বিটিভির কাছে প্রত্যাশা -রাজু আলীম

Print Friendly and PDF

২১ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব টেলিভিশন দিবস। ১৯২৬ সালে জন লজি বেয়ার্ড আবিষ্কার করেন অদ্ভুত জাদুর বাক্স টেলিভিশন। তারপর থেকে টেলিভিশন মাতিয়ে তোলে সারা বিশ্ব। ৭০ বছর পরে ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘে প্রস্তাব দেয়া হয় এই ২১ নভেম্বরকে বিশ^ টেলিভিশন দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক। এই ফলে সর্বসম্মতিক্রমে পরে ২১ নভেম্বরকে বিশ^ টেলিভিশন দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পর পর থেকেই বিশ^জুড়ে দিবসটি পালিত হয়। এই দিনে যারা টেলিভিশনের কাজ করেন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টজনেরা দিনটিকে মহা উৎসবে পালন করেন এবং একই সঙ্গে দর্শকের প্রত্যাশা কী থাকে- তারা কী দেখতে চান? তাদের প্রত্যাশা কী টেলিভিশনের কাছে- সেগুলো নিয়েও এই নানামাত্রিক আলোচনা এবং বিশ্লেষণ চলে। বিশ^ টেলিভিশন দিবস উপলক্ষে বিটিভির বিশেষ অনুষ্ঠান ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের কাছে দর্শকের প্রত্যাশা’। অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা মো. মাছুদুল হক, নির্দেশনা নূর আনোয়ার রনজু এবং গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা ফেরদৌস বাপ্পি।
বিশ্ব টেলিভিশন দিবসে বাংলাদেশ টেলিভিশনের কাছে দর্শকের প্রত্যাশা কী- তা জানার চেষ্টা করা হয়। এই আয়োজনর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে তাই এখানে উপস্থিত হন চারজন দেশবরেণ্য মানুষ- টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হারুন-অর-রশিদ এবং আফজাল হোসেন। আর তাদের সঙ্গে বাড়িতে বসে অনলাইনে যুক্ত হন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি। স্কাইপেতে যোগ দেন বরেণ্য অভিনেতা মামুনুর রশীদ

টিভি আলোচনা গ্রন্থনা : রাজু আলীম

প্রশ্ন:  একজন নির্মাতা, শিল্পী এবং দর্শক হিসেবে আপনার প্রত্যাশা কী?
মামুনুর রশীদ : আমি টেলিভিশনে যোগ দিয়েছিলাম নাট্যকার হিসেবে ১৯৬৮ সালে এবং ১৯৭২ সালের আগে আমি টেলিভিশনের কোনো নাটকে অভিনয় করিনি। তারপরে আমি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। তাই এটিই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়- আমি টেলিভিশনে নাটক লিখেছি। সংশপ্তক-এর মতো বড় নাটকের নাট্যরূপ দিয়েছি এবং আমি এখনও মনে করি যে, আমাদের বিকাশ এবং জন্ম হয়েছে পাকিস্তান টেলিভিশন থেকে শুরু করে এই বাংলাদেশ টেলিভিশনের যে দীর্ঘ সময় এর মধ্যেই আমরা কিন্তু প্রতিষ্ঠা লাভ করেছি। পরবর্তীতে যখন প্রাইভেট টেলিভিশন এলো সেখানেও আমরা কাজ করছি। কিন্তু আমি সবচেয়ে বড় মনে করি এখনও যে, বাংলাদেশ টেলিভিশন এখনও এই দেশের জাতীয় সম্পদ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনই এই দেশের শিল্প সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে একটা সময় পর্যন্ত এবং এখনও করে যাচ্ছে। গত তিন-চারদিন অনেক লোকের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছে- যারা সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ এবং তারা সবাই বলেছে- আপনাদের যে  স্বর্ণ যুগ ছিল ৭০ এবং ৮০ এর দশকে সেই রকম সময় কিন্তু টেলিভিশনের আর ফিরে আসছে না। এর থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং তার আগে পূর্ব পাকিস্তানের যে টেলিভিশন সেই টেলিভিশন এই দেশের মানুষের রুচি মনন এবং ভাবনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। পাবলিক এবং প্রাইভেট টেলিভিশনের যে পার্থক্য সেই পার্থক্য কিন্তু এখন দর্শকরা বুঝতে পারছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের যোগাযোগ যে পর্যন্ত হয় এটিও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কিন্তু কাঠামোগত সমস্যা এবং নানা কারণে হয়তো বাংলাদেশ টেলিভিশন একটা দুর্বল জায়গায় রয়ে গেছে। এটাকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের। আমাদের প্রত্যাশা দর্শকদের প্রত্যাশা। অনেক দর্শক আছেন যারা এখনও শুধু বাংলাদেশ টেলিভিশন দেখেন, অন্য কোনো টেলিভিশন তারা দেখেন না। এটি অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ আমাদের জন্যে। আমি বাংলাদেশ টেলিভিশনের কাছ থেকে আমার দেশের মানুষের কাছ থেকে প্রত্যাশা তারা যেভাবে টেলিভিশন স্টেশন চালাবেন তা যেন জনগণের হয়। ভালো আনন্দদায়ক হয় এবং আরও স্বদেশমুখী হয়- এই আমার প্রত্যাশা।’
প্রশ্ন: ফরিদুর রেজা সাগর দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ টেলিভিশন এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ  টেলিভিশনের সঙ্গে অনেক কাজ করেছেন এবং এর পরে দেশীয় প্রাইভেট স্যাটেলাইট চ্যানেলের অন্যতম কর্ণধার। আপনি দেখেছেন টেলিভিশনের উত্থান? মামুনুর রশীদ যা বললেন সাধারণ মানুষের রেফারেন্স দিয়ে ৭০-৮০ এর দশক ছিল স্বর্ণযুগ। মানুষ ওই সময়ের কথা এখনও বলে যে, বিটিভি তখন একমাত্র চ্যানেল ছিল? লোকের আর কোনো কিছু দেখার অপশন ছিল না। নাকি এখন অনেক চ্যানেল হয়ে যাওয়াতে লোকেরা এখন বিভ্রান্ত যে কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখবেন? আপনি কী বলবেন?
 ফরিদুর রেজা সাগর : আমার মনে হয় দুটোই ভুল তার কারণ হলো যে, কোন জিনিস যদি মূল্যায়ন করতে হয় তাহলে একটা সময়ের দরকার। এই কথাগুলো আপনি বললেন তার মানে আজকে থেকে কত বছর আগে? কুড়ি এবং সতের সাইত্রিশ চল্লিশ বছর আগে- কিন্তু স্যাটেলাইট প্রাইভেট টেলিভিশনের জন্মই হয়েছে ১৯ বছর। ১৯ বছর দিয়ে ৪০ বছর বিচার করা যাবে না। ৪০ বছর পরে আমরা বুঝতে পারব আমরা স্যাটেলাইট টেলিভিশনে কী করছি এবং আমরা কতটা মূল্যবান, কত অনুষ্ঠান আমরা দর্শকদের দিচ্ছি। তা হিসেব করার সময় আসলে এখনও আসেনি। আরেকটু সময় লাগবে।
প্রশ্ন: একটা সময় ছিল- এইসব দিনরাত্রি নাটক কিংবা ‘কুসুম ও কীট’ যে নাটকে আফজাল ভাইকে আমরা দেখেছি। বন্যা আপার গানের অনুষ্ঠান দেখেছি। মনে পড়ে বন্যা আপার গান প্রথম হুমায়ূন আহমেদ এর নাটকে দূরে কোথাও দূরে সে গান দিয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়ে গেলেন। বন্যা আপাকে আমরা স্ক্রিনে দেখিওনি কিন্তু তার কণ্ঠ আমরা শুনেছি। তখন একটিমাত্র চ্যানেল ছিল বলে সবাই সেই চ্যানেল দেখত?
 ফরিদুর রেজা সাগর : যতগুলো অনুষ্ঠানে উদাহরণ দিলেন, সব ৮০ সালের বা তার আগের। ৮০ এর পরে কোনো অনুষ্ঠানের একটা উদাহরণ দেন। ৯০, ৯৯, ২০০০ এর কোনো উদাহরণ দিতে পারবেন না। সুতরাং আপনি যদি বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে প্রাইভেট টেলিভিশনগুলোর তুলনা করেন তাহলে একদম ঠিক হবে না। কারণ, সময়ই বলে দিবে আমাদের প্রাইভেট চ্যানেলগুলো কী দিচ্ছে? বারবার আমি এই কথাটিই বলতে চাই। আমি জানি না, আমার সঙ্গে যারা আজ আছেন তারা একমত হবেন কিনা?
প্রশ্ন: মাননীয় মন্ত্রী আপনার কাছে জানতে চাইব যে, আপনি নিজেও একজন দর্শক বাংলাদেশ টেলিভিশনের। মন্ত্রী হিসেবে নয়, টেলিভিশনের দর্শক হিসেবে আপনার কী প্রত্যাশা টেলিভিশনের কাছে?
 হাসানুল হক ইনু: বিটিভি এই দক্ষিণ এশিয়ার সর্বপ্রথম সম্প্রচার কেন্দ্র। এমন কী ভারতের আগেও আমরা সম্প্রচার শুরু করেছি। আর পৃথিবীতে বিটিভি হচ্ছে প্রথম বাংলা ভাষার সম্প্রচার কেন্দ্র। সেই দিক দিয়ে বিটিভি একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ধারণ করে আছে। অপরদিকে বিটিভি একটি সরকারি অর্থায়নে রাষ্ট্রের একটি টেলিভিশন কেন্দ্র। সেই বিটিভি যখন যাত্রা শুরু করে তখন তারা বাংলা ভাষাভাষী জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করে যে অনুষ্ঠান এবং খবরাদি প্রচার করে সেটা জনগণের দৃষ্টি কাড়ে। তারপরেও আমি সেই যুগের কথা যদি বলি এবং এই যুগের কথা যদি বলি- সেই যুগে বিটিভি খেলাধুলা সম্প্রচার করত। এটি জনগণের চাহিদা ছিল। যে খেলাধুলা করে না সেও কিন্তু সরাসরি সম্প্রচারটা দেখতে চায় এবং ফাঁক পেলেই টিভির পর্দায় চোখ বুলায়। আরেকটি ব্যাপার হলো বিনোদনের ক্ষেত্রে আপনার নাটক এবং সিনেমা এর জন্যেও দর্শক বিটিভির পর্দায় চোখ রাখত। এরপরে যেটি রাখতো সেটি খবরাদি এবং সেখানে মনে রাখবেন যখন বেসরকারি খাতে টেলিভিশন চ্যানেল ছিল না। তখন পত্রপত্রিকা ছিল খবর পরিবেশনের একটা বাহন। কিন্তু টেলিভিশন যাত্রার পর তারাও খবর পরিবেশন শুরু করল। সকালে খবরের কাগজ পড়ার জন্যে অপেক্ষায় থাকত জনগণ। কিন্তু মাঝখানে টেলিভিশন ঘণ্টায় ঘণ্টায় খবর দিচ্ছে তা যথেষ্ট না হলেও তার দিকেও কিন্তু মানুষ চোখ রাখত।
আরেকটি বিষয় হলো এই খবরাদি পরিবেশনের জন্যে সরাসরি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যেসব ব্যক্তিবর্গ জড়িত আছে তাদের খবর পরিবেশন করা হতো। সুতরাং স্বচক্ষে কিছু খবরাদি দেখার সুযোগ হতো। বিদেশি খবর দেখার সুযোগ হতো। এখনও বাংলাদেশের বিটিভি বা টেলিভিশনের পর্দায় কিন্তু আমি যে কারণগুলো বললাম, এইসব কারণেই কিন্তু চোখ রাখে। তবে সবাই যে খবরের জন্যে চোখ রাখে এই কথাটি ঠিক না। এর বাইরে বিশেষায়িত কিছু খবর আছে। বাচ্চাদের জন্যে অনুষ্ঠান আছে, শিক্ষার অনুষ্ঠান আছে, ইতিহাসের অনুষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যের অনুষ্ঠান আছে। কৃষি এবং উন্নয়নের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আছে। যার যা পছন্দ সে কিন্তু সেই অনুষ্ঠান দেখতো। আমি একজন দর্শক হিসেবে আমার যেটি ভাল লাগে সেই অনুষ্ঠান আমি দেখি।
বিটিভির বৈশিষ্ট্যটা কী? বিটিভি কিন্তু সব ধরনের চাহিদাটা মেটানোর চেষ্টা করে। বেসরকারি টেলিভিশন আসার পরে তারাও সম্প্রচার জগতে দাপটের সঙ্গে কাজ করছে। কিন্তু বিটিভি যাপিত জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে যে অনুষ্ঠান হাজির করে সেটি রাষ্ট্রের পক্ষেই সম্ভব। কারণ রাষ্ট্রের একটা দায়বদ্ধতা আছে। দায়বদ্ধতা জনগণের কাছে আছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে রাষ্ট্রের কিন্তু কৃষির ব্যাপারে তথ্য দিতে হবে এবং দেখবেন বিটিভির আপনার চ্যানেল আই-এর শাইখ সিরাজ সাহেব এই যে বিটিভির কৃষি সংবাদ, এই কৃষি সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ের চাষির কথা কুষ্টিয়ার চাষি কিন্তু জানতে পারল। এটা যে কী উপকার দিয়েছে তা কিন্তু চাষিরাই বলতে পারবেন। কিন্তু আমি এটি বলব, এটি ঠিক যে বেসরকারি চ্যানেলের সঙ্গে বিটিভির তুলনা করে লাভ নাই। ফরিদুর রেজা সাগর এটি ঠিকই বলেছেন। ত্রিশ বছর পরে আমরা যখন মূল্যায়ন করব যে বিটিভি কতটা চাহিদা পূরণ করল আর কতটা করল না?

দর্শক প্রশ্ন :  ইমতিয়াজ খান, নারায়ণগঞ্জ থেকে বলছি। মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আমার একটি প্রশ্ন আছে। বিটিভি খুব সুন্দর অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে। তারপরেও বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলের ফলে দাপটের কারণে বিটিভি অনেকাংশেই মøান হয়ে যাচ্ছে। স্টার বাংলা এবং জি বাংলাসহ অনেক চ্যানেলে পারিবারিকভাবে নেতিবাচক অনেক অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে থাকে। এই সব চ্যানেল বন্ধের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা?
হাসানুল হক ইনু : আমরা বিশ^ায়নের যুগে বসবাস করছি। বাংলাদেশ বিশ^ায়নের যুগে একটি ছোট্ট রাষ্ট্র। কিন্তু জনসংখ্যার দিক দিয়ে আমরা বড় রাষ্ট্র। ১৬ কোটি মানুষের দেশ। আমাদের ৪ হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি আছে। কিন্তু বিশ^ায়নের জগতে যেমন সারা বিশে^র খবর যেমন বাংলাদেশের মানুষের দেখার অধিকার আছে শোনার অধিকার আছে। ঠিক তেমনি সারা বিশে^র কোথায় কোন সাংস্কৃতিক কর্মকা- হচ্ছে সেটা দেখা এবং জানার অধিকার বাংলাদেশের জনগণের আছে। সেই অধিকার থেকে আমরা জনগণকে বঞ্চিত করতে পারি না। তেমনি আমাদের দেশে যেমন ভালোমন্দ আছে বিদেশি চ্যানেলও ভালোমন্দ আছে। যা মন্দ তা আটকানো উচিত এবং তার জন্যে দেশে প্রচলিত আইন আছে। এই সব আইন পরীক্ষা করে আমরা আটকানোর চেষ্টা করি। সুতরাং এখানে বিদেশি চ্যানেল বন্ধ করা কোন সমাধান নয়। সমাধান হলো বাংলাদেশের যে চ্যানেলগুলো আছে তাদের সম্প্রচারের জগৎকে প্রসারিত করবেন এবং দর্শকের চাহিদা মেটাবেন।
দর্শকের চাহিদা মেটালে বাংলাদেশের টিভির পর্দায় মানুষ চোখ রাখবে এবং বিদেশি টিভি চ্যানেলে চোখ রাখবে বিদেশি এবং ভালো অনুষ্ঠানের জন্যে। একটি প্রতিযোগিতা তো দরকার আছে? সেই প্রতিযোগিতার জন্যে দেশে বেসরকারি খাতে আমরা টিভি চ্যানেল উন্মুক্ত করে দিয়েছি। তেমনি বিদেশি চ্যানেল আসলে তার সঙ্গেও একটা প্রতিযোগিতা হবে তাতে আমাদের সুবিধাই বেশি। দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না দেশের রাষ্ট্রের নিয়মের সঙ্গে যেমন যায় তা যেমন আমরা সম্প্রচার  করি না। দেশের চ্যানেলের জন্যেও কিন্তু একই নিয়ম। আমরা এগুলো আটকাতে পারি।
প্রশ্ন:  মন্ত্রী যা বললেন এবং দর্শক যা প্রশ্ন করলেন সেই বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
 আফজাল হোসেন : আজ বিশ^ টেলিভিশন দিবস। আমরা যারা টেলিভিশনের সঙ্গে দীর্ঘবছর জড়িয়ে আছি কোনো না কোনোভাবে সবার জন্যেই এই দিনটি আনন্দের এবং আমাদের সঙ্গী যারা চিরকাল দর্শক। তাদের জন্যে দিনটি আনন্দের। আজকে আমরা আলোচনায় বসেছি। ইতোমধ্যে টেলিভিশন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এই সব প্রসঙ্গ উঠেছে। মূলত এটি আলাদা কোনো বিষয় নয়। বিশ^ টেলিভিশন দিবস। ভালো এবং মন্দের সংজ্ঞাটা আসলে কী? আমার কাছে যা ভালো আপনার কাছে তা ভালো হবে এমন কোনো কথা নেই এবং আপনার কাছে যা মন্দ তা আমার কাছে মন্দ হবে এমন কোনো কথা নেই। যখন আমরা বিচার বিশ্লেষণ করে যখন কোনো সিদ্ধান্ত দান করি যে, টেলিভিশন চ্যানেলের সবকিছু খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বন্ধ করে দেয়া উচিত? বন্ধ করে দেয়া সবচেয়ে সহজ কাজ। যার কোনো দাবি নাই তার বন্ধের দাবি থাকতে পারে। কিন্তু চ্যালেঞ্জটা মোকাবিলা করা হলো মানুষের ধর্ম ও কর্তব্য এবং যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে নিজের অস্তিত্বকে প্রমাণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন আমরা এককালে- আলোচনা হচ্ছিল এই রকম ছিল সেই রকম ছিল, মামুন ভাই বলছিলেন। হ্যাঁ ছিল- একটা সময়ে যে সাফল্য সেই সময় তো গড়িয়ে গেছে। সুতরাং পরের সময় একই রকম হবে এমন কোনো কথা নেই। একটা সময়ের বদল হচ্ছে সেই সময়ের সঙ্গে শুধু যে টেলিভিশন বদলে গেছে তা নয়, টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বদলে গেছে- বিষয়টা তা নয়?
যারা টেলিভিশন দেখেন সেই সব মানুষও তো বদলেছেন। সুতরাং সব বদলের মধ্যে আমরা যদি শুধু মনে করি যে, টেলিভিশনের কাছে আমাদের প্রত্যাশাটা অনেক এবং আমরা আমাদের জায়গায় সঠিক রয়েছি বিষয়টি তাও নয়। টেলিভিশনের জায়গা থেকে যদি পতন ঘটে তাহলে যারা আমরা দর্শক হিসেবে টিভি দেখি তাহলে আমাদেরও পতন ঘটেছে দর্শক হিসেবে।  আর যে প্রশ্নটি আপনি করলেন সেই প্রশ্নের উত্তর আমরা দিয়েছি যে, বন্ধ কোনো বিষয় নয়। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় যে কথা বলেছেন আমি একমত। পৃথিবী আসলে সবার জন্যে খোলা থাকা উচিত। জানালা দরজা খোলা রাখা উচিত। জানালা দরজা বন্ধ রেখে কারও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায় না। তাই এই সব মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের।
 প্রশ্ন : কিন্তু আমরা কি কোনো অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছি? এই প্রশ্ন এবার বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাননীয় মহাপরিচালকের কাছে।
ফরিদুর রেজা সাগর : এই ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই- ধরেন বাসায় রুটি কাটার ছুরি রয়েছে। এটি কীভাবে কে কেমন ব্যবহার করবে এটি একদম তার ব্যাপার। সুতরাং কোনো নীতি করে বন্ধ হবে, না খোলা থাকবে- এটি কিন্তু আরও পরের ব্যাপার। প্রতিটি বাড়িতে টেলিভিশন রয়েছে, সবার হাতে রিমোট তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারে তারা কী দেখবে?
 আফজাল হোসেন : এই যে বন্ধ শব্দটা। শুধু টেলিভিশন না, বন্ধ শব্দটা কথায় কথায় আসা উচিতই না। বিষয়টা হলো খোলা। পৃথিবী চোখের সামনে খুলে যাচ্ছে। আমার যদি বাল্যকাল, কৈশোর থেকে থাকে আমি একটি বন্ধ সময় দেখেছি। আমার যৌবনকাল আমার বর্তমান সময়কে আমি এখন যদি আমার এই সময়কে দেখে মনে হয় যে, এই সময়কে আমি আগে পাইনি কেন? সুতরাং এটি মুক্ত চিন্তার কাল বলেই মনে হয় আমি আগে পাইনি কেন?
 ফরিদুর রেজা সাগর :  এই টেলিভিশন দিবসে সবচেয়ে বড় শক্তি কিন্তু দর্শক। তারা ইচ্ছে করলে সব কিছু করতে পারে।
প্রশ্ন :  এই সূত্রে ফরিদুর রেজা সাগর আপনার কাছে প্রশ্ন কারণ আপনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন। আমরা কি অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছি এই আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলো আসার ফলে?
ফরিদুর রেজা সাগর : এখানে প্রতিযোগিতার কোনো ব্যাপারই নাই। তাই পরে অসম? দর্শক যা পছন্দ করবে তাই আমাদের দিতে হবে বা আমরা দর্শকদের রুচি তৈরি করবার জন্যে অনুষ্ঠান প্রচার করব। এক সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনের কিছু ছিল না। বিদেশ থেকে তারা কী ছবি আনবে বা দেশের কী অনুষ্ঠান করবে, আফজাল হোসেন কী নাটক লিখবেন, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা কী গান গাইবেন- কোনো কিছুর দিকনির্দেশনা ছিল না। তারা তাদের পছন্দমতো জিনিস দর্শককে দিয়েছে এবং দর্শকরা তা পছন্দ করেছে এবং তার উপরে ভিত্তি করে কিন্তু আমরা সব কিছু তৈরি করেছি পরবর্তী পর্যায়ে।
আফজাল হোসেন : প্রতিযোগিতার কথা যেহেতু বলা হচ্ছে। প্রতিযোগিতা অসম সুষম না। আমরা প্রত্যেকে কিন্তু একটা প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছি। এই প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছি বলেই কিন্তু প্রত্যেকের একটা আলাদা পরিচিতি হয়। আপনি যখন সুন্দর করে বন্যা আপার পরিচয় দিচ্ছিলেন তখন মূলত তার যোগ্যতার কথাই কিন্তু প্রকারান্তরে বলছিলেন। তিনি প্রমাণ করেছেন। তিনি কি শুধু বাংলাদেশের জন্যে প্রমাণ করেছেন? এই চর্চাটা যতটুকু এরিয়ার মধ্যে রয়েছে ততটুকের মধ্যে যখন তিনি সার্থক উপস্থাপন করতে পেরেছেন তখনই কিন্তু তিনি রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা হতে পেরেছেন। মানুষের মধ্যে প্রতিযোগিতা বোধ থাকতে হবে এবং এটি জরুরি।
প্রশ্ন : বিটিভির মহাপরিচাপলকের কাছে জানতে চাই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বলছিলেন আমাদের যে স্যাটেলাইট চ্যানেল আছে সেগুলো মূলত বিনোদননির্ভর। কিন্তু বাংলাদেশ টেলিভিশনের দায়িত্বটা আসলে অনেক বড় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনকে অনেক কিছু দেখাতে হয়। কারণ তা দেশের উন্নয়নের জন্যে জরুরি। শুধু বিনোদন বাংলাদেশ টেলিভিশনের কাছে এক নম্বর প্রাধান্য নয়- আপনি কী বলবেন?
   হারুন-অর-রশিদ : বিনোদন এক নাম্বার না। কিন্তু বিনোদনকে বাদ দিয়ে কোনো ব্রডকাস্টার টিকে থাকতে পারবে না। বিটিভির অ্যাপ্রোচ হচ্ছে ইনফোটেইনমেন্ট। আমরা শিক্ষা দিতে চাই আনন্দের সঙ্গে বিনোদনের মধ্য দিয়ে। আমি একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে বলতে চাই।
  টেলিফোনে প্রশ্নকর্তা :  জবির আহমেদ সিলেট থেকে। বিটিভিকে ধন্যবাদ দিতে চাই এমন একটি সুন্দর আয়োজন করার জন্যে। এতো সুন্দর সুন্দর মানুষকে অতিথি হিসেবে আনার জন্যে। বিটিভি আমাদের টিভি আমি বলব। আমি সবসময় বিটিভি দেখি। বর্তমান মহাপরিচালক আসার পরে বিটিভিতে একটা পরিবর্তন আমরা দেখতে পাচ্ছি। সূত্রপাত বাংলাদেশ অনুষ্ঠানটি খুবই ভালো লাগে সকালবেলা। মহাপরিচালকের কাছে আমার একটি প্রশ্ন আছে। যারা কেবল অপারেটর তারা অনেক সময় ক্লিয়ার বিটিভি দেখার ব্যবস্থা করে দেয় না এবং বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠানও আমরা ঠিকমতো দেখতে পাই না। এই ব্যাপারে মহাপরিচালক মহোদয়ের দৃষ্টি কামনা করছি। ফেসবুক, স্কাইপি এর মাধ্যমে টিভি যুক্ত হচ্ছে। এই উদ্যোগ আরও বাড়াতে হবে।
হারুন-অর-রশিদ :  এই সব অভিযোগ আমরা প্রায়ই পেয়ে থাকি এবং এর ব্যাপারে আমাদের উদ্যোগ সবসময়ই আছে। এখানে কিছু কারিগরি ব্যাপার আছে। কারণ আমরা হচ্ছি টেরিস্টিরিয়াল চ্যানেল। টেরিস্টিরিয়াল চ্যানেল ইন্টারনাল এন্টেনা দিয়ে দেখার কথা। এটি না দেখে যখন আমরা স্যাটেলাইটে যাই তাই তখন তারা যে ডাউনলোড করে সেটার যে সিনেক্রোনাইজেশনের যে সিস্টেম, আর আমার সিস্টেমটা ভিন্ন। এই ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে কিছু জটিলতা তৈরি হয়। আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর উদ্যোগ নেই। কিছুদিন পরে আমি চট্টগ্রামে যাব। আপনার অভিযোগ খতিয়ে দেখব এবং দর্শকরা যাতে বিটিভি দেখতে পায় তার উদ্যোগ নেব। আজকে আমরা যখনই বাংলাদেশ টেলিভিশনের কথা বলি- আগের সময়ের সাথে এখনকার সময়ের তুলনা হয়। সেই আগের আমি কি এখন আর আছি কিনা, যেটা আফজাল ভাই বললেন? আর প্রতিযোগিতা কিন্তু আমার সঙ্গেই। একজন মানুষ তিনিই হচ্ছেন আধুনিক মানুষ। যিনি প্রতিনিয়ত নিজেই নিজেকে অতিক্রম করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন তখনই আধুনিক হবে যখন বিটিভি নিজেই নিজেকে অতিক্রম করতে সক্ষম হবে। আমাদের কিছু সংকটের জায়গা আছে। আগের কথা বলা হয়। তখন মেধার সন্নিবেশ একটি জায়গায় হয়েছিল। এখন মেধা বেড়েছে আবার মেধা অনেক জায়গায় ছড়িয়েও গেছে। কিছু সুবিধা-অসুবিধা দুটোই আছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণে আমাদের ভালো দিকের পাশাপাশি  ছোটখাটো সাইড ইফেক্টও আছে। বিত্তের বৈভব যখন বেড়ে যায় তখন চিত্তের বৈভব কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটুখানি ভেঙে পড়ে। সেই ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা চর্চার জায়গাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভঙ্গুর হয়ে যায়। এই সংকটের বাইরে কোনো টেলিভিশন চ্যানেলই নেই। টেলিভিশন হলো বিংশ শতাব্দীর আর এখন চলছে একবিংশ শতাব্দী। এই শতাব্দীতে নতুন নতুন মাধ্যম এসেছে। একটি বাড়িতে টিভি একটা আর হ্যান্ডসেট ৫টা। এই ৫টা হ্যান্ডসেট দিয়ে দুনিয়ার সবকিছু তার হাতের মুঠোয়। তাই বিংশ শতাব্দীর টেলিভিশনকে একবিংশ শতাব্দীর করে গড়ে তুলতে হবে। এই ক্ষেত্রে বিটিভি অনেক পিছিয়েই আছে। তাই আমরা আধুনিক হওয়ার চেষ্টা করছি। টেলিভিশনের সামনে দর্শক বসে আছে এ ঘটনা এখন কমে যাচ্ছে। উল্টো দর্শকের কাছে টেলিভিশনকে যেতে হচ্ছে। বিটিভি এই উদ্যোগ নিয়েছে এবং আমাদের যারা প্রাইভেট টেলিভিশনে আছেন এই সংকট সবার এবং সবাইকে একসঙ্গে এই সংকটের সমাধান করতে হবে। আমাদের সুবিধা হলো টাকা পয়সার সাসটেইনঅ্যাবিলিটি নিয়ে খুব একটা ভাবতে হয় না। সুতরাং আমাদের সুযোগ আছে। অনেক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আমরা করতে পারি।
সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন (টেলিফোনে) :  টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকেই টেলিভিশনের সাথে আছি। বিটিভিকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ বিটিভি একমাত্র চ্যানেল যারা আমাদের সংস্কৃতির মূলধারাকে লালন করে এবং প্রচার করে। এই কাজ শুধু বিটিভিই করে। সংগীতের সব শাখার প্রতি সমান গুরুত্ব দিয়ে বিটিভি অনুষ্ঠান প্রচার করে। আমি চাই বিটিভির অনুষ্ঠান আরও দর্শকপ্রিয়তা পাক। ক্ল্যাসিক্যাল কণ্ঠসংগীত এবং ক্ল্যাসিক্যাল যন্ত্র সংগীতের অনুষ্ঠান বিটিভি যেন আরও বেশি করে আয়োজন করে তাহলে আমার আরও ভালো লাগবে। বিটিভিকে ধন্যবাদ জানাই এই বিশেষ দিনে সবাইকে শুভেচ্ছা।
 প্রশ্ন : গানের সব শাখাকেই গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে বিটিভি কিন্তু অন্য টিভি চ্যানেলের পক্ষে তা করা সম্ভব নয়- এই বিষয়ে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা আপনি কী মনে করেন?
 রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা : আমি বলব, বাংলাদেশ টেলিভিশন লাভ লোকসানের চিন্তা করে না। এটিই কিন্তু বিটিভি এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গার অন্য প্রাইভেট চ্যানেলের চেয়ে বিটিভি এগিয়ে আছে। অন্য টেলিভিশনগুলোকে বিজ্ঞাপনদাতা বা স্পনসরদের মতামতকে বেশি প্রাধান্য দিতে হয় অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং প্রচার করতে।  বিটিভির দায়দায়িত্ব শুধুই দর্শক। অন্য কারও কাছে তাদের জবাবদিহিতা নেই। এই বিষয়কে গুরুত্ব দিলে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের যে ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং অহঙ্কারের জায়গাগুলো সেগুলো ধরে রাখা খুব কঠিন কিছু না। অডিশনের মাধ্যমে শিল্পী তৈরির প্ল্যাটফর্ম বিটিভি ছাড়া আর কোথাও নেই। এতে করে যাদের যোগাযোগ আছে, টাকা আছে তারা  ক্যাসেট বের করছে, টেলিভিশনে তাদের মুখই দেখা যাচ্ছে।  গান যে সাধনার ব্যাপার সেই বিষয়টি থাকছে না। যারা গান নিয়ে সাধনা করছে তারা সামনে আসার সুযোগই পাচ্ছেন না।
এই ক্ষেত্রে আমি মনে করি বিটিভির একটি দায়বদ্ধতা আছে। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর যখন প্রথম টিভি চালু হলো তখন কিন্তু টিভি দোকানে কিনতে পাওয়া যেত না। আমি কিন্তু বিটিভির প্রথম দর্শক। তখন ২৫০টি টেলিভিশন দেয়া হয়েছিল লটারি করে। আমার বাবার এক বন্ধু পেয়েছিল একটি টিভি। যেদিন টেলিভিশন শুরু হয় আমরা সবাই গোল হয়ে বসে ফেরদৌসি আপার গান শুনেছিলাম। আবদুল আলিম সাহেব গান গেয়েছিলেন এই সব মনে আছে। আর বিটিভি সাসটেইন্যাবল কিছু প্রোগ্রাম করে। যেমন- উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম বর্তমানে আছে কী না আমি জানি না? শিশুদের কিছু শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান। মোস্তফা মনোয়ার সাহেবের পরিকল্পনায় ঋতুর রঙে আঁকা এখনো নামটি আমার মনে আছে। সেই অনুষ্ঠান যে কী সুন্দর ছিল। এত বছর পরেও সেই অনুষ্ঠানের কথা ভুলিনি। পাপেট শো পরে যোগ হয়। শিশুদের শিক্ষার সঙ্গে বিনোদন এই ধরনের অনুষ্ঠান তৈরি করতে বিটিভিকে ভাবতে হয় না । কারণ তাদের স্পনসরের চিন্তা নেই কিন্তু অন্য টেলিভিশনকে দশবার চিন্তা করতে হয় এই ধরনের অনুষ্ঠান নির্মাণের। মন্ত্রী মহোদয় বললেন রুচিবোধ তৈরি করে দেয়া। এই কাজটি বিটিভি করছে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.