‘ভালোবাসা থেকেই ক্রিকেটের সরঞ্জাম সংগ্রহ করছি’-মো. জসিম উদ্দিন, ক্রিকেট সংগ্রাহক

Print Friendly and PDF

বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থান পর্ব থেকেই খেলাটির সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ। খেলোয়াড় না হয়েও দিনে দিনে হয়ে যাচ্ছেন অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম নিজের সংগ্রহে নিয়ে অনন্য এক অবস্থানে পৌঁছে গেছেন।
১৯৯৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সব জার্সি রয়েছে তার সংগ্রহে। বাংলাদেশ দলের জার্সির বাইরে অনেক বিদেশি খেলোয়াড়ের জার্সিও আছে। সংগ্রাহক হিসেবে এখন একটি মিউজিয়াম করার স্বপ্ন দেখছেন বরিশালের এ তরুণ।  এখন তার সংগ্রহে আছে ৫০০০ এর বেশি জার্সি, ১০০০ অটোগ্রাফ সম্বলিত ব্যাট, স্বাক্ষর দেয়া বল আছে ৫০০, দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারের গ্লাভস আছে ১০০টি। ১৯৯৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২০০০ এর বেশি দেশি-বিদেশি ক্রিকেট ম্যাগাজিন সংগ্রহ করেছেন।
অবিশ্বাস্য রকম ভালোবাসা তার ক্রিকেটের প্রতি। অদম্য সংগ্রাহক এ মানুষটির মুখোমুখি হয়েছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

সাপ্তাহিক : আপনি তো হতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটার, কিন্তু সেখান থেকে হয়ে গেলেন ব্যাট, বল, স্ট্যাম্প সংরক্ষক। কেন এই পরিবর্তন হয়েছে আপনার মধ্যে?
মো. জসিম উদ্দিন : আমি সেই ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের পোকা। কিন্তু পারিবারিকভাবে সচ্ছল ছিলাম না কখনোই। আর আমাকে অনেক ছোট রেখে আমার মা মারা যাওয়ার কারণে দাদিই আমাকে কোলে-পিঠে করে বড় করেছেন। আমি কিন্তু ক্রিকেটার হতেই ঢাকায় এসেছিলাম। কিন্তু পারিপ¦ার্শিক সবকিছুই আমাকে সে পথে হাঁটতে দেয়নি। নিজে চিন্তা করেই পথ পরিবর্তন করলাম।
সাপ্তাহিক : ক্রিকেটার মো. জসিম উদ্দিনের গল্পটা শুনতে চাই?
জসিম উদ্দিন : ক্রিকেটার হওয়া তো আসলে বেশ কঠিন। সেই কাজটা আমাকে দিয়ে হবে না সেটা ঢাকায় আসার পরই বুঝতে পেরেছিলাম। বাড়িতে থাকার সময় দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটত ক্রিকেট মাঠে। মনের কোণে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলাম বড় ক্রিকেটার হওয়ার। অথচ তখনো কিন্তু বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি জেতেনি, এমনকি বিশ্বকাপেও কোয়ালিফাই করতে পারেনি। আমিও সে আশা নিয়ে ঢাকায় সাধারণ বীমা নামে একটা ক্লাবে খেলাও শুরু করেছিলাম। কিন্তু ক্রিকেটার হতে গেলে তো অনেক টাকার প্রয়োজন। আমার তো এত টাকা ছিল না। তাই বাধ্য হয়েই নিজের স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিয়েই সংগ্রহের দিকে মনোযোগ দিই। এখন ক্রিকেট আমার ধ্যান-জ্ঞান হলেও নজর থাকে ব্যাট, বল, জার্সি, স্ট্যাম্পের দিকে।
সাপ্তাহিক : আমরা যতটুকু জানি আপনি ২০ টাকা হাতে নিয়ে ঢাকা এসেছিলেন। কিন্তু কেন এভাবে আসা এবং নিজের জীবনকে পাল্টে যাওয়া?
জসিম উদ্দিন : পত্রিকার পাতায় হঠাৎই দেখলাম ঢাকা মিনি বিশ্বকাপ (এখনকার নাম আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস না পাওয়ায় যে খেলতে পারবে না সেটা আমি জেনেই এসেছিলাম। তবে একসঙ্গে বিশ্বের সব দলের খেলা দেখার নেশায়ই মূলত ঢাকায় আসা। পকেটে বিশ টাকা নিয়ে ’সাগর’ নামক লঞ্চ দিয়ে ঢাকায় চলে এসেছিলাম। এখন তো সংগ্রহের সাগরে প্রবেশ করেছি আমি। ঢাকায় আসার সময়ও ভাবিনি এভাবে আমার রাস্তাটা অন্যদিকে ঘুরে যাবে। পকেটে কম টাকা নিয়ে ঢাকায় আসার কারণেই আমি আজকে যতটা সফল। কারণ বিত্তবানদের এসব দিকে তো আর তেমন একটা খেয়াল থাকে না। আমি আবার সেদিক থেকে কিছুটা অন্যরকম। কখনো ক্রিকেটের বাইরে কিছু করতে চাইনি। ক্রিকেটের সঙ্গেই নিজের মিতালি ঘরবাড়ি করার চেষ্টা করে গেছি।
সাপ্তাহিক : আপনার সংগ্রহের শুরুটা কীভাবে করেছিলেন?
জসিম উদ্দিন : ঢাকায় আসার পরই ১৯৯৮ সালের ২৯ অক্টোবর মিনি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার খেলা। গুলিস্তানে এসে ওয়াসিম আকরামের একটা ছবি পাঁচ টাকা দিয়ে কিনে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করি। ভাগ্যক্রমে আমার জায়গা হয় পাকিস্তানের ড্রেসিং রুমের ঠিক পাশেই। ওয়াসিম আকরাম বল করে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে আমার হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডটি তাকে দেখিয়ে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করতে থাকি। পরে শুনেছি পেছনে থাকা মঈন খান নাকি আমাকে দেখিয়ে বলেছিলেন ওই দেখ তোমার ছবি নিয়ে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। আমি পরে সেই ছবিতে তার অটোগ্রাফ নিয়ে ছিলাম। যা এখনো যতেœ রেখে দিয়েছি।
সাপ্তাহিক : ১৯৯৮ সালের মিনি বিশ্বকাপ দিয়ে তো আপনার সংগ্রহের নেশাটা বড় হতে থাকে। ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে দেখা করারও সুযোগ হয়েছিল?
জসিম উদ্দিন : আসলে ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে দেখা করাটা আমার জীবনে টার্নিং পয়েন্ট বলতে পারেন। ওই যে মাঠের বাইরে বের হবার সময় যে তার সঙ্গে চোখাচোখি হয়েছে তখন থেকেই আমি তার সঙ্গে দেখা করার জন্য চেষ্টা করতে থাকি। পরে আম্পায়ারের সহায়তা নিয়ে পাকিস্তান দলের কাছাকাছি যেতে পেরেছিলাম। আমি আবার ছোটবেলা থেকেই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ভক্ত। পরে ওয়াসিম আকরাম আমাকে হোটেল শেরাটনের লবিতে আসতে বলেন। আমি বুকভরা আশা নিয়ে রিসিপশনে গিয়ে লিয়াজোঁ অফিসারের মাধ্যমে সাক্ষাৎ পেয়ে যাই তার। সে সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের অনেকের সঙ্গেই আমার পরিচয় হয়। আমি তার কাছে ব্যবহৃত একটি জার্সি চেয়ে বসি। পরে আমাকে তার স্বাক্ষরিত একটি জার্সি দেন। শুরু থেকেই আমাকে এসব কাজে সহায়তা করেছে আইসিসির সিকিউরিটি অফিসার ও আম্পায়ার ডেভিড শেফার্ড।
সাপ্তাহিক : আপনার কাছে তো ২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের স্মারকও রয়েছে। সে গল্পটা বিস্তারিত শুনতে চাই?
জসিম উদ্দিন : ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে দেখা করার পর আমার আত্মবিশ্বাসটা বাড়তে থাকে। তখন তো অনিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলত বাংলাদেশ দল। আমি টেষ্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর অভিষেক টেস্ট দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। গ্যালারিতে বসে ইতিহাসের অংশ যেমন হয়েছি ঠিক তেমনি আমার নজর ছিল স্ট্যাম্প আর বলের দিকে। তবে লক্ষ্য থাকলে যে সে পথ পেরুনো যায় তার প্রমাণ দিয়েছি আমি। ওই ম্যাচের জার্সি, স্ট্যাম্প আর দুই দলের ক্রিকেটারদের স্বাক্ষর করা ব্যাট এখনো আমার কাছে সেরা সংগ্রহের একটি।
সাপ্তাহিক : আপনার সঙ্গে তো সাবেক ও বর্তমান দলের অনেকের সঙ্গেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ভালো সম্পর্ক হয়েছে বলে শুনেছি?
জসিম উদ্দিন : আসলে কাজ করতে গিয়ে অনেকের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কাজটা আসলে জার্সি, বল, প্যাড সংগ্রহ করা। ওয়াসিম আকরামের আগেই জাতীয় দলের ক্রিকেটার খালেদ মাহমুদ সুজন ও ফাহিম মুনতাসির সুমিত ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর থেকে জাতীয় দলের অনুশীলন দেখতে নিয়মিতই মাঠে যেতাম। তারপর একে একে পরিচয় হয় আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, মোহাম্মদ রফিক, নাইমুর রহমান দুর্জয়, হাসিবুল হোসেন শান্ত, হাবিবুল বাশার সুমন, নাফিস ইকবাল, শাহরিয়ার নাফিস, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানের সঙ্গে। এছাড়া বর্তমানে জাতীয় দলের সব ক্রিকেটারের সঙ্গেই আমার জানাশোনা আছে।
সাপ্তাহিক : আপনি তো সর্বশেষ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) দেখতে ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানকার অভিজ্ঞতা?  
জসিম উদ্দিন : ভারতে আগে গেলেও সেভাবে দেশটির ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ ঘটেনি। সে ইচ্ছা থেকেই আইপিএল চলাকালীন আমি মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। সেখান থেকে তার স্বাক্ষরিত জার্সি ও ব্যাট আমাকে দিয়েছে। এছাড়া চেন্নাই সুপার কিংসের সাবেক কোচ নিউজিল্যান্ডের স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের একটি জার্সিও আমি পেয়েছি। তারা আমার সংগ্রহ দেখে বেশ খুশি হয়েছে।
সাপ্তাহিক : আপনি তো টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম হ্যাটট্রিক করা অলক কাপালি আর ওয়ানডে হ্যাটট্রিক করা শাহাদাত হোসেনের বলও সংগ্রহ করেছেন?
জসিম উদ্দিন : আসলে অলক কাপালির সঙ্গে আমার সম্পর্কটা অনেক পুরনো। উনি আমাকে অনেক ভালোবাসেন। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিলেন কাপালি। আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন শাহাদাত হোসেন রাজিব। দুজনের দুটি বলই আমাকে ভালোবেসে দিয়েছেন।
সাপ্তাহিক : আপনাকে একবার ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মচারী খুব খারাপ ভাষায় কথা বলেছিলেন। সে সময় কি মনে হয়েছিল যে আর সংগ্রহ করবেন না?
জসিম উদ্দিন : ২০০৭ সালে ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মচারী অনেকটা হঠাৎ করেই আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা শুরু করেন। বলতে থাকেন এই তুমি এসব ব্যাট, বল, জার্সি, গ্লাভস, স্ট্যাম্প সংগ্রহ করে কী করো। তুমি মনে হয় এগুলো বাইরে নিয়ে বিক্রি করে দাও। এসব শোনার পর মনটা খুব খারাপ হয়েছিল। এরপর মাঝের কিছুটা সময় মনোকষ্টে সংগ্রহ করা বন্ধ রেখেছিলাম। পরে ভাবলাম একজনের কথায় তো আর ক্রিকেটের প্রতি আমার ভালোবাসা কমে যাবার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি।
সাপ্তাহিক : পাকিস্তান দল তো বাংলাদেশে আসার পর আপনার সঙ্গে বেশ খাতির হয়ে যায়। তারা নাকি আপনাকে ডিনারের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল?
জসিম উদ্দিন : সেই ঘটনার কথা আমার অনেকদিন মনে থাকবে। ২০১৫ সালে দলের অধিনায়ক ছিলেন মিসবাহ উল হক। প্রথমে আমিই তাকে ফোন দিই দেখা করার জন্য। পরে উনি আমাকে ফোন করে রাতের খাবার একসঙ্গে খেতে বলে। সোনারগাঁও হোটেলে আমার সেই সময়টা অত্যন্ত চমৎকার কেটেছিল। পরে মিসবাহ আমাকে বলে তুমি বলেছ বলেই আমি এসেছি, অন্য কেউ হলে আমি কখনোই আসতাম না। এটা আমার সংগ্রহ জীবনে অন্যতম সেরা ঘটনাগুলোর একটি হয়ে আছে।
সাপ্তাহিক : আমরা তো জানি আপনি ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক অনেক কাজকর্ম করে থাকেন। আপনার এলাকার একটি প্রাইমারি স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন?
জসিম উদ্দিন : আমি তো খুব বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারিনি। এখন তো ক্রিকেট ইকুইপমেন্ট বিভিন্ন জায়গায় সাপ্লাইয়ের ব্যবসা করি। এলাকার মানুষ আমার সংগ্রহের কাজে বেশ খুশি। সে কারণে তারা আমাকে ভালোবেসে বড়িয়া নন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করেন। আমি এই বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। আমাকে সভাপতি হতে সহায়তা করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতœা।
সাপ্তাহিক : ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কি আপনার সংগ্রহ নিয়ে কোনো কথা হয়। তারা কতটা সহায়তা করেন?
জসিম উদ্দিন : আমি যে কাজ করছি তাতে তারা খুব খুশি। যাদের সঙ্গে ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় ছিল তাদের বেশিরভাগই তো এখন বোর্ডের পরিচালক। তারা সবসময়ই আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। এই যেমন বর্তমানে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ভাই বলেছিলেন, আমি জসিমকে অনেকদিন আগে থেকেই চিনি। ও টুকটাক ক্রিকেটের বিভিন্ন সরঞ্জাম সংগ্রহ করে থাকেন। তবে তার সংগ্রহে যে এত জিনিস আছে আমি তা ভাবতেই পারিনি। আমি আশা করি বিসিবি তার পাশে থাকবে। নান্নু ভাইয়ের এমন কথা শোনার পর তো আমার কাজে আরও অনেক গতি আসে।
সাপ্তাহিক : আপনার সংগ্রহে থাকা সরঞ্জাম দিয়ে তো কয়েকবার প্রদর্শনীও করেছিলেন?
জসিম উদ্দিন : দুইবার বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ) সঙ্গে আর একবার মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠান রবির সঙ্গে জার্সি উৎসব করি। যা প্রদর্শিত হয় হোটেল সোনারগাঁওয়ে। এ ছাড়া হোটেল র‌্যাডিসনে ইউনিলিভারের সঙ্গে একত্রিত হয়ে স্মারক প্রদর্শনী করি।
সাপ্তাহিক : আমরা তো জানি আপনি অনেক কষ্ট করেই এসব সংগ্রহ করছেন। অনেকেই অনেক কথা বললেও বাণিজ্যিক কোনো উদ্দেশ্যে আপনি কিছু করেননি বলেই আমরা জানি?
জসিম উদ্দিন : আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি নিজের শখকে জলাঞ্জলি দিয়ে এই সংগ্রহের কাজে নেমেছি। নিজে ছেঁড়া জুতো পরে হেঁটেছি, কিন্তু ব্যাট কিনে অটোগ্রাফ নিতে এতটুকু চিন্তা করিনি। ঢাকায় আসার পর তো অনেক কষ্ট করেছি, এখনো করছি। আমি কখনোই বাণিজ্যিক কোনো উদ্দেশ্যে ব্যাট, জার্সি, বল, স্ট্যাম্প সংগ্রহ করিনি। ক্রিকেটকে আমি অনেক বেশি ভালোবাসি। এখন যদি মুশফিক ভাই আমাকে রাত ১২টার সময় ফোন দিয়ে বলেন জসিম চলে আয়, আমি নিজের জীবন বাজি রেখে তার কাছে যাব। আর ক্রিকেট বোর্ডের কাছে আমার একটা দাবি আছে, তা হলো আমি আমার সংগ্রহে থাকা সবকিছু দিয়ে দিতে চাই। যদি একটি মিউজিয়াম করা হয়। যা কিছু করেছি সবই তো ক্রিকেটের জন্যই করেছি।
mhrashel00@gmail.com

সাপ?তাহিক পতিবেদন

সাক্ষাৎকার
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.