[স ম্পা দ কী য়] আনিসুল হক : এক আধুনিক রাজনীতিবিদের প্রতিচ্ছবি

Print Friendly and PDF

তিনি কতটুকু সফল আর কতটা ব্যর্থ, সে হিসাব সমকাল আর ভবিষ্যৎ নিশ্চয়ই এক হিসেবে করবে না। কিন্তু তিনি যে গণমানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন, রাজনীতির মঞ্চে তিনি যে ছিলেন এক আকর্ষণীয় মুখ- এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে এমনিতেই সমালোচনার শেষ নেই। ক্ষমতার রাজনীতি আর নানামুখী অপরাধ যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক নেতারা প্রকাশ্যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে অবাস্তব কথাবার্তা বলছেন। আর তা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর আবার তা অস্বীকারও করছেন। এসবের মধ্যে আনিসুল হক ছিলেন স্বচ্ছ এক ব্যক্তিত্ব। রাজনীতিতে তাঁর যুক্ত হওয়া, কাজ করা, মানুষের সামনে আসা, প্রতিটি পদক্ষেপেই তিনি ছিলেন আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক।
শুরুতে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হননি। টিভি উপস্থাপক, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা হওয়ার মাধ্যমে জনগণের সামনে এসেছিলেন। এর মাধ্যমে নিজের সামর্থ্যে প্রমাণ রেখেছিলেন তিনি। রাজনীতিতেও এসেছেন চমক হয়ে- দায়িত্ব নিতে, পরিবর্তন করতে। শুরুতেই তিনি নানা গবেষণার ফলকে ভিত্তি করে নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা করেন, যা তাঁর আধুনিক মানসিকতার সঙ্গে সকলকে পরিচিত করেছিল। যদিও সময় বেশি পাননি, কিন্তু এর মধ্যেই একজন আধুনিক রাজনীতিবিদের কাজ কেমন, সেই দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন।
শহরের বিলবোর্ডগুলো দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সরিয়ে ফেলা তাঁর একটি বড় সফলতা। এ কাজটি তিনি যেভাবে এই খাতের ব্যবসায়ী, ভবন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করেছিলেন, তাতে তাঁর জনবান্ধব চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যায়। একইভাবে তিনি গাবতলী ও তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকাকে অবৈধ পার্কিংমুক্ত করতে পেরেছিলেন। বিরাট প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়েছিল তাকে। তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও পরিকল্পনায় উত্তর সিটি করপোরেশনের সড়ক, অবকাঠামো ও ফুটপাত উন্নয়ন, দূতাবাস এলাকার ফুটপাতের স্থাপনা উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৫৩টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ, ১১টি আধুনিক গণশৌচাগার স্থাপন, ই-টেন্ডারিং ব্যবস্থা চালু, যানজট কমাতে আবদুল্লাহপুর থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত ১২টি ইউটার্ন নির্মাণ, স্বাধীনতাবিরোধী মোনায়েম খানের বনানীর বাড়ির একাংশ উচ্ছেদ করা হয়েছে, চালু করা হয়েছে নগর নামের একটি মোবাইল অ্যাপ।
আনিসুল হকের সমাপ্ত কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে একটা চমৎকার যোগসূত্র ছিল।  এটাই ছিল তাঁর অগ্রসরতার ভিত্তি। তবে সমালোচিতও হয়েছিলেন চিকুনগুনিয়া নিয়ে মন্তব্য করে। কিন্তু সেখানেও তিনি অস্বীকারের পথে হাঁটেননি। ভুল স্বীকার করে নগরবাসীর আস্থা পুনঃঅর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। আনিসুল হক হয়তো অনেক কিছু করতে পারেননি। কিন্তু যা করে গেছেন, তা থেকে অন্যরা শিক্ষা নিলেই একটি আধুনিক, উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আরও সহজ ও দ্রুত গতিতে এগুবে। ভবিষ্যতে আধুনিকতার দিশারী হিসেবে নিশ্চয়ই আনিসুল হককে স্মরণ করবে উত্তরপ্রজন্ম। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা।

৭ ডিসেম্বর ২০১৭  বর্ষ ১০  সংখ্যা ২৬

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.