বিএনপির ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

Print Friendly and PDF

জা পা ন

রাহমান মনি

একতাবদ্ধভাবে খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করে আন্দোলনের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে জাপান শাখা বিএনপি।
দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক জিয়ার ১০ম কারামুক্তি দিবস পালন উপলক্ষে জাপান শাখা বিএনপি এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
৩ সেপ্টেম্বর রোববার টোকিওর কিতা সিটি অউজি হোকু তোপিয়া হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রকৌশলী শেখ ওয়াজির আহমেদ।
জাপান শাখা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং নুর খান রনির পরিচালনায় আলোচনা সভায় পবিত্র কোরান তেলাওয়াত করেন মো. আবুল খায়ের। এরপর শুরুতেই ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাজনের পর থেকে স্বাধিকার আন্দোলন এবং স্বৈরাচার এরশাদ ও স্বৈরাচারিণী হাসিনা সরকারের অত্যাচারে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দিবসটির তাৎপর্যে বক্তব্য রাখেন মাসুদ পারভেজ, সুফিয়ান, মো. কাউসার খান, মোস্তাফিজুর রহমান জনি, রবিউল আলম সাব্বির, আব্দুল হাইয়ুল ইসলাম, মো. আবুল খায়ের, মো. আশরাফুল ইসলাম শেলি, মো. জাফরুল হাসান, ফয়সাল সালাউদ্দিন তুসার, নাসিম বিন ফারুকি মনির, জাকির হোসেন মাসুম, মো. আলমগীর হোসেন মিঠু, কাজী এনামুল হক, শেখ ওয়াজির আহমেদ, মীর রেজাউল করিম রেজা এবং মো. মোফাজ্জল হোসেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বিএনপির ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা, তারুণ্যের প্রতীক তারেক জিয়ার ১০ম কারামুক্তি দিবস আমাদের ঘটা করে এবং জাঁকজমকভাবেই পালন করার কথা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি আমরা তা পারছি না। তার অন্যতম কারণ এক স্বৈরাচার থেকে ১৯৯০ সালে মুক্তি পেলেও আরেক স্বৈরাচারিণী হাসিনার হাতে আমাদের বহু নেতাকর্মী খুন, গুমসহ বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে অনেককে। তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারছে না। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে লক্ষ কোটি মানুষকে ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে অর্ধাহারে, অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর বর্বর নির্যাতন মানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখাচ্ছে। এমতাবস্থায় জাঁকজমকভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা আমাদের বিবেকে বাধে। কিন্তু বিএনপির মতো অন্যতম বৃহত্তম দল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবে না, তা হয় না। আমরা তাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের মধ্য দিয়ে সকল অন্যায় অবিচারের তীব্র নিন্দা জানাই। গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত, বাকস্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত। এমতাবস্থায় বিএনপি চুপ করে বসে থাকতে পারে না। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের মাধ্যমে বর্তমান জালিম সরকারকে জানান দিতে হবে হাজারো নির্যাতন সত্ত্বেও বিএনপি হারিয়ে যায়নি, ছিল, আছে এবং থাকবে।
তারা বলেন, বিরূপ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনীতি মাঠে বিএনপি টিকে থাকার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে ভেতরে ভেতরে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বিএনপির লড়াই শোষণের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াই। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াই।
তারা আরও বলেন, দেশে যখনি ক্রান্তিকাল এসেছে, তখনি কাণ্ডারি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আবির্ভূত হয়েছেন। ১৯৭১ সাল এবং ১৯৭৫ সালে আমরা তা দেখেছি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সময় সাধারণ মানুষ যখন প্রাণ দিচ্ছিলেন, রাজনৈতিক নেতারা তখন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গিয়েছিলেন। কিংকর্তব্যবিমূঢ় জাতি নেতৃত্বশূন্যতায় ভুগতে ছিল তখনি জাতীয় বেতারে শহীদ জিয়ার একটি বক্তব্য বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার।
একইভাবে ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে ক্যু, পাল্টা ক্যু, ক্ষমতার ভাগাভাগিতে দেশ অরাজকতার মধ্যে পড়ে তখনি সিপাহী-জনতা উপসেনা প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় বসায়। উর্দি পরা জেনারেল জিয়া সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতা, বাকস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র দেয়ার জন্য উর্দি ছেড়ে জাগো দল নামে ১৯৭৮ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি একটি রাজনৈতিক দল গঠন করলেন। হ্যাঁ-না ভোটে বিপুলসংখ্যক রায় নিয়ে জাগো দল বিলুপ্ত করে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।
সভা চলাকালীন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহেদুর রহমান লন্ডন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাপান বিএনপিকে ঈদ শুভেচ্ছাসহ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য ধন্যবাদ জানান। ভিডিও বার্তায় মাহেদুর রহমান বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ দল। এ দলে মতবিরোধ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। জাপানও তার ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘদিন জাপানে কোনো কমিটি দেয়া হয়নি। বিএনপি হাই কমান্ড ইচ্ছা করলেই জাপানে একটি কমিটি করে দিতে পারে। কিন্তু আমরা তা চাই না। আমরা চাই সমঝোতার মাধ্যমে আপনারাই কমিটি করে পাঠাবেন, আমরা তা অনুমোদন দেব। আমরা কমিটি করে দিলে বিদ্রোহী একটি গ্রুপ সক্রিয় হতে পারে। আর নির্বাচনের মাধ্যমে হলেও প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ দাঁড়াতে পারে। কাজেই সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি হওয়াটাই সর্বোত্তম হবে। জাপানে রাজনীতি করবেন আপনারা তাই নেতা বাছাইও আপনারাই করবেন। তবে মনে রাখবেন, বিদেশের মাটিতে যেন বাংলাদেশের কোনো বদনাম না হয়।
বিএনপি নেতা বলেন, সেনা সমর্থিত সরকারের সময় যৌথবাহিনীর সদস্যরা ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ভোর রাতে দেশের কোথাও কোনো অভিযোগ ছাড়াই তারেক রহমানকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। দিনের পর দিন রিমান্ডে নির্যাতন ও টানা ৫৫৪ দিন কারাবাসের পর তিনি মুক্তি পান। সরকারের সাজানো সব কয়টি মামলায় আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মুক্তি পান। সেই থেকে ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস পালন করে আসছে।
বিএনপি নেতারা বলেন, গুম, খুন হাসিনা সরকারের দুই গুণ। এই গুণবতী হাসিনা মিথ্যাকে শিল্পে পরিণত করে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। উন্নয়নের জোয়ারে আজ রাজধানীর রাজপথেও নৌকা চলে। লাখ লাখ টন খাদ্য আমদানি করেও দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার বেসাতি দিয়ে যাচ্ছে। মতের বিরুদ্ধে গেলেই তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগা আওয়ামী লীগের চিরাচরিত অভ্যাস। প্রধান বিচারপতি তার প্রকৃত উদাহরণ।
তারা বলেন, হাসিনাকে হটাতে হলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই।
rahmanmoni@gmail.com

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.