[প্রকৃতি ও জীবন] এ সপ্তাহের পর্ব- বাংলাদেশের ঈগল

Print Friendly and PDF

ঈগল প্রকৃতি থেকে ইঁদুর, সাপ, পাখির বাচ্চা, ডিম এবং অন্যান্য ছোট প্রাণী খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরোক্ষভাবে ফসল রক্ষা করে। মাংসাশী প্রাণী হওয়ায় এরা অন্যান্য প্রাণী খেয়ে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে


হাজারো পাখির স্বর্গরাজ্য বাংলাদেশ। পাখির গানেই ভোর হয়, সন্ধ্যা নামে। ছোট-বড় অনেক প্রজাতির পাখি দেখা গেলেও বড় আকারের পাখির মধ্যে ঈগল অন্যতম। এদের দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত প্রখর, ডানা বেশ লম্বা ও শক্তিশালী। অনেক উঁচুতে উড়ে এরা শিকারের সন্ধান করতে পারে। ঠোঁট ও পা বেশ শক্তিশালী। পায়ে ধারালো ও বাঁকা নখর থাকে। দৈহিক গড়নই ঈগলকে দক্ষ শিকারি করে তুলেছে। বাংলাদেশে প্রায় ১৫ প্রজাতির ঈগল আছে। এদের মধ্যে তিলা-নাগঈগল, পালসি কুরাঈগল, ধলাপেট সিন্ধু ঈগল, মেটেমাথা কুরাঈগল, ঝুঁটিয়াল শিক্রে ঈগল, বুট্পা ঈগল, বড় গুটিঈগল অন্যতম।
বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই দেখা যায় তিলা-নাগঈগল বা সাপখেকো ঈগল। এদের দেহের রঙ কালচে-বাদামি। পুরো দেহে সাদা রঙের তিলের মতো ছড়ানো দাগ থাকে। ঠোঁট ও চোখ হলুদ। সাধারণত বনের প্রান্তে গাছের ডালে শিকারের জন্য দীর্ঘ সময় বসে থাকে। প্রধানত সাপ খায় বলে এদের নাম হয়েছে সাপখেকো ঈগল।
পৃথিবীতে বিপন্ন হলো পালাসি কুরাঈগল। বাংলাদেশে এরা মহাবিপন্ন। সাধারণত হাওর, বিল বা উন্মুক্ত জলাভূমিতে এদের দেখা যায়। এরা কোরাল, কুরা, মাচাল বা বো-ওল নামেও পরিচিত। গাঢ় বাদামি রঙের পালসি কুরাঈগলের লেজে স্পষ্ট সাদা রঙের একটি মোটা দাগ আছে। দিবাচর এ ঈগল ভয় পেলে আত্মরক্ষায় উচ্চস্বরে ডাকে। এরা দক্ষ মাছ শিকারি। সুযোগ পেলে ছোঁ মেরে শিকার ধরে গাছের উপর নিয়ে খায়। এছাড়া পাখি, সাপ, ব্যাঙ এবং মরা-পচা খাবারও খেয়ে থাকে।  
উপকূলের বনভূমিতে দেখা যায় ধলাপেট সিন্ধু ঈগল। ধূসর রঙের এ ঈগলের পেট, ঘাড়, মাথা ও লেজ ধবধবে সাদা। এরা জলাশয়ে শিকারের আশায় উড়তে থাকে। এদের খাদ্য তালিকায় সাপ, মাছ, কাঁকড়া, ইঁদুরসহ ছোট ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখি রয়েছে। উপকূলীয় বনের আশেপাশে ও সুন্দরবনে দেখা যায় মেটেমাথা কুরাঈগল। সুন্দরবনে আরও দেখা যায় ঝুঁটিয়াল শিকরে ঈগল।
ঈগল প্রকৃতি থেকে ইঁদুর, সাপ, পাখির বাচ্চা, ডিম এবং অন্যান্য ছোট প্রাণী খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরোক্ষভাবে ফসল রক্ষা করে। মাংসাশী প্রাণী হওয়ায় এরা অন্যান্য প্রাণী খেয়ে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।
বাংলাদেশের ঈগলের জানা-অজানা তথ্য নিয়ে এ সপ্তাহের বিশেষ পর্ব ‘বাংলাদেশের ঈগল’। অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করছেন মুকিত মজুমদার বাবু। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন বন্যপ্রাণী গবেষক মো. ফয়সাল। বাংলাদেশের প্রথম জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ নিয়ে ধারাবাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘প্রকৃতি ও জীবন’ প্রচারিত হচ্ছে চ্যানেল আইয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১.৩০ মিনিটে, পুনঃপ্রচার প্রতি শুক্রবার দুপুর ১২.০৫ মিনিট এবং রোববার ভোর ৫.৩০ মিনিটে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.