জাপানে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের এক-তৃতীয়াংশ চীনের নাগরিকরা করে থাকে

Print Friendly and PDF

জা পা ন

রাহমান মনি

জাপানে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধসমূহের প্রায় তিন ভাগের একভাগ সংঘটিত হয় চীনের নাগরিকদের দ্বারা। মোট অপরাধের ৩২.৭ শতাংশ করে চীন দেশের নাগরিকরা।
গত অক্টোবর ২০১৬ থেকে অক্টোবর ২০১৭ পর্যন্ত জাপান বিচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তা জানা যায়। তবে উক্ত এক বছরের মধ্যে যেসব অপরাধ জাপান পুলিশের খাতায় নিবন্ধিত হয়েছে শুধু তার উপর ভিত্তি করেই এই পরিসংখ্যান। এর  বাইরেও অনেক অপরাধ সংঘটিত হয় তা পুলিশের অগোচরেই থেকে যায়। আবার কিছু কিছু অপরাধ পুলিশের অবর্তমানে নিজেরাই মিটিয়ে ফেলে অথবা ঝামেলা হওয়ার ভয়ে পুলিশের দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া হয়।
‘ডযরঃব চধঢ়বৎ ড়হ ঈৎরসব ২০১৭’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে জাপান বিচার মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করা হয়। ২৭ নভেম্বর ২০১৭ জাপান পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বার্ষিক প্রতিবেদনটি উত্থাপনের পূর্বে ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার জাপান ফরেন প্রেস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিচার মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টর অব দি রিসার্চ, ডিপার্টমেন্ট অব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ইয়োশিও নাকামুরা সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। এরপর বিদেশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন।
বিচার মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বিদেশিদের দ্বারা সংঘটিত মোট অপরাধের ৮২.৭ শতাংশ সংঘটিত হয় এশিয়ানদের দ্বারা। এর পরের স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকানরা, শতকরা হিসেবে এর পরিমাণ ৯.৫ শতাংশ। এভাবে উত্তর আমেরিকা ২.৮ শতাংশ, ইউরোপ ২.৬ শতাংশ, আফ্রিকা ১.৬ শতাংশ এবং ওশেনিয়া ০.৭ শতাংশ।
দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে শুধু ব্রাজিলের নাগরিকরা ৬.১ শতাংশ অপরাধ করে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। বাকি সব দেশ মিলে ৩.৪ শতাংশ অপরাধ করে থাকে।
বিচার মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আফ্রিকার নাগরিকরা তুলনামূলকভাবে কম অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। আফ্রিকান নাগরিক যে জাপানে খুব কম তা কিন্তু নয়। আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়া নাগরিকদের বসবাস জাপানে বেশি। এ সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। এরপর ঘানা ও মিসরের স্থান। উভয় দেশের প্রায় দুই হাজারের মতো নাগরিকের বসবাস। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজারের মতো আফ্রিকান জাপানে বসবাস করছেন।
এশিয়ানদের মোট ৮২.৭ শতাংশ অপরাধের মধ্যে চীনের নাগরিকদের দ্বারা সংঘটিত হয় ৩২.৭ শতাংশ জাপানে প্রায় ৭ লাখ চায়নিজদের বসবাস। সবদিক থেকেই চীন শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
সংখ্যার দিক থেকে ৫ম স্থানে অবস্থান করলেও ভিয়েতনামিরা অপরাধের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রতি পাঁচটি অপরাধের মধ্যে তারা একটি অপরাধ করে থাকে। অর্থাৎ তাদের অপরাধের পরিমাণ শতকরা হিসেবে ২০.৬ শতাংশ। মোট (বসবাসকারী) জনসংখ্যার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার। হঠাৎ করেই জাপানে ভিয়েতনামিদের সংখ্যা বেড়ে যায়। গত বছর পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯০ জনে। ছাত্র ভিসায় আসা ভিয়েতনামিরা এক বছরের ব্যবধানে ১৩.১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
জাপানে বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কোরিয়ানরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন অনেক কোরিয়ানকে জাপানে আসতে বাধ্য করা হয়। তাদের তৃতীয় কিংবা চতুর্থ প্রজন্মও রয়েছে জাপানে। তাদের কেউ কেউ জাপানি পাসপোর্ট নিয়ে পুরোদমে জাপানিজ হয়ে গেছেন। তারপরও প্রায় ৫ লাখ কোরিয়ান নাগরিক জাপানে বসবাস করছেন। তাদের অপরাধের পরিমাণ শতকরা হিসেবে ৯.৫ শতাংশ।
প্রায় আড়াই লাখ ফিলিপিনো বসবাস করছেন জাপানে। তাদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের সংখ্যা ৭ শতাংশ। প্রায় সমসংখ্যক ব্রাজিলিয়ান রয়েছেন জাপানে।
এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সমন্বিত অপরাধের পরিমাণ ১৩ শতাংশ।
জাপানে বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার (২০১৬ পরিসংখ্যান মোতাবেক)। তার মধ্যে ২ হাজার রয়েছেন বিভিন্ন ট্রেনিংয়ে, স্কলারশিপ, ছাত্র ভিসা এবং অন্যান্যতে। বাকি ১০ হাজার সাধারণ প্রবাসী। যারা নিজ চেষ্টায় জাপানে এসে স্ব স্ব অবস্থান গড়েছেন।
সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশিরা কম হলেও জাপানে বাংলাদেশিদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যেমন তাদের পদচারণা রয়েছে তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলাদেশিরা লিড দিচ্ছেন। পুরনো গাড়ি ব্যবসা, হালাল ফুড, স্পাইস ব্যবসা বাংলাদেশিদের নেতৃত্বে। আইটি সেক্টরেও বাংলাদেশিরা ভালো এগিয়েছে। জাপান মেইড কসমেটিকস ব্যবসা করে বাংলাদেশি জাপানে প্রসিদ্ধ হয়েছেন। জাপানের টপ মডেল এখন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।
২০১৬ পরিসংখ্যান অনুযায়ী জাপানে মোট ২৩ লাখ ৮২ হাজার ৮২২ জন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন যা পূর্বের বছর থেকে ৬.৭ শতাংশ বেশি (বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য মোতাবেক)। তার মধ্যে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৮৮ জন রয়েছেন ট্রেইনি ভিসায়। আগের বছরের তুলনায় ১৮.৭ শতাংশ বেড়েছে। ছাত্র ভিসায় রয়েছেন ২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩১ জন যা আগের বছরের তুলনায় ১২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি (বিচার মন্ত্রণালয় সূত্র মতে) মোট ৬৫ হাজার ২৭০ জন ভিসাহীনভাবে জাপানে অবস্থান করছেন। সূত্রমতে ভিসাহীনদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৬৫ জন দক্ষিণ কোরিয়ার, ৮ হাজার ৮৪৬ জন চীনের এবং ৬ হাজার ৫০৭ জন থাইল্যান্ডের নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়াও ৫ হাজার ১৩৭ জন ভিয়েতনামি রয়েছেন যারা ট্রেইনি ভিসায় জাপান আসেন এবং ভিসা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও জাপানে অবস্থান করছেন। ট্রেইনি ভিসায় আসার পর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও জাপানে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের সংখ্যা শতকরা হিসেবে ৩৪.৯ শতাংশ। যা জাপানকে ভাবিয়ে তুলছে।
তথ্য ও সূত্র : সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে।
rahmanmoni@gmail.com

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.