[সাফল্য] সবুজেই বসবাস দেলোয়ারের

Print Friendly and PDF

সুইটি আক্তার

মানুষের জীবনে পরিশ্রম আর আন্তরিকতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে আসতে পারে তার কাক্সিক্ষত সাফল্য। গাছ লাগানো তথা নার্সারি করেও আসতে পারে তেমন সাফল্য। বছরজুড়ে নার্সারি ব্যবসা চালান যায়। এমনকি বাড়ির ছাদেও হতে পারে নার্সারি।
দেড় থেকে দুই বিঘা জমি থাকলেই নার্সারি ব্যবসা শুরু করা যায়। এলাকাভেদে মূলধনের পরিমাণ ভিন্ন হয়। গ্রামাঞ্চলে চাইলে স্বল্প পুঁজিতেও পরিত্যক্ত জমিতে নার্সারি করা যায়। নিজের জমি থাকলে ২৫ হাজার টাকা দিয়েই ছোট আকারে নার্সারি শুরু করা যায়। মাঝারি আকারের নার্সারির জন্য তিন থেকে দশ লাখ টাকা ও বড় আকারের নার্সারির জন্য ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা মূলধন লাগে।
নার্সারি ব্যবসার জন্য নির্বাচিত স্থান অবশ্যই উঁচু হতে হবে, যাতে বন্যা কিংবা বৃষ্টির পানি না জমে। যাতে প্রচুর আলো-বাতাস পায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। নার্সারিকে লাভজনক করার জন্য জায়গা নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে এলাকায় প্রচুর পরিমাণে ফল, ফুল ও ভেষজ উদ্ভিদ উৎপাদন হয় সে এলাকায় নার্সারি স্থাপন করার আদর্শ স্থান। প্রচুর পরিমাণে পানি সরবরাহ সংযোগসংবলিত বন্যাযুক্ত স্থান নার্সারি স্থাপনের জন্য উপযুক্ত। বেশি চাহিদা আছেÑ এমন ফলদ, বনজ, ভেষজ ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা বা কলম উৎপাদন করা ভালো। বাণিজ্যিক নার্সারি শহর ও শহরতলির আশপাশে হলে সহজেই নার্সারিতে উৎপাদিত চারা বা কলম বিপণন ও সরবরাহ করা যায়। পরিবহন ব্যয় কমানোর জন্য মাতৃবীজতলায় বা মাতৃবাগানের কাছাকাছি জায়গায় নার্সারি স্থাপন করা ভালোÑ নার্সারি করার সাধারণ উপায়গুলো এভাবেই বলছিলেন একজন নার্সারি ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন। ১৯৬৫ সালে নোয়াখালী জেলার দক্ষিণ শাহাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মৃত আব্দুল হাকিম। পেশায় তিনি একজন কৃষক। মা, বাবা ও তিন ভাই এবং দুই বোন নিয়ে তাদের পরিবার। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বাবা। দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার বাবা গ্রামে কৃষি কাজ করে আমাদের পরিবারের চাহিদা পূরণ করতেন। আমি ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। অভাবের টানাপড়েনে লেখাপড়া বেশি করতে পারিনি। অনেক ছোট থাকতেই বাবার সঙ্গে তার কাজে সাহায্য সহযোগিতা করেছি। পরিবারের আর্থিক অবস্থা সচল রাখার জন্য মাত্র ১৮ বছর বয়সে ড্রাইভিংয়ের কাজ শিখি। আমার ফুফাতো ভাই মৃত মো. আব্দুল আজিজ আমাকে ড্রাইভিং শিখতে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। ড্রাইভিং শেখার পর শুরু হয় আমার জীবনযুদ্ধের সঙ্গে পথচলা। জীবনটা সাধারণ ছিল না। নানা বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে জীবনযুদ্ধে সফল হতে পেরেছি। ১৯৮৩ সালে আমি আমার বড়ভাই আবদুল মান্নানের হাত ধরে ঢাকায় চলে আসি। আমার বড়ভাই রেলওয়ের একজন কর্মচারী ছিলেন। গ্রামে থেকে আমি আমার জীবিকা নির্বাহ করতে পারব না। তাছাড়া শুনেছি ঢাকায় অনেক কর্মসংস্থান আছে। তাই, ঢাকায় এসে প্রথমেই ড্রাইভিং কাজে লেগে পড়ি। প্রায় ৮ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাইভেট গাড়ি চালিয়েছি। ড্রাইভিং কাজটা ভালো শেখা ছিল। ড্রাইভিং কাজকে গুরুত্ব দিয়েই জীবনযুদ্ধের পথচলা শুরু করি। ১৯৯৯ সালে আমেরিকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভারসিটি অব বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠানে আরও ১০ বছর ড্রাইভিংয়ের কাজ করেছি। নার্সারি ব্যবসায় তিনি কীভাবে আসেন? উত্তরে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই গাছপালা ভালোবাসতাম। গাছপালা থেকে শান্তি খুঁজে পাই। তাছাড়া যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের গাড়ি চালাতাম তখন স্যার বিভিন্ন নার্সারিতে ঘুরে ঘুরে গাছ কিনতেন, ব্যাপারটা আমারও অনেক ভালো লাগতো। এক সময় নিজে চিন্তা করি নিজস্ব একটা নার্সারি প্রতিষ্ঠা করব। যেখানে কি-না সকল প্রকার গাছ পাওয়া যাবে। এক কথায় বলতে পারেন ‘গাছের প্রতি ভালোবাসা থাকায় এই ব্যবসায় উৎসাহী হয়েছি। ২০০৫ সাল থেকে ইস্কাটন গার্ডেন সবজি বাগানে একটি নার্সারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করি। প্রায় ১২ বছর যাবৎ এই নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ইস্কাটন গার্ডেনে আমার নার্সারির নাম বাহার নার্সারি। আমার এই নার্সারিতে ইনডোর এবং আউটডোর সকল রকমের গাছ পাওয়া যায়। মাত্র এক লাখ টাকা নিয়ে এই ব্যবসায় শুরু করি। নিজের কিছু জমানো টাকা ও পরিবারের সহযোগিতায় আমার নার্সারি ব্যবসা শুরু। আমার নার্সারি আমার একটা স্বপ্ন। এ নার্সারি থেকে এলাকা এবং এলাকার আশপাশের লোকজন আমার এখানে গাছ ক্রয় করতে আসেন। তাছাড়া বিভিন্ন অফিস আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমরা গাছ দিয়ে থাকি। এই নার্সারিতে আমাকে সহযোগিতার জন্য একজন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নার্সারি থেকে মাসিক ২০-৩০ হাজার টাকা আয় করে থাকি। মনের মাঝে উৎসাহ ও নিজের পরিশ্রমকে পুঁজি করে আমি আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করতে পেরেছি। মানুষ যদি তার সততা ও মনোবল ঠিক রাখে তাহলে সে যেকোনো কাজ থেকে নিজেকে সফল প্রমাণিত করতে পারবে।’
১৯৯০ সালে মো. দেলোয়ার হোসেন বিয়ে করেন। ২ ছেলে এবং এক মেয়ের জনক তিনি। সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করা তার আর একটি স্বপ্ন।
ছবি : কাজী তাইফুর

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.