[স ম্পা দ কী য়] পেনশন মিলবে, কিন্তু চালের দাম কমবে না!

Print Friendly and PDF

দেশের ১৬ কোটি মানুষকে পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে আগামী বাজেটে জাতীয় পেনশন পদ্ধতির একটা রূপরেখা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী এমএ মুহিত বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষ যাতে জাতীয় পেনশন সিস্টেমের আওতাভুক্ত হয়, সে ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে আগামী বাজেটে জাতীয় পেনশন সিস্টেমের একটা রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। এর আওতায় ১৬ কোটি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য। কিন্তু এখন রাষ্ট্র জনকল্যাণমূলক। আজ আমরা যা উদ্বোধন করেছি এটা একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।’ সভায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষ এই সুবিধা পাবে।
সবার জন্য পেনশন নিঃসন্দেহে এক সুখবর। এটা কবে বাস্তবায়ন হবে সেই প্রশ্ন দূরে সরিয়ে রেখেও কেবল এরকম একটি ভাবনা যে সরকার গ্রহণ করেছে, এজন্যই তারা ধন্যবাদ প্রাপ্য। বিশ্বব্যাপী আজ অধিকাংশ মানুষের ভবিষ্যৎ ঘিরে হতাশা, নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তা চরমে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের এই ঘোষণা জনগণ ইতিবাচক চোখেই দেখবে। কিন্তু এর একদিন বাদেই অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন চালের দাম ৪০ টাকার নিচে নামবে না। অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী এ প্রশ্নে পুরোপুরি একমত। তাদের যুক্তি হলো দাম কমলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
দাম বাড়িয়ে রেখে কৃষকদের রক্ষার যে যুক্তি মন্ত্রীরা দিচ্ছেন, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া ৪০ টাকার কথা বললেও বাস্তবে সরকার চালের দাম এখনও ৫০ টাকার নিচে নামাতে পারেনি। চালের আমদানি শুল্ক প্রায় শূন্যের কোঠায় নামানো হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। সপ্তাহের ব্যবধানে সরু চালের দাম বেড়েছে প্রায় দুই টাকা। রাজধানীর মোহাম্মাদপুর কৃষি মার্কেটে পাইকারি বাজারে ২ ফেব্রুয়ারি প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। যা গেল সপ্তাহে ছিল ৫৩ থেকে ৫৮ টাকা। এটা পরিষ্কার যে, সরকার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। চালের বাজারে স্থিতিশীলতা না এনে দাম বাড়িয়ে রেখে কৃষককে সুবিধা দেয়া যায় না। কৃষি উৎপাদনের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করাটা এক্ষেত্রে বড় কর্তব্য।
একদিকে সরকার বলছে সবার জন্য পেনশন, রাষ্ট্র হবে কল্যাণমুখী, অন্যদিকে তারাই আবার চালের বাড়তি দামে অভ্যস্ত হতে জনগণকে পরামর্শ দিচ্ছে। সিন্ডিকেটের হাতে বাজার ছেড়ে দিলে রাষ্ট্রে কল্যাণ আনা যায় না, এটা সরকারকে বুঝতে হবে। পেনশন জনগণের জন্য সুযোগ, আর খাদ্য হলো মৌলিক অধিকার। সরকারকে খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব বুঝতে হবে।
৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  বর্ষ ১০  সংখ্যা ৩৫

সাপ?তাহিক পতিবেদন

নিয়মিত বিভাগ
  • ধানম-িতে উদ্বোধন হলো ‘তাগা ম্যান’
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.