[সাফল্য] কুমড়া বড়িতেই সচ্ছলতার দিন

Print Friendly and PDF

সৈয়দ রুমী

পাবনায় চলতি শীত মৌসুমে বাণিজ্যিকভাবে কুমড়া বড়ি তৈরি করা হচ্ছে। শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাবনাসহ চলনবিল অঞ্চলে কুমড়া বড়ি তৈরি ও বিক্রির ধুম পড়েছে। প্রতিবছর এ শীত  মৌসুমে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে কম-বেশি কুমড়া বড়ি  তৈরি এবং বাণিজ্যিকভাবে তা বিক্রি করা হয়ে থাকে।
পাবনার চাটমোহর, আটঘরিয়া, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও জেলা সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দুই শতাধিক পরিবার কুমড়া বড়ি বানিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বর্তমানে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অনন্য স্বাদের এই কুমড়া বড়ি  তৈরি হওয়ার কারণে আর্থিক সচ্ছলতার মুখ দেখতে পাচ্ছেন প্রায় দুই শতাধিক পরিবার।
চাটমোহরের কুমড়া বড়ির কারিগর ঊষা ভৌমিক জানান, পাকা চাল কুমড়া, শীতের কালাই ও বিভিন্ন প্রকারের মসলার সমন্বয়ে তৈরি করা হয় কুমরা বড়ি। বিশেষ করে চলনবিলের দেশি প্রজাতির  কৈ, মাগুর, শিং, শোল, আইড়, গজারসহ বিভিন্ন মাছ রান্নায় কুমড়া বড়ি অতিপ্রিয় অনুষঙ্গ। এত ভিন্ন মাত্রার একটি স্বাদ পায় ভোজনকারীরা।
সুস্বাদু ও মজাদার তরকারির এ উপাদানটি  তৈরি করতে অবশ্য বেশ পরিশ্রম করতে হয়। বিশেষ করে বাড়ির গৃহিণীরা এই কাজে পারদর্শী এবং কুমড়া বড়িগুলো মূলত তারাই তৈরি করে থাকেন। আকাশ পরিষ্কার থাকলে প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় কুমড়া বড়ি দেয়ার কাজ। মূলত আশ্বিন মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত কুমড়া বড়ি দেয়ার উপযুক্ত সময়। এই কয়েকমাস পাবনার বিভিন্ন এলাকায় বড়ি তৈরির ধুম লেগে যায়। মৌসুমি এ ব্যবসায় এলাকার অনেক নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন। এ ব্যবসায় অর্জিত অর্থ দিয়ে তারা গ্রীষ্মকালে অন্যান্য ব্যবসা করে থাকে।
ঊষা রানী ভৌমিক আরও জানান,  ‘প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি এ ব্যবসায় নিয়োজিত আছেন। একটা সময় অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে তাদের। আগে সারাদিন ডাল ভিজিয়ে রেখে শিলপাটা দিয়ে বেটে বড়ি দিতে হতো। এতে করে সময় লাগতো অনেক বেশি। এখন শিলপাটার বদলে ডালগুলো মেশিন দিয়ে ভাঙানো হয়। এতে করে খাটুনি কমেছে ও সময় বেঁচে যাওয়ার কারণে বড়ি দিতে পারছে বেশি। শীত  মৌসুমে এই বড়ি  তৈরি করে সংসারে বাড়তি কিছু আয় করাও সম্ভব হচ্ছে’।
কুমড়া বড়ি বিক্রেতা সুনীল সরকার ও প্রদীপ ভৌমিক জানান, ‘আকারভেদে প্রতিটি পাকা চালকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে কিনতে হয়। এছাড়াও ১০৫ টাকা  কেজি দরে মাষকলাই ডাল কিনে কুমড়া বড়ি  তৈরি করে থাকি। প্রতি কেজি ডাল থেকে সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম বড়ি তৈরি হয়। বাজারে  খেসারি ডালের বড়ি ৯০  থেকে ১০০ টাকা, অ্যাংকর ডালের বড়ি ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং মাষকলাই ডালের বড়ি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা  কেজি দরে বিক্রি করে থাকি। তবে অ্যাংকর ও মাষকলাইয়ের ডালের বড়ির চাহিদা একটু বেশি থাকে।’
তিনি জানান, ‘কুমড়া বড়ি  তৈরি এবং বিক্রি করে শীতকালে আমাদের ঘরে মোটামুটি একটা আয় আসে। আর এ সময়টাজুড়ে বাজারে কুমড়া বড়ির যথেষ্ট চাহিদাও থাকে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা আসেন কুমড়া বড়ি কিনতে। পাইকারি দাম কিছুটা কম নেয়া হয়। এছাড়া অর্ডার দিয়ে বানালে খরচটা আরও  বেশি পড়ে। হাতে পাটায় বাটা ডালের বড়ির কদর সবসময় একটু বেশি থাকে।’ এসব কুমড়া বড়ি ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারগণ খরিদ করে থাকে। বড় ব্যবসায়ীরা শীত মৌসুমে অগ্রিম টাকা দিয়ে বড়ির অর্ডার দিয়ে থাকে।
 শুধু গ্রামাঞ্চলেই নয়, শহরের মানুষও আজকাল কুমড়া বড়ি পছন্দ করতে শুরু করেছে।  সে কারণে পাবনায় উৎপাদিত কুমড়া বড়ি স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে জেলা শহর হয়ে এখন রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের কাঁচা বাজারগুলোতে স্থান করে নিয়েছে। আত্মীয়-স্বজনদের হাতঘুরে কুমড়া বড়ি এখন প্রবাসী বাঙালিদের  কাছেও পাঠানো হচ্ছে। অনন্য স্বাদের এই কুমড়া বড়ি বিক্রি করে সচ্ছলতা এসেছে জেলার প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

দেশজুড়ে
  • ফরিদপুরে এসএমই ব্যাংকিং বিষয়ে আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মশালা
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.