[প্রকৃতি ও জীবন] এ সপ্তাহের আলোচনা পর্ব- বিশ্ব হাতি দিবস

Print Friendly and PDF

প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্রমাগত অবক্ষয়ের কারণে মানুষ ও হাতির মধ্যে চলমান বিরোধ সম্পূর্ণ নিরসন করা সম্ভব নয়। শুধু উপযুক্ত কৌশলের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যাটির ব্যাপকতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব
উন্নয়নশীল বাংলাদেশে দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে জনসংখ্যা। রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল-শপিংমল, আবাসন শিল্পসহ বহুবিধ স্থাপনার কারণে উজাড় হচ্ছে বন-জঙ্গল। আবাদি জমি বাড়াতেও বনের দিকে হাত বাড়াচ্ছে মানুষ। এছাড়া মানুষ প্রয়োজনীয় রসদ জোগাড় করতে বনের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়াতে বন্যপ্রাণীর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বন্যপ্রাণীর খাদ্য সংকটে এরা অনেক ক্ষেত্রে লোকালয়ে ঢুকতে বাধ্য হচ্ছে। ফলাফলে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘর্ষ বাড়ছে। প্রায়ই বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে হাতির সঙ্গে, বাঘের সঙ্গে মানুষের সংঘর্ষ নিয়ে। এছাড়া নানাভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে বন্যপ্রাণী। ফলে অনেক বন্যপ্রাণী আজ অস্তিত্ব সংকটে। যেমন হাতির কথাই ধরা যাক। ডাঙার সবচেয়ে বড় প্রাণী বলা হয় হাতিকে। বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে এদের বিচরণ করতে দেখা যায়। এরা এখন ‘মহা সংকটাপন্ন’ প্রাণীর তালিকায়। গবেষণায় দেখা গেছে, হাতির চলাচলের পথ রুদ্ধ হওয়া এবং হাতির আবাসস্থল কৃষিকাজের জন্য বেদখল হওয়ার কারণে মানুষ-হাতির বিরোধ সংঘটিত হচ্ছে। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক চারণভূমি ও হাতিবান্ধব বনাঞ্চল না থাকায় হাতি তার খাবারের জন্য ফসলের মাঠে ও মজুত করা খাদ্যশস্যের জন্য ঘরবাড়িতে হানা দিচ্ছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্রমাগত অবক্ষয়ের কারণে মানুষ ও হাতির মধ্যে চলমান বিরোধ সম্পূর্ণ নিরসন করা সম্ভব নয়। শুধু উপযুক্ত কৌশলের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যাটির ব্যাপকতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
১২ আগস্ট বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে মহা সংকটাপন্ন প্রাণী হাতি নিয়ে এ সপ্তাহের আকর্ষণীয় আলোচনা অনুষ্ঠান ‘বিশ্ব হাতি দিবস’। মুকিত মজুমদার বাবুর পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় এ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান এবং বাংলাদেশ বন বিভাগের উপ-প্রধান বন সংরক্ষক শামসুল আজম।
বাংলাদেশের প্রথম জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ নিয়ে ধারাবাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘প্রকৃতি ও জীবন’ প্রচারিত হচ্ছে চ্যানেল আইয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১.৩০ মিনিটে, পুনঃপ্রচার প্রতি শুক্রবার দুপুর ১২.০৫ মিনিট এবং রবিবার ভোর ৫.৩০ মিনিটে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

ডায়রি/ধারাবাহিক
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.