[স ম্পা দ কী য়] শিক্ষকরা কী শেখাচ্ছেন?

Print Friendly and PDF

উচ্চশিক্ষা জাতির উন্নয়নের পরিচালিকা শক্তি হলেও উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই ভালো নয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সংকট হলো শিক্ষকদের অধঃপতন। শিক্ষকরা যদিও জাতি গড়ার কারিগর, কিন্তু আর সব কিছুর মতো এখানেও ঘাঁটি গেড়েছে দুর্নীতি আর অপরাধপ্রবণতা। যৌন কেলেঙ্কারি, আর্থিক অনিয়ম, গবেষণা জালিয়াতি, ক্লাস ফাঁকি, দলবাজি, স্বজনপ্রীতি, প্রশ্ন ফাঁসসহ নানা ধরনের অপকর্মে শিক্ষকদের জড়িত থাকার কথা মাঝেমধ্যেই শোনা যায়।
আর সব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এসব ঘটনা নিয়মিত ঘটতে দেখা যাচ্ছে। দলবাজি করে এক শিক্ষক আরেক শিক্ষককে অসম্মানিত করার চেষ্টা করছেন। মাস্তানের মতো মারপিটে অংশ নিচ্ছেন শিক্ষকতার আবেদনকারী প্রার্থী-শিক্ষক। ক্লাস না নিয়ে গ্রুপিং করছেন, শিক্ষক নেতাদের বৈঠকখানায় দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে আছেন বিদেশ যাওয়ার মিশনে। ছাত্রীদের যৌন হয়রানির ঘটনা তো বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গ। ঘটনার পরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ হয় না। থিসিস জালিয়াতি তো চরমে। নির্লজ্জের মতো ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম নিজের নামে প্রকাশ করা হচ্ছে। অন্যের গবেষণাকর্ম নকল, কপি পেস্ট করে নিজের নামে চালিয়ে প্রকাশনার সংখ্যা বাড়িয়ে নিচ্ছেন কেউ কেউ। শিক্ষার্থীদের দিয়ে বই লিখিয়ে নিজের প্রকাশনা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এভাবেই চলছেন দেশ গড়ার কারিগররা।  
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মল্লযদ্ধের মহড়া দিয়ে আলোচনায় এলেন। মাস্তান সংস্কৃতির মনোরম মঞ্চায়ন হলো দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠে। ২ নভেম্বর ২০১৭ বিকেলে টিএসসির ক্যাফেটরিয়ায় নীল দলের একটি সভা আহ্বান করা হয়। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই সভায় প্রথম থেকেই সাবেক উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিকপন্থি এবং বর্তমান উপাচার্য আখতারুজ্জামানপন্থি শিক্ষকরা একপক্ষ আরেকপক্ষকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিতে থাকেন।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ খ ম জামাল উদ্দিন বক্তব্যে সাবেক উপাচার্য সম্পর্কে তার আগের বক্তাদের কটাক্ষমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তার পরে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রক্টর গোলাম রব্বানী ফের আরেফিন সিদ্দিক ও জামাল উদ্দিনকে নিয়ে কথা বললে জামাল উদ্দিন তার প্রতিবাদ করেন। এ সময় দু’পক্ষ দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। জামাল উদ্দিন মারপিটের শিকার হন। প্রক্টর, ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান সীতেশ চন্দ্র বাছার এবং ফলিত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক শাহ মো. মাসুম অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ আনেন তিনি। আহত জামাল উদ্দিনকে উপাচার্যের বাড়িতে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক নেতারা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন।
উচ্চশিক্ষালয়ের এই দশা হলে দেশের অবস্থা আগামীতে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা অনুমান করা কঠিন নয়। শিক্ষা ব্যবস্থার অধোগতির কথা এখন আর কারো অজানা নয়। এ অবস্থায় শিক্ষকরাই ভরসা। কিন্তু তারা এহেন আচরণ করলে ছাত্ররা কী শিখবে? কী শেখাচ্ছেন তারা ছাত্র-ছাত্রীদের? উচ্চশিক্ষালয়ের এই দুরবস্থার দায় সরকার এড়াতে পারে না। দলীয় রাজনীতি ও গ্রুপিং থেকে শিক্ষকদের কিভাবে বের করে আনা যায় তা সরকারসহ সমগ্র সুধী সমাজকেই ভাবতে হবে। দ্রুত এক্ষেত্রে পরিবর্তন প্রয়োজন।

৯ নভেম্বর ২০১৭  বর্ষ ১০  সংখ্যা ২২

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.