শীতকালীন দলবদলেও যেখানে আলোচনায়

Print Friendly and PDF

মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

বাংলাদেশের ফুটবলে এখন আন্তর্জাতিক সাফল্য নেই বললেই চলে। তবুও খেলোয়াড়দের দাম বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবরের পর কোন জাতীয় দলই নেই বাংলাদেশের। কিন্তু পায়ে বল লাথি দিতে পারেন এমন খেলোয়াড়ও আয় করছেন কয়েক লাখ টাকা। ঠিক একই অবস্থা এখন ইউরোপিয়ান ফুটবলে। সেখানে জাতীয় দলের খবর নেই, কিন্তু একজন খেলোয়াড় ঠিকই লাখ লাখ পাউন্ড আয় করে চলেছেন। সর্বশেষ শীতকালীন দলবদলও কম আলোচনার জন্ম দেয়নি। যদিও তার আগেই বার্সেলোনা ফিলিপে কুতিনহোকে দলে ভিড়িয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নেইমারকে হারানোর পর ট্রান্সফার বাজারে নিজেদের অবস্থানকে পোক্ত করতে এই দলবদলটা প্রয়োজন ছিল।
ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ট্রান্সফার ফি নিয়ে বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন নেইমার। ব্রাজিলের এই সুপারস্টার স্পেন থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার পর তার সাবেক ক্লাব একটা চমক দেওয়ার অপেক্ষায় ছিল। সেটি এবার তারা করতে পেরেছে কুতিনহোকে দলে ভিড়িয়ে। অনেক আলোচনা-সমালোচনা আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন ফিলিপ কুতিনহো। আগামী সাড়ে পাঁচ বছরের জন্য কুতিনহোকে দলে ভিড়িয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের বাইআউট ক্লজ দাঁড়ায় ৪০০ মিলিয়ন ইউরো। তৃতীয় সর্বোচ্চ চুক্তিতে কুতিনহোকে দলে ভেড়াল আর্নেস্তো ভালভার্দের দল। ১৬০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ২৫ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের সঙ্গে চুক্তি করেছে বার্সা। গত বছর বার্সেলোনা থেকে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ব্রাজিলিয়ান নেইমারকে কিনে নেয় পিএসজি। সেইসঙ্গে দলবদলের ইতিহাসে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের জায়ান্ট ক্লাবটি।
এরপর মোনাকো থেকে ১৮০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে দলে নিয়ে আরেকটি রেকর্ড গড়ে পিএসজি। তবে এমবাপ্পের ধারের চুক্তির বিষয়টি সমাপ্ত হওয়ার পর চলতি জুনে আনুষ্ঠানিক তার সঙ্গে চুক্তি কার্যকর হবে পিএসজির। সেই হিসেবে কুতিনহোই এখন ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার। গত গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই প্রথমবারের মতো কুতিনহোর দিকে নজর পড়ে বার্সেলোনার। কিন্তু ইনজুরি কাটিয়ে লিভারপুলে ফেরা এই তারকা প্লে মেকারকে কোন মূল্যেই ছাড়তে রাজি হয়নি লিভারপুল। ২০১৭ সালে শেষ সাতটি ম্যাচে তিনি ৬ গোল করেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে সরাসরি জায়গা করে নিতে লিভারপুল বেশ শক্ত অবস্থানেই আছে। গ্রীষ্মে নেইমারকে ছেড়ে দেয়ার পর কুতিনহোকে দলে নেয়াটা বার্সার সামনে একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চ্যালেঞ্জে জয় হয়েছে কাতালানদের। লিভারপুলের সতীর্থরা যখন দুবাইয়ে গরমে অনুশীলনের জন্য রওনা হয়েছেন তখন কুতিনহো ইংলিশ জায়ান্ট ক্লাবটিতেই ছিলেন। তখনই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় যে, প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম শক্তিশালী দল লিভারপুল ছাড়ার দ্বারপ্রান্তে এই ব্রাজিলিয়ান। এরপরই স্ত্রী এইনেকে নিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। যেখানে দেখা যায় লন্ডন ছেড়ে স্পেনের পথে পাড়ি দিচ্ছেন কুতিনহো। নিজেদের মাঠ ন্যুক্যাম্পে লেভান্তের মুখোমুখি হয় মেসি-ইনিয়েস্তারা।
সেই ম্যাচে কুতিনহোকে দর্শক হিসেবে স্ট্যান্ডে দেখা যায়। এদিকে বার্সেলোনার পক্ষ থেকে একটি ভিডিও পোস্টে দেখানো হয় যাতে নতুন সদস্যের জন্য ড্রেসিংরুমে একটি লকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যার উপরে কুতিনহোর নাম শোভা পায়। ব্রাজিলের রিওতে জন্মগ্রহণকারী কুতিনহো ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে সাড়ে আট মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ইন্টারমিলান থেকে এ্যানফিল্ডে এসেছিলেন। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় অলরেডদের হয়ে ৫৪ গোল করেন তিনি। যদিও পাঁচ বছরের মেয়াদে লিভারপুলের হয়ে কোনো শিরোপা জয় করতে পারেননি তিনি। তারপরও কেন কুতিনহোকে দলে ভেড়াল কাতালানরা? এর কারণটাও খুব সুস্পষ্ট। দলের মূল তিন তারকা লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা সকলেই ত্রিশের ঘরে পৌঁছে যাওয়ার কারণে কুতিনহোর বয়সটাই কাতালান জায়ান্টদের বেশি আকৃষ্ট করেছে। কুতিনহোকে হারিয়ে হতাশ জার্গেন ক্লপ। তারপরও বাস্তবতা মেনেই নিতে হলো জার্মান কোচকে। ক্লাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লিভারপুলের এই অভিজ্ঞ কোচ বলেন, ‘অনিচ্ছা সত্ত্বেও বলতে হচ্ছে আমাদের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু, একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও একজন চমৎকার খেলোয়াড় ফিলিপ কুতিনহোকে দল ও ক্লাবের পক্ষ থেকে বিদায় দেয়ার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এটা এখন আর গোপনীয় নয় যে জুলাই থেকেই কুতিনহো বার্সেলোনায় যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ওই সময়ই বার্সেলোনার পক্ষ থেকে প্রথম তার প্রতি আগ্রহ দেখানো হয়েছিল। ফিলিপ আমাকে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ এমনকি সতীর্থদের কাছেও স্বীকার করেছে বার্সেলোনায় যে যেকোন মূল্যেই যেতে চায় সে।’ এরপরই ন্যু ক্যাম্পে কুতিনহোকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এরই মধ্যে তিনি কত নম্বর জার্সি গায়ে চাপাবেন, তা ঠিক করে ফেলেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। লিভারপুলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেললেও বার্সেলোনায় সাত নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামবেন তিনি। সে ক্ষেত্রে বার্সেলোনার হয়ে সাত নম্বর জার্সি পরে খেলা আর্দা তুরানের নম্বর বদলে যাবে।
শীতকালীন দলবদলের মৌসুমেই তাকে ছেড়ে দিচ্ছে বার্সা। লিভারপুল থেকে ফিলিপ কুতিনহোর বার্সেলোনার পাড়ি জমানো জন্ম দিয়েছে আলোচনার। তবে চমক জাগানোর মতো খবর, বার্সাতে কুতিনহো যোগ দেওয়ার জন্য এতই উদগ্রিব, যে নিজের পকেটের অর্থও খরচ করছেন! ১৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে লিভারপুল থেকে বার্সায় এসেছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। যেখানে ১০৫ মিলিয়ন পাউন্ড প্রথম অবস্থায় দেয়া হবে। ৫৫ মিলিয়ন দেওয়া হবে পরে। আর এই চুক্তিটি যাতে কোনোভাবেই বাতিল না হয়, সেজন্য কুতিনহো নিজেই ১৫ মিলিয়ন খরচ করবেন বলে জানা গেছে। স্প্যানিশ পত্রিকা মুন্ডো দেপোর্তিভোর বরাত দিয়ে এমনটি জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য সান। এদিকে কুতিনহোকে এই অর্থে দলে ভেড়ালে, যেটি হবে বার্সার ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ট্রান্সফার চুক্তি। এমনকি ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গত বছরের আগস্টে চার বছরের বার্সা অধ্যায়ের ইতি টেনে ট্রান্সফার ফি’র বিশ্ব রেকর্ড (২২২ মিলিয়ন ইউরো) গড়ে পিএসজিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন কুতিনহোর স্বদেশী আইকন নেইমার। পরে বুরুশিয়া ডর্টুমুন্ড থেকে অনেক দর কষাকষির পর উদীয়মান ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড ওসমান ডেম্বেলেকে আনতেই কাতালানদের রেকর্ড ১০৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে হয়েছিল। যেটি ভেঙে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কুতিনহো নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

শীতকালীন দলবদলে রেকর্ড ব্যয় ইংলিশদের
মূল দলবদলে যেমন-তেমন শীতকালীন দলবদলও এখন জন্ম দেয় আলোচনার। মোটে একমাসের জন্য ইউরোপিয়ান ফুটবলে শীতকালীন দলবদলের সময় বেধে দেওয়া হয়। অল্প এ সময়ে শুধু পজিশনভিত্তিক দু-একজন খেলোয়াড়ের পেছনে ছোটে ক্লাবগুলো। কেনা-বেচায় অর্থের লেনদেনও থাকে তুলনামূলক কম। কিন্তু ২০১৮ সালে ইউরোপিয়ান ফুটবলের শীতকালীন দলবদল ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সব হিসাবকে। এবারের মতো অর্থের ছড়াছড়ি হয়নি আগে কখনও। চলতি দলবদলে ৪৩০ মিলিয়ন মূল্যের খেলোয়াড় কেনা-বেচা হয়েছে। যার এক-চতুর্থাংশের বেশি খরচ করেছে কেবল বার্সেলোনাই। লিভারপুল থেকে ফিলিপে কুতিনহোকে কিনতে তাদের খরচ ১৬০ মিলিয়ন ইউরো। সঙ্গে আছেন ১২ মিলিয়ন মূল্যের কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার ইয়েরি মিনা। রেকর্ড গড়েছে ইংলিশ দলগুলোও। শীতকালীন দলবদলে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো খেলোয়াড় কিনতে খরচ করেছে রেকর্ড ১৫০ মিলিয়ন ইউরো। এক ডিফেন্ডার ফন জিককে কিনতেই লিভারপুলের খরচ ৮৫ মিলিয়ন ইউরো। আরেক ডিফেন্ডার আয়মেরিক লাপোর্ত্তেকে কিনতে ম্যানসিটি ইউরো ঢেলেছে ৬৫ মিলিয়ন। পিছিয়ে নেই আর্সেনালও। বুরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ৬৫ মিলিয়ন ইউরোতে গানাররা দলে টেনেছে পিয়েরে অবামেয়াংকে। ম্যানইউকে অ্যালেক্সিস সানচেজকে দিয়ে নিয়ে এসেছে হেনরিখ মাখিতারিয়ানকে। এবার সবথেকে আকর্ষণীয় দলবদল নিঃসন্দেহে কুতিনহোর বার্সার জার্সি গায়ে চাপানো। গরমে যাকে দলে টানতে ঘাম ছুটেছিল বার্সা কর্তাদের, শীতে তাকে ঠিকই এনে ছেড়েছেন তারা। বিনিময়ে ধারে খেলতে পাঠাতে হয়েছে জেরার্ড দেলেফেউ, আর্দা তুরান, রাফিনহাকে। এ ছাড়া মেসিদের বিদায় জানিয়ে চীনে চলে গেছেন হাভিয়ের মাশ্চেরানো। অর্থব্যয়ের রেকর্ডে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো ভেঙে দিয়েছে ৭ বছর আগে রচিত পৃথক দুই রেকর্ড। এবারের দলবদলে দলগুলো ব্যয় করেছে ৪৩০ মিলিয়ন পাউন্ড। ২০১১’র শীতকালীন দলবদলে তাদের ব্যয়ের রেকর্ড ছিল ২০৫ মিলিয়ন পাউন্ডের। এবারের দলবদলের শেষ দিনে ইংলিশ ক্লাবগুলো ব্যয় করেছে ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড। ২০১১’র শীতকালীন দলবদলের শেষ দিনে রেকর্ড ১৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। ২০১১’র শীতকালীন দলবদলের শেষ দিনে লিভারপুল থেকে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফারে চেলসিতে পাড়ি দিয়েছিলেন স্প্যানিয়ার্ড স্ট্রাইকার ফার্নান্দো তোরেস। একই দিন ডাচ ক্লাব আয়াক্স আমস্টারডাম থেকে ২২.৭ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফারে উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ ও নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্ডি ক্যারলকে দলে ভিড়িয়েছিল লিভারপুল। এবারের দলবদলে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের মর্যাদাটা ডাচ ডিফেন্ডার ভারজিল ভ্যান ডাইকের। শীতকালীন দলবদলের প্রথম দিনে সাউদাম্পটন থেকে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ভ্যান ডাইককে কিনে নেয় লিভারপুল। বিশ্বের সবচেয়ে দামি ডিফেন্ডারের মর্যাদাটাও ভ্যান ডাইকের। এমন আগের রেকর্ডটি ছিল বেনজামিন মেন্ডির। এদিকে আর্সেনাল থেকে অলিভিয়ের জিরুকে দলে টানলো চেলসি। আর চেলসি থেকে বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডে পাড়ি দিলেন মিশি বাতশুয়াই। শীতকালীন দলবদলের শেষ দিনে ১৮ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফারে ফরাসি স্ট্রাইকার অলিভিয়ের জিরুকে দলে ভেড়ায় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেলসি। লন্ডন ব্লুজ ক্লাবটির সঙ্গে জিরুর চুক্তি ১৮ মাসের। ২০১২তে ফরাসি দল মঁপেলিয়ে থেকে ১২ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফারে আর্সেনালে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারে গানারখ্যাত আর্সেনালের জার্সি গায়ে ২৫৩ ম্যাচে ১০৫ গোল পেয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এ ফরাসি স্ট্রাইকার। অন্যদিকে জার্মান দল বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে বেলজিয়ান স্ট্রাইকার মিশি বাতশুয়াইকে বেঁচে দিয়েছে চেলসি। তবে আরেকটি দলবদল উইন্ডো অপেক্ষায় কাটলো রিয়াদ মাহরেজের। বড় ক্লাবে যাওয়া হলো না তার। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয় শেষে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় খেলার আকাক্সক্ষা প্রকাশ পায় মাহরেজের কণ্ঠে। এ জন্য কোচ ক্লাউদিও রানিয়েরির কড়া সমালোচনাও হজম করেন মাহরেজ। এবার মাহরেজকে দলে ভেড়াতে তৎপর ছিল ইংলিশ শীর্ষ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। আর শীতকালীন দলবদলের শেষ দিনে প্যারিসের এক বিমানবন্দরে নিজের জন্য সুখবর শোনার অপেক্ষায় ছিলেন মাহরেজ। তবে মাহরেজের জন্য ম্যানচেস্টার সিটির দেয়া ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় ২০১৬’র প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন লেস্টার সিটি।  আর মাহরেজকে পেতে এর বেশি অর্থ গুনতে রাজি ছিল না ম্যানসিটি। ২০১৬’র ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের বর্ষসেরা ফুটবলার রিয়াদ মাহরেজের জন্য ৯৫ মিলিয়ন পাউন্ড দর হেঁকেছিল লেস্টার। ২০১৭-১৮ মৌসুমের দলবদলে ম্যানচেস্টার সিটির ব্যয়ের অঙ্কটা ২৭২ মিলিয়ন পাউন্ড। আর স্প্যানিয়ার্ড কোচ পেপ গার্দিওলা দায়িত্ব নেয়ার পর খেলোয়াড় ক্রয়ে ম্যানচেস্টার সিটির ব্যয় দাঁড়ালো ৪১৮ মিলিয়ন পাউন্ডে।

দলবদলের ইতিহাসে শীর্ষ ফুটবলার
ফুটবলার        দেশ    ক্লাব                ট্রান্সফার মূল্য (ইউরো)
নেইমার            ব্রাজিল    বার্সলোনা থেকে পিএসজি    ২২২ মিলিয়ন
কিলিয়ান এমবাপে    ফ্রান্স    মোনাকো থেকে পিএসজি        ১৮০ মিলিয়ন
ফিলিপে কুতিনহো    ব্রাজিল    লিভারপুল থেকে বার্সেলোনা    ১৬০ মিলিয়ন
উসমান ডেম্বেলে        ফ্রান্স    বরুশিয়া থেকে বার্সেলোনা    ১০৫ মিলিয়ন
পল পগবা        ফ্রান্স    জুভেন্টাস থেকে ম্যানইউ        ১০৫ মিলিয়ন
গ্যারেথ বেল        ওয়েলস    টটেনহ্যাম থেকে রিয়াল মাদ্রিদ    ১০১ মিলিয়ন
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো    পর্তুগাল    ম্যানইউ থেকে রিয়াল মাদ্রিদ    ৯৪ মিলিয়ন

এক নজরে ফিলিপ কুতিনহো
নাম : ফিলিপে কুতিনহো কোরেইয়া
জন্মতারিখ : ১২ জুন, ১৯৯২
জন্মস্থান : রিও ডি জেনিরো (ব্রাজিল)
জাতীয়তা : ব্রাজিলিয়ান
উচ্চতা : ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি (১.৭১ মিটার)
পজিশন : অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার
ক্লাব : ভাস্কো দা গামা, রিও জি জেনিরো (১৯৯৮-২০০৮, ২০০৯-১০), ইন্টার মিলান (২০০৮-১৩), এস্পানেয়ল (২০১২), লিভারপুল (২০১৩-১৮), বার্সেলোনা (২০১৮-)
জাতীয় দল : ব্রাজিল
আন্তর্জাতিক ম্যাচ : ৩১
আন্তর্জাতিক গোল : ৮
আন্তর্জাতিক অভিষেক: ৭ অক্টোবর, ২০১০, ইরান বনাম ব্রাজিল (০-৩, প্রীতি ম্যাচ)
সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ : ১৪ নভেম্বর, ২০১৭, ইংল্যান্ড বনাম ব্রাজিল (০-০, প্রীতি ম্যাচ)
প্রথম আন্তর্জাতিক গোল : ৭ জুন, ২০১৫, ব্রাজিল বনাম মেক্সিকো (২-০, প্রীতি ম্যাচ)

শিরোপা
ইতালিয়ান ক্লাব : ২০১১ (ইন্টার মিলান)
ইতালিয়ান সুপার কাপ : ২০১০ (ইন্টার মিলান)
ক্লাব বিশ্বকাপ : ২০১০ (ইন্টার মিলান)
দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়ন : ২০০৯ (ব্রাজিল)
অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন : ২০১১ (ব্রাজিল)
mhrashel00@gmail.com

সাপ?তাহিক পতিবেদন

খেলা
  • ধানম-িতে উদ্বোধন হলো ‘তাগা ম্যান’
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.