জার্মানির জ্বালানি রূপান্তর দর্শন

Print Friendly and PDF

সাপ্তাহিক প্রতিবেদন

মানবজাতি বর্তমানে যে বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, তার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে জ্বালানি। জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ নেই, নেই বিশুদ্ধ পানির জোগান, নেই যোগাযোগের সামর্থ্য, নেই শিল্প-কারখানা, নেই আধুনিক প্রযুক্তির কিছুই। অর্থাৎ জ্বালানি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তবে মানুষ বসে থাকার পাত্র নয়। তাই তারা হাত দিয়েছে জ্বালানি খাত রূপান্তরে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা ও জ্বালানির সংকটকে মাথায় রেখে খোঁজা হচ্ছে সমাধান। উন্নত বিশ্বের কোনো কোনো দেশ এক্ষেত্রে যে কর্মপরিকল্পনা গড়ে তুলেছে, তা অনেক দেশের জন্য অনুসরণীয়।  
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম সম্প্রতি জার্মানির জ্বালানি খাত উন্নয়ন ও রূপান্তর প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেছেন। তার মতে, আর্থিক প্রবৃদ্ধির দর্শনে বিশ্ব এখন দুই ধারায় বিভক্তÑ ক) জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধিতে জিডিপি বৃদ্ধি পায়। আবার জিডিপি বৃদ্ধি হলে জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি হয়। এইভাবে চক্রাকারে উভয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। খ) জিডিপি’র অব্যাহত বৃদ্ধিতে জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস অব্যাহত থাকে।
অধ্যাপক আলম জানান, জার্মানিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে কার্বনভিত্তিক জ্বালানি প্রতিস্থাপন ও জ্বালানির ব্যবহার কমানোর পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে প্রতি বছর ব্যয় হয় ২ হাজার ৬০০ কোটি ইউরো, যা কিনা তাদের জিডিপি’র ১২ শতাংশ। জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি দ্বারা আর্থিক প্রবৃদ্ধি নয়, আর্থিক প্রবৃদ্ধি দ্বারা জ্বালানি ব্যবহার হ্রাসই জার্মানির উন্নয়ন দর্শন।
জ্বালানির নতুন ধরনের সঙ্গে যারা আগে খাপ খাইয়েছে, যারা আগে তা দখলে নিয়েছে, তারাই বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্বে উঠে এসেছে। একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বের অর্থনীতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বিকশিত হচ্ছে এবং ফসিল জ্বালানির বিকল্প হিসেবে বাজার দখল করছে। ফলে ইউরোপে কার্বনমুক্ত অর্থনীতি বিনির্মাণবিপ্লব গত শতকের শিল্পবিপ্লবের যুগের মতো করেই শুরু হয়েছে। এই বিপ্লব দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী এই বিপ্লব জরুরিও বটে। অধ্যাপক আলম আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এতে শুধু পরিবেশই নয়, সমাজও দূষণ তথা দুর্নীতিমুক্ত হবে।
জার্মানির আয়তন ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ৩৭৬ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে জনসংখ্যা ৮২ মিলিয়ন। বার্ষিক মাথাপিছু আয় ৪১ হাজার ৯৩৬ ডলার। শিল্পনির্ভর অর্থনীতির এই দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৯ শতাংশ। নাগরিকদের গড় আয়ু ৮১.০৯ বছর। জ্বালানির জন্য তারা বিদেশের ওপর নির্ভরশীল। কার্বনভিত্তিক জ্বালানিমুক্ত অর্থনীতি বিনির্মাণের লক্ষ্যে জ্বালানি রূপান্তরণের (ঊহবৎমু ঞৎধহংরঃরড়হ) আওতায় জার্মানিতে এখন চলছে বহুমুখী কর্মকা-।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম জার্মানির এই চলমান জ্বালানি রূপান্তরণ কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বলেন, এই রূপান্তরণে প্রথমত, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে। এই রূপান্তরণের লক্ষ্য ফসিল ও নিউক্লিয়ার জ্বালানি নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্বারা প্রতিস্থাপন করা। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি সংরক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে নতুন নতুন যন্ত্র-যন্ত্রাংশ, উপকরণ, উদ্ভাবন, তৈরি, স্থাপন, প্রতিস্থাপন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, তাপরোধী ভবন এবং বিদ্যুৎচালিত বাহন বৃদ্ধিতে জোর আরোপ। লক্ষ্য হচ্ছে, জ্বালানি সংরক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দ্বারা প্রাথমিক জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও তাপের চাহিদা হ্রাস করে গ্রীন হাউজ গ্যাস তথা কার্বণ নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনা। অর্থাৎ কার্বনমুক্ত অর্থনীতি বিনির্মাণ করা। চতুর্থত, জনগণের অভিপ্রায়, মনোভাব, চাল-চলন, অভ্যাস ইত্যাদিতে পরিবর্তন আনা। লক্ষ হলো, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানিতে স্বনির্ভর হওয়া এবং বিদ্যুৎ রপ্তানি বৃদ্ধি করা। অধ্যাপক আলম মন্তব্য করেন, ‘দৃশ্যমান অগ্রগতিতে বলা যায়, জ্বালানি রূপান্তরণে জার্মানি সফলতা লাভের পথে।’
তিনি তথ্য উপস্থাপন করে দেখান, ২০১৫ সালের হিসাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রাথমিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ আসে যথাক্রমে ১৪ ও ৩১ শতাংশ। ২০৩০ সালে তা হবে যথাক্রমে ৩০ও ৫০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালে যথাক্রমে ৬০ ও ৮০ শতাংশ। জার্মানিতে বায়োমাস, বায়ু এবং সোলার পিভি হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রধান উৎস। ২০০৮ সালের তুলনাায় ২০৫০ সালে সাশ্রয় হবে প্রাথমিক জ্বালানি ৫০ শতাংশ, বিদ্যুৎ ৮০ শতাংশ, পরিবহনে ব্যবহৃত জ্বালানি ৪০ শতাংশ এবং ভবন উত্তাপে ব্যবহৃত তাপ ৮০ শতাংশ। গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস পাবে ৯০ শতাংশ। জার্মানির আমদানি নির্ভরতা ব্যাপকÑ জ্বালানি তেলে ৯৭ শতাংশ, গ্যাসে ৮৯ শতাংশ, কয়লায় ২৩ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ ১৩ শতাংশ। অবশ্য এর মধ্যেই তারা বিদ্যুৎ রপ্তানি করছে ৬ শতাংশ। দেশটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ৬৪১ বিলিয়ন ইউনিট। প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ ৩০৭.৮ এমটিওই। প্রাথমিক জ্বালানি মিশ্রে কয়লা ২৬ শতাংশ, তেল ৩৩ শতাংশ, গ্যাস ২১ শতাংশ এবং নিউক্লিয়ার ৮ শতাংশ। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ১৯৯৯ সালেÑ ২৯ বিলিয়ন ইউনিট। ২০১৪ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১৬১ বিলিয়ন ইউনিট। পক্ষান্তরে ওই সময় নিউক্লিয়ার ও কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পায় যথাক্রমে ১৮০-৯৭ এবং ২৯১-২৬৫ বিলিয়ন ইউনিট।
এই উন্নয়ন কার্যক্রম চালাতে গিয়ে জার্মানিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয়হার বৃদ্ধি পায়। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল অবধি ব্যয়বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। এ সময় বিদ্যুতের মূল্যহার বৃদ্ধি পায় ৩৬ শতাংশ। ২০১৫ সালের শুরুতে প্রথমবারের মতো আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুতের মূল্যহার হ্রাস পায়। পরবর্তীতে সেই বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত ও অবদমিত। এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে জ্বালানি রূপান্তরণ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ আর বিদ্যুতের মূল্যহার বৃদ্ধি হবে নাÑ এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ফিড-ইন-ট্যারিফ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থাৎ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে ভর্তুকি এখন অনাবশ্যক।
পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক শামসুল আলম জানান, আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুতের গড় মূল্যহার ২০১৭ সালে ছিল ২৯.১৬ ইউরো সেন্ট। এর ৫৫ শতাংশ বিভিন্ন ট্যাক্স, লেভি ও সারচার্জ। সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় ২৫.৬ শতাংশ। উৎপাদন ব্যয় ১৯.৩ শতাংশ, ১ ইউরো সমান ৯০ টাকা ধরা হলে যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫.০৭ টাকা। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে এর উৎপাদন ব্যয় ৫.২৯ টাকা। অর্থাৎ ২২ পয়সা বেশি।
এত ব্যয়ের কারণ হলো, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওই বিদ্যুৎ বাজারে আনতে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে। সেই বিনিয়োগ ব্যয় বিদ্যুতের মূল্যহারে সমন্বয় হওয়ায় দাম বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ২০১৩ সালে ইউরোপের যে কোনো দেশ (পোল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক ও ফ্রান্স) অপেক্ষা জার্মানিতে বিদ্যুতের মূল্যহার সর্বাধিক হয়। পরবর্তীতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রবাহ বৃদ্ধিতে নবনির্মিত বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। সনাতনী বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। আবার উক্ত অবককাঠামো উন্নয়ন ব্যয়হারও হ্রাস পাচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয়হার হ্রাস মূল্যহারে সমন্বয় হওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যহার হ্রাস পাচ্ছে। সেই সঙ্গে জ্বালানি সংরক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন অব্যাহত থাকায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ চাহিদা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হচ্ছে। সেবা ও পণ্যের উৎপাদন ব্যয়হার  কমছে। ফলে ভোক্তা বা জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে এবং জীবনমান উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ এমন সুযোগ নষ্ট করছে। তাই জ্বালানি উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ ও ভাবনা বাড়ছে।
স্থানীয় জনগণের মধ্যে এই বাড়তি দামের বিদ্যতের প্রতিক্রিয়া কী, সেখানেও নজর দিয়েছেন অধ্যাপক আলম। তিনি জানান, ২০১৪ সালের এক সমীক্ষার সূত্রে বলা হয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ জোরদারে জার্মানির ৯৪% জনগণের সমর্থন রয়েছে। সেখানকার সরকার মনে করে, কোনো রাজনৈতিক দলের সরকারে আসা অনেকটাই নির্ভর করে কথিত জ্বালানি রূপান্তরণে তার দক্ষতা ও সক্ষমতার ওপর। অর্থাৎ জ্বালানি রূপান্তরণে জার্মানিতে গণতন্ত্রায়ন ও জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়েছে। জ্বালানি রূপান্তরণ নানা কারিগরি কর্মযজ্ঞের সমাহার ও সমন্বয়। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, ক) বিদ্যুৎ মজুদ (এখনও খুবই ব্যয়বহুল), খ) জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন এবং গ) ব্যাপকভাবে জাতীয় বৈদ্যুতিক নেটওর্য়াকসমূহ সংযোজন ও একীভূতকরণ, যা নানা অঞ্চলের বিদ্যুৎ পরস্পরের মধ্যে ভাগাভাগির সুবিধা দেয়।
এই কর্মযজ্ঞের পরিকল্পনায় রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, বাস্তবায়নে পেশাজীবীরা। তাতে জনগণের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন দৃশ্যমান ও কার্যকর। জার্মান বিশেষজ্ঞদের মতে জ্বালানি রূপান্তরণের সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা মাত্রা রয়েছে। সে রূপান্তরণে প্রযুক্তিক, রাজনীতিক ও অর্থনীতিক কাঠামোবলির আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ এটি একটি প্রক্রিয়া। প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তনও বলা যায়। পক্ষভুক্ত ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট আইনি সংস্কার এ পরিবর্তনের আওতাভুক্ত। ধারণা করা হচ্ছে, সংস্কারের আওতায় পরিবর্তিত আইন জ্বালানি শিল্পে অনেক ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন আনবে। তবে অর্থনীতি ও ভোক্তার ওপর তার প্রভাব হবে সীমিত। তাই ওই সংস্করণ আরও বেশি অর্থনীতিবান্ধব ও ভোক্তা স্বার্থসম্মত হওয়ার ব্যাপারে সেখানকার সরকার মনোযোগী।  
জ্বালানি রূপান্তরণের ধারণা ১৯৮০ সালে জার্মানির কোনো এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম প্রকাশ পায়। তাতে নিউক্লিয়ার ও পেট্রোলিয়াম জ্বালানি সম্পূর্ণ বর্জনের আহ্বান জানানো হয় এবং দাবি করা হয়, জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি না করেও আর্থিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব। সেই ধারণার পরিধি পরবর্তীতে সম্প্রসারণ হয় এবং আজকের অবয়বে পরিণত হয় ২০০২ সালে। জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয় ২০১৬ সালে। তাতে বলা হয়, ২০৫০ সাল নাগাদ প্রায় সম্পূর্ণ কার্বনমুক্ত জ্বালানি সরবরাহ হবে। অবশেষে প্রায় সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক হবে এবং তাতে বায়ু ও সৌর বিদ্যুতের হিস্যা অনেক বেশি হবে। তা সত্ত্বেও রূপান্তরণকালে স্বল্প কার্বনসমৃদ্ধ গ্যাস-বিদ্যুৎ প্লান্টসমূহের সঙ্গে বিদ্যমান অত্যাধুনিক কয়লা-বিদ্যুৎ প্লান্টসমূহও অন্তর্বর্তীকালীন প্রযুক্তি হিসেবে আবশ্যক।
জার্মানি যে পরিকল্পনায় এগুচ্ছে, তাতে ২০৫০ সাল নাগাদ জ্বালানি রূপান্তরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে জানান অধ্যাপক আলম। তিনি বলেন, এর ফলে জার্মান অর্থনীতি কার্বণমুক্ত হবে। ভোজ্য-তেল ও প্রাণিজ-চর্বি মুক্ত আহারে জনগণ আরও বেশি বেশি অভ্যস্ত হবে। জাতীয়ভাবে জার্মানরা আরও অনেক বেশি কায়িক পরিশ্রমী ও সবদিক দিয়ে মিতব্যয়ী হবে। পরিশেষে কার্বন তথা দূষণমুক্ত পরিবেশ এবং দুর্নীতি তথা দূষণমুক্ত সমাজ জার্মান জাতিকে মহিমান্বিত করবে। অবশেষে জার্মানির এই ‘জ্বালানি রূপান্তরণ’ অন্যান্য দেশের জন্য মডেল হবে। এই সব আজ আর জার্মান জাতির স্বপ্ন বা ভাবনা নয়, দৃশ্যমান বাস্তব। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির জগতে উন্নয়নের নামে বাংলাদেশে যা কিছু ঘটেছে, তাও এক ধরনের ‘জ্বালানি রূপান্তরণ’। সেই রূপান্তরণ পরিবেশ ও সমাজ উভয়কেই দূষণমুক্ত নয় বিরামহীনভাবে দূষণযুক্ত করে চলেছে। এমন ‘রূপান্তরণ’ কোনো জাতির কাম্য হতে পারে না। বাঙালি জাতিরও নয়।
জার্মানির ‘জ্বালানি রূপান্তরণ’ দর্শন হলো নিরাপদে, কম খরচে, সুনিশ্চিত জ্বালানি। কিন্তু বাংলাদেশের ‘জ্বালানি রূপান্তরণ’-এর যে স্বরূপ আমরা অবগত, তাতে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের ‘জ্বালানি রূপান্তরণ’ দর্শন জনস্বার্থ ও জনকল্যাণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শামসুল আলম বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে জ্বালানি উন্নয়ন তথা সংস্কার কৌশল দেশকে অতিমাত্রায় দুর্নীতিগ্রস্ত করে চলেছে। কার্বন দূষণে জলবায়ু পরিবর্তনের মতোই সেই দুর্নীতিতে সমাজ পরিবর্তন হচ্ছে। এ পরিবর্তন মোকাবিলা করা এখন বাংলাদেশের জন্য অতীব জরুরি। সেজন্য ‘জ্বালানি উন্নয়ন দর্শন’ বদলাতে হবে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

বিশ্লেষন
  • ফরিদপুরে এসএমই ব্যাংকিং বিষয়ে আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মশালা
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.