'প্রাইভেট ইউনির্ভাসিটিগুলোকে নিয়ে নতুন করে চিন্তা করতে হবে'

Print Friendly and PDF

মো. রফিকুল ইসলাম
চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাস্টি, ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি, কুমিল্লা
সিইও, রিকো ইন্টারন্যাশনাল, রিকো ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস



মো. রফিকুল ইসলাম নন রেসিডেন্স বাংলাদেশি উদ্যোক্তা দেশি-বিদেশি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি কুমিল্লার ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান। এই উদ্যোক্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজু আলীম

সম্প্রতি আপনি ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি কুমিল্লার ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
মো. রফিকুল ইসলাম : পৃথিবীর যে কোনো দেশের জন্যে শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর বিষয়। মাত্র ৪ বছরের ভেতরে ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি দিয়ে আমরা আল্লাহ মেহেরবান অনেক দূর এগিয়ে গেছি। আমাদের প্রথম ব্যাচের ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করা শিক্ষার্থীরা সেন্ট পারসেন্ট বর্তমানে জব পেয়ে গেছে। এই উপলব্ধি মাথায় রেখেই আমি এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছি। এবং আশা করি- বাংলাদেশের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোকে নিয়ে নতুন করে চিন্তা করতে হবে সবকিছু। এই ব্যাপারে আমি বাংলাদেশে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি সমিতির সঙ্গেও কথা বলব আমার অবস্থান থেকে। কারণ আমি  ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদেশে বিভিন্ন উন্নত বিশ^বিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার। যে সব বিশ^বিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং অনেক হাই- টপ টু হানড্রেড বা টপ ওয়ান হানড্রেডের মধ্যে যেসব ইউনিভার্সিটিগুলোর নাম আছে, বিশে^র এই সব বিশ^বিদ্যালয়গুলোর কাজ আমার কাছে থেকে দেখার সুযোগ হচ্ছে। এই সব অভিজ্ঞতার আলোকে আমি চাই- কুমিল্লার ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটিকে সেইভাবে তৈরি করবে নিজেকে।

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোর নীতিমালা অনুযায়ী বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সময়কাল নির্ধারিত আছে। সেই ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই সব নীতিমালা অনেকে লঙ্ঘন করছেন। ইউজিসি এবং মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা সবাই কী সঠিকভাবে পালন করছে?
মো. রফিকুল ইসলাম : ২০১০ সালে সরকার বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় অ্যাক্ট যেটা করেছে। এই নীতিমালাটি অত্যন্ত সুন্দর। এই নীতিমালা যদি আমরা সবাই ফলো করি অর্থাৎ ট্রাস্ট বোর্ড, ফ্যাকাল্টিস এবং আদার্স রিলেটেড বোর্ড সবাই এই নীতিমালার ভেতরে থেকে সবকিছু পরিচালনা করলে এই বিতর্ক থাকে না। প্রতিটি বিশ^বিদ্যালয়ের একটি ট্রাস্টি বোর্ড থাকে। যেটি সোসাইটি এবং জয়েন্ট স্টক কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই কোম্পানির গঠনতন্ত্র যদি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয় তাহলে কোনো প্রকার দ্বন্দ্ব সংঘাত কেস মামলা কোনো কিছুই হয় না। সরকারের নিয়মে আছে- যদি বেশি দ্বন্দ্ব দেখে তাহলে সরকার ওই পরিচালনা পর্ষদকে বিলুপ্ত করতে পারেন। সরকার কোনো পরিচালক নিয়োগ করে প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবেন। ছাত্ররা কোনো অবস্থাতেই এফেক্টেড হবেন না, আইনে সেই বিষয়ে পরিষ্কার উল্লেখ আছে। তারপরেও আমি বলব যে, উদ্যোক্তা যদি সতর্ক থাকেন তাহলে  কোনো সমস্যা হওয়ার অবকাশ একদমই নাই। সবাইকে নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে হবে।

আপনাদের বিদায়ী চেয়ারম্যান যিনি ছিলেন তাকে নিয়ে বিতর্ক ছিল এবং তিনি অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। তাকে অপসারণের পর বর্তমানে আপনি চেয়ারম্যান নিয়োজিত হয়েছেন- এই সম্পর্কে জানতে চাই?
মো. রফিকুল ইসলাম : কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে গেছি। আমরা সবাই কিন্তু পেছন থেকে তখন কাজ করেছি। কারণ আমাদের যিনি চেয়ারম্যান, যার কথা আপনি বলেছেন যে, তার কিছু ভুলভ্রান্তির কারণে তিনি দুদকের মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছে। তিনি ইংল্যান্ডেই স্থায়িভাবে বসবাস করেন এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা অনেক কঠিন। আমরা পদে না থাকলেও যেহেতু আমরা মেম্বার-আমরা আমাদের বুদ্ধি বিবেচনা এবং পরামর্শ  দিয়েছি। বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় কীভাবে চলে? আইনগতভাবে পরিষ্কার বিশ^বিদ্যালয় পরিচালনা করেন ভিসি এবং তার সহযোগীরা। আমরা পরিচালনা পরিষদ পাশে থেকে নীতিমালা, বাজেট আর অন্যান্য কমিটি তৈরি করার ব্যাপারে ভূমিকা রাখি। আর ভিসি তার বাহিনী নিয়ে আমাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।
বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় অ্যাক্ট ২০১০ বাস্তবায়ন এবং সরকারি মনিটরিং বিষয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
মো. রফিকুল ইসলাম : বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় অ্যাক্ট ২০১০ যদি সবাই কঠোরভাবে ফলো করে এবং ইউজিসি বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যে মনিটরিং কমিটি আছে তারা যদি প্রতিনিয়ত মনিটরিং করেন তাহলে অনেক সুফল আসবে। তবে সরকার সক্রিয় আছে এই ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে। আপনারা জানেন, ইতোমধ্যে ৫টি বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে।  একটা উদাহরণ দেই ২০ হাজার ছেলে আছে আমাদের দেশের কয়েকটা ইউনিভার্সিটিতে। এক মাসে তার রেভিনিউ কত আসে? এই টাকাগুলো কোথায় তারা ব্যয় করছে? শত শত কোটি টাকা মাসে রেভিনিউ আসছে- এটা তারা কোথায় ব্যয় করছে? এই বিষয় সরকারকে আরও ইনটেনসিভলি দেখা দরকার এবং সরকারের জনবল আরও বাড়ানো দরকার। আমার সুপারিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের প্রতি, অবশ্যই এই মনিটরিংটা যেন আরও নিবিড়ভাবে করা হয়।

বিদেশে স্টুডেন্ট মাইগ্রেশনে অনেক ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি লক্ষ্য করা যায়। স্টুডেন্টস মাইগ্রেশনে যে আন এথিক্যাল বিজনেস এবং ক্রাইম হচ্ছে তা ফাইন্ড আউট করে সমাধান করা যায় কীভাবে?
মো. রফিকুল ইসলাম : বিদেশি ইউনিভার্সিটির নিয়মে পরিষ্কার লেখা আছে যে, আমি কোনো ছাত্রের টিউশন ফি নগদ গ্রহণ করতে পারব না। সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা ইউনিভার্সিটিতে পাঠাতে হবে। আর যদি টিউশন ফি ফ্রি হয় যেমন, জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার অনেক ইউনিভার্সিটি- দে ডোন্ট চার্জ এনি টিউশন ফিস। সেই ক্ষেত্রে আমরা তো সরাসরি টিউশন ফি নেয়ার অধিকারই রাখি না, আইন অনুযায়ী।

আপনি বিজনেস শুরু করেছিলেন রিকো ইন্টারন্যাশনাল বা রিকো ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এর মাধ্যমে। আপনার নিজস্ব ঘরানার ব্যবসা থেকে বেরিয়ে এডুকেশনের মতো স্পর্শকাতর সেক্টরে বিনিয়োগ করলেন কেন?
মো. রফিকুল ইসলাম : কুমিল্লাতে বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে কারণ ছিল এই যে, আমরা ১০ জেলা থেকে ফাউন্ডার মেম্বাররা একত্রিত হয়েছি। তারমধ্যে কুমিল্লারও দুই-তিনজন আছেন। আমি এই স্বপ্নটা যখন দেখি তখন আমার মনে আছে- আমাদের ফাউন্ডার মেম্বার তপন সাহেবের একটি কলেজ ছিল ম্যানচেস্টারে। সেই কলেজে আমি ভিজিটে গিয়ে তার সঙ্গে আমার টেবিল টক হচ্ছিল। সেখানে বসে আমরা স্বপ্ন দেখলাম আমরা দেশে একটি ইউনিভার্সিটি করব? সম্ভবত ২০১১ সালের শুরুর দিকে বিশ^বিদ্যালয়ের অনুমোদনের জন্যে আবেদন করি। তখন ঢাকাতে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্যাচুরেটেড হয়ে গেছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। আর জানতে পারলাম যে, ইউজিসি বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় নৈতিক সিদ্ধান্তে এসেছে যে, ঢাকাতে প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়ের অনুমোদন আর দেয়া হবে না। কুমিল্লাতে ওই সময়ে কোনো প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ছিল না। আমরা রিসার্চ করলাম বিভিন্ন জেলাতে ভালো ভালো বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তাই মনে হলো কুমিল্লা তিনটি কারণে প্রায়োরিটি পায়। নাম্বার ওয়ান- কুমিল্লাতে ওই সময় কোনো বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় নাই। দুই নাম্বার হলো, কানেকটিভিটি অর্থাৎ ঢাকা থেকে টিচাররা গিয়ে ওখানে ক্লাস নিতে পারবেন। তখনকার চিন্তায় ফোর লেন খুব শিগগিরই হয়ে যাবে। তৃতীয় কারণ হলো- কুমিল্লার মানুষ ঐতিহাসিকভাবে শিক্ষানুরাগী। একজন গরিব মানুষ যে কৃষক- ক্ষেতে আলু বা পটোল উৎপাদন করেন যিনি, তিনিও স্বপ্ন দেখেন তার সন্তান বিশ^বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবে। এই সামাজিক বোধ কুমিল্লার মানুষের মধ্যে আছে। এই সব ইতিবাচক দিকগুলোকে আমরা তখন প্রাধান্য দিয়েছিলাম।

আপনাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা হিসাবে আর কারা রয়েছেন আপনার সঙ্গে?
মো. রফিকুল ইসলাম : কোনো না কোনোভাবে শিক্ষার সঙ্গে জড়িত সবাই আছেন আমাদের সঙ্গে। ম্যাবস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী। তিনি শিক্ষার সঙ্গে আছেন। বুয়েটের একজন কৃতী ছাত্র প্রকৌশলী তিনি। মাজহারুল ইসলাম তপন আমাদের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান। তিনি ইংল্যান্ডে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত। মঈনুল ইসলাম আছেন, তিনিও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত- একজন রিসার্চার। আরও একজন আছেন ব্রিটেনের নামকরা প্রকৌশলী আবদুর রহমান ইমরান। তিনি ব্রিটানিয়ার একজন গর্বিত সদস্য। ফাউন্ডার মেম্বার আরেকজন সৈয়দা রওনক আবজা। তিনি একজন ডক্টরেট ডিগ্রিধারী। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসর ছিলেন। বর্তমানে কানাডার একটি বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। জেসমিন জাহান আছেন এই বিশ^বিদ্যালয়ের সঙ্গে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইকোনমিক্স থেকে তিনি পড়াশোনা করেছেন। তিনিও ইংল্যান্ডে কলেজ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। এরা সবাই স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। আমরা চাচ্ছি সবাইকে নিয়ে ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটিকে বিশ^মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.