‘পরিকল্পনার ঘাটতির কারণেই রোহিঙ্গা চাপ কঠিন মনে হচ্ছে’-গওহার নঈম ওয়ারা

Print Friendly and PDF

লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। মানবিক এই সংকট মোকাবিলায় দেশি-বিদেশি নানা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে সসম্মানে ফেরত পাঠাতে চলছে দ্বিপক্ষীয়-বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক তৎপরতা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী জীবন কেমন চলছে? রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্যোগময় জীবন প্রশমিত করতে ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ কতটুকু উৎরানো গেল। মাঠপর্যায়ের নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে পেশাগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা।
সাপ্তাহিক-এর পক্ষে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

সাপ্তাহিক : মানবিক বিপর্যয় ঘটছে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির। সমস্যার বিস্তৃতি ঘটছে দিন দিন। আপনি গিয়েছিলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। নিজের অভিজ্ঞতায় কী বলবেন?
গওহার নঈম ওয়ারা : রোহিঙ্গা ইস্যু সবাই সাদা চোখে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। একটি বিষয়ের অবতারণা করি। পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ছে, রোহিঙ্গারা বন কেটে সাবাড় করছে। রান্না করতে গেলে জ্বালানির জোগান লাগবেই। অথচ চাউলের কুঁড়া সেখানে জোগান দিয়ে সহজেই জ্বালানির চাহিদা পূরণ করা যেত। এটি নিয়ে কারও কোনো ভাবনা নেই।
অথচ কুঁড়া রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণ করলে চাউলের মূল্যও কমে যেত। বিষয়টি ছোট কিন্তু এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। চাউলের কুঁড়া সারা দেশ থেকেই সরবরাহ করা সম্ভব।
সবার আগে মনে রাখতে হবে, আগের পরিস্থিতি আর এখনকার পরিস্থিতি এক বিষয় নয়। পূর্বের থেকে এখন প্রায় পাঁচগুণ রোহিঙ্গা এপারে এসেছে। এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা একটি ক্যাম্পে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটি কখনো সম্ভব না। অবাস্তব চিন্তা।
সাপ্তাহিক : তাহলে কী হতে পারে? একটি ক্যাম্পে আনলেই তো শৃঙ্খলা ফিরবে?
গওহার নঈম ওয়ারা : অনেক বিকল্প আছে। টেকনাফ-উখিয়ার হোস্ট কমিউনিটির মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ পরিবার রয়েছে। এই পরিবারগুলোর মধ্যে ১০ লাখ লোকের সহাবস্থান করে দেয়া সম্ভব। এতে করে জরুরি ভিত্তিতে যে সহায়তা যাচ্ছে তাতে সেখানকার বাড়িগুলো ভালোভাবে তৈরি হতে পারত।
সাপ্তাহিক : সম্ভব বলছেন?
গওহার নঈম ওয়ারা : হ্যাঁ, মানবিক বিবেচনা থেকেই এটি সম্ভব করে তুলতে হবে। যে পলিথিনের ঘর বানিয়ে তারা থাকছেন, তা সামান্য ঝড়েই সব উড়ে যাবে। ঝড়ের দিন তো আসছে সামনে।
জোড়াতালির টং বানানোর জায়গা করে দিয়ে মনে করা হচ্ছে, আগামীকালই মনে হয় রোহিঙ্গারা চলে যাবে। এটি খুবই অবাস্তব চিন্তা। কোনোই পরিকল্পনা নেই। উচিত ছিল আগে থেকেই সাইট প্ল্যানিং করে ক্যাম্পগুলো করা।  
প্রস্রাব-পায়খানা করার জায়গা নেই। খাবার পানির ব্যবস্থা নেই। ওই অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানি আরও আগে থেকেই কমে গেছে। ১৯৯২ সালে সেখানে যে লেভেলে পানি পাওয়া যেত, এখন তার অনেক নিচে। উপরিভাগের পানি ব্যবহার করার সুযোগ ছিল।
পাহাড় থেকে অনেক ছড়া (নালা) নেমে এসেছে। কিন্তু সেগুলোর বেশির ভাগই দখল করেছে ইটভাটার মালিকরা। ছড়াগুলোর গতিপথ পরিবর্তন করে তা দখলে নেয়া হয়েছে। এগুলো দেখার কেউ নেই।
সাপ্তাহিক : ‘আগামীকাল-ই রোহিঙ্গারা চলে যাবে’ এমনটি মনে করার কারণেই পরিকল্পনার ঘাটতির কথা বললেন। রোহিঙ্গারা দ্রুত চলে যাবে এমনটি তো মনে করাই উচিত?
গওহার নঈম ওয়ারা : হ্যাঁ, দ্রুত চলে যাবে এমনটি আশা করাই উচিত। কিন্তু চলে যাবে এটি অলৌকিক আশা। 
সাপ্তাহিক :
যে ব্যবস্থাপনার কথা বলছেন, তাতে  রোহিঙ্গাদের এপারে বসবাসের স্থায়ী রূপ পাবে কিনা?
গওহার নঈম ওয়ারা : না। স্থায়িত্বের কোনো বিষয় না। আজ পর্যন্ত আমরা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করতে পারি নাই। যদি দু’দেশের সরকারের মধ্যে সমঝোতা হয়, তাহলে কিসের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাব। বলা হচ্ছে, ১০ লাখ রোহিঙ্গা এপারে এসেছে। কয়জনের নিবন্ধন হলো? আগে আসা রোহিঙ্গাদেরও নিবন্ধন হয়নি।
সাপ্তাহিক : নিবন্ধনের চেষ্টা তো চলছে?
গওহার নঈম ওয়ারা : অগোছালো এবং বিচ্ছিন্নভাবে নিবন্ধন চলছে। নিবন্ধনে জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করা দরকার ছিল। ইউএনএইচসিআর হচ্ছে শরণার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং স্বদেশে ফেরত পাঠানোর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি সংস্থা। ইউএনএইচসিআর-ই এ নিয়ে দরকষাকষি করে থাকে।
সাপ্তাহিক : এর জন্য বিশেষত কাকে দায়ী করবেন?
গওহার নঈম ওয়ারা : এটি আমাদের নির্বুদ্ধিতা। সরকার, এনজিও, জাতিসংঘ, গণমাধ্যমসহ অনেকেই কাজ করছে। কিন্তু পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে সবার মধ্যেই।
যেমন গণমাধ্যম দু’ধরনের ভূমিকা রাখছে। পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানা নেতিবাচক খবর ছাপা হচ্ছে। তারা মাদক বহন করছেন, অস্ত্র আনতে পারেন, রোহিঙ্গা নারীরা অধিক সন্তান জন্ম দেয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
অথচ আমরা একবারও ভেবে দেখি না, কেন রোহিঙ্গারা বছরের পর বছর ধরে গর্ভে সন্তান ধারণ করে। গর্ভে সন্তান না থাকলে রোহিঙ্গা নারীদের সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। রোহিঙ্গা মায়েরাই তা বলছেন। অথচ এগুলো নিয়ে বিস্তর কোনো খবর নেই। সবাই বলছেন, এত মানুষকে কেন আশ্রয় দেয়া হলো?
পরিকল্পনার ঘাটতির কারণেই রোহিঙ্গা চাপ অধিক মনে হচ্ছে। নিবন্ধন করে আশ্রয় দেয়া হলে সরকার বা প্রশাসনের ওপর অনেক চাপ কমে যেত। কার্ড বা ভাউচার দিয়েই তারা দোকান থেকে খাবার কিনে খেতে পারত। আগামীকাল যদি মিয়ানমার সরকার বলে যে, ঠিক আছে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেব। তাহলে আমরা কিসের ভিত্তিতে ফেরত পাঠাব? নিবন্ধন হচ্ছে কিন্তু সেখানে বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি রয়েছে এবং তা খুবই ধীরগতিতে হচ্ছে।
আবার সবাই ফেরত যাবে তাও নয়। ১৯৭১ সালে যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল, তারা সবাই ফেরত এসেছেন এটি মনে করার কোনো কারণ নেই। এখানেও হয়তো তাই ঘটবে।
সাপ্তাহিক :  আপনি স্থানীয়দের বাড়িতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের কথা বলছেন। নিজেরাই তো দ্বন্দ্বে জড়াই। ঠিক রোহিঙ্গারাও। দু’টি দেশের মানুষ এভাবে সহাবস্থান করতে পারবে?  
গওহার নঈম ওয়ারা : আপনি যে আশঙ্কার কথা বললেন, তার বিপরীত দৃষ্টান্তও আছে। অনেকেই প্রতিবেশীকে আশ্রয় দেয়, খাবার দেয়, ভরসা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখেন বছরের পর বছর। ১৯৭১ সালে ত্রিপুরায় স্থানীয় জনগণের চেয়ে বাঙালি শরণার্থী অনেক বেশি ছিল। কিন্তু কেউ কি বলতে পারবে যে স্থানীয় জনগণের কাছে থেকে তারা খারাপ ব্যবহার পেয়েছে।
সাপ্তাহিক : তাহলে এখানে কী সহমর্মিতার ঘাটতি রয়েছে?
গওহার নঈম ওয়ারা : আমরা তো সবাই আগে থেকেই বিশ্বাস করে রেখেছি, তারা খারাপ লোক। গণমাধ্যমের খবর দেখেন, ত্রাণকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন, দেখবেন সবাই রোহিঙ্গাদের খারাপ দিকটাই তুলে ধরতে চাইছে।
সাপ্তাহিক : কিন্তু আশঙ্কা তো থেকেই যায়?
গওহার নঈম ওয়ারা : জেলখানার মধ্যেও পড়াশোনা, খেলাধুলা, বিনোদনের ব্যবস্থা আছে। এখানে কি আছে? বিনোদনের কোনোই ব্যবস্থা নেই। একমুঠো খেয়েই তো আর জীবন বাঁচে না। আরও অনেক কিছুই থাকে।
এ নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। পশুর মতো একটু খাবার দিয়েই দায় শেষ করে দিচ্ছি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।
সাপ্তাহিক :  আপনার মত কী?
গওহার নঈম ওয়ারা : জাতিসংঘকে (ইউএনএইচসিআর) দায়িত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের বহু অভিজ্ঞ ব্যক্তি জাতিসংঘের হয়ে সারা বিশ্বে কাজ করছে। তাদের এনে কাজ করানো যেতে পারে এখানে।
বিদেশ থেকে এসে একজন ত্রাণকর্মী ২০০ ডলারের হোটেল ভাড়া করে থাকছেন। এসবই ত্রাণের টাকায়। বাংলাদেশে তো অভিজ্ঞ লোকের ঘাটতি নেই। যে টাকা উঠেছে তাতে তিন মাস চলবে বলে বলা হচ্ছে। আমি মনে করি, এক বছরের বেশি সময় চলবে, যদি আমরা বিদেশিদের না পুষি।
সাপ্তাহিক : ভাষা-সংস্কৃতির প্রশ্নে অনেকেই স্থানীয়দের কাজে লাগানোর বিষয়ে বলছেন। আপনি কী মনে করেন?
গওহার নঈম ওয়ারা : এটিই উত্তম। ভাষার দূরত্ব সম্পর্কেও দূরত্ব বাড়ায়। স্থানীয়রা জানেন এই সমস্যার সমাধান কীভাবে হতে পারে। তাদের কাজে লাগানো সময়ের দাবি।
নরসিংদী থেকে ত্রাণ দিতে গিয়ে ৯ জন লোক মারা গেল দুর্ঘটনায়। খুবই মর্মান্তিক। এভাবে ত্রাণ দেয়ার তো কোনো দরকার ছিল না। পরিকল্পনা থাকলে খুব সহজেই ত্রাণ পৌঁছে দিতে পারত। জেলা প্রশাসককে পছন্দ না হলে রেডক্রসকে দিতে পারত। বরং এভাবে দিতে গিয়ে ত্রাণের চেয়ে খরচই বেশি হয়। এগুলো ভাবনার বিষয়।
নতুন রোহিঙ্গারা ত্রাণ পাচ্ছে না। পুরাতন এবং স্থানীয়রাই সব নিয়ে নিচ্ছে। বিশৃঙ্খল অবস্থা থাকার কারণেই এমনটি হচ্ছে।
সাপ্তাহিক : এই বিশৃঙ্খলার জন্য অধিক সংখ্যক রোহিঙ্গা ...
গওহার নঈম ওয়ারা : চিন্তা করলেই সব গুছিয়ে আনা সম্ভব। ১৯৭১ সালের চেয়ে ভয়াবহ নয় নিশ্চয়। তখন সামাল দেয়া গেলে এখন সম্ভব নয় কেন?  
সাপ্তাহিক : শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে বলে মনে করেন?
গওহার নঈম ওয়ারা : অপরিকল্পনায় রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। কী হবে তা বলা মুশকিল। তবে ভালো কিছু হবে না তা বলা যেতেই পারে।
এত মানুষ এক জায়গায়। তারা বিরক্ত বা আগ্রাসী হয়ে কিছু একটা করতে চাইলে আমরা সামাল দিতে পারব বলে মনে হয় না।
দেশ-বিদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানই কাজ করছে সেখানে। কিন্তু দেখে মনে হবে সবাই যেন গলাকাটা মুরগির মতো ছোটাছুটি করছেন। কোনোই পরিকল্পনা নেই। স্থিরতা নেই। কেন এই কাজ করছেন, কী করছেন, কতদিনই বা করতে হবে তার হয়তো কিছুই জানেন না তারা।
হাজার হাজার টিউবওয়েল বসানো হচ্ছে। টিউবওয়েলের গায়ে নাম লেখাতে ব্যস্ত। কিন্তু টিউবওয়েলে পানি উঠছে কিনা তা জানে না। শত শত পায়খানা বসানো হয়েছে। কিন্তু তা ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা, সে খবর আর নেয়া হচ্ছে না।
সাপ্তাহিক : দ্রব্যমূল্য নাগালের বাইরে রোহিঙ্গাপাড়ায়। হাহাকার করছে সেখানে। এখানেও নিয়ন্ত্রণ নেই।
গওহার নঈম ওয়ারা : প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই এমন হচ্ছে। রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের সময়ও দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানো হলো। আমরা প্রশাসনের কাছে গিয়ে বললাম। ঘটনার চার দিন পরেই সব স্বাভাবিক হয়ে গেল। অথচ রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রাও এখন চড়ামূল্যে দ্রব্য কিনছে।
প্রশাসন চাইলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো আছে। রাঙ্গামাটিতে সেটা ছিল না।
বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টধারীরা এসে এখানে কাজ করছেন। এটিও একটি শঙ্কার কারণ। ব্যক্তিগতভাবেই তারা কাজ করছেন। সবাই সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন বলেও মনে হয় না। কতদিন থাকবেন, কী করছেন তারও ব্যাখ্যা নেই সরকারের কাছে।
সাপ্তাহিক : ব্যক্তি উদ্যোগে কাজ করা যেতেই পারে। শঙ্কার কী আছে?
গওহার নঈম ওয়ারা : ১৭ জন সনাতন ধর্মের লোককে ফেরত নেয়া হলো। তারা আবার ফেরত আসতে চাইছে। কারা নিয়ে গেল, কেন নিয়ে গেল এর কোনো ব্যাখ্যা মিলছে না। কিন্তু কেউ না তো কেউ নিয়ে গেছে।
আরেকটি বিষয় আমরা এখনও ভাবনায় আনতে পারি নাই। আমরা মনে করছি, রোহিঙ্গারা শুধুই পেট নিয়ে এসেছেন। তাদের দুটি হাত রয়েছে। সেই হাত কাজে লাগানো যায়নি। বাইরে কাজ করার ওয়ার্ক পারমিট দেয়া যেতে পারে। ক্যাম্পে বিভিন্ন ধরনের কাজ দেয়া যেতে পারে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শরণার্থীদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। আপনি যদি তাদের কোনো কাজ দিতে না পারেন, তাহলে তারা নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়বে।
সাপ্তাহিক : পরিকল্পনার ঘাটতির কথা বলছেন। তবে মানবিক বাংলাদেশকেও তো বিশ্ব দেখছে।
গওহার নঈম ওয়ারা : অবশ্যই। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও অনেকে সহায়তা করতে যাচ্ছেন। এটি অবশ্যই ভালো দিক। তবে আবেগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল রাখতে হয়।
হাওর এবং বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষও কম কষ্টে নেই। মিডিয়া কিন্তু তাদের প্রেজেন্ট করছে না। অথচ মিডিয়ার ব্যালেন্স করার কথা ছিল।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আবেগের প্রকাশ গঠনমূলক হওয়া জরুরি। গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এই মানবিক চেতনা তৈরি করতে পারে। প্রচুর টাকা উঠছে। দেশের বাইরেও মানুষ রোহিঙ্গাদের নামে টাকা তুলছেন। কত টাকা তোলা হলো, তার হিসাব নেয়া উচিত।
সাপ্তাহিক : মিয়ানমার সরকার অভিযোগ করছে কোটি কোটি ডলার সহায়তা পাবার আশায় বাংলাদেশ সরকার  রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাচ্ছে না। বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে এই অভিযোগের ব্যাপারে কী বলবেন?
গওহার নঈম ওয়ারা : এই অপপ্রচার তারা চালাবেই। এত বড় ঘটনা অস্বীকার করতে মিয়ানমার সরকার কৌশলী অবস্থান নেবেই। এ কারণেই আমি মনে করি, সরকারের উচিত এখনই একটি দিনক্ষণ ধার্য করা যে অমুক সময় থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে হবে।
সামনের বর্ষায় পাহাড়গুলো ধসে পড়বে। পাহাড় কেটে ঘর বানানো হয়েছে। আর উপায় থাকবে না। জাতিসংঘ অনেক জিপগাড়ি নিয়ে এসেছে, ঘোরাঘুরি করছে। এতে কাজ কী? দরকার বড় বড় নৌযান, যাতে করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায়।
সাপ্তাহিক : সমাধান আসলে আসতে পারে কীসে?
গওহার নঈম ওয়ারা : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটাই উত্তম। সংকটের সমাধান এই প্রস্তাবের মধ্যেই আছে। কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। প্রধানমন্ত্রী সেভ জোন করার প্রস্তাব করেছে। জাতিসংঘও তাই বলছে। সংকটকালে দেশে দেশে তাই হয়েছে।
মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর সময় এসেছে। এটিও মাথায় রাখতে হবে।
সাপ্তাহিক : কিন্তু সমাধানে কূটনৈতিক ব্যর্থতা তো রয়েই গেল
গওহার নঈম ওয়ারা : হ্যাঁ। এক্ষেত্রে আমরা সফল হতে পারি নাই। ভারত-চীনকে বাগে আনতে পারিনি। ১৯৮১ সালে চীন সমঝোতা করে মিয়ানমার সরকারকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল। চীনা বংশোদ্ভূত যারা তাদেরকে মিয়ানমারের নাগরিক করতে বাধ্য হয়েছিল। বাংলাদেশ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিল।
আমাদের আমলা বা প্রশাসনের সে ভাবনা করার সময় নেই। তারই ফল আজ ভোগ করছি।   

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.