অভিজ্ঞ। ইতোমধ্যে তারা সে স্বাক্ষরও রেখেছেন। একেবারে নতুন সদস্য হিসেবে যারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তারাও আশা করি তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখবেন।
২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য টোকিও অলিম্পিক এবং প্যারা অলিম্পিককে সামনে রেখে বহিঃবিশ্বে জাপানকে নতুন আঙ্গিকে পরিচিত করাতে হবে। এর আগে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ রাগবী ফুটবল প্রতিযোগিতা। নতুনভাবে জাপানকে পরিচিত করানোর এটাই মোক্ষম সময়। এই সুযোগকে আমরা কাজে লাগাতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আবে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে আবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.