[স ম্পা দ কী য়] চালের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কেন?

Print Friendly and PDF

পাইকারিতে কয়েক দিন আগে মোটা চাল ৪০-৪০.৫০ টাকায় বিক্রি হতো। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪১-৪১.৫০ টাকায়। সরবরাহ সমস্যা কোনো কোনো এলাকায় প্রকট। ফলে সীমিত আয়ের মানুষকে ৩০ টাকার মোটা চাল কিনতে হচ্ছে ৪১ থেকে ৪৫ টাকা দরে। ভাতই যাদের একমাত্র নির্ভরযোগ্য খাবার, সেই নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।
সরু ও মাঝারি মানের চালের বাজারেও একই পরিস্থিতি। গত কয়েকদিনে মিনিকেট, নাজিরশাইলের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি দুই টাকা করে। মাঝখানে কিছুদিন বাজারে নাজিরশাইলের সরবরাহ ছিল একেবারেই সীমিত। বেশির ভাগ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল কিনতে প্রতি কেজিতে লাগছে ৫৬ টাকা। অথচ গত বছর এ সময়ে এই চাল কেজিপ্রতি ৪৬-৪৮ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। মাঝারি মানের বি আর-২৮ চাল কেজিপ্রতি ৪৭ টাকা ছিল, এখন তা ৪৮ টাকা এবং একই ব্র্যান্ডের বি আর-২৯ জাতের চাল ৪৫ থেকে বেড়ে ৪৬ টাকা হয়েছে।
সরকারের বাজার তদারকি সংস্থা টিসিবির তথ্যমতে, গত এক বছরে দেশের বাজারে মোটা চালের দাম বেড়েছে ৪২.১৯ শতাংশ।
অব্যাহতভাবে চালের মূল্য বৃদ্ধিতে বাজার সহনীয় রাখতে সম্প্রতি চাল আমদানিতে শুল্ক কমায় সরকার। পাশাপাশি শূন্য মার্জিনে চাল আমদানিরও সুযোগ দেয়া হয় ব্যবসায়ীদের। সুযোগ পেয়ে গত দুই মাসেই চাল আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার। এসব ঋণপত্রের বিপরীতে দেড় লাখ টন চাল দেশেও এসেছে। চাল আমদানি বাড়লে দাম ক্রমান্বয়ে কমে আসবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। কিন্তু তা ঘটছে না।
সিন্ডিকেটের চালের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে চালকল মালিকদের বিরুদ্ধে। বিদেশ থেকে চাল আমদানির পাশাপাশি সরকার প্রায় ১৬ হাজার চালকল কালো তালিকাভুক্ত করেছে। তারপরও চালের দাম কমছে না। হাওড় অঞ্চলে বন্যা, ব্লাস্ট রোগ এবং সরকারের পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় এ বছর চালের জোগান চাহিদা মোতাবেক পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান জলাবদ্ধতা, বন্যা পরিস্থিতির ফলে এই সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকার যদিও সিন্ডিকেটকে দুষছে, চালকল মালিকদের কালো তালিকাভুক্ত করছে, কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। চালের দাম নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জীবনযাপনকে কঠিন করে তুলেছে। সরকার কি সঠিক জায়গায় মনোযোগ দিচ্ছে। কেন এত আমদানি সত্ত্বেও চালের বাজার অস্থির।  এই পরিস্থিতির জন্য খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দায় আছে কি? আর যে পরিমাণ আমদানির হাঁকডাক শোনা যাচ্ছে, আসলে সেই পরিমাণ চাল আমদানি হচ্ছে কি? চাল নিয়ে আসলে কোথায় চালবাজি হচ্ছে তা খুঁজে বের করতে হবে সরকারকে। ভেতরের সমস্যা বের না করে যতই আমদানি করা হোক খুব বেশি কাজে আসবে না। যে পরিমাণ আমদানি হওয়ার কথা, সত্যিকারে তা আসছে কি না খতিয়ে দেখা উচিত।
আমদানি ব্যয় কি স্বাভাবিক আছে? আমদানির চাল বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় দেশি চালের দামও কমছে না। সরকার যাদের চাল আমদানির অনুমোদন দিচ্ছে, বাজারে ওই চাল কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে তা দেখার কেউ নেই। আমদানির চাল বিক্রিও সরকারের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। সরকারি উদ্যোগে চালকল স্থাপন করে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের যে প্রস্তাব ছিল, তা নিয়ে সরকার কী ভাবছে? ভাবনা যেমনই হোক তা মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে। মানুষের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। মানুষ সরকারের কাছে প্রত্যাশা করে যে, এই পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেয়ার দক্ষতা তার রয়েছে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

নিয়মিত বিভাগ
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.