স ম্পা দ কী য়

Print Friendly and PDF

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা আবার মিয়ানমারে ফিরে যাবে বা মিয়ানমার ফেরত নেবেÑ সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। মিয়ানমারের সরকারের মুখপাত্রের দুটি বক্তব্যে সেই ইঙ্গিত খুব পরিষ্কার। বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণ বা কাগজপত্র থাকলেই শুধু মিয়ানমার তাদের ফেরত নেবে। তাছাড়া কাউকে ফেরত নেয়া হবে না। এসব রোহিঙ্গার নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাদের নাগরিকত্বের বৈধ কাগজপত্র থাকবে কীভাবে!
আর মিয়ানমারের এক জেনারেল ইয়াঙ্গুনে বলেছেন, যে কাজটি আমাদের করার কথা ছিল ১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, এতদিন পর আমরা তা করছি। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া বিষয়ক কোনো চিন্তাভাবনা মিয়ানমারের মধ্যে নেই।
এই অবস্থায় ১২ থেকে ১৪ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্ব জাতিসংঘের বাহবা পেতে পারে। মানবতার প্রচারণা চালিয়ে বড় পুরস্কারের আশাও করা যেতে পারে। পাহাড় ধসে প্রায় দেড়শ বাংলাদেশের মানুষ প্রাণ হারানোর পরও প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামে যাননি। এখন রোহিঙ্গাদের দেখতে যাচ্ছেন। সব কিছুতেই নানা হিসাব কাজ করছে।
মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়া হয়তো দুই চার হাজার রোহিঙ্গা নিতে পারে। কিন্তু বিশাল দায়-চাপ বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে। ‘আরসা’র সশস্ত্র সংগ্রাম যদি কোনো দিন জোরদার হয়, তবে কক্সবাজার-টেকনাফ-বান্দরবান নিয়ে কঠিন জটিলতা তৈরি হবে। নিঃসন্দেহে এই জটিলতা তৈরিতে বড়ভাবে ভূমিকা রাখবে পাকিস্তান। যদি পাকিস্তানের সেই ভূমিকা রাখার সুযোগ কখনো তৈরি হয়, তার জন্যে বড়ভাবে দায়ী থাকবে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা। ভারত-চীনকেও সেই দায় বহন করতে হবে।
সুতরাং সামনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের জন্যে ভয়ঙ্কর সংকটকাল আসতে পারে। বাংলাদেশের এই সংকট আগাম উপলব্ধি করা দরকার। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সুবিধা নেয়ার অহেতুক ক্ষতিকর তর্ক-বিতর্কের ঊর্ধ্বে ওঠা দরকার। তা না হলে বিপদ থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। কেউ বাংলাদেশের পাশে নেই-ও। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বন্ধুহীন। কেন এই বন্ধুহীন অবস্থা তৈরি হলো, নির্মোহভাবে তা খতিয়ে দেখা দরকার।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭  বর্ষ ১০  সংখ্যা ১৪

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.