[প্রকৃতি ও জীবন] এ সপ্তাহের পর্ব- হাতি ও পাহাড়ি প্রতিবেশ

Print Friendly and PDF

প্রাকৃতিক বন উজাড় করে হাতির জায়গা দখল করে ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রায়ই হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব বাড়ছে। প্রকৃতির বন্ধু এই প্রাণীটি বাংলাদেশের মহাবিপন্ন প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। এরা হারিয়ে গেলে প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি হবে

প্রাণিবৈচিত্র্যে ভরপুর বাংলাদেশ। ক্ষুদ্র অমেরুদ-ী প্রাণী থেকে শুরু করে ডাঙার সবচেয়ে বড় প্রাণী হাতির বিচরণ রয়েছে এদেশে। বাংলাদেশে এশীয় হাতির একটিমাত্র প্রজাতিই দেখা যায়। বাদামি রঙের বিশাল এই প্রাণীর পুরো দেহ পশমে ঢাকা। পুরুষ হাতি স্ত্রীর তুলনায় বড়। লম্বায় গড়ে প্রায় সাড়ে ৬ মিটার এবং ওজনে প্রায় ৩ টন হয়। এদের বিশাল কুলার মতো কান রয়েছে। তবে বৈচিত্র্যময় অঙ্গ হলো শুঁড়। মূলত এদের নাক পরিবর্তিত হয়ে শুঁড়ে পরিণত হয়, যা প্রখর ইন্দ্রিয়ের কাজ করে। শ্বাস-প্রশ্বাস ছাড়াও ঘ্রাণ নেয়া, খাবার সংগ্রহ, এমনকি শত্রুকে ঘায়েল করতে এই শুঁড় ব্যবহার করে।
১০০ বছর আগেও বাংলাদেশের প্রায় জায়গাতেই হাতির বিচরণ ছিল। দেশের সমতল ভূমিতেও পাল বেঁধে অবাধে বিচরণ করত। নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের জোগান থাকায় হাতির জীবনধারণ সহজ ছিল। কিন্তু দিনে দিনে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাকৃতিক বন উজাড় হয়। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শালবন। বড় আকারের প্রাণী হওয়ায় মারাত্মকভাবে আবাসস্থলের সংকটে পড়ে হাতি। পাশাপাশি খাদ্যের জোগান কমে আসে। ফলে সমতলভূমির হাতি কমতে কমতে শেষ আবাসস্থল হয়ে দাঁড়ায় পাহাড়ি প্রতিবেশব্যবস্থা।
বর্তমানে পাহাড়ি বনও হাতির জন্য নিরাপদ নয়। মানুষের প্রকৃতি বিধ্বংসী কর্মকা- পাহাড়েও শুরু হয়েছে। বনভূমি উজাড় করায় হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত গাছপালা না থাকায় হাতির প্রয়োজনীয় পানি ও খাদ্যের জোগান ব্যাহত হচ্ছে। প্রাকৃতিক বন উজাড় করে হাতির জায়গা দখল করে ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রায়ই হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব বাড়ছে। প্রকৃতির বন্ধু এই প্রাণীটি বাংলাদেশের মহাবিপন্ন প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। এরা হারিয়ে গেলে প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি হবে। প্রকৃতিকে সুস্থ রাখতে হাতিসহ অন্যান্য প্রাণী রক্ষার মাধ্যমে পাহাড়ি প্রতিবেশ সংরক্ষণে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশের হাতি ও পাহাড়ি অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি নিয়ে এ সপ্তাহের পর্ব ‘হাতি ও পাহাড়ি প্রতিবেশ’। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনিরুল এই খান। মুকিত মজুমদার বাবুর পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় বাংলাদেশের প্রথম জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ নিয়ে ধারাবাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘প্রকৃতি ও জীবন’ প্রচারিত হয় চ্যানেল আইয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১.৩০ মিনিটে, পুনঃপ্রচার প্রতি শুক্রবার দুপুর ১২.০৫ মিনিট এবং রবিবার ভোর ৫.৩০ মিনিটে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.