[মুক্তগদ্য] কাইয়ুম চৌধুরী রংতুলির রাজা -আমীরুল ইসলাম

Print Friendly and PDF

চারপাশে প্রিয় মানুষ কমে যাচ্ছে। শৈশব থেকে যারা আমার স্বপ্নপুরুষÑ তাদের অধিকাংশ হারিয়ে গেছেন। কেবল দৃপ্ত ও তীব্র হয়ে বেঁচে আছেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
যাদের সান্নিধ্যে বড় হয়েছি আজ তারা নেই। যারা আমাকে প্রভাবিত করেছেন, জীবনে চলার পথে সাহস দিয়েছেন, যাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছি- এখন তাকিয়ে দেখি চারপাশে কেউ নেই। প্রিয়জনের সংখ্যা ক্রমে কমে যাচ্ছে।
স্কুলের আলী হোসেন স্যার নেই। পিতৃব্য কবি হাবীবুর রহমান নেই। প্রিয় সাংবাদিক এম আর আকতার মুকুল, প্রিয় দাদাভাই রোকনুজ্জামান খান, প্রিয় সোহরাব হোসেন, সুধীন দাশ, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, শিশুসাহিত্যিক ফয়েজ আহমেদ, এখলাস উদ্দিন আহমেদ, কবি শামসুর রাহমান, কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, সাংবাদিক আহমেদ হুমায়ূন, বিচিত্রা সম্পাদক শাহাদত চৌধুরী, ড. ফজলুল আলম, নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুন, অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী, অনুবাদক ফখরুজ্জামান চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান, ধারাভাষ্যকার আবদুল হামিদ, কবি আবিদ আজাদ, কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ, কবি সুফিয়া কামাল, কবি রফিক আজাদÑ এ রকম থোকা থোকা গুচ্ছ গুচ্ছ অনেক নাম! স্মৃতির পাতায় এরা জীবনের অনেকটা অংশ জুড়ে আছেন। এরা আমাদের জীবনকে আলোকিত করেছেন। আমাদের স্বপ্নের জগৎকে বড় করেছেন। এই চিরপ্রণম্য ব্যক্তিদের কথা প্রায়ই মনে পড়ে। এদের সঙ্গে জীবনের যোগসূত্র ছিল আমার। কত সেমিনার, আলোচনা অনুষ্ঠান, আড্ডায় নিরন্তর তাদের সান্নিধ্য পেয়েছি। এইসব স্মৃতি আমাদের জীবনের মহার্ঘ্য।
অনেক নাম লিখেছি। এ শুধু তালিকা নয়। আমাদের কৈশোর-যৌবন কেটেছে এদেরই মধুর সান্নিধ্যে।
আজ মনে পড়ছে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর কথা। আমরা পড়তাম ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুলে। আজিমপুর আর শেখ সাহেব বাজারের সংযোগস্থলে এই স্কুল। স্কুলের পাশেই ছিল শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর বাসা। অত্যন্ত মিতভাষী। কথা কম বলতেন। একমাথা কালো ব্যাকব্রাশ করা চুল। খুব সুরুচিসম্পন্ন ব্যক্তি। প্যান্ট-শার্ট প্যান্টে গুঁজে পরতেন। জুতো পরতেন। চোখে চশমা। নিপাট ভদ্রলোক। সাদা একটা টয়োটা গাড়ি চালাতেন। আমরা ’৭৮-৭৯ সালেই তাকে দেখে আসছি। টিফিন পিরিয়ডে স্কুল থেকে বের হলেই তাকে দেখতাম।
পরে যখন লেখালেখি শুরু করিÑ তখন কাইয়ুম চৌধুরীর ব্যাপারে তীব্রভাবে আগ্রহী হয়ে উঠলাম। আমাদের দেশে প্রকাশিত যে কোনো বিখ্যাত বইয়েরই প্রচ্ছদ শিল্পী হিসেবে তার অবদান। সেই ১৯৫৪ থেকে বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকা শুরু করেছেন। ফ্রাঙ্কলিন বুক প্রোগ্রামসের পিন বাঁধাই বইয়ের প্রচ্ছদগুলো এখনো স্মৃতিপটে জ্বলজ্বল করছে। কিংবদন্তিতুল্য প্রচ্ছদ শিল্পী তিনি। সত্যজিৎ রায়ের পরই তার নাম শ্রদ্ধাভরে উচ্চারণ করতে হয়।
মুদ্রণ প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে তার প্রচ্ছদের উন্নয়ন ঘটেছে। অনেক বাঁক বদল তার। দুই রঙে বা এক রঙে ব্লকে ছাপা প্রচ্ছদগুলো অবলোকন করলে এখনো ঝিম ধরে। আল মাহমুদের কালের কলম, শহীদ কাদরীর উত্তরাধিকার কিংবা শামসুর রাহমানের রৌদ্র করোটিতে বইঘর থেকে প্রকাশিত এইসব বইয়ের প্রচ্ছদ এখন তো ইতিহাস হয়ে গেছে। বইয়ের নাম যদি উল্লেখ করি তবে হাজার হাজার বইয়ের নাম লিখতে হবে। তাই কাইয়ুম চৌধুরীর বন্ধুস্থানীয় কয়েকজন লেখকের নাম উল্লেখ করি। তাদের একাধিক বইয়ের তিনি অঙ্গসজ্জা করেছেন। সৈয়দ শামসুল হক, আলাউদ্দিন আল আজাদ, জহির রায়হান, শামসুর রাহমান, রাজিয়া খান, রিজিয়া রহমান, সেলিনা হোসেন, রাবেয়া খাতুন, জাহানারা ইমাম, হুমায়ূন আহমেদের অনেক বইয়ের প্রচ্ছদের ছবি এখনো চোখ বন্ধ করলে দেখতে পাই।
মুক্তিযুদ্ধের ছবি ও প্রতীক চিত্র এবং কাইয়ুম চৌধুরী আসলে সমার্থক। তিনি একক পরিশ্রমে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষের ছবি এঁকেছেন। মাথায় গামছা প্যাঁচানো, হাঁটু উঠানো লুঙ্গি, হাতে রাইফেল নিয়ে ঝোপঝাড় পেরিয়ে মুক্তিযোদ্ধার ছবি তো কাইয়ুম চৌধুরীর অঙ্কনশৈলীতে তৈরি হয়েছে। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে তিনি বইয়ের প্রচ্ছদে মুক্তিযুদ্ধের ছবি এঁকেছেন। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি বলতে কাইয়ুম চৌধুরীর আঁকা ছবিগুলো বুঝি।
এ ছাড়াও তার পেইন্টিংয়ের প্রিয় বিষয় মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু। বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু বিষয়ে তার কোনো আপস  নেই। ’৭১-এর পর থেকে তিনি অনবরত মুক্তিযুদ্ধের ছবি ও ইলাস্ট্রেশন করেছেন। আমরা এখন চোখ বন্ধ করে যে মুক্তিযোদ্ধাদের চিত্রমালা দেখি তার পুরো ও একক কৃতিত্ব শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর। ১৯৫২’র পর থেকে কত ফর্মে যে তিনি শহীদ মিনার এঁকেছেন তার তুলনা নেই।
এ ছাড়া লং প্লে রেকর্ডের কাভার, গুরুত্বপূর্ণ পোস্টার, কিছু কিছু স্ট্যাম্প এবং বহু প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রের ডিজাইনের তিনি ছিলেন রাজা।
অসম্ভব শিশুর মতো হৃদয় তার। খুব ধীরস্থির ব্যক্তিত্ব। যে কোনো বস্তু তিনি খুব যতœসহকারে ব্যবহার করতেন। তার বাসায় ষাট দশকে কেনা ফ্রিজ কিংবা রেডিওগ্রাম এখনও অক্ষত আছে। গল্প শুনেছি, ১৯৬৭ সালে কাইয়ুম চৌধুরী টয়োটা গাড়ি কেনেন। সেই গাড়ি আজও সসম্মানে সুস্থ ও সুন্দর আছে। কাইয়ুম চৌধুরী যে কোনো ব্যবহার্য সামান্য জিনিসকেও অসামান্য আদর-যতœ করতেন। তার কোনো কোনো রং বা তুলি বা কলমের বয়স ৫০ পার করেছে।
কাইয়ুম চৌধুরী সঙ্গীত খুব ভালোবাসতেন। সঙ্গীতের এক মগ্ন মানুষ। ভারতীয় ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতের তিনি একজন ধ্রুপদী শ্রোতা ছিলেন। ছবি আঁকার সময় সঙ্গীতের মূর্ছনায় নিজেকে নিবেদন করতেন। তিনি বেঙ্গল আয়োজিত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আসরে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই তিনি বক্তৃতা দিতে দিতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। একদম নির্ভাবনায় তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। কাউকে কোনো জ্বালাতন করেননি।
কাইয়ুম চৌধুরীকে আমরা প্রথম দর্শন করি তার শেখ সাহেব বাজারের বাড়িতে। আজিমপুর ও শেখ সাহেব বাজারের সংযোগস্থলে তার বাড়ি। ষাট দশকের সূচনায় নির্মাণ। সামনের দিকে খোলামেলা। একটু অন্য রকম স্থাপত্য। এটা কাইয়ুম চৌধুরীর শ্বশুরবাড়ি। আমৃত্যু তিনি এই বাড়িতেই ছিলেন।
প্রথম দর্শনের কথা খুব মনে পড়ে। তিনি গাড়িতে উঠছিলেন। প্যান্ট ইন করা শার্ট, কালো জুতাÑ আর দুই হাতে ধরা দুটো ফ্রেম করা ক্যানভাস। এক মাথা নিখুঁত আঁচড়ানো কালো চুল। পেছন দিকে দীর্ঘ। চোখে চশমা দেখেই মনে হলো, আসলে তিনি একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী। তার চালচলনে, তার গতিতে একজন খাঁটি চিত্রশিল্পীর প্রতিচ্ছায়া।
একধরনের মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে গেলাম আমরা।
আমৃত্যু এই মুগ্ধতা ছিল। তার উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার, নানা ধরনের টাইপোগ্রাফি, তার কম্পোজিশন, তার ছবির বিষয়, কলাপাতা, নৌকা, নদীÑ এসব নিয়ে সুযোগ পেলেই বলতাম তিনি গভীর মন দিয়ে সে সব শুনতেন। তারপর নিজেও স্মৃতিকাতর হতেন। পাক আমলে তিনি অনেক অনুষ্ঠানের ইনটেরিয়র করতেন। ফ্রাঙ্কলিন বুক প্রোগ্রামসের একটা বইমেলার গেট বানিয়েছিলেন সে স্মৃতি বলেছিলেন। কথা বলতেন খুব মৃদুস্বরে। কোনো তাড়াহুড়া নেই। আস্তে আস্তে শোনাতেন তার ছাত্রজীবনের কথা। জয়নুল স্যারের কথা। তার সহপাঠীদের কথা। বলতেন ঢাকা শহর কীভাবে বড় হয়ে উঠল। তারা রায়েরবাজার আউট ডোরে যেতেন। রমনা তখন অনেক ছিমছাম। পার্কের ভেতরেও ছবি আঁকতে বসতেন। ঢাকা তখন মাত্র তৈরি হচ্ছে। কথা বলতে চাইতেন। টোকা দিলে তার স্মৃতির প্রদীপ উসকে উঠতো।
সময় প্রকাশন থেকে ‘কিশোর মুক্তিযোদ্ধার গল্প’ বইটা লিখেছিলাম আশির মাঝামাঝি। ফরিদ ভাই লিখিয়েছিলেন। তারপর একদিন দুইদিন বাদেই কাইয়ুম স্যারের বাসায় যেতাম। দরজায় টোকা দিয়ে কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতাম। বাসায় থাকলে কাইয়ুম চৌধুরী নিজেই গেট খুলতেন।
ওহে আমীরুল, একদম বসতে পারিনি। আর দুটো দিন- দিয়ে দেব। আউটলাইন করে ফেলেছি।
তারও প্রায় মাসখানেক পর এক অসাধারণ প্রচ্ছদ তিনি এঁকে দিলেন। ছোটদের বইয়ের জন্য তিনি তেমন প্রচ্ছদ বা ইলাস্ট্রেশন করতে আলস্যবোধ করতেন। সেই সময় আমি আর ফরিদ আহমেদ (সময় প্রকাশনীর কর্ণধার) কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে লেগে থেকে অনেক বইয়ের কাভার তৈরি করেছিলাম। কোনো কাভার ছয় মাসে পেয়েছি। কোনোটা দুইদিনেই। আমাদের বয়স কম হলেও কাইয়ুম চৌধুরী আমাদের উপেক্ষা করেননি। পরে চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে জড়িত হওয়ার পর অন্য কাইয়ুম চৌধুরীকে আবিষ্কার করলাম। তিনি ফিল্ম উৎসাহী এক ব্যক্তি। গ্রেগরি পেক, উত্তম কুমার তার প্রিয় অভিনেতা। পাকিস্তান আমলে মুক্তিপ্রাপ্ত অনেক সিনেমার পোস্টার এঁকেছেন। চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর তাকে চাচা ডাকেন। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক তার আবাল্য বন্ধু। এই বন্ধুত্ব কোনোদিন তাদের মধ্যে ধূসর হয়নি। ফরিদুর রেজা সাগরের বাবা ফজলুল হক। এদেশের প্রথম চলচ্চিত্র পত্রিকা প্রকাশ করেন।
এদেশের প্রথম শিশুকিশোর উপযোগী চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ফজলুল হককে কাইয়ুম চৌধুরী এবং সৈয়দ হক ‘সেজদা’ ডাকতেন। অনেক স্মৃতি তাদের। মুগ্ধ হয়ে সেই পুরনো দিনের কত গল্পই না শুনেছি।
কাইয়ুম চৌধুরী ছিলেন বহুমাত্রিক চরিত্র। নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মিটিংয়ের মধ্যে কোনো বিষয়ের সঙ্গে মতান্তর হলেও চুপ থাকতেন। উচ্চকণ্ঠ হতেন না। নীরবে কষ্ট পেতেন।
তার কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা না বললেই নয়। তিনি প্রায় হাজারখানেক পোট্রেট করেছেন বঙ্গবন্ধুর। বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলার অসাধারণ সব কার্ড ডিজাইন করেছেন। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ১০১ সিরিজের বইগুলোর কথা মনে পড়ছে। একই ডিজাইন। তিন রঙের কভার। একেকটা রং বদল করে ১০১টা বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকা হয়েছে। অবিশ্বাস্য কালার ব্যবহার! বারবার বিস্মিত হই তার কর্মযজ্ঞের সামনে।
চুপি চুপি বলি, কাইয়ুম চৌধুরী খুব অসাধারণ ছড়া লিখতেন। ছড়া লেখা তার এক ধরনের শৌখিনতা। মনের আকাশের মুক্ততার জন্য তিনি ছড়া লিখতেন। মনে পড়ে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত দাপু সোনার জন্য বইটার কথা।
তার লেটারিং জগদ্বিখ্যাত। কাইয়ুমীয় ফন্টের আবিষ্কর্তা তিনি। কত ধরনের টাইপেই তিনি ব্যবহার করেছেন। নিজস্ব মৌলিক বাংলা বর্ণমালাও তিনি নির্মাণ করেছেন। প্রতিভার এমন নিমগ্ন বহুমাত্রিকতা বাঙালি সমাজে দেখা যায় না।
প্রতিবছর তিনি দুটো ইভেন্টে চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২৬ মার্চ রংতুলিতে মুক্তিযুদ্ধ অনুষ্ঠানটি। গ্যালারি চিত্রকের মনিরুজ্জামান ভাইয়ের সহায়তায় আমরা এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে থাকি। উপস্থাপনা ও পরিচালনা করেন অভিনেতা, চিত্রশিল্পী নাট্য নির্মাতা আফজাল হোসেন। ২৬ মার্চের দুপুরে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার হয়। কাইয়ুম চৌধুরী প্রতিবারই কয়েকটি স্ট্রোকে মুক্তিযুদ্ধের ছবি আঁকতেন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন হতো তার তুলির স্পর্শে।
দশ বছর ধরে তিনি একটানা চ্যানেল আইয়ের বিষয়ভিত্তিক ক্যালেন্ডারের প্রথম ছবিটা আঁকতেন। খুব যতœ করে এঁকে দিতেন। যথার্থ সম্মানী আমরা দিতে পারতাম না। মৃদুভাষী কাইয়ুম চৌধুরী এ প্রসঙ্গে কোনোদিন কিছু বলেননি। আমার আবদার উপেক্ষা করতে পারতেন না। মাঝে মাঝে খাতা বাড়িয়ে দিলে আপন খেয়ালে ড্রইং করে দিতেন। দু’একটা ক্যানভাসের ছবি এঁকে বলেছেন, রেখে দাও। ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে।
কাইয়ুম চৌধুরীর কিছু ছবি আমার সংগ্রহে আছে। এ আমার পরম সৌভাগ্য। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান চিত্রকলায় তীব্র আসক্ত এক ব্যক্তি। অসাধারণ সংগ্রাহক। বিগত পঞ্চাশ বছরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ তার সংগ্রহে আছে। কাইয়ুম চৌধুরীর তিনি অন্ধ ভক্ত। কালিকলম সম্পাদক আবুল হাসনাত, সদ্য প্রয়াত গাজী শাহাবুদ্দিন আহমদ প্রমুখ কাইয়ুম চৌধুরীর অতি নিকটজন ছিলেন। তাদের কাছে অনেক ছবি সংগ্রহে আছে। সবচেয়ে পেশাদারি ও বৃহৎ সংগ্রহ অবশ্যই বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের কাছে।
কাইয়ুম চৌধুরী জীবিত থাকতেই অমরত্ব লাভ করেছেন। আমাদের চিত্রকলার ইতিহাসে তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
অনেক স্মৃতি। অনেক শ্রদ্ধা। অনেক সৌভাগ্য আমাদের। এই অমর শিল্পীর সঙ্গে আমাদেরও সামান্য যোগাযোগ ছিল।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

সাহিত্য সংস্কৃতি
  • বরিশালে ওয়ালটনের ‘মিট দ্য রিটেইলারস’ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত ও শো-রুম উদ্বোধন
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.