[প্রকৃতি ও জীবন] এ সপ্তাহের পর্ব- বাংলাদেশের ফড়িং

Print Friendly and PDF

ফড়িং যেকোনো স্থানের পরিবেশের সুস্থতার নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। এরা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ফড়িংয়ের বংশবৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে। তাই প্রকৃতির নান্দনিক ও গুরুত্বপূর্ণ এই পতঙ্গ সংরক্ষণে সকলের সচেতনতা প্রয়োজন

জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বাংলাদেশে অসংখ্য উদ্ভিদ-প্রাণীর সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ। এসব উদ্ভিদ, পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে আমাদের প্রতিবেশব্যবস্থা। প্রকৃতির এই প্রতিবেশব্যবস্থার মধ্যে নয়নাভিরাম ও আকর্ষণীয় পতঙ্গ হলো ফড়িং। আকার-আকৃতির ভিন্নতা, বৈচিত্র্যময় রঙ আর এদের চঞ্চলতা প্রকৃতিতে এক ভিন্ন রূপ দিয়েছে।
বাংলাদেশের সব জায়গাতেই বিভিন্ন প্রজাতির ফড়িং দেখা যায়। এদের মধ্যে রয়েছেÑ কমন পিকচার উইং, কমন ক্লাবটেইল, ফালভাস ফরেস্ট স্কিমার, স্কারলেট স্কিমার, পাইড পেডি স্কিমার, ডিচ জুয়েল, কোরাল টেইল্ড ক্লাউডউইং, গ্রিন মার্শহাউক ইত্যাদি। এদের বেশি দেখা যায়Ñ পুকুর, লেক, নদী ও জলাশয়ের আশপাশে। পাহাড়ি অঞ্চল ও পাথুরে জলাশয়ের আশপাশের এদের দেখা মেলে।
ফড়িংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বৃহৎ যৌগিক চোখ, দুই জোড়া স্বচ্ছ পাখা ও দীর্ঘায়িত দেহ। এদের মাথা বেশ বড়। মাথার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে চোখ। অন্যান্য পতঙ্গের মতো এদের রোমযুক্ত ছয়টি পা রয়েছে। পাগুলোর সাহায্যে এরা যেকোনো গাছের ডাল বা পাতার ওপর বিশ্রাম নেয়। বিশ্রামের সময় পাখাগুলো শরীরের সঙ্গে সমকৌণিক অবস্থানে থাকে। ওড়ার সময় এরা খুব দ্রুত পাখা নাড়ায়। বাংলাদেশে ছোট আরেক ধরনের ফড়িং দেখা যায়। এরা সুচ ফড়িং নামে পরিচিত।
বিশ্বে প্রায় ৬ হাজার প্রজাতির ফড়িং এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা হয়েছে। শুধু এন্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর সব মহাদেশেই ফড়িং দেখা যায়। এরা প্রায় ৩৬০ ডিগ্রি কোণে দেখতে পারে। কোনো কোনো প্রজাতির ফড়িং ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে উড়তে পারে। অবাক করা বিষয় হলো হেলিকপ্টার তৈরির মূল ধারণা এসেছে ফড়িংয়ের ওড়ার গতি ও ধরণ অনুসরণ করে।
ফড়িং যেকোনো স্থানের পরিবেশের সুস্থতার নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। এরা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ফড়িংয়ের বংশবৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে। তাই প্রকৃতির নান্দনিক ও গুরুত্বপূর্ণ এই পতঙ্গ সংরক্ষণে সকলের সচেতনতা প্রয়োজন।
ফড়িংয়ের জানা-অজানা তথ্য নিয়ে এ সপ্তাহের বিশেষ পর্ব ‘বাংলাদেশের ফড়িং’। অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করছেন মুকিত মজুমদার বাবু। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশের প্রথম জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ নিয়ে ধারাবাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘প্রকৃতি ও জীবন’ প্রচারিত হচ্ছে চ্যানেল আইয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১.৩০ মিনিটে, পুনঃপ্রচার প্রতি শুক্রবার সকাল ১১.০৫ মিনিট এবং রোববার সকাল ৫.৩০ মিনিটে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

ডায়রি/ধারাবাহিক
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.