[অর্থনীতি] গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্কলন : খাদ্যপণ্যের মূল্য বাড়বে, কমবে রপ্তানি

Print Friendly and PDF

সাপ্তাহিক প্রতিবেদন

খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার সামনের দিকে আরও বাড়বে। ফলে বাজারে খাদ্যপণ্যের পেছনে ভোক্তাকে ব্যয় করতে হবে আগের চেয়েও বেশি। যা সীমিত আয়ের জনগণের জীবনযাত্রার ওপর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ভোগ্যপণ্যের বাজারের আমদানি নির্ভরশীলতাই এর কারণ বলে মন্তব্য করেছে স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’।
তারা এও জানিয়েছে যে, রাষ্ট্রের রপ্তানি আয়ও কমতে পারে। ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয় ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি (জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স) পুনরুদ্ধারে ব্যর্থতার ফলে রপ্তানির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। এতে চলতি হিসাবে ব্যাপক ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’-এর মাসিক প্রকাশনা ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’-এর ফেব্র“য়ারি, ২০১৮ সংখ্যায় এ দাবির সপক্ষে তুলে ধরা হয়েছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ।
সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ  বিশ্লেষণ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়ন করে যে, দ্রব্যমূল্য স্থিরকরণের জন্য আশু কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বর্তমান অর্থবছর শেষে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৮.৩৪ শতাংশে বৃদ্ধি পেতে পারে।
তদুপরি খাদ্যদ্রব্যের অপর্যাপ্ত উৎপাদন, প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ার প্রবণতা ও কর্মসংস্থানের অভাব একদিকে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানের ওপর প্রতিকূল প্রভাব সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির সম্মুখীন করতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি মন্তব্য করে।
অর্থনীতিতে উৎপাদনযোগ্য সম্পদ ও উদ্যোক্তাদের সামর্থ্য বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ স্বল্পমেয়াদে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীলকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্জনমূলক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল গ্রহণের সুপারিশ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য প্রত্যয়পত্র বা লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলা বা নিষ্পত্তির হার ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ দেখায় যে, বর্তমান অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য নতুন এলসি খোলা ও নিষ্পত্তিকরণের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে ৫৬.৩৫ শতাংশ ও ৬০.৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা খাদ্য নিরাপত্তাকে ব্যাহত করছে।
বার্ষিক গড় হারের ভিত্তিতে খাদ্য ও সাধারণ মূল্যস্ফীতি বর্তমান অর্থবছরের ডিসেম্বর মাসে যথাক্রমে ৭.১৭ শতাংশ ও ৫.৭০ শতাংশ হয়। যা গত অর্থবছরের ডিসেম্বর মাসে যথাক্রমে ৪.৫১ শতাংশ ও ৫.৫২ শতাংশ ছিল। অন্যদিকে, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে খাদ্য ও সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ডিসেম্বর ২০১৬ এর ৫.৩৮ শতাংশ ও ৫.০৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৭.১৩ শতাংশ ও ৫.৮৩ শতাংশে বৃদ্ধি পায়। কীভাবে নাগরিকের খাদ্য ব্যয় বেড়েই চলেছে, তার ভয়ানক চিত্রটি এখান থেকে দেখা যাচ্ছে।
বর্তমান অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মাসের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২১৩৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে, প্রকৃত আয় ৪৮.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কম হয়, যা অর্থবছর শেষে রপ্তানি আয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে ব্যাহত করতে পারে। আবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শুরু থেকে ক্রমবর্ধিষ্ণু রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে। যা বহিঃখাতের সামগ্রিক কর্মদক্ষতাকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করতে পারে।
জুন ২০১৩ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি স্থগিতকরণের পর থেকে দেশে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১১.৬৯ শতাংশ অর্জিত হলেও তা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩.৩৯ শতাংশে নেমে আসে। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৯.৭৭ শতাংশ অর্জিত হলেও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা পুনরায় হ্রাস পেয়ে মাত্র ১.৭২ শতাংশ হয়।
জিএসপি সুবিধা পাওয়া না গেলে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি আরও ধীর হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

প্রতিবেদন
  • ফরিদপুরে এসএমই ব্যাংকিং বিষয়ে আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মশালা
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.