‘ক্রিয়েটিভিটিটা আমি কাজে লাগাতে পারি’-তনুজা মেহমুদ

Print Friendly and PDF

এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, টেক্সটাইল ডিভিশন, আনোয়ার গ্রুপ। ভাইস চেয়ারপার্সন, বিডি ফাইন্যান্স

বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে যেসব নারী ঘরে-বাইরে সফলতার সঙ্গে পেশাগত জীবনে কাজ করে চলেছেন তাদের মধ্যে প্রমিজিং একটি নাম তনুজা মেহমুদ। বংশপরম্পরায় এন্টারপ্রেনারশিপের ধারা চলমান তার চিন্তা চেতনায় মননে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠান আনোয়ার গ্রুপ পরিবারের একজন সফল নারী উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব তনুজা মেহমুদ। ১৪ বছর ধরে নানা সীমাবদ্ধতা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি ধীরে ধীরে সফলতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৩ সাল থেকে পারিবারিক টেক্সটাইল উদ্যোগ হোসেন ডাইন অ্যান্ড প্রিন্টিং মিলস লিমিটেড এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ঢাকা শহরে থেকে প্রতিদিন তাকে নিজেদের ফ্যাক্টরি টঙ্গীতে গিয়ে ওয়ার্কারদের সঙ্গে মিশে হাতে-কলমে কাজ শিখতে হয়েছে তাকে। টেক্সটাইল সেক্টরের কাজ ফিল্ড ওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে শিখে এখন তিনি পুরোদস্তুর সামলে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আনোয়ার গ্রুপের টেক্সটাইল ডিভিশনকে। উইমেন এমপাওয়ারমেন্টে বিশ^াসী তনুজা মেহমুদ তার ফ্যাক্টরির নারী স্টাফদের জন্যে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছেন। যাতে করে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারেন। এই সব নানা উদ্যোগের মাঝেও তনুজা সামলেছেন আনোয়ার গ্রুপের হেড অফিসের মার্কেটিং পার্চেজ এই ডিপার্টমেন্টগুলো। এরও আগে তিনি এই গ্রুপ এক্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের দায়িত্বে ছিলেন। টাওয়েল এক্সপোর্ট এবং টাওয়েল কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিষয়ে তনুজা বিশেষভাবে দক্ষ একজন উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব। সামনাসামনি থেকে কাজ করতে দেখতে এবং শিখতে ভালোবাসেন তিনি। মেয়েরা টেক্সটাইল সেক্টরে অনেক কন্ট্রিবিউট করছে এটি দেখে গর্বিত হন। মেয়েদের ক্রিয়েটিভিটি তাকে উদ্বেলিত করে সবসময়। এ ছাড়া ২০১৩ সাল থেকে তনুজা মেহমুদ বিডি ফাইন্যান্সের সঙ্গে জড়িত। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ভাইস চেয়ারপার্সন এর দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০০ সাল থেকে বিডি ফাইন্যান্সের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই ১৭ বছরে বিডি ফাইন্যান্সকে তিনি চেষ্টা করেছেন দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে ট্রেনিং করিয়ে সবার কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে যতদূর সম্ভব সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। ভবিষ্যতে ইচ্ছা আছে প্রতিষ্ঠানটির আরও অনেকগুলো ব্র্যাঞ্চ সম্প্রসারণের। সম্প্রতি এই স্বনামধন্য নারী উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজু আলীম

নারীদের প্রফেশনাল লাইফে দেখলে সবারই ভালো লাগে। আপনি কীভাবে নিজে কিছু করার জন্যে উৎসাহিত হলেন?
তনুজা মেহমুদ : আমি মনে করি একজন এমপাওয়ার্ড হলে সে পারে অন্য একজনকে এমপাওয়ার্ড করতে। এটি আমার মাথায় সবসময় থাকে যে, আমি যে জায়গায় বা যে প্ল্যাটফর্মে আছি বা যেখান থেকে আমি শুরু করতে পারছি হয়তো বা সব নারীর ক্ষেত্রে ওই জায়গা থেকে শুরু করা সম্ভব না। আমি নিজের কাছে দায়িত্ববোধ ফিল করি যে, আমার এই পজিশনে থেকে সমাজ বা চারপাশের নারীদের উপরে আমার একটি দায়িত্ব আছে। আমার শুরু হয়েছিল মাস্টার্স শেষ করার পর। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এ আমি এমবিএ করেছি। এরপরে আমি ব্যবসাতে জয়েন করার মনোভাব ব্যক্ত করি। তখন আমার হাজবেন্ড বললেন, টেক্সটাইলে জয়েন কর। যেহেতু আমাদের হেড অফিস  মতিঝিলে এবং ফ্যাক্টরি টঙ্গীতে। তাই তিনি আমাকে বললেন, কাজ শিখতে হলে ফ্যাক্টরিতে যেতে হবে। দেখে দেখে কাজ শিখতে হবে। হেড অফিসে বসে ফ্যাক্টরি ম্যানেজ করা সম্ভব না।

তার মানে শুরু হলো ফিল্ড ওয়ার্ক দিয়ে?
তনুজা মেহমুদ : হ্যাঁ, ফিল্ড ওয়ার্ক শুরু হলো। ২০০৩ সাল থেকে আমি আমাদের টেক্সটাইলে হোসেন ডাইন অ্যান্ড প্রিন্টিং মিলস লিমিটেডে জয়েন করি। আমি ধানমন্ডিতে থাকি এবং প্রতিদিন আমাকে টঙ্গী ফ্যাক্টরিতে যেতে হয়।

আপনাদের খুব পপুলার একটা প্রডাক্ট মালা শাড়ি?
তনুজা মেহমুদ : আমরা নতুন করে রি-লঞ্চ করেছি মালা শাড়ি। কটন দিয়ে মালা শাড়ি ব্র্র্যান্ডটাকে আমরা নতুন করে বাজারে নিয়ে এসেছি। যেহেতু শাড়ির লোকাল মার্কেট বর্তমানে খুব বড় হয়েছে। তাই আমরা চেষ্টা করছি ওই ব্র্যান্ডটাকে নতুন করে চালু করতে। এই ব্র্যান্ড সবাই খুব পছন্দ করেছে এবং প্রচার পেয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে আমি টেক্সটাইলের সঙ্গে জড়িত।
১৪ বছর অনেক সময়?
তনুজা মেহমুদ : হ্যাঁ, ১৪ বছর বেশ বড় সময়। ইদানীং আমি হেড অফিসে আমাদের মার্কেটিং, পার্চেজ এই ডিপার্টমেন্টগুলো দেখছি। এর আগে আমি আমাদের এক্সপোর্ট সাইডটা দেখতাম। টাওয়েল এর এক্সপোর্ট এবং টাওয়েল এর কোয়ালিটি দেখতাম। আই ইউজড টু লার্ন- সামনাসামনি থেকে কাজ করা, দেখা। মেয়েরা এই সেক্টরে অনেক কন্ট্রিবিউট করছে। আমার ভালো লাগতো কারণ অনেক মেয়ে কাজ করত। খুবই ক্রিয়েটিভ লাগতো আমার?
প্রতিদিনই নতুন নতুন কিছু যোগ হচ্ছে?
তনুজা মেহমুদ : হ্যাঁ, নতুন কিছু করার অনেক সুযোগ আছে। স্পেশালি আমি মেয়ে হিসেবে নতুন করে কন্ট্রিবিউট করতে পারছি, এড করতে পারছি। ক্রিয়েটিভিটিটা আমি কাজে লাগাতে পারি। দ্যাটস হোয়াট আই এনজয়।

- আপনি কাজটা খুব এনজয় করেন?
তনুজা মেহমুদ : হ্যাঁ, ভীষণ এনজয় করি। প্রতিদিনই নতুন নতুন কিছু শিখছি। এটা আমার জীবনকে প্রতিদিনই নতুন নতুন অভিজ্ঞতায় ভরিয়ে দিচ্ছে।

আপনি আনোয়ার গ্রুপ টেক্সটাইলের সঙ্গে জড়িত। আবার বিডি ফাইন্যান্সের সঙ্গেও কাজ করছেন?
তনুজা মেহমুদ : ২০১৩ সাল থেকে আমি বিডি ফাইন্যান্সের সঙ্গে জড়িত। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে আমি ভাইস চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করছি। ৩৩টা এনবিআর ফাইলের মধ্যে বিডি ফাইন্যান্স অন্যতম একটি। ২০০০ সাল থেকে বিডি ফাইন্যান্সের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই ১৭ বছরে বিডি ফাইন্যান্সকে আমরা চেষ্টা করেছি দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে ট্রেনিং করিয়ে সবার কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে যতদূর সম্ভব সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার । বর্তমানে আমাদের ৫টা ব্র্যাঞ্চ আছে।  আমরা চেষ্টা করছি প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যাঞ্চ সংখ্যা আরও বাড়াতে। কীভাবে মানুষকে আরও  বেশি সেবা দেয়া যায় সেই ব্যাপারে আমরা সবসময় সচেষ্ট আছি। ফিল্ড লেভেল এবং অফিসিয়ালি আমাদের প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করছেন তাদের জীবনযাত্রার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায় এই ব্যাপারে আমাদের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।
 
সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আনোয়ার গ্রুপও অনেক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেÑ সেই সম্পর্কে বলুন?
তনুজা মেহমুদ : বংশপরম্পরায় আনোয়ার গ্রুপের সামাজিক কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছে। আনোয়ার ফাউন্ডেশন নামে আমাদের একটি ফাউন্ডেশন আছে। যার মাধ্যমে আমাদের সামাজিক কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করা হয়। এসবের মধ্যে আছে স্কুল, এতিমখানা, ডায়াবেটিক হাসপাতাল, রেডক্রিসেন্ট মহিলা নার্সিং হোম। এই হোমের মাধ্যমে গরিব অসহায় মহিলাদের বিনা খরচে সন্তান ডেলিভারির সুবিধা দেওয়া হয়। আজাদ মুসলিম মহিলা পরিষদ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান আছে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মহিলাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়?
তনুজা মেহমুদ : যাতে করে মহিলারা ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হতে পারে। আর এর সঙ্গে আরও  একটি প্রজেক্ট আছে আমাদের যাতে বিডি ফাইন্যান্সও কাজ করে । যেহেতু বিডি ফাইন্যান্স আনোয়ার গ্রুপের একটি সিস্টার কনসার্ন। শিশুদের মুক্তবায়ু সেবন নামে একটি প্রজেক্ট আছে। যেখানে প্রতিবছর ৪/৫ শ শিশুদের ফ্রিতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক জায়গায় আমরা বেড়াতে নিয়ে যাই। দিস ইজ নট অনলি এ এডুকেশনাল ট্যুর বাট অলসো তাদের জন্যে এটা একটি রিক্রিয়েশন।
যেসব বাচ্চা এই ধরনের ট্যুর এফোর্ড করতে পারে না তাদের জন্যে এই ক্ষেত্রে আনোয়ার গ্রুপ অর্থলগ্নি করে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.