'খালেদা জিয়ার মামলা রাজনীতিকরণ হয়নি'-মাহবুবে আলম

Print Friendly and PDF

মাহবুবে আলম। অ্যাটর্নি জেনারেল (রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা)। উচ্চ আদালতে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার আপিল, রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তুতি, ষোড়শ সংশোধনী, নিম্ন আদালতের আচরণবিধিসহ বিচার বিভাগের নানা বিষয় নিয়ে মুখোমুখি হন সাপ্তাহিক-এর। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ভূমিকা এবং পদত্যাগ প্রসঙ্গেও।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচন করবে বলেও অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

সাপ্তাহিক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল হচ্ছে। জানতে চাইছি, রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তুতির বিষয়ে?
মাহবুবে আলম : আসামিপক্ষ কীভাবে আবেদন করছেন, তার ওপরেই আমাদের প্রস্তুতি থাকবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রস্তুতি এবং আসামিপক্ষের আবেদন দেখেই আমরা অগ্রসর হবো।
সাপ্তাহিক : উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে কী প্রত্যাশা করছেন?
মাহবুবে আলম : এই মামলার রায় অত্যন্ত পরিষ্কার। এতিমদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নামে ফান্ড তৈরি করা হয়েছিল। সেই টাকা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নানারকম এফডিআর করা হয়েছে। এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে চালান করা হয়েছে। এরপর ব্যক্তি বিশেষের নামে টাকা জমা হয়েছে। সেখান থেকে দুই কোটির কিছু বেশি টাকা উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনাপ্রবাহ থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মামলাটি প্রমাণিত।
সাপ্তাহিক : শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির মামলাও আছে। দুর্নীতি হচ্ছে এখনও। তাহলে কি ‘এতিমের টাকা আত্মসাৎ’ এমন দুর্বল পয়েন্ট আমলে নিয়েই সরকার মামলাটি নিয়ে রাজনীতিকরণ করতে চাইল? এ অভিযোগ বিরোধী পক্ষের।   
মাহবুবে আলম : আমি তা মনে করি না। খালেদা জিয়ার মামলা রাজনীতিকরণ হয়নি। এমন দুর্নীতি নিয়ে পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রপ্রধানকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সাজা ভোগ করতে হয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে যারাই আর্থিক কর্মকা-ে পরিবারকে সম্পৃক্ত করেছেন, তারাই বিপদে পড়েছেন।
সাপ্তাহিক : বয়স বিবেচনায় খালেদা জিয়ার সাজা কমিয়েছেন নিম্ন আদালত। উচ্চ আদালতে কী হতে পারে বলে মনে করেন?   
মাহবুবে আলম : মামলার মেরিট এবং সার্বিক বিবেচনা আমলে নিয়ে রায় ঘোষণা হয়েছে। বয়স বিবেচনায় নিম্ন আদালতের অনুকম্পা পেয়েছেন তিনি। উচ্চ আদালতে ফের কোনো অনুকম্পা পাবেন বলে আমি তা মনে করি না।
সাপ্তাহিক : খালেদা জিয়ার এই মামলাকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তার জবাবে কী বলবেন?
মাহবুবে আলম : এটি অনুমানভিত্তিক কোনো মামল না। মারপিট বা গোলাগুলির ঘটনা না। যেখানে দেখা বা সাক্ষীর বিষয় আসে। এটি তো দালিলিক বিষয়। এতিমের টাকা কোথায় উধাও হলো! কেন হলো! সব তো প্রমাণ মিলেছে।
সাপ্তাহিক : ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ। কী চাইবেন আপিলে?
মাহবুবে আলম : আমরা ইতোমধ্যেই ফাইল করেছি। শুনানিতে অংশ নেয়ার অপেক্ষায় আছি।
এ মামলাটি নিয়ে অনেক পরিশ্রম করেছি। এই মামলার রায়টি আমার কাছে দুঃখজনক মনে হয়েছে। সংববিধানের মূল অনুচ্ছেদে আমরা ফিরে যেতে পারব না, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে !
সাপ্তাহিক : সংবিধান রচয়িতার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন দু’জন আইনজীবীও তো ষোড়শ সংশোধনী বাতিল চেয়ে মামলায় লড়লেন...
মাহবুবে আলম : এটি আমাকে অবাক করেছে। যারা সংবিধান রচনা করলেন, তারাই মূল সংবিধানে ফিরতে বাধা হলেন। খুবই দুঃখজনক ঘটনা এটি আমাদের জন্য। জাতি একদিন এ ঘটনা নিয়ে সমালোচনা করবে। যদি আপত্তিই থাকে, তাহলে ১৯৭২ সালের সংবিধানে তারা কেন সাক্ষর করেছিলেন?
সাপ্তাহিক : শুনানিতে অংশ নিল রাষ্ট্রপক্ষও। আপনাদের যুক্তি কেন আমলে নেয়া হলো না?  
মাহবুবে আলম : আমরা অবশ্যই আর্গুমেন্ট (যুক্তিতর্ক) করেছি। এবং ভেরি সিরিয়াসলি (গুরুত্বসহকারে) আর্গুমেন্ট করেছি। সংবিধানের মূলে যাওয়ার বিষয়। সংবিধান পরিবর্তন করার বিষয় ছিল না। সংবিধান পরিপন্থী কিছু থাকলে রায় অন্যদিকে যেতেই পারত।
আমাদের লক্ষ্য ছিল সংবিধানের মূলে ফেরা।
সাপ্তাহিক : বিচারক বিভাগের স্বাধীনতার জন্য তো রায়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছিল আইনজীবীরাও।
মাহবুবে আলম : ১৯৭২ সালে সংবিধান রচিত হয়েছিল সবকিছু আমলে নিয়েই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণœ করে সংবিধান রচনা হয়নি।
সাপ্তাহিক : সংবিধানের মূলে ফেরার কথা বলছেন। সংবিধান সংশোধন আওয়ামী লীগও করল একাধিকবার। বাস্তবতার নিরিখে সংশোধন হতেই পারে।
মাহবুবে আলম : পঞ্চদশ সংশোধনীতে এমন কোনো বিষয় বলা হয়নি যে, এটি ভালো, এটি রাখতেই হবে।
সাপ্তাহিক : এই সরকার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম রেখেই পঞ্চদশ সংশোধনী করল, যা মূল সংবিধানের পরিপন্থী।
মাহবুবে আলম : এগুলো কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার যুক্ত করেনি। এমনকি এগুলো রাখতেই হবে, এমনটিও যুক্ত করেনি।
একজন সাংবাদিকের লেখা একটি বইয়ের ওপর ভিত্তি করে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দেয়া হয়েছে। অথচ দালিলিক তথ্য-উপাত্ত গুরুত্ব পায়নি। পার্লামেন্টে অনেক আলোচনা হয়। তা আমলে নেয়া হয়নি। এটিই অবাক করেছে।
সাপ্তাহিক : এ রায় বহু প্রশ্নের জন্ম দিল, তা তো অস্বীকার করার উপায় নেই...
মাহবুবে আলম :  রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে আমাদের সংবিধান রচনা হয়েছে। এটি ভুললে চলবে না। অনেক প্রশ্নেই জন্ম দিতে পারে। কিন্তু আমাদের মূল কী, সেটা আগে গুরুত্ব দিতে হবে।
সাপ্তাহিক : ষোড়শ সংশোধনী রায় দিয়ে বিতর্কিত হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও আনা হলো। এই অভিযোগ নিয়ে কী বলবেন?
মাহবুবে আলম : এটি সরকারের পলিসি। কতগুলো সিদ্ধান্ত দিয়ে বিচার বিভাগের খুবই ক্ষতি করেছেন এস কে সিনহা। বিশেষ করে ষোড়শ সংশোধনীর মামলার রায়ে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।
সাপ্তাহিক : এস কে সিনহা এই রায় নিয়ে প্রশংসাও কুড়িয়েছিলেন বেশ।
মাহবুবে আলম : যারা প্রশংসা করেছিলেন, তারা না বুঝেই করছেন। বুঝতে হবে এই রায়টি মুক্তিযুদ্ধের পরিপন্থী।
সাপ্তাহিক : তাহলে কেন এমন রায়? নেপথ্যের কোনো কারণ?
মাহবুবে আলম : এ নিয়ে আমার কোনো পর্যবেক্ষণ নেই। উচ্চ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছি।
সাপ্তাহিক : আওয়ামী লীগ সরকারই এস কে সিনহাকে নিয়োগ দিয়েছিল। তার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রথমে সরকারও প্রশংসা করেছিল।
মাহবুবে আলম : প্রশংসিত হতেই পারেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে, এত কথা, দুর্নীতির অভিযোগ উঠবে কেন?
সাপ্তাহিক : এস কে সিনহার বিদেশ যাওয়া, পদত্যাগ নিয়ে যত আলোচনা হলো সরকারের মধ্যে, এখন কিন্তু তার দুর্নীতি নিয়ে হচ্ছে না।
মাহবুবে আলম : এস কে সিনহার একার বিরুদ্ধে না, একাধিক বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতির মামলা এস কে সিনহা নিজে বসে ডিসমিস করে দিয়েছেন। বিষয়টির তদন্ত, সুরাহা করতে তো সময় লাগবেই।
সাপ্তাহিক : প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ! তাহলে সাধারণের দাঁড়ানোর জায়গা কোথায়?
মাহবুবে আলম : দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা একজন বিচারপতির জন্য সবচেয়ে দুঃখের বলে মনে করি। তার জীবনের সবচেয়ে ব্যর্থতা হচ্ছে অন্য বিচারপতিরা তার সঙ্গে বসতে অনীহা প্রকাশ করলেন। এটি একজন বিচারকের জন্য আত্মহত্যার শামিল বলে মনে করি।  
জনগণ না বুঝেই বিরূপ মন্তব্য করছেন। তিনি বিচারকের আসনে বসতে পারেননি এই কারণে যে, অন্য বিচারকরা তার সঙ্গে বসতে চাননি।
সাপ্তাহিক : অন্য বিচারপতিদের অনাস্থার বিষয়টি তো এস কে সিনহার পদত্যাগের পরে আসল?  
মাহবুবে আলম : বিচারকরা আগেই এস কে সিনহার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে আসছিলেন। পদত্যাগের আগেই বিচারকরা তার সঙ্গে বসতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
সাপ্তাহিক : তাহলে জনগণের আস্থার প্রশ্নে কী বলবেন?
মাহবুবে আলম : এস কে সিনহার ঘটনায় বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে। প্রধান বিচারপতির প্রতি অন্য বিচারপতিরা অনীহা প্রকাশ করেছেন, এটি একটি সাহসী ঘটনা। এ ঘটনা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষা বটে। শিক্ষা সুপ্রিম কোর্টের জন্যও।
একটি প্রতিষ্ঠান যে একক ব্যক্তির না, তা এ ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং এটিই হচ্ছে বিচার বিভাগের মাহাত্ম্য।
সাপ্তাহিক : এস কে সিনহার দুর্নীতির বিচার নিয়ে আপনার নিজের পর্যবেক্ষণ কী?
মাহবুবে আলম : প্রধান বিচারপতির দুর্নীতির বিষয়ে জনগণ কী ভাবছে, এতে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা কমবে কিনা, তা বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাপ্তাহিক : নিম্ন আদালতের আচরণবিধি প্রণয়নে আইন মন্ত্রণালয়কেও রাখা হল। যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অন্তরায় বলে মনে করছেন অনেকে। আপনার অভিমত কী?
মাহবুবে আলম : এই অভিযোগ ঠিক না। বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা আমাকে দিয়ে পুরো নীতিমালাটি পড়িয়েছেন।
সেখানে বলা আছে, সুপ্রিম কোর্ট এবং আইন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যদি কোনো বিষয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তাহলে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে।
সাপ্তাহিক : আইন মন্ত্রণালয়ের প্রভাবমুক্ত রাখার জন্যই আচরণবিধির আবেদন ছিল। মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ত থাকা মানে তো পূর্বের ন্যায়...
মাহবুবে আলম : আইন মন্ত্রণালয়ের কাজটি কী? এতটুকু দায়িত্ব না থাকলে তো আইন মন্ত্রণালয়কে তুলেই দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রেও তো আইন মন্ত্রণালয়কে রাখা হয়েছে এসব কাজে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এমনটিই হয়ে আসছে।
সাপ্তাহিক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমাজ, রাজনৈতিক বাস্তবতার তুলনা হয়?
মাহবুবে আলম :  তাই বলে তো আপনি নিম্ন আদালতের বিষয়টি ফ্রি করে দিতে পারেন না। কাউকে না কাউকে তো দায়িত্ব নিতেই হবে।
সাপ্তাহিক : নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকের সময় নিম্ন আদালতের আচরণবিধি সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত রাখার কথা ছিল...
মাহবুবে আলম : সুপ্রিম কোর্ট তো প্রশাসনিক কাজ করতে পারবে না। সাচিবিক অনেক কিছুই তো আইন মন্ত্রণালয়কে করতে হয়। ট্রেনিং, ছুটি, বদলি, পদোন্নতির ব্যাপার আছে।
সাপ্তাহিক : নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগের মতো বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট দেখছে এখন। অন্য বিষয়গুলোয় দায়িত্ব পালন করতেই পারে?
মাহবুবে আলম : সব সুপ্রিম কোর্ট করলে আইন মন্ত্রণালয় কী করবে? আর এখানেই এস কে সিনহার বড় ভুল বলে মনে করি।
সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ মতো রাষ্ট্রপতি নিম্ন আদালতের বিচারকদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা তো সংবিধান দিয়েছে। এস কে সিনহা সে ক্ষমতা কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন। এটি হতে পারে না।
সাপ্তাহিক : সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি কোন পর্যায়ে আছে?
মাহবুবে আলম : এটি আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার।
সাপ্তাহিক : বিচারক সংকটে মামলার জট তো বাড়ছে?
মাহবুবে আলম : আমার তা মনে হয় না। সুপ্রিম কোর্ট স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সাপ্তাহিক : আপিল বিভাগে সম্ভবত মাত্র চারজন বিচারপতি রয়েছেন। কত জন নিয়োগের প্রত্যাশা করছেন?
মাহবুবে আলম : আমি আসলে সংখ্যায় বিশ্বাস করি না। মানসম্পন্ন হলেই কাজের গতি বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের আপিল বিভাগে ৯ জন বিচারপতি রয়েছেন। সংখ্যাটি আসলে বিরাট ব্যাপার না। কর্মদক্ষতা না থাকলে ২০ জন নিয়োগ দিয়েও গতি আসে না।
সাপ্তাহিক : দু’জন বিচারপতি পদত্যাগ করলেন অল্প দিনের ব্যবধানে? এ নিয়ে আপনার অভিমত কী?  
মাহবুবে আলম : সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। অন্য বিচারপতিরা তো তার সঙ্গে বসতে চাইলেন না। আর আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা তো ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন। তিনি হয়ত সম্মানবোধের প্রশ্নে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আর আমি মনে করি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমন হতে পারে। জুনিয়র কেউ ওপরে ওঠে গেলে সিনিয়রকে সরে যাওয়াই ভালো।
সাপ্তাহিক : পদত্যাগের এ ঘটনা জনগণ কীভাবে নিচ্ছেন বলে মনে করেন?  
মাহবুবে আলম : সরকার যে কাউকে প্রধান বিচারপতি করতে পারে। পৃথিবীর অন্য দেশেও হয়। ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রশ্নে যে কেউ পদত্যাগ করতেই পারে। জনগণ বিব্রত হবে এমন কিছু ঘটেনি।
সাপ্তাহিক : নতুন করে বেশ কয়েকজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ পেল। আগের অনেকেই বাদ পড়লেন। বাদ পড়ায় অযোগ্যতার বিষয় ছিল কিনা?  
মাহবুবে আলম : এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
সাপ্তাহিক : বেশ কয়েক জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর বিচারে সাজা হলো। এখন বিচারিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ল কিনা?
মাহবুবে আলম : ঠিক তা না। মামলা তো লিস্টে আছে।
সাপ্তাহিক : আগের মতো গতি নেই বলে অনেকেই মনে করছেন।
মাহবুবে আলম : যুদ্ধাপরাধের বিচারের মামলার জট কিছুটা আপিল বিভাগেই আছে।  
সাপ্তাহিক : কেন  এ জট?
মাহবুবে আলম : প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত অনেকটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
সাপ্তাহিক : মামলার জটে রাজনৈতিক কারণ আছে কিনা?
মাহবুবে আলম : আমি তা মনে করি না।
সাপ্তাহিক : জানতে পারলাম, নির্বাচনী গণসংযোগ করছেন এলাকায়। অভিব্যক্তি জানতে চাই।
মাহবুবে আলম : আমি আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। ইতোমধ্যেই এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছি।
আমি ঠিক ভিন্নভাবে গণসংযোগ চলাচ্ছি। স্কুল-কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বইপত্র বিতরণ করছি। স্বাধীনতার দলিলপত্র দিয়েছি অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানে।
সাপ্তাহিক : দলের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে ইঙ্গিত পেয়েই কি এমন গণসংযোগ?
মাহবুবে আলম : আমার নিজের ইচ্ছা থেকেই নির্বাচন করব বলে আশা প্রকাশ করেছি। সংবিধানের ওপর পড়াশোনা করেছি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। এ অভিজ্ঞতা নিয়ে সংসদে যেতে পারলে ভালো কিছু দিতে পারব বলে মনে করি।
সাপ্তাহিক : জনগণের সাড়া পাচ্ছেন কেমন?
মাহবুবে আলম : ভালো সাড়া পাচ্ছি। সর্বস্তরের মানুষকে কাছে পাচ্ছি। মানুষ আমাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিতও বলে বিশ্বাস করি। মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে অন্তত তাই বুঝতে পারছি। এবারে এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করতে গিয়ে অনেকটাই আশাবাদী হয়েছি। মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আমিও তৃপ্ত।
সাপ্তাহিক : দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমর্থন পাচ্ছেন কতটুকু?
মাহবুবে আলম : আমাদের রাজনীতির একটি ধারা হচ্ছে দায়িত্ব থাকা সংসদ সদস্যরা নতুনদের মানতে চান না। আমি দেখেছি, স্থানীয় নেতারা আমার কাছে যেন না আসতে পারেন, তার জন্য সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে চাপ থাকে।
এমন চাপ থাকা সত্ত্বেও নেতারা আমার পক্ষে কাজ করছেন। সমাজের বিজ্ঞজনেরা আমাকে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছেন।
সাপ্তাহিক : আপনি আশাবাদী?   
মাহবুবে আলম : আশা নিয়েই তো পথ চলছি। আমার বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ তুলতে পারবে না বলে বিশ্বাস। প্রায় এক দশক হলো আমি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছি। কেউ এক পয়সার দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারবে না। এ কারণে আমি জনগণের কাছে ক্লিন ইমেজ নিয়ে যেতে পারব।
আর দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করার কারণে রাষ্ট্রের অনেক আইনি কাজে সহায়তা করার সুযোগ হয়েছে। যা সরকার এবং দলের জন্যই ভাবমূর্তি বাড়িয়েছে বলে মনে করি। এ বিবেচনায় আমি দলের কাছে বিবেচ্য হতেই পারি। দল থেকে মূল্যায়িত হলে জনগণও আমাকে সমর্থন দেবে বলে বিশ্বাস রাখি।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

সাক্ষাৎকার
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.