[প্রবাস প্রতিবেদন] জাপানে মসজিদ প্রসারে বাংলাদেশিদের ভূমিকা -রাহমান মনি

Print Friendly and PDF

রাহমান মনি, জাপান থেকে

সম্রাট মুৎসহিতোর যুগে (মেইজি যুগ, ফেব্রুয়ারি ১৮৬৭-জুলাই ১৯১২) প্রধানমন্ত্রী হিরোবুমি ইতোর শাসনামলে (২২ ডিসেম্বর ১৮৮৫-৩০ এপ্রিল ১৮৮৮) ১৮৮৬ সালে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও ইসলামের ইতিহাস, স্থাপত্য, ধর্মীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জাপানিদের তেমন কোনো ধারণা ছিল না বললেই চলে। ধীরে ধীরে, মুসলিমরা জাপানে আসা যাওয়া এবং জাপানিদের মুসলিম দেশগুলোতে যাতায়াত শুরু করলে একশ্রেণির জাপানির মধ্যে ইসলামের প্রতি সহানুভূতি এবং ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়ে। তবে ওইভাবেই চলে যায় প্রায় চার যুগ।
ইতোমধ্যে জাপানে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন জাপানে আসা এবং বসবাসও শুরু হয়। শুরু হয় জীবিকা নির্বাহে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়া। মেইজি সম্রাট, তাইশো সম্রাট শেষ হয়ে সম্রাট হিরোহিতোর শোওয়া যুগের (১৯২৬-১৯৮৯) সূচনা হয়েছে মাত্র। প্রথম প্রধানমন্ত্রী তানাকা গিইচি (২০ এপ্রিল ১৯২৭-২ জুলাই ১৯২৯) এর শাসনামলে ১৯২৮ সালে ইন্ডিয়ান, তাতার এবং জাপানিজ মুসলিমদের প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় ব্যবাসয়ীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহে জাপানের ৬ষ্ঠ বৃহত্তম শহর ও শিল্পনগরী কোবে প্রথম মসজিদ নির্মাণ শুরু করে ঐতিহাসিক স্থান করে নেন জাপানে। কোবে শহরটি হোনশো দ্বীপের হিয়োগো প্রদেশের অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহ্যবাহী নগরী। ১৯২৮ সালে শুরু হলেও মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৩৫ সালে প্রধানমন্ত্রী ওকাদা কেইসুকের শাসনামলে। ২ আগস্ট ১৯৩৫ সালে (শুক্রবার) পবিত্র জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়মিত নামাজ শুরু হয়। তুরস্কের নির্মাণশৈলীতে নির্মিত মসজিদটি দৃষ্টিনন্দন ইসলামি স্থাপত্য হিসেবে জাপানে আত্মপ্রকাশ করে।
এরপর ১৯৩৮ সালে তাতাররা টোকিওতে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে। তারও আগে ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায় ১৯৩১ সালে নাগোয়াতে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে। তাতারদের উদ্যোগে টোকিওতে প্রথম মসজিদ প্রতিষ্ঠায় এবং পরবর্তীতে তুর্কিদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় টোকিওর ইয়োইয়োসি উয়েহারাতে টোকিও জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠায় জাপান সরকারের পাশাপাশি বিখ্যাত গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মিত্সুবিশি কোম্পানি আরও অনেক কোম্পানি আর্থিকভাবে সহায়তা করে।
১৯৮০ দশকের শেষ ভাগে জাপানে বাংলাদেশিদের বসবাস অধিকহারে বেড়ে যায়। ১৯৮৯ সালে একপর্যায়ে প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি জাপানে বসবাস করেন। যার সিংহ ভাগই হচ্ছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের। যদিও বর্তমানে তা কমে প্রায় ১২ হাজারের মতো। তার মধ্যে প্রায় ৯৮৮৫ জন মুসলিম (সূত্র ওয়াসেদা বিশ্ববদ্যিালয়ের প্রফেসর তানাদা কর্তৃক রিসার্চ ২০১১, প্রকাশ ২২ আগস্ট ২০১৪) প্রফেসর তানাদার সমীক্ষা অনুযায়ী জাপানে মোট মুসলিমের সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজারের মতো। যার মধ্যে জাপানিজ মুসলিম হচ্ছেন ১১ হাজার ১৮৯ জন। বর্তমানে অবশ্য জাপানে  প্রায় ১ লাখ ২০ হাজারের মতো মুসলিম।
সূত্র অনুযায়ী জাপানে মুসলিমদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ান ১৯ হাজার ১৮৯ জন (২১%), ফিলিপিনস ১০ হাজার ৭১৯ জন (১২%), চায়না ১০ হাজার ৩০৭ জন (১১%), পাকিস্তান ৯ হাজার ৮৯৭ জন (১০%) এবং বাংলাদেশি ৯ হাজার ৮৮৫ জন (১০%) রয়েছেন। এরপর মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, মিসর, রাশিয়া, আফগানিস্তানের অবস্থান। এবং অন্যান্য দেশের মোট ৮ হাজার ৭৯০ জন (প্রায় ১%)। মজার বিষয় হলো, প্রফেসর তানাদার সমীক্ষায় মুসলিম দেশগুলোর (আরব বিশ্ব) নাম সংখ্যায় বিবেচনায় হিসেবে পড়েনি।
মসজিদের শহর ঢাকা। এখানকার হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলের সহাবস্থান। প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মসজিদের একটা অলিখিত সম্পর্ক সবার সঙ্গেই। সেই ঢাকা অর্থাৎ বাংলাদেশিরা যেখানে যাবেন সেখানে মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে যে জড়াবেন তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কবির ভাষায় অন্নসংস্থান হওয়ার পর ফুল কেনার জন্য বলা হলেও ধর্মপ্রাণ বাংলাদেশিরা অন্নসংস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর ধর্মীয় উপাসনালয়ের দিকে মন দিয়ে থাকেন। ধর্মে এবং মানুষের হৃদয়ে (বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান অর্থাৎ সার্কভুক্ত দেশগুলোতে) সৃষ্টিকর্তার উপাসনায় মনোনিবেশ সবার আগে।
জাপানে বাংলাদেশিদের বসবাস বেড়ে গেলে অনেকেই চাকরি করার পাশাপাশি ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। এদের মধ্যে নিজ প্রচেষ্টায় কৃতকার্য হন। তারা নিজ পরিবারের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রবাসী সমাজে দেশের ভাবমূর্তি বিকাশ ও প্রসারে জোরালো ভূমিকাও পালন করছেন। পালন করে চলেছেন ধর্মীয় উপাসনালয় প্রতিষ্ঠায়, বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ‘সার্বজনীন পূজা কমিটি জাপান’র ব্যানারে সমবেত হয়ে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি জাপানে একটি স্থায়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন প্রায় ২২ বছর ধরে। যেহেতু জাপানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা আনুপাতিক হারে কম তাই অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ এই উদ্যোগ সময় নেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে অনেকটাই তারা এগিয়েছেন। অচিরেই বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টায় জাপানে একটি স্থায়ী এবং পূর্ণাঙ্গ মন্দির প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে। আর হলে এটাই একদিন ইতিহাস হয়ে থাকবে। থাকবে বাংলাদেশের নামও।
জাপানে বাংলাদেশের মুসলমানরা সংখ্যায় যাই-ই থাকুক না কেন কর্মে তারা অনেক যে এগিয়ে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মেধা, শ্রম আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তারা জাপান জয় করেছেন। নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, জাপান-বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছেন। বিভিন্ন দাতব্য খাতে, বাংলা সংস্কৃতি বিকাশে তাদের অনুদান ছাড়া আয়োজন কল্পনাই করা যায় না। অনেকে আবার নীরবে, নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন।
জাপানে গত ১০০ বছরে (প্রায়) যে কয়টি মসজিদ নির্মাণ হয়েছে তার ৭৫% নির্মিত হয়েছে গত ২০ বছরে। নব্বই দশকে শুরু হওয়া মসজিদ নির্মাণে বাংলাদেশিদের ভূমিকা এবং অংশগ্রহণ জাপানে মসজিদ নির্মাণকে আরও বেগবান করে। মসজিদ নির্মাণে অবদানে যাদের নাম সবার আগে চলে আসে তারা হচ্ছেন, এমডি এস. ইসলাম নান্নু, বাদল চাকলাদার, মামুনুর রশীদ, নাসিরুল হাকিম, কিমুরা শরীফ, মোবারক হোসেন হৃদয়, হিমু উদ্দিন, সানাউল হক, মাহবুবুল হক, কাউসার আহমেদ, শাহীন চৌধুরী, মিজানুর রহমান শাহিন, শামীম আহমেদ যোশেফ, শেখ রনি, মামুন চৌধুরী, আকতার হোসেন, মামুন, ডা. মিলন, লিয়াকত হোসেন প্রমুখ। অনেকেই তাদের সহযোগিতা করছেন নীরবে, নিভৃতে। নিজেরা দান করছেন এবং অন্যের কাছ থেকে দান সংগ্রহ করছেন। মসজিদ নির্মাণ সাধারণত একক প্রচেষ্টায় হয় না। তবে কাউকে না কাউকে উদ্যোগ নিতে হয়। এর পেছনে অনেকের ভূমিকা কাজ করে। তারা প্রকাশ্যে আসেন না। এদের সমাজের সব ভালো কাজেই পাওয়া যায়।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশ কয়েকটি মসজিদ টোকিও এবং আশেপাশের শহরগুলোতে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠা পায়, কিছু নির্মাণাধীন এবং কিছু প্রক্রিয়াধীন। শুধু যে বাংলাদেশিদের একক অংশগ্রহণ তা কিন্তু নয়। মসজিদ যেহেতু আল্লাহর ঘর হিসেবে পরিচিত, তাই ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী যে কেউ মসজিদ নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারেন। উদ্যোগটা নিতে হয় কাউকে না কাউকে।
এর মধ্যে কামাতা মসজিদ, চিবা (ইনাগে) মসজিদ, হিগামি জুজো মসজিদ, সাগামী হারা মসজিদ, গাম্মো মসজিদ, কিনাশিচো মসজিদ বাংলাদেশিদের সফল উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা পায়। আরও মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তার মধ্যে মিমাতো মসজিদ অন্যতম।
সাইতামা কেন এর শিন মিসাতো এলাকার মিসাতো মসজিদের জন্য ৩৩০ স্কয়ার মিটার এর একটি জায়গা ইতোমধ্যে ক্রয় করা হয়েছে। মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে যাবতীয় অনুমতি নিয়ে মসজিদ হিসেবে নিবন্ধন করে মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু (রিফর্ম) করাসহ গত বছর শেষ নাগাদ নামাজ শুরু করা হয় নিয়মিতভাবে। এই জন্য বাংলাদেশ থেকে একজন ইমাম আনা হয়েছে।
সিমাতো মসজিদ নির্মাণের প্রধান উদ্যোগী ব্যবসায়ী বাদল চাকলাদার জানান, নব্বই দশক থেকে টোকিও থেকে মাত্র ৪৫ মিনিটের ট্রেন ভ্রমণের এই শহরটিতে অনেক বাংলাদেশি বসবাস করা শুরু করে। এখানে স্থানীয় প্রশাসনের বেশ কিছু কোয়ার্টার থাকায় বাংলাদেশিদের বসবাস বেড়ে যায়। সেই সময় থেকে একটি মসজিদ নির্মাণের চিন্তাভাবনা শুরু হয়। টোকিও থেকে বাইরে এবং খোলামেলা পরিবেশ হওয়ায় তুলনামূলকভাবে জমির দামও একটু কম। তাই প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বপ্ন দেখা শুরু করে, স্থানীয়ভাবে অনুদান সংগ্রহ করা শুরু হয়। একপর্যায়ে এই অনুদান (সংগৃহীত) এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৬৫০০০০ ইয়েন যা প্রায় ৬০ লাখ টাকার মতো। ২০১৬ সালের মধ্যে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
উদ্যোক্তাদের অন্যতম মামুন এবং আক্তার জমি দেখে (একাধিক) বাদল চাকলাদারের শরণাপন্ন হলে বাদল চাকলাদার দুইটি জমি দেখে বর্তমানটিতে মত দেন। জমির মালিকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, বাদল চাকলাদার। মালিক তিন কোটি ইয়েন দাবি করেন। বাদল চাকলাদার ৩ কোটি ইয়েনে রাজি হয়ে এমন একটি ধর্মীয় কাজে মালিকের কাছে তার অনুদান হিসেবে কিছু দিয়ে জাপানে বিদেশিদের ধর্মীয় চর্চায় সহযোগিতার হাত বাড়াতে আবেদন করেন। বাদল চাকলাদারের আবেদনে সাড়া দিয়ে জমির মালিক ২০ লাখ ইয়েন ছাড় দেয়ার ঘোষণা দিলে জমির দাম নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৮০ লাখ ইয়েন।
১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে জমি রেজিস্ট্র করা হয়। বর্তমানে সেখানে নামাজ পড়ানোসহ পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়ার কাজ চলছে। তিন দিকে রাস্তা হওয়ায় মুসল্লিদের জন্য বেশ সুবিধাজনক পরিবেশ থাকবে মসজিদটি। মহিলাদের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থাসহ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে তিন শতাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে বাদল চাকলাদার জানান। এছাড়াও মসজিদটিতে শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষা, মৃত ব্যক্তিদের ধর্মীয় রীতিতে গোসল করানো, ধর্মীয় বয়ানসহ ইসলামিক শিক্ষা গ্রহণের সব রকম সুযোগই থাকবে।
জাপানের প্রতিটি মসজিদেই অনুরূপ ব্যবস্থা রাখা হয়।
চিবা মসজিদ (ইনাগে) কামাতা মসজিদেও একই ব্যবস্থা রয়েছে। কামাতা মসজিদ নির্মাণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন এমডি এস. ইসলাম নান্নু, কিমুরা শরীফ, লিয়াকত হোসেনসহ আরও অনেকে। ইনাগে মসজিদটিও নাসিরুল হাকিম, শেখ রনি, বাদলসহ অনেকের মুখ্য ভূমিকা ছিল।
কিতা মসজিদ (হিগামি জুজে) প্রতিষ্ঠায় (নির্মাণাধীন) চৌধুরী মামুন, কাউসার ভূইয়া, মাহবুবুল হক, শাহীন চৌধুরীদের মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। এখানে বাঙালি কমিউনিটি খুব বড়। খুব সম্ভব জাপানে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশির বাস টোকিওর ওই শহরে।
টোকিওর কিনশিচোর এলাকার ব্যবসায়ীরা উদ্যোগ নিয়েছেন একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করায়। ইতোমধ্যে তারা একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মসিজদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অচিরেই হয়তো তারা জমি ক্রয় করে ভাড়াকৃত মসজিদটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সক্ষম হবেন।
শিন সিমাতোর নিকটেই বায়তুল আমান মসজিদ যা প্রবাসীদের কাছে গাম্মো মসজিদ নামেই সমধিক পরিচিত, মসজিদটিও বাংলাদেশিদের পরিচালনায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। প্রবাসী সিরাজুল হক, ইঞ্জিনিয়ার সোহাগ সিদ্দিকীর অক্লান্ত পরিশ্রমে মসজিদটি পরিচালিত হচ্ছে সুচারুভাবেই। এখানে নিয়মিতভাবে শিশু-কিশোরদের ইসলামিক শিক্ষা দিয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করা হয়ে থাকে।
টোকিওতে ওৎসুকা মসজিদ ওহানাজাইয়া মসজিদের নেতৃত্বে বাংলাদেশিদের হাত না থাকলেও প্রাধান্য রয়েছে। ওৎসুকা মসজিদটি টোকিওর প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় এখানে বাঙালি মুসল্লিদের আনাগোনা বেশি হয়ে থাকে এবং বাঙালি মুসলিমদের ধর্মীয় আয়োজনও অনেক বেশি থাকে।
এছাড়াও টোকিওর হাবিওজি, আসাকুসা, হিরোতে প্রসিদ্ধ এবং পরিচিত মসজিদ রয়েছে। হিরো মসজিদটি কূটনৈতিক মহল্লার কাছাকাছি হওয়ায় এই মসজিদে কূটনীতিকরা বেশি যাতায়াত করেন। তবে ওকাচিমাচি মসজিদে প্রতিটি নামাজেই মুসল্লিদের ভিড় লক্ষণীয়।
এছাড়াও রমজান মাসে মুসলিমদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি শহরগুলোতে হল ভাড়া করে তারাবিহ নামাজের ব্যবস্থাসহ ঈদের জামায়াতের জন্য বিশেষভাবে হল ভাড়া নেয়া হয় জাপানে। অনেক স্থানেই একাধিক জামাতের ব্যবস্থা করা হয়। এই আয়োজনের পেছনেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা থাকে। কিছু কিছু মসজিদ আবার তাবলিগ জামাতের মুসল্লিরা এসে জাপানে ধর্ম প্রচারে কাজ করে থাকেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সৈন্যরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে। সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে সেই সব দেশে ইসলামের সৌন্দর্য, ভ্রাতৃত্ববন্ধন, সুশৃঙ্খল জীবন ব্যবস্থা দেখে ইসলামের প্রতি তাদের আগ্রহ বেড়ে যায়। বিশ্বযুদ্ধ উত্তর জাপান ফিরে একজন পদস্থ কর্মকর্তা ইসলাম ধর্মের দীক্ষা নেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ওমর বোকেনা নাম ধারণ করেন। বলা যায় তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা জাপানে মুসলিমদের মনোবল বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের নারকীয় ঘটনার পর জাপানেও কিছুটা প্রভাব পড়ে। বুশের অপপ্রচারে জাপানিরাও ইসলাম মানেই জঙ্গি, টেরোরিস্ট ভাবতে শুরু করে। আমেরিকার নীলনকশায় জাপান মিডিয়াও আমেরিকার পথ অনুসরণ করে। একটা পর্যায়ে জাপানে ইসলাম নাজুক অবস্থায় পড়ে। সাদ্দাম, গাদ্দাফি, সিরিয়ায় আইএস বিন লাদেনের আল কায়েদার কর্মকাণ্ডে সাধারণ জাপানিরাও ইসলাম সম্পর্কে বিরূপ ধারণা নিতে শুরু করেন। বিভিন্ন মসজিদে গোয়েন্দা নজর বাড়ানো হয়।
সব ধীরে ধীরে জাপানিদের কাছে ইসলামবিরোধী প্রচার কেবলি অপপ্রচারের নীলনকশা তা স্পষ্ট হতে থাকে। জাপানে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কর্মকাণ্ড, মসজিদগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা জাপান আইনে বরখেলাপ বা আইনবিরোধী কোনো কাজের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে না পেলে এবং সম্প্রতি ইসলাম নিয়ে জাতীয় প্রচার মাধ্যমে কয়েকটি টক শো সাধারণ মানুষের কাছে ইসলাম শান্তির ধর্ম হিসেবেই স্বচ্ছতা পায়।
তারপর রয়েছে জাপানে বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা। কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সুনাম সর্বজনবিদিত। তাই প্রবাসীদের সঙ্গে মিশেও জাপানিদের ইসলামবিরোধী অপপ্রচার সম্পর্কে ধারণা পেতে শুরু করে। আর এভাবেই জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশরা ইসলাম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে।
তথ্যসূত্র : আন্তর্জাল এবং সরজমিন।
rahmanmoni@gmail.com

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
Author : under armour ua curry 3
Author : macys coach poppy handbags map
adidas neo hoodiesadidas climacool ride ii maschio aranciareebok realflex speed reviewwholesale original ray ban rb8307 aviator tech black sunglasses macys coach poppy handbags map http://www.vetements-ethniques-femme.com/coachsale_en/macys-coach-poppy-handbags-map
Author : discount giuseppe zanotti boots saks
ugg bailey bow blue jay deckugg bailey bow zwart yeezyugg boots 1888 silver dollarsair jordan 1 ice blue line discount giuseppe zanotti boots saks http://www.windowsnext.net/cheaplouboutin/discount-giuseppe-zanotti-boots-saks
Author : nike flyknit lunar 1 oreo
Author : new nike air max 2014 womens running shoes
Author : le coq sportif womens shoes silver grey
nike free tr flyknit 5.0 sky blue blacknew balance 574 singapore storeadidas stan smith yellow blueadidas nitrocharge cheap kitchen le coq sportif womens shoes silver grey http://www.houstonbusinessfurniture.com/cheapest-shoes/le-coq-sportif-womens-shoes-silver-grey
Author : nike roshe ld 1000 qs red
Author : jual nike flyknit racer kaskus
ugg mini bailey button bling winter white jordansugg boots 5819 parts ukugg classic cardy pink bootsnike kd trey 5 womens purple grey jual nike flyknit racer kaskus http://www.marlboroughpress.com/shoesfactory_en/jual-nike-flyknit-racer-kaskus
Author : coach madison diaper bag uk
new kobe 7 zapatosnike hypervenom phantom 2 icadidas springblade solar gituttiomodelos de zapatillas nike free run coach madison diaper bag uk http://www.lasvegasdicebaseball.com/coachoutlet_en/coach-madison-diaper-bag-uk
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.