[পাঠক ভাবনা] অবসর বয়সসীমা পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন

Print Friendly and PDF

সম্প্রতি সংবাদপত্র থেকে জানা গেছে, পেনশন বরাদ্দ সরকারের বাজেটে আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সরকারের ১৫ লক্ষ পেনশন হোল্ডার রয়েছে। আগামী বছর এর সঙ্গে একটা বৃহৎ অঙ্ক যুক্ত হবে কারণ ৫৯ বছর পূর্ণ করাতে অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পেনশনে যাবেন। ব্রিটিশ ভারতে সরকারি চাকুরেদের ইতিহাস হতে জানা যায় যে, সিভিল সার্ভিসের প্রথম দিকে ১৮ থেকে ২০ বছরের স্থানীয় লোকদের ব্রিটিশ সরকার চাকরিতে নিয়োজিত করত। ব্রিটিশ-ভারতে একজন চাকুরে ২০ বছর বয়সে চাকরিতে প্রবেশ করলেও ৩৭ বছর চাকরির সুযোগ পেত। পরবর্তীতে চাকরিতে প্রবেশের বয়স কয়েক দফা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সময়ে চাকরিতে প্রবেশের বয়স কয়েকবার বৃদ্ধি করার পর বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩০ বছর স্থির করা আছে। সম্প্রতি বিসিএস ক্যাডারে চাকরির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা  স্নাতকোত্তর বা সমপর্যায়ের যোগ্যতা নির্ধারিত করা হয়েছে যা ইতিপূর্বে স্নাতক ছিল। বর্তমানে সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর বয়স ৫৯ বছর। যা বর্তমান সরকার দুই বছর বৃদ্ধি করে পুনর্নির্ধারণ করেছে। ইতিপূর্বে ৫৭ বছর পূর্ণ হলে একজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে  অবসরে যেতে হতো। অবসর বয়সসীমা দুই বছর বৃদ্ধি অবশ্যই সরকারের একটি প্রগতিশীল সিদ্ধান্ত। একজন সরকারি কর্মকর্তা বর্তমানে ২৯ বছর চাকরির সুযোগ পেয়ে থাকেন যদি তিনি ৩০ বছর বয়সে কর্মে যোগদান করে থাকেন যা কিনা ব্রিটিশ-ভারতে ছিল ৩৭ বছর।
সরকারের পরিবার পরিকল্পনা ব্যাপক প্রচারে উদ্বুদ্ধ হয়ে শিক্ষিত যুবকরা বিলম্বে বিয়ে করা ও ছোট পরিবার গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। যখন তারা ৫৯ বছর বয়সে উপনীত হয় তারা দেখে, তাদের সন্তানরা শিক্ষা শেষ করতে পারেনি এবং রোজগার শুরু করেনি। তারা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করে যে, তাদের মেয়েকে তখনো বিয়ে দেয়া হয়নি যা কিনা বাংলাদেশের সমাজে বাবা-মায়ের একান্ত দায়িত্ব-কর্তব্য। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১৬ তে দেশের মানুষের আয়ু ৭১ বছর ৯ মাস বলে তথ্য প্রকাশ করেছে যা কিনা ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ছিল ৪৫ বছর। নাগরিকদের অধিক আয়, শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির কারণে এটা সম্ভব হয়েছে।
সরকারের মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষকদের অবসর বয়স ৬৫ বছর। তারা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। পূর্ববর্তী সরকার সম্মানিত সুপ্রিমকোর্ট বিচারকদের অবসর বয়স ৬৭ বছর নির্ধারণ করেছিল যা বর্তমান সরকার বলবৎ রেখেছে। সন্দেহাতীতভাবে এটা বলা যায় যে, সুপ্রিমকোর্ট বিচারকগণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে ৬৭ বছর বয়স যদি বিচারকদের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় তবে সরকারি কর্মকর্তাদের কেন ৫৯ বছর বয়সে (আট বছর পূর্বে) অবসর গ্রহণ করতে হবে ? দেশে আইনজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ীরা ৫৯ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও কয়েকজন বিখ্যাত মন্ত্রী ৫৯ বছর বয়সের অনেক বেশি বয়সে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি’র চেয়ারপারসন ৭০ বছর বয়সেও দলটির প্রধানের দায়িত্বে আছেন।
সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বয়স ৬৭ বছর নির্ধারণ করলে সরকারের অবসরভাতার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। ধরা যাক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গড়ে ৭১ বছর ৬ মাস বেঁচে থাকেন (পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন ২০১৬ অনুসারে) তবে একজন কর্মকর্তা ৬৭ বছর বয়সে অবসর গ্রহণের পর গড়ে ৪ বছর ৬ মাস পেনশন ভোগ করবেন। যদি তিনি ৫৯ বছর বয়সে অবসরে যান তবে তিনি ১২ বছর ৬ মাস গড়ে পেনশন ভোগ করবেন। দেখা যাচ্ছে, অবসর বয়স ৬৭ বছরে সম্প্রসারিত করলে সরকারের কোষাগার হতে গড়ে ৪ বছর ৬ মাস  পেনশন অর্থ ব্যয় কম হবে।
আমরা জানি অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। অভিজ্ঞদের কাজে রাখলে জাতি ও কর্মকর্তা উভয়পক্ষ উপকৃত হবে। কর্মকর্তা ও সরকারের জন্য এটা জয়-জয় অবস্থা। অবসর বয়স ৬৭ বছরে সম্প্রসারিত করলে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ৩৭ বছর চাকরির সুযোগ পাবেন যদি তিনি ৩০ বছর বয়সে কর্মে যোগদান করে থাকেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তার সন্তানের পড়া শেষ করা ও মেয়ের বিয়ে দেয়ার জন্য দুশ্চিন্তা করতে হবে না। এমন অবস্থায়, সুপ্রিমকোর্র্টের বিচারকগণের মতো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর বয়স ৬৭ বছরে উন্নীত করা প্রয়োজন।
মো. আশরাফ হোসেন
৮/এ, রমনা, ঢাকা-১০০০।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.