[স্মরণ] যেই গল্পটা কেউ জানে না

Print Friendly and PDF

তাবাস্সুম নীহাল
বার্ষিক আনন্দভ্রমণ উপলক্ষে বিজ্ঞাপনী সংস্থা মাত্রা কক্সবাজার যায় ২৮ জুলাই, ২০১১। ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় অনাকাক্সিক্ষত এবং আকস্মিক এক দুর্ঘটনায়, সমুদ্রে প্রাণ হারায় মাত্রার তিন তরুণ কর্মী- আবিদ, আশিক, মুত্তাকিন। গত ২৯ জুলাই ছিল তাদের ষষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী।


সূর্য ডোবা শেষ। আজান হয়ে গেছে। আলো কমে অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে, তবুও ওদের আসার কোনো খবর নাই! আলম স্যার একটু রাগ করে একজন স্টাফকে পাঠিয়ে দিলেন দেখে আসার জন্য। সঙ্গে বললেন- “গিয়ে বলবা যে, আমরা খুবই রাগ হচ্ছি, এখনো কেন আসছে না?” প্রবীরদা বলল- “একটু আগেও ওদেরকে দেখছিলাম, এই কাছাকাছিই ছিল। হঠাৎ এখন আর দেখা যাচ্ছে না! কই গেল?” বিচে যেখানে খেলা হচ্ছিল, সেখানে এক পাশে বাঁশ দিয়ে বেড়ার মতো বানানো। আমরা সবাই ঐ জায়গায়ই ওদের চারজনের জন্য অপেক্ষা করছি- আবিদ, আশিক, মুত্তাকিন আর অভি ভাইয়া। হালকা ঘোরাফেরা, কথাবার্তা, গুনগুন গান, দুষ্টামি, ছবি তোলা চলছে। একটু পরে সেই স্টাফ ছেলেটা হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ে এসে জানালো- ওরা ঐদিক থেকে বিচে উঠছে। হাঁটতে হাঁটতে অনেকদূর চলে গিয়েছিল, এদিকে ফিরতে গেলে আরও অনেক বেশি সময় লাগবে, তাই। যাক বাবা, এখন শান্তি। এতক্ষণ সবাই একটা উচাটনের মধ্যে ছিলাম। আতিক ভাই বলল- “আমি সামনে এগিয়ে দেখি, কোনদিক থেকে উঠছে। ওদের কাছে তো ফোন নাই, তাই জানাও যাচ্ছে না।” বলে একটু দ্রুত পায়ে হাঁটা দিল। যেখানে মাইক্রো রাখা আছে, আমরা সেদিকে হেঁটে আগাতে ধরলাম। আমার হাতে আবিদের চশমা। আর আমার কাছে ওর স্যান্ডেল রেখে গিয়েছিল। ওর স্যান্ডেল জোড়া এখন কীভাবে নিবো? হাতেই তুলে নিয়ে হাঁটা দিলাম। এগিয়ে গিয়ে দেখি, যেখানে মাইক্রো থাকার কথা, সেখানে নাই। আমাদেরই অন্য একজন স্টাফ সেখানে দাঁড়ানো দেখলাম। ওকে জিজ্ঞেস করা হলো- গাড়ি কই? বলে- “স্যার, ঐ যে ভাইয়ারা এদিক দিয়ে উঠে গাড়ি নিয়ে চলে গেছে। বলল- তাড়াতাড়ি চল্, স্যাররা আসার আগে গাড়ি নিয়ে হোটেলে চলে যাই। তাহলে আর আমাদের বিচ থেকে দেরি করে উঠার জন্য বকা দিতে পারবে না!” এই বলে সে পারলে হেসে গড়াগড়ি খায় আর কী! এদের শয়তানি বুদ্ধি দেখে হাসব নাকি কাঁদব, আমরা বুঝি না! পরে টমটম গাড়ি ডেকে আমরা সেটাতে করে হোটেলে গেলাম ভাগেভাগে। আমি তো মহাখুশি। কারণ বিকেলে হোটেল থেকে বিচে যাওয়ার সময় আমি টমটমে চড়তে চেয়েছিলাম, আবিদ গাড়িতে। হয়েছিল উল্টা। স্যার আমাদের নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়েছিল দেখে আবিদদের যেতে হয়েছিল টমটমে। ওরা গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়াতে আমার শখ পূরণ হলো।
আমরা গিয়ে নামলাম হোটেলের সামনে। আরেফীন স্যার কিছু বলতে নিবে ওদেরকে, তার আগে আলম স্যারই বকা দিতে ধরলেন- “আরেফীন বারবার বলে দিল তোমাদেরকে, বেশি দূরে যাবা না, একদম দেরি করবা না! কেন যে তোমরা কথা শুনো না, সেটাই বুঝি না!” আরেফীন স্যার দেখলেন, উনার আর কিছু বলার দরকার নাই। নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে বললেন- “রুমে যাও, হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি নিচে আসো, যাও।” আবিদ আলম স্যারের কাছে গিয়ে আস্তে করে বলল- “স্যার, আপনিও যদি বকা দেন, তাহলে আমরা যাবো কই?” মানুষকে পটায় ফেলতে সে যে কী ওস্তাদ! স্যার আর কী বলবে এরপর! খালি বললেন- “আমাদের যে টেনশন হয়, সেটা তো বুঝো না তোমরা!” ততক্ষণে বাকি তিন বান্দাও আবিদের পিছে এসে দাঁড়িয়েছে। সবাই একসঙ্গে বলতে থাকল- “আর হবে না স্যার। আসলে যেদিক দিয়ে নেমেছিলাম, ওদিক দিয়ে উঠতে ধরে দেখি পানি বেশি। তাই আমরা কম পানির জায়গা খুঁজতে খুঁজতে দূরে চলে গিয়েছিলাম। সরি স্যার।” পরে আলম স্যারও উনার রুমে চলে গেলেন। এতক্ষণে আবিদের মনে পড়ল তার স্যান্ডেল আমার কাছে। আমার হাত থেকে নিতে যাবে, আমি দিব না! বললাম- “তুই তো পানিতে নামার আগে আমাকে বলেই গেলি, এই স্যান্ডেল আমার। তাহলে আবার কী? চাস কেন?” আমি দিবোই না, হাত পিছনে নিয়ে ঘুরেই যাচ্ছি, হাতে লাল স্যান্ডেল জোড়া। আর আবিদও ঘুরছে সঙ্গে সঙ্গে- “দে না, দে না” করতে করতে! পরে বলল- “দে রে মা, আর স্যান্ডেল আনিনি, জুতা পরে আসছি। এখন কি আমি জুতা পরে থাকব? ঢাকায় ফিরে তোকে দিয়ে দিব স্যান্ডেল, কসম। এখন প্লিজ দে।” তারপর দিলাম স্যান্ডেল। এরমধ্যে মুত্তাকিন আসল। এসে ওর মানিব্যাগ চাইল। আমার ছোট ব্যাগের মধ্যে আবিদ আর মুত্তাকিনের মোবাইল আর মানিব্যাগ। পানিতে নামার আগে আমার কাছে রেখে গিয়েছিল। আমি বলেছিলাম- “ঠিক আছে, মানিব্যাগের মধ্যে যা আছে, সব আমার।” মুত্তাকিন বলেছিল- “হ্যাঁ হ্যাঁ, কোনো অসুবিধা নাই।” তাই এখন ফেরত দেওয়ার সময় খুলে দেখলাম- কী আছে, কিছু নিয়ে দুষ্টামি করা যায় কিনা। ও মা! খুলে দেখি- মাত্র একটা ১০ টাকার নোট। বললাম- “মাত্র একটা ১০ টাকা!” আমার হাত থেকে মানিব্যাগ নিতে নিতে হাসে- “হ্যাঁ, সেজন্যই তো নিশ্চিন্তে তোমার কাছে দিয়ে গিয়েছি।” বলে হা হা করে হাসি! আর আশিক পিছে থেকে শুধু বলল- “এইজন্যই তো তোমার কাছে দিয়ে যাইনি, কারণ তোমাকে কমিশন দেওয়া লাগবে!” বলে সে নিজে হাসে না, বাকিরা হেসে অস্থির। আমরা কথা বলতে বলতে আগাচ্ছি রুমের দিকে- আবিদ, আশিক, মুত্তাকিন, অভি ভাইয়া, রিতু আপু আর আমি। অভি ভাইয়া একটু সিনিয়র ভাব দেখায়ে বলল- “আমি তো আমার পকেটে করেই নিয়ে গেছি। তোরা আবার এইসব রেখে গেছিস কেন?” বলতে বলতে ওরা ওদের রুমে ঢুকল। আবিদ আমাকে আর রিতু আপুকে বলে গেল- “তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে নাম। বেশি সময় লাগাবি না।” ওকে মুখ ভেঙায়ে আমরা আমাদের রুমে ঢুকে গেলাম। হাতমুখ ধুয়ে অন্য জামা পরলাম। দেখি- রিতু আপু শাড়ি পরছে। এই মহিলা পারেও! সুযোগ পেলেই শাড়ি পরে। আপুর শাড়ির কুঁচি ঠিক করে দিচ্ছি- এর মধ্যে ফোন। রিংটোন বাজছে- আই লাইক টু মুভ ইট মুভ ইট, মাদাগাস্কার মুভির গান। আবিদ কল দিলে এটা বাজে। বুঝলাম- যাওয়ার জন্যই ডাকছে, তাই ধরলাম না। রিং শেষ হতেই আবার কল। তখন ধরে বললাম- “আসছি বাবা, এই যে বের হচ্ছি রুম থেকে।” রীতিমতো ধমক- “জলদি আয়। স্যাররা চলে এসেছে তো।” ফোন রেখে রুম লক করে আমরা নিচে নামলাম।
নেমে দেখি- মোটামুটি বাকি সবাই চলে এসেছে। বড় একটা রুম আমাদের জন্য গুছিয়ে রাখা। ঢুকতেই অভি ভাইয়ার মুখোমুখি। রিতু আপুকে শাড়ি পরা দেখে ডায়লগ- “ওওও! এইজন্য আপনাদের এত দেরি!” পাত্তা না দিয়ে ভিতরে গেলাম। আবিদ, আশিক, মুত্তাকিন আর আতিক ভাই দেখি কী নিয়ে যেন ফিসফিস করে কথাবার্তা বলছে। আমরা কাছাকাছি যেতেই চুপ। এবং একই পদের ডায়লগ আবার- “ওরে বাবা! কত্ত এনার্জি! সারাদিন শেষে এখন আবার শাড়ি!” বুঝলাম- আমরা যাওয়াতে ওরা প্রোগ্রামের কথা বাদ দিয়ে অন্য কথা বলছে। কারণ বিচে যাওয়ার সময় আবিদ আর মুত্তাকিন আতিক ভাইকে বারবার বলছিল- “ভাই, বিচ থেকে ফিরে কিন্তু আপনার সঙ্গে বসতে হবে আমাদের। প্রোগ্রামটা সাজানো লাগবে।” সেই কথা মনে করে আর উত্তর না দিয়ে রিতু আপুকে হাত ধরে নিয়ে গিয়ে বসলাম এক জায়গায়। একটু পর শুরু হলো প্রোগ্রাম। আসলে আমরা আমরাই তো। অত ফরমাল কিছু না। নিজেরা একটু মজা করা, আড্ডা দেওয়া, গল্প করা, এই উদ্দেশ্য। আবিদ উপস্থাপকের ভূমিকায়। সঙ্গে আতিক ভাই। সাপোর্ট দেওয়ার জন্য পিছেই আছে বাকি তিনজন- আশিক, মুত্তাকিন আর অভি ভাইয়া। শুরুতে আরেফীন স্যারকে কিছু বলতে বলা হলো। স্যার শুরু করলেন সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে। দুইটা দিন সবাই একসঙ্গে হৈ হুল্লোড় করে কেটে গেল। পরদিন আমরা ফিরব ঢাকায়। তারপরের দিন থেকে অফিস। কাজেই মন খারাপ, রাগারাগি, কষ্ট, ক্লান্তি সব যেন এখানেই ফেলে রেখে যাই; ফ্রেশ মন নিয়ে নতুন করে আরও ভালোমতো যেন কাজ করি; রেষারেষি না করে দল হয়ে, অফিসের দিকে নজর দিয়ে যেন সবাই হাত ধরাধরি করে সামনে আগাই; সেই কথা বললেন। স্যারের কথা শেষ হতেই আমরা সবাই হাততালি দিলাম। আবিদের কিন্তু মনে মনে অন্য বুদ্ধি। স্যার মাইক রেখে দিচ্ছেন, আবিদ বলে- “স্যার, কিছু একটা তো করতে হবে।” স্যারের চক্ষু চড়কগাছ! কিছু একটা করতে হবেÑ মানে কী? স্যারের বোকা বোকা তাকানো দেখে আবিদ পরিষ্কার করে বলল- “স্যার, আজকে সবাইকে একটা না একটা কিছু করে দেখাতেই হবে। হয় গান গাইতে হবে, নাহলে নাচতে হবে, নাহলে কৌতুক বলতে হবে, নাহলে অভিনয় করে দেখাতে হবে, নাহলে কাউকে নকল করে দেখাতে হবে। আপনি কোনটা করবেন স্যার? যেইটা আপনার খুশি, কিন্তু করতে হবে।” পাশে থেকে আতিক ভাই, পিছন থেকে সাপোর্টিং পার্টি আবিদের কথার পক্ষে ভোট দিয়ে এই আইডিয়া পাস করে ফেলল। স্যার কী করবেন! পরে বললেন- “দেখো, আমি কোনোদিনই ওগুলো পারি না। তোমাদের যে বস পারে, তার তো আজকে সকালে কাজ আছে দেখে গতকাল তোমরা পৌঁছানোর পরেই চলে গেছে। আমাকে এসব করতে বলো না। আমি বরং আমাদের কাজ শুরুর দিকের একটা গল্প বলি। তোমরা অনেকে নতুন এখানে। তোমাদের কাজে লাগবে।” তারপর স্যার মাত্রার শুরুর সময়ের গল্প বললেন- কত কষ্ট, কত পরিশ্রম করতে হয়, ধৈর্য ধরতে হয় একটা নতুন জিনিস দাঁড় করাতে গেলে। আমাদের ক্যারিয়ার মাত্র শুরু, আমরা যেন সেটা সবসময় মনে রাখি। শুরুতেই সব পাওয়া লাগবে- এমন ভেবে উতলা বা অস্থির যেন না হয়ে যাই। বলা শেষ করে স্যার জানতে চাইলেন- আমরা এগুলো মনে রাখবো কিনা? সবাই বললাম- হ্যাঁ স্যার, মনে রাখব। নিজের জায়গায় ফিরে গিয়ে বসতে বসতে স্যার বললেন- “আমাকে ছাড় দিয়েছো, ঠিক আছে। কিন্তু তোমাদের আলম স্যারকে ছেড়ো না কিন্তু! উনি কিন্তু নায়কও হয়েছেন!” আরেফীন স্যারের দুষ্টামিতে সবাই হাহা করে হেসে উঠল। এবার আলম স্যারকে পাকড়াও করা হলো- অভিনয় করে দেখাতেই হবে। আর আলম স্যার নানান ছুতায় কাটানোর চেষ্টা করেই যাচ্ছেন। আবিদ বলল- “স্যার, আপনি কিন্তু নিজে মুখেই বলেছেন যে আপনি আফজাল স্যারের সঙ্গে অভিনয় করেছেন নাটকে, তারপর রাস্তায় আপনাকে দেখে মানুষ এসে জিজ্ঞেস করেছে- আপনি ঐ নাটকে ছিলেন না? এখন তো করতেই হবে স্যার!” বেচারাকে আবিদ এন্ড টিমের চাপাচাপিতে একটুখানি অভিনয় করে দেখানোই লাগল। এরপর আবিদ ধরল আতিক ভাইকে। আতিক ভাই ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার সময় বাসে একটা গান শুনিয়েছিল আমাদের, আসমা আপু আর রেজা ভাইকে পচানি দিয়ে। সেটা গাওয়ার জন্যই আবিদ, আশিক, মুত্তাকিন আর অভি ভাইয়া জোরাজুরি করতে লাগল। আতিক ভাই গাবেই না। এদিকে আসমা আপু আর রেজা ভাইও চোখ রাঙানি দিচ্ছে, না গাওয়ার জন্য। স্যাররা সামনে বসা। আবিদ গিয়ে বলল আসমা আপু আর রেজা ভাইকে- “আরে ভাই! এই একটা দিনই তো! এখন স্যাররাও হালকা মুডে আছে। ঠিক বস না, একটু বন্ধু বন্ধু। কিছু মনে করবে না। টেনশন নিয়েন না।” মানুষকে পটানোতে উনি তো আবার খুব ওস্তাদ, তাই ওরা দুইজনও গাইগুই করে রাজি হলো। আতিক ভাই গান শুরু করতেই আমরা সব হৈহৈ করে উঠলাম। স্যাররাও খুব মজা পেল। বললেন- “তোমরা যে এত ক্রিয়েটিভ, আগে জানতাম না তো!”
তারপর একে একে সবাইকেই ধরা হলো- সায়েম ভাই, আরিফ ভাই, মাযহার ভাই, শফিক ভাই, সুমন ভাই, রেজোয়ান ভাই, অজয়দা, প্রবীরদা, সিদুলদা। রিতু আপুকে ধরল- নাচা লাগবে। মহাযন্ত্রণা! আরো যুক্তি হচ্ছে- “শাড়ি পরেই তো মেয়েরা নাচে, কাজেই আপনি একদম পার্ফেক্ট নাচের ড্রেসে আছেন। নাচতেই হবে।” কি যে প্যাঁচাপেঁচি! পরে রিতু আপু বলল- ঠিক আছে, তোমরা ৪ জনও আমার সাথে নাচো, তাহলে নাচবো। ব্যস, কাজ হয়ে গেল! উনারা কেউ নাচবে না, তো আর কোনো কথা নাই। পরে অফিসেরই একটা মজার গল্প বলে রেহাই মিলল রিতু আপুর। এরপরে আমাকে টার্গেট। আমার দিকে চোখ পড়তেই আবিদ চোখ টিপ দিল! আমি তো ভয়ে শেষ! আল্লাহই জানে, কী যে করতে বলবে! আমি উঠে যেতে যেতে বলল- “স্যার, ওকে কোনো অপশন দেওয়ার দরকার নাই। ও গান করতে পারে, কাজেই গানই গাবে।” আমি একটু কিছু বলার চেষ্টা করলাম। কে শোনে কার কথা! আর একা আবিদ না তো, আশিক, মুত্তাকিন, অভি ভাইয়া সমানে তাল দিয়ে যাচ্ছে- গাও গাও গাও গাও! যদিও গান গাইতে পারি, কিন্তু আমি তো জানি- উপরের স্কেলে যখন যাই, তখন আমার গলা ক্র্যাক করে! সবার সামনে সেটা হলে কেমন লাগবে? এইসব সাতপাঁচ ভেবে আবিদের দিকে তাকালাম, ও ইশারা করল শুরু করার জন্য। আমি ধরলাম- একটুকু ছোঁয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি। গাচ্ছি, কিন্তু আমার মাথায় কাজ করছে- উপরের স্কেলে গিয়ে কী হবে! যখনই ধরলাম- “কিছু পলাশের নেশা...” আবিদও সঙ্গে গলা মেলালো। তাকিয়ে দেখি- মুচকি হাসছে। তার একটু পর বাকিরাও ধরল। ভয়টা এবার উধাও। মন দিয়ে গানটা গাইতে পারলাম। শেষ করে নিজের জায়গায় গিয়ে বসতে বসতে দেখি- আবিদ তাকিয়ে ভুরু নাচাচ্ছে, ভাষাটা এমন- “কী! ভয় গেছে?” উত্তরে আমি মুখ ভেংচি দিয়ে প্রোগ্রামে মনোযোগ দিলাম। এরপর ধরা হলো সবুজ ভাইকে। সবুজ ভাই ঘোষণা দিল- আজকে আমার জন্মদিন, তাই আমি এইসব কিছু থেকে এমনিতেই মাফ পাই। কিছু করবে না তো, করবেই না! পরে আবিদ সবুজ ভাইকে পচানোর জন্য বলল- “স্যার, সবুজ ভাই না বাল্যবিবাহ করতে যাচ্ছে! নাবিলা কিন্তু আমাদের সমান!” সবুজ ভাই এতক্ষণ খুব ভাব দেখাচ্ছিল, এখন বোল্ড আউট! আমরা সবাই শুনে হাসতে হাসতে শেষ! চিপায় পড়ে গিয়ে বাঁচার জন্য সবুজ ভাই বলল আবিদকে- “কালকে রাতে চ্যাংদোলা করেছিলাম, মনে আছে? আবার করব কিন্তু!” আগের রাতে স্যারদের রুমে বসে গান গাওয়া শেষ করে সবাই যখন যার যার রুমে ফিরছিলাম, তখন সবুজ ভাই আবিদকে তুলে ফেলেছিল ঘাড়ের উপর! দেখে মনে হচ্ছিলো- আবিদের গায়ে মনে হয় কোনো ওজনই নাই! আবিদ তো ভয়ে অস্থির- “ভাই নামান নামান নামান!” আজকে ঐ এক হুমকিতেই কাজ হয়ে গেল। আবিদ বলল- “ওকে ভাই, আপনার কিচ্ছু করা লাগবে না! মাফ করেন।” এবার নাবিলার পালা। নাবিলা এসে বলল- “শুনো, আমি সবুজকে নকল করে দেখাই, তোমাদের মজা লাগবে!” তারপর ও যা করল, আমাদের হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়ে গেল! যাকে নকল করে দেখাচ্ছে, সবুজ ভাই, নাবিলার হবু বর, সেও হাসি থামাতে পারছে না! এমন দারুণ নকল করে দেখালো ও!
আরেফীন স্যার বললেন- “আমাদের সবাইকে দিয়ে করাচ্ছো, তোমরা করো না কেন? তোমরাও কিছু করো।” ওরা ৪ জন একসঙ্গে বলল- “হ্যাঁ স্যার, আমরাও করব তো। আমরা ফিনিশিং দিব।” তখন স্যার আবিদ বাদে বাকি ৩ জনকে বললেন- “আর আবিদ যে সবাইকে পচাচ্ছে, তোমরা কেউ ওকে পচাতে পারো না?” বলে আবিদের দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হাসি। আশিক সঙ্গে সঙ্গে বলে- “স্যার, ও তো এমনিতেই পচা, আলাদা করে আর পচানো লাগে না। প্রতিরাতে রবীন্দ্রসংগীত লিখে। সেগুলো দিয়ে আলাদা অ্যালবাম করবে, তাও বলেছে স্যার।” বলে আশিক মুখ টিপে হাসে। আশিক ওরকমই। কথা বলে না, বলে না, হঠাৎ এমন দুই একটা বলে, বোমা ফাটানো আর কী! আর আমরা হাহা করে হেসে গড়াগড়ি। আবিদ তো আশিককে ধামকি- “দাঁড়াও, তোমার ব্যবস্থা করছি!”
আমাদের সঙ্গে অফিসের সাপোর্ট স্টাফ, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, পিওন, ড্রাইভাররাও গিয়েছিল। আবিদরাই প্ল্যান করে- ওদেরকেও আমাদের সঙ্গে যুক্ত করার। ওদের জন্যও একই অপশন দেয়- কিছু একটা করে দেখানোর জন্য। ওরা তো করতে চায়ই না। পরে বুদ্ধি করে আন্তাকশারি খেলা শুরু করে- আবিদ, মুত্তাকিন, অভি ভাইয়া একটা গান দিয়ে শুরু করে, সেই গানের শেষ অক্ষর দিয়ে ওদের একজন শুরু করে, তারপর একে একে চলতে থাকে।  রোজদিন তো আমাদের এমন আউটিং হয় না, এই একটা দিনই। তাই ওরা চেয়েছিল- কেউ আলাদা না থাকুক। কোনো কোনো গানে আমরাও সবাই গলা মিলাচ্ছিলাম। আর গিটারে একটানা ছিল কখনো মুত্তাকিন, কখনো অভি ভাইয়া।
এরপর শুরু করল ওরা ৪ জন। ৪ জনের মধ্যে আশিক একটু চুপচাপ। গান সরাসরি গায় না, কিন্তু বাকি ৩ জন কে ধরায়ে দেয়- এই গানটা করো, ঐটা গাও, ঐটা ভালো। আর ওরাও যা গাইল, শুনে আমাদের সবার একদম কলিজা ভরে গেছে, সত্যি। আবিদের কাছে বিশেষ অনুরোধ ছিল- ‘দিবস রজনী আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি’। আগের রাতে ওর গলায় এই গান শুনে সবাই একদম মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ছিল, তাই আজকেও আরেকবার এই গানটা শোনার লোভ সবার। আগের রাতে স্যারদের রুমে বসে যখন ওরা একে একে গেয়েই যাচ্ছে, একজন বলল- “আজকে রাতেই তো তোমরা সব গেয়ে ফেলছো। কালকে রাতে তাহলে কী করবা?” আবিদ বলেছিল- “টেনশনের কোনো কারণ নাই, স্টকে আরো আছে, আমাদের স্টক বিশাল বড়!” আসলেই যে বড়, সেটা আমরা পরদিন রাতে টের পেলাম। অনেক গান গাইল ওরা- তুমি রবে নীরবে, আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী, ওরে নীল দরিয়া, তোমার জন্য নীলচে তারার একটুখানি আলো, সেই তুমি কেন এতো অচেনা হলে, এমন আরো অনেক। আগের রাতে গাইতে গাইতে এক ফাঁকে আবিদ বলছিল মুত্তাকিনকে- “মামা আমার তো গান গাওয়ার জোশ উঠে গেছে। হেভি মুড চলে আসছে। বাজাও মামা।” মুত্তাকিন গিটার বাজাচ্ছিল আর গাচ্ছিল। পরের রাতে যেন সেই হেভি মুড দ্বিগুণ হয়ে দেখা দিল। ওদের গান দিয়েই আমাদের সবার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকল ঐ রাতটা। গাইল- আমি ফুল, বন্ধু ফুলে ভোমরা। গাওয়ার ফাঁকে বলল- “এটা সবুজ ভাই আর নাবিলার জন্য, যেহেতু এটা সবুজ ভাইয়ের বিয়ের আগে শেষ জন্মদিন।” বলে আরেক দফা হাহা হিহি। এরপর ধরলো- শেষ কথা কেন এমন কথা হয়। এটা শেষ করতেই আলম স্যার বললেন- “শেষ কথার গান আগেই গেয়ে ফেললা! তোমাদের তো আরেকটা গান গাওয়ার কথা ছিল, কালকে রাতে প্রমিজ করেছো, আজকে সম্পূর্ণ শোনাবে, মনে নাই?” আবিদ আর মুত্তাকিন বলল- “মনে আছে তো স্যার। ভদ্র গান সব শেষ করে নিলাম। এবার ঐটা দিয়ে আজকের প্রোগ্রাম শেষ করব।” আগের রাতে আবিদ একটা প্যারোডি গান গেয়ে শুনিয়েছিল- ও যখন ক্লোজ আপ ওয়ানে ছিল, তখন ওরা সবাই একসঙ্গে মিলে দুষ্টামি করে গাইতো। অনেকগুলো গানের প্রথম অংশ, আর তার মাঝে মাঝে র‌্যাপ, ফকিরদের ভিক্ষা চাওয়ার ডাক দিয়ে- “ও আমার আল্লাহ্... আল্লাহ্... আল্লাহ্...” একদম হুবহু ঐ স্টাইলে, ঐ টোনে। সেটাতে সবাই এত্ত বেশি মজা পেয়েছিল, আবিদ তাই সবটা আগের রাতে শোনায়নি, বলেছিল- আজকে শোনাবে। তাই শুরু করল। সব একদম জমে গেল তখন। আস্তে আস্তে আমরা সবাইও গানের ফাঁকের র‌্যাপ দিতে থাকলাম- “ও আমার আল্লাহ্... আল্লাহ্... আল্লাহ্...” একটু পর হোটেলের লোকজন এসে উঁকি দিয়ে গেল। এমন গান শুনে ওরাও মনে হয় অবাক হয়ে গিয়েছিল। একদল পাগলের কাণ্ড দেখে ওরাও খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে মজা দেখে। এই গান দিয়েই পরে শেষ হলো প্রোগ্রাম।
এবার পুরস্কার দেওয়ার পালা। বিকেলে বিচে ক্রিকেট খেলা হলো। আবিদ আর মুত্তাকিনের দল জিতল। জয়ী দলের পুরস্কার- সবার জন্য একটা করে পেনড্রাইভ। আর ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়ে মুত্তাকিন পেল একটা নেটবুক। স্যাররা দিলেন পুরস্কার। অন্য দলের জন্য পুরস্কার নাই দেখে ওরা খুব মন খারাপ করল। আরেফীন স্যারের কাছে দাবি জানাল- “স্যার, রানারআপ টিমও তো কিছু পুরস্কার পায়! আমরা কি কিছুই পাব না?” স্যার ঘোষণা দিলেন- হারু পার্টির পুরস্কার ঢাকায় গিয়ে দেওয়া হবে। আপাতত এই বলে ওদের শান্ত করানো হলো। আমরা মেয়ে ছিলামই মাত্র ৪ জন। আমাদের দেওয়া হলো হ্যান্ডব্যাগ। আমাদের সাথে অফিসের স্টাফ যারা ছিল, ওদের দেওয়া হলো আনস্টিচ শার্ট পিস। আর আমাদের বসদের জন্যও ছিল পুরস্কার। ওখানে উপস্থিত দুই স্যারকে বই তুলে দিলাম সবাই মিলে। আফজাল স্যারের জন্য কেনা বই তুলে দেওয়া হলো আরেফীন স্যারের হাতে। যদিও স্যার বললেন- “আমি এখন নিলাম ঠিকই, কিন্তু ঢাকায় গিয়ে তোমরা সবাই মিলে ওর হাতে তুলে দিবে, ও খুব খুশি হবে, দেখো।” আমরা বললাম- ঠিক আছে। এরপর খাওয়া-দাওয়া। বুফে খানা ছিল। খাওয়া প্লেটে নিয়ে সবাই বসলাম যদিও, কিন্তু আমাদের মনে মগজে মাথায় এইমাত্র যে দারুণ সময়টা কাটালাম সবাই মিলে, তার রেশ। তাই খাওয়াতে মনোযোগ কম, কে কী করল, কী বলল, কী গাইল, কাকে নকল করে দেখালো, এইসবই আবার করে বলাবলি আর হাসাহাসি হচ্ছে। অল্প মন খারাপও লাগছে- সময়টা চট করে শেষ হয়ে গেল। আবার হয়তো বছরখানেকের আগে আর এমন একটা চমৎকার ট্যুর হবে না। তবে মন খারাপটাকে আমরা জায়গা দিলাম না, কারণ আনন্দটা অনেক অনেক অনেক বেশি। খাওয়া শেষ করে সবাই যার যার রুমে ফিরছি। স্যাররা সামনে, আমরা পেছনে। হঠাৎ আবিদ একটু এগিয়ে গিয়ে আরেফীন স্যারকে কিছু বলতে ধরল। ও আরেফীন স্যারকে এত্ত পছন্দ করে, যে কোনো সুযোগে স্যারের কাছাকাছি থাকতে পারলেই খুশি। দূর থেকে আমাদের পক্ষে তো আর জানা সম্ভব না, কী বলছে। খুব হাত নেড়ে, হেসে হেসে কথা বলতে বলতে আগাচ্ছে। কথা শেষ করে স্যাররা আমাদের গুডনাইট বলে সবাইকে সকাল সকাল রেডি হয়ে নিতে বললেন। নাস্তা করেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা রওনা হয়ে যাব, তাই। আবিদ এসে আমাদের সাথে হাঁটতে ধরলো। পাশেই আমি ছিলাম, তাই জিজ্ঞেস করলাম- “স্যারের সঙ্গে আবার গোপন কী আলাপ?” আবিদ হাসে, বলে- “খুব জ্বলছে না, আমি একটু স্যারের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে গেছি দেখে?” আমি ওকে আবার খ্যাপানোর জন্য বললাম, যেটা সবসময়ই বলি- “কথা বলতে তো আর অসুবিধা নাই। কিন্তু যত যাই করিস, স্যার কিন্তু আমাকেই বেশি ভালোবাসে, তোকে না- এটা মনে রাখিস!” আমার কথার আর কোনো উত্তর দেওয়ার সুযোগ পেল না আবিদ; কারণ রিতু আপু, অভি ভাইয়া, আশিক, মুত্তাকিন এসে গেল। মুত্তাকিনকে আমরা ধরলাম- ম্যান অফ দ্য ম্যাচের খাওয়া পাওনা হলো কিন্তু! ও বলে- “হ্যাঁ, অনেক পাওনা হয়ে যাচ্ছে। আমার আর আবিদের জন্মদিনের খানাও তো পাওনা হয়ে আছে। ঢাকায় গিয়েই সব পাওনা মেটানো হবে।” অভি ভাইয়া আর আশিক যোগ করল- “ঢাকায় গিয়ে যাতে মনে থাকে, সেজন্য আমরা দুইজন আছি। আর কক্সবাজার থেকে ঢাকা যেতে যেতে তোমরা দুইজন যেন ভুলে না যাও।”
বাকিরা রুমে ঢুকে গেছে। রিতু আপু, আমার এক রুম; আর ওদের ৪ জনের এক রুম। এই রুম দুইটা একদিকে। আমরা আমাদের রুমের দিকে যাচ্ছি। তখনো আমাদের হাসাহাসি চলছে। আবিদ বলল- “মাথাটা খুব ধরেছে। কারো কাছে একটা নাপা বা প্যারাসিটামল হবে?” রিতু আপু বলল- “হ্যাঁ, আমার কাছে আছে। রুমে আসো, দিচ্ছি।” ততক্ষণে আমরা রুমের সামনে চলে এসেছি। আবিদ বলল- “নাহ থাক্! রুমে বসলেই এখন আরেক দফা আড্ডা জমবে। একটু রেস্ট দরকার। ঘুমাবো।” আশিক, মুত্তাকিন, অভি ভাইয়া গুডনাইট বলে ওদের রুমে ঢুকে গেল। রিতু আপু আমাদের রুমে ঢুকলো, ওষুধ বের করে দেওয়ার জন্য। আমি আর আবিদ আমাদের রুমের সামনে দাঁড়ানো। ওকে থ্যাংক ইউ বললাম। কপাল কুঁচি করে হা করে তাকালো আমার দিকে। বললাম- “গানটার মধ্যে তখন ধরলি যে, তাই।” খুবই বিরক্ত সে, বলে- “তাই এখন বন্ধুর সঙ্গে ফর্মালিটি হচ্ছে?” আমি বললাম- “না, তা না। কিন্তু তুই তো জানিস, উপরের স্কেলে গাইতে আমার কষ্ট হয়। এমবিএ র‌্যাগ ডে’র প্রোগ্রামের সময় তোকে বলেছিলাম।” আমার কথা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই আবিদ কথা কেড়ে নিলো- “জানি দেখেই তো ধরলাম ঐ সময়। মনে আছে, তোকে একবার বলেছিলাম যে- চাকরির মতো একটা অপরিচিত জায়গায় যদি একটা বন্ধু কাছে থাকে, তাহলে কী যে শান্তি লাগে! সেটা কি শুধু আমার জন্য বলেছিলাম পাগলা? তোর জন্য না? আজকে বুঝলি তো শান্তিটা?” মাথা নাড়লাম- “হ্যাঁ, বুঝেছি।”
উফ! আর পারছি না! আর পারা যাচ্ছে না! আর সম্ভব না! কত মিথ্যা বলতে পারে একটা মানুষ? এতক্ষণ যা যা বললাম, সব মিথ্যা, ভুল, বানোয়াট; সব! সত্যি হচ্ছে- এগুলো কিচ্ছু ঘটেনি, কিচ্ছু না! হ্যাঁ, শুধু ঐটুকু ঠিক- সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল, ওরা ফিরছিল না, আমাদের একজন স্টাফ গিয়েছিল ওদের খোঁজে, তারপর থেকে বাকি সব মিথ্যা! কারণ সে এসে বলেছিল- ওরা ডুবে গেছে! আর তারপর আমরা দৌড় দিয়েছিলাম। যা যা হওয়ার কথা ছিল, হতে পারতো, হবে বলে আমরা সবাই ভেবেছিলাম, যেমন যেমন করতে চেয়েছিলাম, সেগুলোই বললাম এতক্ষণ ধরে। কিন্তু সেইসব আসলে কিছুই হয়নি!
এর পিছনে সৃষ্টিকর্তার কী ভালো লুকানো, জানিনা! এই ৬ বছরেও সেই ‘ভালো’র বিন্দুমাত্র উদ্ধার করতে পারিনি। জানি না, কোনোদিন আদৌ পারব কিনা। বা পারতে পারতে ওদের পারে চলে যাওয়ারই সময় হয়ে যাবে কিনা, তাও জানি না! শুধু জানি- ওরা ছিল, ওরা আছে, ওরা থাকবে, সারাজীবন থাকবে, আমাদের সাথেই, আশেপাশে, কাছাকাছি, কোথাও না কোথাও...

সাপ?তাহিক পতিবেদন

এই সময়/রাজনীতি
 মতামত সমূহ
Author : রথী
লিখাটা পড়ে নিজেকে অনুভূতিহীন মনে হচ্ছে।। কেমন করে কতগুলো বছর পার হয়ে গেল।। আবিদ.... সেই চঞ্চল চেহারাটা নিয়ে ই মনের ভিতর আছে। নীহাল এর মত করে আর কেউ এই কথাগুলো লিখতে পারত না।। কারন সরাসরি ঘটনার সময়ে উপস্থিত থেকে সবচেয়ে বেশী ধাক্কাটা ওর উপর দিয়েই গেছে। ভালোবাসা... নীহাল।।
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.