জয়বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৭

Print Friendly and PDF

সম্প্রতি সাভার এর শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে জয় বাংলা ইয়ূথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৭। ইয়াং বাংলা ও সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন(সিআরআই)- এর আয়োজনে সামাজিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়া উন্নয়ন ও নারীর প্রতি সংহিসতা রোধসহ সমাজে শিক্ষার ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’ প্রদানের জন্য তরুণদের সেরা ৩০ সংগঠন বাছাই করে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শরীয়তপুর-৩ এর সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক এমপি।
জয় বাংলা ইয়ূথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৭ এর আয়োজন নিয়ে এক বিশেষ আড্ডার আয়োজন করা হয়। আড্ডাটি সঞ্চালনা করেন ফারজানা ব্রাউনিয়া । গ্রন্থণা: রাজু আলীম



‘আড়াই লাখ তরুণ-তরুণী সংযুক্ত হয়ে গেছে এই কার্যক্রমের সঙ্গে’
নসরুল হামিদ বিপু

প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়

প্রশ্ন : আগামীতে যারা জয়বাংলা ইয়ূথ অ্যাওয়ার্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করবেন তাদেরকে কী দিক নিদের্শনা আপনি দিতে চান?
নসরুল হামিদ বিপু : এই আয়োজনে আমরা ব্যাপকভাবে ইউজ করেছি সোশ্যাল মিডিয়াকে । এবার যারা ইনভাইটিং তাদেরকে কিন্তু ইলেক্ট্রনিক কার্ড মেইল করা হয়েছে। অনেকে বলেছেন, ভাই কার্ড দিলেন না। আমরা আসতে পারলাম না। ইয়াংরা এসবে খুব অভ্যস্ত। যারা একটু বয়স্ক তারা আবার এসবে খুব বেশি অভ্যস্ত না। অনেকে বলেছেন, আমাকে একটা কার্ড দিলেন না। দেখেছেন হলভর্তি তরুণ। তারা কিন্তু ঠিকই জানে কখন কোথায় কয়টায় আসতে হবে। বিষয়টা ওইটাই আমাদের কিন্তু কিছুই বলার নাই। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে কোনো বক্তব্য নাই। তারা নিজেরাই বক্তব্য। যা তারা তৈরি করেছে এটি আমাদের বক্তব্য। সজীব ওয়াজেদ জয় বললেন, আপনাদের কাছ থেকে আমি ইন্সপায়ার্ড হলাম। তাদের কাছ থেকে সারা বাংলাদেশ ইন্সপায়ার্ড হয়েছে।
পলিটিক্যাল সিনারিতে আমরা কি চিন্তা করি, পলিটিক্যাল দল গঠন করার চিন্তা করি। আমাদের ধারণা ছিল অন্যরকম। ক্রীড়া ক্ষেত্র থেকে প্রতিভা বের করে আনার চেষ্টা করছি। হুইল চেয়ার ক্রিকেট টিম। আমরা নিজেরাই জানতাম না। মেয়েদের ফুটবল টিম আমরা জানি কত সুন্দর। কিন্তু রাঙ্গামাটিতে তারা একটি একাডেমি করে ফেলেছে। মেয়েটি স্টেজে উঠে তার চোখের পানি ফেলে দিয়েছে। বলছিল তার কোচের কথা। কলসুন্দর গ্রামের ইতিহাস শুনলে তো আশ্চর্য হয়ে যাবেন। তাদের যে কোচ তিনি ঢাকায় এসে ছবি তুলে নিয়ে যেতেন স্মার্টফোনে কিভাবে ফুটবল খেলা হয়। সেটি নিয়ে রেকর্ড করে মোবাইল ফোনে সেটি মেয়েদের দেখাতো কারণ তাদের কাছে বিদ্যুৎ ছিল না। আমি যখন জানতে পারলাম তার পরে বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে তাদের গ্রামে। যে গ্রামে বিদ্যুৎ রাস্তা নেই সেই গ্রামের মেয়েরা নেপালে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলে এসেছে। এই কাহিনীগুলো উৎসাহ হিসেবে সামনে নিয়ে আসতে হবে। দ্ইু বছর আগে সেইভাবে প্রচারণায় ছিলাম না এবার কিন্তু একটু বেশি প্রচারণায় আমরা ছিলাম। আমরা দেখলাম যে, কত বড়ভাবে এটি তৈরি হয়েছে। ১৩০০ গ্রুপ এবার অংশ নিয়েছে। ৭২ হাজার সদস্য আছে। আর বর্তমানে আড়াই লাখ তরুণ-তরুণী সংযুক্ত হয়ে গেছে এই কার্যক্রমের সঙ্গে।  



‘ইয়াং বাংলা প্ল্যাটফর্মটি দেশের সব জায়গায় ছড়িয়ে গেছে’
জুনাইদ আহমেদ পলক, প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
প্রশ্ন :  এই পুরস্কার দিতে আইসিটি সেক্টর থেকে পার্টিসিপেশন কেমন ছিল?
জুনাইদ আহমেদ পলক : খুবই ভালো ছিল। আমি বলব যে আমাদের ইয়াং বাংলার নেতা নাহিম আমার বন্ধু। আমরা একসঙ্গে মিলে খুব আনন্দ পেয়েছি এবং তৃপ্তি পেয়েছি এই যে গতকাল মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টা এবং ইয়ং বাংলার মূল পেট্রন এবং সিআরআই ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয় ভাই। তারই অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহ-উদ্দীপনায় আজকে এই ইয়াং বাংলা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পেরেছি। সারা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৩০০ যে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ এসেছিল সেখান থেকে টপ ফিফটির সঙ্গে আমরা যখন তাদের সঙ্গে লেটস টক করছিলাম। প্রায় আড়াই ঘণ্টার একটা ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন ছিল সেখানে কিন্তু আমি দেখেছি যে, আইসিটি যেহেতু ক্রসকার্টিং ইস্যু, অতএব এখানে যতগুলো ডিজিটাল ওয়েলডিং অ্যাসোসিয়েশন হয়েছে, ধরুন হেলথ নিয়ে, এডুকেশন নিয়ে, বিভিন্ন ধরনের ট্যুরিজম নিয়ে এবং এমনকি বলতে গেলে হয়তো একেবারেই পথশিশুদের নিয়ে যারাই কাজ করছে তাদের প্রত্যেক জায়গায় আইসিটি হচ্ছে একটি কমন টুল। এখানে আমি দেখেছি, যে ৫০টা সেরা উদ্যোগ, এখানে যারা ফাইনালিস্ট ছিলেন তাদের মধ্যে থার্টি এসেছে অ্যাওয়ার্ড পেয়ে এবং টপ টেন হয়েছে কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি যে, এই ৫০টি উদ্যোগ যারা ফাইনালিস্ট যারা জাতীয় পর্যায়ে এসে প্রতিযোগিতা করল তাদের মধ্যে বলতে গেলে প্রায় শতভাগ উদ্যোগ, শতভাগ প্রতিষ্ঠানই ডিজার্ভ করে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার। প্রতিটি উদ্যোগে আইসিটিকে অ্যাড করার সুযোগ আছে। আইসিটি হচ্ছে এই প্রতিটি উদ্যোগকে আরও স্কেল আপ করার জন্যে ,তাদের স্বপ্নগুলো পূরণের জন্যে,  ইয়াং বাংলা যে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে সেই প্ল্যাটফর্মের সাথে আইসিটি ডিভিশনের কাজ করার মোটামুটি প্রায় কমন গ্রাউন্ড হচ্ছে এই আইসিটি।
আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের ইনোভেশন ডিজা অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ একাডেমি থেকে তাদেরকে মেন্টরিং এবং গ্রুমিংয়ের ব্যবস্থা করব।  
আমাদের আর্কিটেক্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ, সজীব ওয়াজেদ জয় কিন্তু এই ৩০টি সংগঠনের নেতাদের হাতে বিশ^জয়ের হাতিয়ার একটি করে ল্যাপটপ তুলে দিয়েছেন। এটা তাদের বড় ইন্সপিরেশন ছিল। জয় বাংলা সেøাগান গিয়ে ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন হয়েছি সেই জয় বাংলা সেøাগান সম্বলিত সেই তর্জনী , যেই তর্জনীর ইশারায় সাড়ে সাত কোটি বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল সেই তর্জনীর একটি করে সিম্বল কিন্তু তারা নিয়ে গেছে। এটি তাদের ইন্সপিরেশন। অনুষ্ঠানে জয় ভাই সুন্দর বক্তব্য শুরু করেছিলেন, ‘শুধুমাত্র আমরা তাদের অনুপ্রাণিতই করিনি, তাদের এই উদ্যোগগুলো আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।’ জয় ভাইয়ের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আমরা যেটি উপলব্ধি করেছিÑ সত্যি সত্যি আমরা আগের দিন লেটস টক করলাম আড়াই ঘণ্টা তাদের যে ভিশন এবং তাদের যে প্যাশন, দেশের জন্যে কাজ করার তাদের যে তাগিদ এটি আরও নতুন করে আমাদেরকে বড় স্বপ্ন দেখায় যে. বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার অসমাপ্ত যে স্বপ্নটি অর্থাৎ তিনি রাজনৈতিক মুক্তি দিয়ে গেছেন আর শেখ হাসিনা আমাদের যে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে নিয়ে যাচ্ছেন, আমাদের সামনে হয়তো আন্দোলন নেই, নেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু আমাদের সামনে যুদ্ধ হলো সব অন্ধকার, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গি, মাদক, অশিক্ষা- এই সব সামাজিক বাঁধাগুলো  অপসারণের জন্যে যে আন্দোলন, সংগ্রাম বা যুদ্ধ সেখানে যে আমাদের তরুণরা শুধু ঢাকায় নয়, শুধুূ শহরে ধনীর ছেলে না- তাদের সামর্থ্য নাই, তারা হয়তো ভালো স্কুলে যেতে পারেনি, তাদের জন্ম প্রত্যন্ত গ্রামে কিন্তু সেখান থেকেই যে দেশ এবং দেশের মানুষের জন্যে কিছু করার যে স্পৃহা যে সংগ্রাম আমি বলব ইয়াং বাংলা সেই স্বপ্ন পূরণের একটি প্ল্যাটফর্ম হতে পেরেছে। শুধু সরকার না। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও কিন্তু এগিয়ে এসেছে- মাইক্রোসফ্ট এসেছে। আমাদের নেটওয়ার্ক এসেছে, সামিট এসেছে, বেক্সিমকো এসেছে- এই রকম অনেক প্রতিষ্ঠান এসেছে। আপনাদেরও কিন্তু স্বর্ণকিশোরী নেটওয়ার্কের কথা বারবার আলোচনায় এসেছে সেখানে। যেহেতু বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ তরুণ যাদের বয়স ৩৫ এর নিচে এবং সাড়ে ৬ কোটি প্রায় কিশোর-কিশোরী যারা এই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেই প্রজন্ম ডিজিটাল বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। সেই প্রজন্মকে অসাম্প্রদায়িক ,দেশপ্রেমিক প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে আমরা এই ডিজিটাল ইয়াং বাংলা প্ল্যাটফর্ম ক্রিয়েট করেছি। আমাদের এই প্ল্যাটফর্ম সারা দেশের তরুণদের জন্যে উন্মুক্ত। আজকে আমরা সবাইকে খোলা চিঠি দিতে চাই। তরুণরা আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমাদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের যে প্রক্রিয়া আছে ইয়াং বাংলার ওয়েব সাইট সবাই ভিজিট করবেন, রেজিস্ট্রেশন করবেন, যারা অ্যাওয়ার্ডের জন্যে সিলেক্টেড হয়েছেন, তারা তো থাকবেনই যারা যে প্রান্তেই থাকুন আপনারা ইয়াং বাংলা প্ল্যাটফর্মে সম্পৃক্ত হোন।    
প্রশ্ন : পলক আপনার কথা থেকে একটি কথা এই মুহূর্তে আমি পিক করলাম তা হলো- সজীব ওয়াজেদ জয় বললেন, শুধু তাদের কাছ থেকে শিখেছে। এই ইয়াং জেনারেশনটাই এই রকম, ইউ ক্যান লার্ন এ লট ফ্রম দেম।
জুনাইদ আহমেদ পলক : জয় ভাই আরেকটি কথা বলেছেন-এটিও তরুণদের মধ্যে বারবার আমাদের তুলে ধরা দরকার সেটি হলো- স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যদি আমরা উদ্বুদ্ধ হতে না পারি তাহলে কিন্তু আত্মবিশ^াসী জাতি হতে পারব না। আরেকটি বিষয় হলো- আমরা যে বিজয়ী জাতি-, আমরা যে একাত্তরের রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করতে পেরেছি , এইটা যখন তরুণরা জানবে, তখন তার আত্মবিশ^াস কিন্তু আকাশ ছোঁবে। আর তখনই তার স্বপ্নটা অনেক বড় হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য ছিল যে, জাতির জনককে আমরা হারিয়েছিলাম দেশ স্বাধীনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায়। ২১ বছর জয় বাংলা, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু- এই তরুণ কিশোরদের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। আমি নাহিম আমরা যে প্রজন্ম। ১৯৭৫ এর পরে আমাদের জন্ম হয়েছে। আমরা কিন্তু সেই হতভাগা প্রজন্ম। আমাদের কাছ থেকে আমাদের শৈশব কৈশোর থেকে বিজয়ের গৌরবগাথা ইতিহাস এসব দূরে রাখা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু হলো আমাদের সবচেয়ে বড় ইন্সপায়ারেশন। মুক্তিযুদ্ধ হলো সবচেয়ে সব গৌরবগাথা। এই কনফিডেন্ট আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভেতরে এসেছে। এর কারণ হলো- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার বর্তমানে দেশ পরিচালনা করছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা আবার মুক্তিযুদ্ধের হারানো গৌরবকে ফিরিয়ে এনেছে। তাই আমি বলবো- সজিব ওয়াজেদ জয় তাই ঠিকই বলেছেন, ‘দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্ভাসিত এই প্রজন্মই আসলে ভবিষ্যৎ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। আর এই স্বপ্নকে পূরণের প্ল্যাটফর্ম হলো ইয়াং বাংলা।
এটি যখন আমরা শুরু করি রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি,  সজীব ওয়াজেদ জয়, নসরুল হামিদ বিপু- যখন এই ধারণাটা দিলেন- যখন আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম তখন আমরা কল্পনাও করতে পারিনি যে, এইরকম তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ পরিবারের সন্তানরা গ্রামে বসে, একটি উপজেলায় বসে, জেলায় বসে কিভাবে এই মহৎ কাজগুলো করছে। আমরা সত্যিই আনন্দিত যে, সারাদেশের ১৩০০ উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছে এবং এবারের ইয়াং বাংলা প্ল্যাটফর্মটি দেশের সব জায়গায় ছড়িয়ে গেছে। ৭২ হাজারের মতো ভলেন্টিয়ার রেজিস্টার করেছে। আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে এটিকে আরও ছড়িয়ে দেয়া যায়। শুধু আইসিটি উদ্যোক্তা বা ই-কমার্স উদ্যোক্তা নয়- সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন দরকার। একটা দেশ তখনই এগিয়ে যায়- যখন তার সাংস্কৃতিক আন্দোলন হয়।



‘এখন আমরা আত্মমর্যাদাশীল একটি জাতি’

নাহিম রাজ্জাক এমপি
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, আহ্ব্ায়ক, জয় বাংলা ইয়ূথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, সংসদ সদস্য, শরীয়তপুর-৩


প্রশ্ন : জয় বাংলা ইয়ূথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৭ উপলক্ষে ৫০ জনকে সম্মাননা দেয়া হলো কিভাবে? আপনাদের পুরো আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাই?
নাহিম রাজ্জাক এমপি : সবাইকে আমরা আশা-প্রত্যাশা এবং অনুপ্রেরণার মাধ্যমেই কিন্তু সংযুক্ত করতে চাই। এই ইয়াং বাংলা সংগঠনটি কিন্তু তরুণদের এবং যুবকদের নিয়ে কাজ করে। তাদেরকে সম্পৃক্ত করা, কানেক্ট করা এবং ইনক্লুসিভ করাই আমাদের লক্ষ্য। ২০১৪ সালে আমরা চিন্তা করি। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ কিন্তু ইয়াং যুবক। এছাড়া বাঙালিদের গর্বিত ইতিহাসের দিকে যদি আমরা চোখ ফেরাই দেখতে পাই, এই তরুণ  এবং যুবকরাই তাদের মেধা এবং শ্রম। আজকেও আমরা উপলব্ধি করি বর্তমান যুগে, ডিজিটাল যুগে কানেক্টিভিটির জায়গায় এই মেধাসম্পন্ন জাতি একা একা আমরা হাঁটতে পারি না। সবাইকে নিয়েই আমাদের চলার পথ। বাংলাদেশ বর্তমানে পৃথিবীর ভেতরে রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। সেই চিন্তা থেকে এই জয় বাংলা ইয়ূথ অ্যাওয়ার্ড ২০১৪ সাল থেকে প্রবর্তন করা হয়েছে। আমাদের অনুপ্রেরণার জায়গা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আইসিটি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়, সিআরআই এর ট্রাস্টি বোর্ডের মেম্বার রেজওয়ান মুজিব সিদ্দিক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু —তাদের অনুপ্রেরণায় আমরা যারা একটু তরুণ, যুবক রয়েছি সামাজিকভাবে আমরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছি। আমরা সেই উদ্যোগটি নিই এবং সেই উদ্ভাবনের জায়গা থেকে গ্রামেগঞ্জে যারা নিজেদের আয়োজনে, নিজেদের প্রচেষ্টায়, নিজেদের অর্থায়নে সমাজে ভূমিকা রাখছেন বিভিন্নভাবে তাদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেই। বাল্যবিবাহ, প্রতিবন্ধী, ক্রীড়াজগৎ, সাংস্কৃতিক জগতে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুগুলো নিয়ে যারা নিজেদের মতো করে কাজ করছে তাদের ভেতরে অনুপ্রেরণা জাগানো এবং তাদের সংযুক্ত করাই হলো আমাদের প্রয়াস। এটি প্রথমবারের মতো জয়বাংলা ইয়ূথ অ্যাওয়ার্ড নয়, এটি দ্বিতীয়বারের মতো আমরা করছি। ২০১৫ সালে প্রথমবার আমরা করেছিলাম। দ্বিতীয়বার এবার আমরা আয়োজন করেছি। ১৩০০ এর অধিক যুব সংগঠন অ্যাপ্লিকেশন করেছিল। আমরা আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম এবং এই প্রক্রিয়া করতে গিয়ে এত আমাদের কষ্ট হয়েছে যে, এই সিলেকশন ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাই ভালো করছে এটি কিন্তু সবচেয়ে বড় জিনিস। এর ভেতর থেকে সিলেকশন করা, টপ ১০০ নির্ধারণ করা, টপ ৫০ চুড়ান্ত করা- আর একেবারে শেষ ধাপে গিয়ে আমরা টপ থার্টিকে পুরস্কৃত করি। এই প্রক্রিয়া করতে গিয়ে প্রচুর ইয়ূথ অর্গানাইজেশন কিন্তু তারাই রেফারেল হিসেবে কাজ করেছে। যারা ২০১৫ সালের জয় বাংলা অ্যাওয়ার্ডের টপ ৬০ ছিল, তারাই ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।  
প্রশ্ন : তাহলে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে?
নাহিম রাজ্জাক এমপি : সামাজিক অবস্থান থেকে আমাদের তরুণদের মানসিকতার পরিবর্তন এসেছে। সজীব ওয়াজেদ জয় ভাইও বলেছেন, আগে আমাদের পরিচিতি ছিল বিশে^র কাছে আমরা দরিদ্র সীমার নিচে একটি দেশ, যেখানে আমরা আন্ডার ডেভেলপড, আন্ডার প্রিভিলেজ- এই জায়গা থেকে আমরা কিন্তু উঠে এসেছি। এখন আমরা আত্মমর্যাদাশীল একটি জাতি। এই কনফিডেন্সটা ছেলেমেয়েদের আছে। আসলেই অবাক লাগে। এই অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে সজীব ওয়াজেদ জয় ভাই বলছিলেন, কি ব্রিলিয়ান্ট স্পিচসেস ওরা দিচ্ছে।  

সাপ?তাহিক পতিবেদন

প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
  • ‘মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধ’ বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মশালা
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.