[প্রকৃতি ও জীবন] প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘দেশবন্ধু গ্রুপ-চ্যানেল আই প্রকৃতি মেলা’ উদ্যাপন

Print Friendly and PDF

‘জলবায়ু পরিবর্তন আর নয়, ফিরিয়ে আনি ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ’ প্রকৃতিবিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বানে পালিত হলো ‘দেশবন্ধু গ্রুপ-চ্যানেল আই প্রকৃতি মেলা ’১৮। ৬ জানুয়ারি সপ্তমবারের মতো সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ মেলা অনুষ্ঠিত হয় চ্যানেল আইয়ের চেতনা চত্বরে।
টিয়া পাখি অবমুক্ত করে মেলার উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানী, সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমান, ইমপ্রেস গ্রুপ ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড/চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন, ইমপ্রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান দেশবন্ধু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রহমান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিদ্যুৎ কুমার বসু, সহযোগী প্রতিষ্ঠান নূর ইকো-ব্র্রিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাজাহান সিরাজ। আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবিদ ড. ইনাম আল হক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম, নাট্যজন মিনারা জামানসহ প্রকৃতিবিদ, প্রকৃতিপ্রেমীসহ দেশের বিশিষ্টজনরা। ‘পরিবেশ ও প্রকৃতিবিষয়ক প্রকৃতি মেলা সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে’ প্রসঙ্গ তুলে তারা প্রকৃতি সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ঢাকের তালে তালে অনুষ্ঠান শুরুর পর পরই সেরা নাচিয়েদের নৃত্যের সঙ্গে বাংলার গানের শিল্পী খায়রুলের কণ্ঠে ‘ফুলের হাসিতে মুগ্ধতা...গানটি পরিবেশিত হয়। মেলাতে প্রকৃতিবিষয়ক ছবি আঁকেন চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান, মনিরুজ্জামান, রেজাউন নবী ও কামাল উদ্দিন। বড়দের পাশাপশি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রায় অর্ধশত শিশু। ক্যারেক্টার শো, মূকাভিনয়, গম্ভীরা, জারিগান, জলের গান ইত্যাদি পরিবেশন ছাড়াও মেলার উন্মুক্ত মঞ্চে গান করেন রথীন্দ্রনাথ রায়, শফি ম-ল, চন্দনা মজুমদার, অনিমা রায়, সেরাকণ্ঠ, বাংলার গান, ক্ষুদে গানরাজের শিল্পীরা। মেলা প্রাঙ্গণে ছিল সামুদ্রিক মাছের স্টল, হরেক রকম পিঠা, কারুশিল্পের জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন ধরনের গাছের পসরা। সেভ নেচার অ্যাওয়ার্ড-নেচার কনজারভেশন ইনিশিয়েটিভ সম্মাননা প্রদান করা হয় ড. মনোয়ার হোসেন এবং নেচার গার্ডিয়ান অ্যাওয়ার্ড পান মেন্নী ¤্রাে। লোকশিল্পী অমল মালাকারকে শোলার কাজের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়।
‘সুন্দর প্রকৃতিতে গড়ি সুস্থ জীবন’ Ñএই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন ২০১২ সাল থেকে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে প্রকৃতি মেলার আয়োজন করে আসছে। মেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে চ্যানেল আই।

এ সপ্তাহের পর্বÑ
জলজ ফুল
নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। ছোট-বড় অসংখ্য নদী জালের মতো ছড়িয়ে আছে দেশজুড়ে। এছাড়া রয়েছে হাওর-বাঁওড়-বিলসহ আরো জলাশয়। আবার বর্ষা মৌসুমে অথৈ জলরাশি বিশাল এলাকা প্লাবিত করে। এই জলাশয়গুলোতে জন্মে বিভিন্ন ধরনের জলজ উদ্ভিদ। এর মধ্যে জলজ ফুল অন্যতম।
বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা একটি জলজ ফুল। হাওর-বিল-ঝিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নানা রঙের শাপলা দেখা যায়। পানির ওপর শাপলার হৃদপি-াকৃতির পাতা ভেসে থাকে আর পাতার ওপর কা-ের ডগায় থাকে ফুল। গোড়া থাকে পানির নিচে কাদার ভেতর। শাপলার কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের আরেকটি জলজ ফুল পদ্ম। তবে পদ্মফুলের পাতা অনেকটা গোলাকার। সুগন্ধী পদ্মফুলের সৌন্দর্যে বাংলার জলাশয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। হাওরাঞ্চলে দেখা যায় জলজ উদ্ভিদ সিঙ্গারা। ছোট ছোট ত্রিকোণাকার পাতার উদ্ভিদ পানির ওপর ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে পুরো জলাশয় ছেয়ে ফেলে। সন্নিবিষ্ট সবুজ পাতার কক্ষে ছোট ছোট ফুল ফোটে। হাওরাঞ্চলে জন্মানো বাংলাদেশের অপর এক জলজ উদ্ভিদ চাঁদমালা। ফুল ফোটে পাতার খাঁজ বরাবর। দেখতে সাদা রঙের। ফুলের মাঝে হলদে আভা অপূর্ব শোভা ছড়ায়। দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে দেখা যায় মাখনা ও বায়বীয় কা-ের জলজ উদ্ভিদ বড়নখা। মাখনা ছোট আকৃতির জলজ উদ্ভিদ। কাঁটাভরা গাছে বড় আকারের পাতা থাকে। ছোট আকারের ফুল ফোটে। ফুল খুবই আকর্ষণীয়। ক্ষুদিপানাও এক ধরনের ভাসমান জলজ উদ্ভিদ। সাধারণত স্রোতহীন জলে দেখা যায় এবং স্রোতের তালে এরা জলাশয়ের এদিক ওদিক ভেসে বেড়ায়। এছাড়া জললজ্জাবতী, কাউয়াঠুকরি, কলমীলতা ও পানিকোলাসহ অন্যান্য উদ্ভিদ রয়েছে বাংলার জলাশয়ে।
জলজ উদ্ভিদ পরিবেশের অপরিহার্য অঙ্গ। জলজ উদ্ভিদের কারণেই জলজ পরিবেশ সুন্দর থাকে। মাছসহ বিভিন্ন জলজপ্রাণী খাদ্যের জোগান পায়। এছাড়া মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণেও কিছু প্রজাতির উদ্ভিদ পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বহুবিধ কারণে জলজ প্রতিবেশব্যবস্থা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। তাই সংরক্ষণ ব্যবস্থাই নিশ্চিত করতে পারে সুন্দর পরিবেশের।
জলজ ফুলের জানা-অজানা তথ্য নিয়ে এ সপ্তাহের পর্ব ‘জলজ ফুল’। অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করছেন মুকিত মজুমদার বাবু। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ইসতিয়াক সোবহান। বাংলাদেশের প্রথম জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ নিয়ে ধারাবাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘প্রকৃতি ও জীবন’ প্রচারিত হচ্ছে চ্যানেল আইয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১.৩০ মিনিটে, পুনঃপ্রচার প্রতি শুক্রবার সকাল ১১.০৫ মিনিট এবং রোববার সকাল ৫.৩০ মিনিটে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

ডায়রি/ধারাবাহিক
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.