সাঁতারে নতুন স্বপ্ন

Print Friendly and PDF

মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

নদীমাতৃক বাংলাদেশে সাঁতারে যতটা সম্ভাবনা থাকে, বাস্তবায়ন তা ছিটেফোঁটাই হয়ে থাকে। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণের মাধ্যমে খেলোয়াড় তুলে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সেখানে কয়েক কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এতদিন সেই অন্বেষণ কর্মসূচির কী ফলাফল পাওয়া গেল তা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে জাতীয় সাঁতারে এসে কেটে গেল সব সংশয়। অর্ধেকের বেশি সোনার পদক জিতে প্রতিভারা নিজেদের আলো ভালোভাবে চিনিয়েছে। আর তাতেই স্বপ্নবান হয়ে উঠেছে ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।
হতাশ হতে হতে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন তখন আবারও নতুন করে জেগে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জাতীয় সাঁতারের মতো বড় একটি আয়োজনের উল্টোদিকও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগী নিয়ে আসর আয়োজন করার কারণে কর্মকর্তারা রীতিমতো হিমশিম খেয়েছেন। তবে পরিতাপের বিষয় খেলোয়াড়দের দৈনিক খাবারের ভাতা মাত্র ২৫০ টাকা থাকায়! এটা যেন অনেকটা পরিহাস করেছে নতুন প্রজন্মের এসব যোদ্ধার সঙ্গে। যারা ভবিষ্যতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে তাদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই ভালো কোনো ইঙ্গিত বহন করছে না। থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে খুব বাজে অবস্থার মাঝে। তবে অনেকদিক থেকেই এবারের আসরকে চমক হিসেবে দেখা হয়েছে।
বিশেষ করে বয়সভিত্তিক সাঁতারে লন্ডনি কন্যা জোনায়না আহমেদ রীতিমতো চমক উপহার দিয়েছেন। ১৪ বছর বয়সী এই কিশোরী স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পাওয়ার। ১০টি ইভেন্টে সোনা ও ৮টিতে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশের সাঁতার অঙ্গনে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। আর এই সাফল্যের মাধ্যমেই জোনায়নাকে নিয়ে বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন নানা রকম স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সাঁতার সংগঠকরা।  
আরেকটা বিষয়ে এবার আলাদা করা যেতে পারে এবারের বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতাকে। ২১টি নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়েছে এবার। জোনায়না ছাড়াও এবারের প্রতিযোগিতায় সাফল্য কুড়িয়েছেন বিকেএসপির জাহিদুল ইসলাম। তিনি ৮টি স্বর্ণ জিতে ছেলে সাঁতারুদের মধ্যে সেরা হয়েছেন। ৮-১০ বছর গ্রুপে বিকেএসপির মোবারক হোসেন (৫টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য), আমিরুল ইসলাম জয় ৪টি স্বর্ণ, প্রমি আক্তার ৩টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য।
বাংলাদেশ আনসারের মেয়ে মুক্তি খাতুন। তিনি ২টি রেকর্ডসহ ৭টি স্বর্ণ জিতেছেন। একই সংস্থার মিতু আক্তার ৭টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য, ২টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। আনসারের আরেক সাঁতারু সোমাইয়া আক্তার ৪টি স্বর্ণ ও ২টি রৌপ্য জিতেছেন। বগুড়া থেকে আসা একই সংস্থার নয়ন আলী জিতেছেন একটি রেকর্ডসহ ৭টি পদক। যার তিনটিই স্বর্ণ। কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাঁতারু মামুনুর রশীদ ৪টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ জিতেছেন। সাগরখালী সুইমিং ক্লাবের এনি খাতুন (৩টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য ও ১টি ব্রোঞ্জ)। ভাটিবাংলা সুইমিং ক্লাবের রাতুল ৩টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য ও ১টি ব্রোঞ্জ জিতেছেন। এছাড়া সাঁতার ও ডাইভিং প্রতিযোগিতায় তিনদিনে সাঁতারে ১০০টি ইভেন্টের মধ্যে ২১টি ইভেন্টে ও ডাইভিং প্রতিযোগিতায় তিনটি নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়। প্রতিযোগিতায় বিকেএসপি ৪২টি স্বর্ণ, ৪০টি রৌপ্য ও ৪২টি ব্রোঞ্জপদক পেয়ে চ্যাম্পিয়ন এবং বাংলাদেশ আনসার ২৪টি স্বর্র্ণ, ১৯টি রৌপ্য ও ২০টি ব্রোঞ্জপদক পেয়ে রানার্স আপ হয়। ছেলেদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সাঁতারু হিসেবে বিকেএসপির জাহিদুল ইসলাম দু’টি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ মোট আটি স্বর্ণপদক এবং মেয়েদের মধ্যে গোপালগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের জোনায়না আহমেদ আটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ মোট ১০টি স্বর্ণপদক লাভ করে উভয়েই শ্রেষ্ঠ সাঁতারু হিসেবে বিবেচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ৩৬টি ক্লাবের ১ হাজার সাঁতারু অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫০ জনেরও বেশি প্রতিযোগী রয়েছেন, যারা সেরা সাঁতারুর খোঁজে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সাঁতারু বাছাই কার্যক্রমের ফলে সাঁতারের এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

রেকর্ড নয় ভালো খেলায় চোখ

জন্মটা তার বিদেশের মাটিতে হলেও শরীরে রক্ত রয়েছে বাংলাদেশের। সাঁতারে প্রথমবারের মতো খেলতে এসে অর্জিত এই সাফল্যে একটু বিস্মিত নন জোনায়না। শুধু নিজের সেরা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে সুইমিংপুলে নেমেছিলেন। দিতে পেরেছেন এবং রেকর্ড হয়ে গেছে! ৮০০ মিটার ফ্রিস্টাইল, ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ও বাটারফ্লাই এবং ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইল প্রিয় ইভেন্ট জোনায়নার। অলিম্পিক সোনাজয়ী সাঁতারু যুক্তরাষ্ট্রের কেটি লেডেকি তার আদর্শ। গত এসএ গেমসে বাংলাদেশকে দুটি স্বর্ণ এনে দেয়া মাহফুজা খাতুন শীলাকেও চেনেন তিনি। এই সফলদের সামনে রেখে অনুশীলন করার কথা জানালেন এ উঠতি সাঁতারু।
mhrashel00@gmail.com

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.