[স ম্পা দ কী য়] জনস্বার্থে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

Print Friendly and PDF

সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে চলছে বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের গণশুনানি। এখানে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড তাদের বাল্ক (পাইকারি) বিদ্যুৎ রেট বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই বাড়তি দামের ফলে দেশের অপরাপর বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের খুচরা বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ থেকে শুরু হয়ে ৪ অক্টোবর ২০১৭ পর্যন্ত এ গণশুনানি চলবে।
পিডিবি বাল্ক (পাইকারি) বিদ্যুতের দাম ১৫ থেকে ২২ শতাংশ হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রস্তাব অনুসারে প্রতি বাল্ক ইউনিট বিদ্যুতের দাম বাড়বে ০.৭২ টাকা থেকে ১.০৯ টাকা।

০২.
বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকারের এখনকার নীতি হচ্ছে কম দামের বিদ্যুৎ কম উৎপাদন করা। বেশি দামের বিদ্যুৎ বেশি উৎপাদন করা। কস্ট ইফেক্টিফ নীতি অনুসরণ না করায় বিদ্যুৎ খাত এক অসহনীয় বিপজ্জনক আর্থিক অবস্থার দিকে চলেছে। আর এই দায় মেটাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
একসময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিংহভাগ করতো পাবলিক খাতের পিডিবি বা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এখন পিডিবি এবং তার অন্যান্য কোম্পানি মিলে পাবলিক খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫৬%। আর ব্যক্তি খাত করে ৪৪%। এই ব্যক্তি খাতের মুনাফা নিশ্চিত করতে পাবলিক খাতকে ভেঙে টুকরো টুকরো করা হয়েছে। যার ফলে  বিদ্যুৎ উৎপাদন-সঞ্চালন-বিতরণ খরচ বেড়েই চলেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় ফার্নেস অয়েল। পিডিবি এই ফার্নেস অয়েল বাধ্যতামূলক কেনে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন)-এর কাছ থেকে প্রতি লিটার ৪২ টাকা দরে। ফলে ফার্নেস অয়েল থেকে পিডিবি যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তার দাম পড়ে প্রতি ইউনিট ১২ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে এই তেলের দাম কমে গেছে অনেক দিন আগেই। বাংলাদেশ সরকার এই তেলের দাম সমন্বয় করে নাই। ফলে লিটারপ্রতি ৪২ টাকা দরেই পিডিবিকে এই ফার্নেস অয়েল কিনতে হয়। পিডিবির পক্ষে এর বাইরে যাবার কোনো উপায় নাই। অথচ সরকার ব্যক্তি খাতে যেসব রেন্টাল, কুইক রেন্টাল বা অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনে তাদের বাজার মূল্যে ফার্নেস অয়েল কিনতে অনুমতি দিয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে লিটারপ্রতি ২২ হতে ২৪ টাকা দরে এই তেল আমদানি করে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে। এই ফার্নেস অয়েল ব্যবহৃত বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাদের খরচ পড়ে ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা। এই বিদ্যুৎ আবার তারা বেশি দামে বিক্রি করে পিডিবির কাছে।
এখানে উন্মুক্ত বাজার দরে পিডিবি যদি ফার্নেস অয়েল কেনার সুযোগ পায় কিংবা সরকার যদি বিপিসির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার দরেই ফার্নেস অয়েল কিনে সেই দরে পিডিবিকে দেয় তাহলে পিডিবির বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কম হবে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আর দরকার হবে না।

০৩.
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই দাবির পেছনে আছে দুর্নীতি, বিদ্যুৎ খাতের নানান দুঃশাসন। সেসব দুঃশাসনের ইতি না টেনে, দুর্নীতি না কমিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। জনস্বার্থে তাই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

৫ অক্টোবর ২০১৭  বর্ষ ১০  সংখ্যা ১৭

সাপ?তাহিক পতিবেদন

নিয়মিত বিভাগ
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.