এমন প্রত্যুষের যাত্রী হবার কথা ছিল না তোমার প্রিয়

Print Friendly and PDF

সু ই ডে ন

দেলওয়ার হোসেন

তুমি ফিরলে না প্রিয়। হে ভালোবাসার জাদুকর। কী এক অসীম মুগ্ধতার জাদু নিয়ে জন্মেছিলে তুমি, তোমাকে দেখলেই পরম মুগ্ধতার আবেশে ভরে যেত মনটা। তুমি শুধুই মুগ্ধতার মুক্তা ছড়াতে তোমার কথায়। তোমার চলনে। তোমার দৃষ্টিতে। তোমার মনোমুগ্ধকর হাসিতে। তোমার মোহনীয় ব্যক্তিত্বে। তোমার রুচির আভিজাত্যে। আর কত বলা যায় প্রিয় তোমাকে নিয়ে?
যা কিছুই বলি তোমাকে নিয়ে, করি না তোমাকে নিয়ে যত ভালোবাসা ও মুগ্ধতার বিশাল অর্ঘ্য রচনা, জানি- তাও হবে অপ্রতুল। সম্মোহন শক্তির এতটা প্রবল ক্ষমতা নিয়ে তুমি জন্মেছিলে যে, তার তুলনা কেবল তুমি নিজেই।
ছিলে না রূপালী পর্দার কোনো কিংবদন্তি মহানায়ক, তবুও কী অপূর্ব বিস্ময় ছড়িয়ে হয়েছিলে অতুলনীয় জননন্দিত প্রিয়জন। তোমার কৃতিত্ব ছাপিয়ে তুমি হয়েছো তার চেয়েও অকল্পনীয় প্রাপ্তির পরিপূর্ণ ভা-ারে ঐশ্বর্যশালী। এ বিশাল ও অপ্রত্যাশিত ঐশ্বর্য অনেক ক্ষণজন্মা সৌভাগ্যশালীর কপালেও জোটে না।
যেখানে ঘটেছে তোমার পদার্পণ এবং তোমার জাদুকরী ঐন্দ্রজালিক ছায়া, সেখানেই উদ্ভাসিত হয়েছে নক্ষত্রের উজ্জ্বল প্রভা। এ শক্তি তুমি কোথায় পেয়েছিলে প্রিয়, তা কেবল তুমি ছাড়া আর কে-ই বা জানে। তুমি বলেছিলে, মানুষের আকাক্সক্ষা হবে স্বপ্নের মতো বড়, বিশাল এবং সীমাহীন, তুমি তো ছিলে সেই সীমাহীন আকাক্সক্ষা পূরণের স্বপ্ন কারিগর। তাই ঘন মেঘ জমাট বাঁধার আগেই নীলিমায় ঝরিয়েছো স্বপ্নের মতো অপ্রত্যাশিত বারিপাত।
আমি শুধুই অপার মুগ্ধতা নিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেছি তোমার সম্মোহন শক্তির দিকে। শুধু আমি কেন দেশের সম্মোহিত প্রতিটি তরুণ-তরুণী আর আমজনতা তার সঙ্গে সব জননী নারী কী অপরিসীম ভালোবাসায় যেন ভূমি ফুঁড়ে উঠে আসা এই বরপুত্রকে দিয়েছে স্নেহ, মায়া, মমতা আর হৃদয় উজাড় করা অন্তহীন আশীর্বাদ।
ঈশ্বর তাই তোমাকে করেছে জাদুর পরশমণি। যেমন তুমি নিজেই বলেছিলে, অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েও বুকে মায়ের আশীর্বাদের ফু নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে পেয়েছিলে অলৌকিক সফলতা।
মায়ের ওপর এতটা অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসার কোনো কথন আমি কখনো কারও মুখে শুনিনি।
তুমি দুর্দান্ত জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব থেকে ধাপে ধাপে সফল ব্যবসায়ী, সংগঠনের নেতা, সার্ক নেতা নির্বাচিত হবার বন্ধুর পথ মাড়িয়ে দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় তারকা ব্যক্তিত্বের দ্যুতিতে আকাশে উল্কার মতো জ্বলে উঠে যখন আবারও সাফল্যের আরেক ধাপ জয় করে নির্বাচিত হলে মেয়র, আমি তখনই তোমার জন্যে প্রত্যয়ে বুক বেঁধে প্রাপ্তির সুখে উল্লসিত হয়েছি। ভেবেছি আমরা এতদিনে পেলাম ভালোবাসা ও বিশ্বাস স্থাপন করার মতো একজন যোগ্য নেতা।
আমি ভীষণ ভীষণ আস্থা ও প্রতীতি নিয়ে প্রিয় আনিসুল অধীর আগ্রহে তোমার ফিরে আসার প্রতীক্ষা করেছি। তুমি ফিরে আসবে। অবক্ষয়ের ঘন অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া নেতৃত্ব দেশ, রাষ্ট্র ও সমাজ ফিরে পাবে একটি বাতিঘর। দূর হবে অন্ধকার। দূর হবে দুষ্টের ভ্রষ্টতা, নষ্টের শাসন। জ্বলে উঠবে  শুদ্ধতার  বাতি।
সেই বাতি জ্বালাবে অচলায়তন ভাঙার আনন্দ প্রদীপ। কিন্তু হায় প্রিয়। আমাদের স্বপ্ন ও কল্পনায় দেখা সেই আনন্দ প্রদীপের দিশা না পেতেই কী এমন কষ্টের যাতনায় ভুগে তুমি আমাদের দুর্বহ শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেলে! এমনটি ভাবেনি কেউ।
তোমার তো নাতিকে নিয়ে কটা দিন আনন্দে কাটানোর কথা ছিল। আনন্দলোকে গিয়ে কী কেউ এত নিষ্ঠুরের মতো চির প্রস্থান করে?
এ জগৎ সংসারে কেউ কী সর্বজন প্রিয় ও শত্রুহীন থাকে? ঈশ্বরের কোন কৃপা নিয়ে তুমি জন্মেছিলে প্রিয় যাকে ঈশ্বর এই অশুভ ছায়া থেকে রেখেছিল যোজন যোজন দূরে। একেই কী বলে অজাতশত্রু? এমন বিরল ভাগ্যের অধিকারী কজন হয় প্রিয়?
ঈশ্বরের এমন আশীর্বাদ নিয়ে জন্মে কেউ কী প্রিয়জনদের জন্যে  আত্মহননের  মতো শোকের সাগর খুঁড়ে চলে যেতে পারে গন্তব্য না জানা দূরে। যেখান থেকে আর কেউ আসে না ফিরে।
কখনো ভাবিনি প্রিয়, তোমার সঙ্গে দেখা হবে না আর। তোমার বয়সটা নয় অন্তিম যাত্রার। নয়, সবাইকে পিছু ফেলে আগে চলে যাবার। আমি তো প্রতিদিন মুখিয়ে থাকতাম মিডিয়ার খবরে। কবে ফিরে আসছেন সুস্থ হয়ে আমাদের মানসপটের প্রিয়নায়ক।
তুমি ফিরে আসার জন্যে তৈরি নও বলে শেষের খবরগুলো পেয়েও ভেবেছি, না- তুমি এতটা নিষ্ঠুর হতে পারো না। না তুমি,। না ঈশ্বর কিন্তু এখন কী বাকরুদ্ধ আমরা করব সমস্বরে কবিতার মতো প্রলাপ- কেউই কথা রাখে না। সময়ের আগেই ওরা দ্রুতবেগে ইস্টিশন ছেড়ে চলে যায়।
পড়ে থাকে অন্ধকার। শূন্যতা, হাহাকার। বিরান বন্দর। এখানে কেউ করে না দীর্ঘদিনের নোঙ্গর। দূর যাত্রায় যাওয়া যাত্রীর জনপদে থাকে না  কোনো  অস্তিত্ব ও ঠিকানা।
থাকে না এতটুকু সান্ত্বনা। মর্মরে যে শোকের উত্তাপ, দীর্ঘশ্বাস ও বেদনা গেঁথে দেয় মরুভূমির মতো ভয়াল শূন্যতার প্রাণহীন শেকড়, তাকে যে উপড়ে ফেলে দেয়া যায় তার সাধ্য কার?
তাই কাব্য করেই বলতে হয়Ñ

একদা তুমি ছিলে...
সুখের স্বর্ণালি দিন-রাত্রি আমাদের ভেসে যেতো প্রবল আকাক্সক্ষায়,
যে রাত্রি মুখর ছিল তোমার পায়ের শব্দে, শরীরের গন্ধে এবং জাদুর ছন্দে...
তুমিহীন সেই রাত্রি আজ ভেসে যায় বেদনার কালো মেঘে।
এখন জমাট স্মৃতির মেঘের ঘুটঘুটে অন্ধকারে-
মগজের কোষে উড়ছে বিগত দিনের ধূসর ছায়া। আর-
স্নায়ুর অস্থির মেঘে ঝরছে শোক বৃষ্টির অঝোর ধারা।
dehossain@gmail.com

সাপ?তাহিক পতিবেদন

প্রবাসে
 মতামত সমূহ
Author : Jasonned
average age of cialis users cialis online cialis loss of sensation cialis cialis side effects throat
Author : JustPoova
Can You Buy Genuine Viagra Online 47 Levitra Prix Maroc Darifenacin http://costofcial.com - cialis Find Stendra Discount With Free Shipping Without Rx Where To Order Viagra Online By Phone Cheapest Cialis Pills Levitra Testberichte Singulair Cena Where Can I Buy Macrobid cialis Substitute For Amoxicillin Zithromax 500mg Side Effects Viagra Online Bestellen Billig Viagra Vorzeitiger Samenerguss Cialis Moins Chere Reims http://costofcial.com - generic cialis Generic Cialis Available In Canada Exercises To Last Longer Propecia Gastrite
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.