যোগ্য নেতৃত্বের হাতে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতি -সায়েম সাবু

Print Friendly and PDF

২০১৬ সালের এপ্রিলে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ। টানা দুই বছর আটকে থাকল জ্ঞান ও প্রকাশক সমিতির নির্বাচন। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে কতিপয় সদস্য মিলে যখন ‘ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতি’ গঠন করেন, তখন এর উদ্দেশ্যই ছিল সংগঠনের মধ্যে গণতন্ত্র বজায় রাখা। অথচ নির্বাচনহীন মাত্র দুই বছরেই যেন স্থবির হয়ে পড়ে সমিতি।
নির্বাচন না দেয়া, স্বেচ্ছাচারিতা, জবাবদিহিতা না থাকা আর নানা অনিয়মের জন্ম দিয়ে আস্থা হারাতে থাকে ওসমান গণি ও কামরুল হাসান কমিটি। অবশেষে সাধারণ সদস্যদের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন সম্পন্নের মধ্য দিয়ে গতি এলো জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির। দায়িত্ব পেলেন মূল ধারার প্রকাশকরা।
ধাক্কাটা লগেছিল শুরুতেই। শিল্প-সাহিত্য বিকাশে ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি। উদ্দেশ্য ছিল বইয়ের বাজারে শুধু ব্যবসাই নয়, সৃজনশীল সৃষ্টকর্মে অবদান রাখা। বিশেষ করে দেশীয় লেখক তৈরির পাশাপাশি প্রগতিধারার পাঠকও তৈরি করা। প্রগতির এ ধারায় বাধা হয়ে আসে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। উচ্চ আদালতে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি গঠনের বিরুদ্ধে রিট করে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি কর্তৃপক্ষ। আদালত স্থগিতাদেশ দেয় জ্ঞান ও প্রকাশনা সমিতির কার্যক্রমে। পাঁচ বছর আটকে যায় আইনের বেড়াজালে। অবশেষে ২০০৮ সালে প্রথম পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয় সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মধ্য দিয়ে। পূর্ণতা আসে সমিতির কার্যক্রমে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া বিধান অনুসারে সংগঠনে গণতান্ত্রিক ধারা অটুট রাখতে বছর বছর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হলো।
কিন্তু বিপত্তি ঘটলো ২০১৫ সালে প্রকাশক ওসমান গণি এবং কামরুল হাসান কমিটি গঠনের পর। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করা হলেও, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দোহাই দিয়ে সে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এরপর ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে নির্বাচনের ফের তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়ে নিজেরাই সিলেকশন কমিটি গঠন করে। এই সময় বিনা কারণে সদস্যদের বাতিল করে দেয়া, নিজেদের পছন্দের সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা, ফ্রাঙ্কফুট বইমেলা ও একুশে বইমেলায় অংশ নেয়ার বেলায় স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অনিয়মের জন্ম দিতে থাকে। তবে এসব অনিয়মকেও ছাপিয়ে যায় সদস্যদের সঙ্গে সমিতির কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহার। এই সময়ে সদস্য ফি তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে ত্রিশ হাজারও করে ওসমান-কামরুল কমিটি।
সমিতির কর্মকর্তাদের সংগঠনবিরোধী এমন কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে থাকেন সাধারণ সদস্যরা। দীর্ঘ দু’বছর দাবি আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অবশেষে গত ৩১ মার্চ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। গঠিত হয় ২০১৮-২০১৯ সালের জন্য নতুন কমিটি।
এতে সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন সময় প্রকাশনের ফরিদ আহমেদ। নির্বাহী পরিচালক হচ্ছেন অনন্যা’র মনিরুল হক।
নতুন কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হয়েছেন মিলনকান্তি নাথ (অনুপম) এবং সহ-সভাপতি হয়েছেন গফুর (রিদম) ও খান মাহবুবুল আলম (পলল)। অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক হয়েছেন খন্দকার মনিরুল ইসলাম (ভাষাচিত্র)। যুগ্ম-নির্বাহী পরিচালক হয়েছেন শাহাদাত হোসেন (অন্বেষা) ও হুমায়ূন কবীর (চারুলিপি)। পরিচালক (অর্থ) নির্বাচিত হয়েছেন তোফাজ্জল হোসেন (বিশ্বসাহিত্য ভবন)।
নির্বাচিত অন্যরা হলেন- পরিচালক (তথ্যপ্রযুক্তি) মশিউর রহমান (সৃজনী), পরিচালক (সংস্থাপন) শিহাবুল ইসলাম (মুক্তচিন্তা), পরিচালক (আইন ও সালিশ) আবুল বাশার ফিরোজ শেখ (ধ্রুবপদ), পরিচালক (কপিরাইট) কমলকান্তি নাথ (জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ), পরিচালক (আমদানি ও রপ্তানি) আমিন খান (অক্ষর), পরিচালক (মেলা) একেএম তারিকুল ইসলাম রনি (তাম্রলিপি), পরিচালক (প্রকাশনা) রহমত উল্লাহ (স্বরবৃত্ত), পরিচালক (সেমিনার) মাহ্রুখ মহিউদ্দিন (ইউপিএল), পরিচালক (সাংগঠনিক) হাসান জায়েদী (পার্ল), পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক) লুৎফর রহমান চৌধুরী (সন্দেশ), পরিচালক (পাঠাগার উন্নয়ন) জহির দীপ্তি (ইতি প্রকাশন) এবং পরিচালক (বাজার উন্নয়ন) সদ্য সাবেক সভাপতি মাজহারুল ইসলাম (অন্যপ্রকাশ)।
এবারের নির্বাচনে সৃজনশীল প্রকাশক ফোরাম ও সৃজনশীল প্রকাশক ঐক্য পরিষদের প্যানেলে সর্বমোট ৪২ জন প্রার্থী নির্বাচন করেন। এর মধ্যে সৃজনশীল প্রকাশক ফোরামের ১৯ জন এবং সৃজনশীল প্রকাশক ঐক্য পরিষদের দু’জন পরিচালক নির্বাচিত হন।


‘প্রকাশনার মান বাড়ানোই চ্যালেঞ্জ’
ফরিদ আহমেদ

প্রকাশক, সময় প্রকাশন। সভাপতি, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি। সমিতির দায়িত্ব পালন করেছেন এর আগেও। প্রকাশন সংস্থার অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। নতুন দায়িত্ব, প্রত্যাশা এবং সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি মুখোমুখি হন সাপ্তাহিক-এর...

সাপ্তাহিক : সভাপতি নির্বাচিত হলেন জ্ঞান ও প্রকাশনা সমিতির। প্রত্যাশা নিয়ে কী বলবেন?
ফরিদ আহমেদ : আমাদের প্রথম প্রত্যাশা হচ্ছে সমিতির কার্যক্রমে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আনা। সমিতির মধ্যে স্বেচ্ছাচারিতা সৃষ্টি হয়েছে।
সাপ্তাহিক : কোন বিষয়কে অধিক গুরুত্ব দিবেন?
ফরিদ আহমেদ : আমরা প্রতিজ্ঞা করেছি সময়মতো নির্বাচন দেয়া এবং এটি করতে পারলেই সমিতির গতি ফিরবে বলে মনে করি।
দ্বিতীয়ত, বিগত কয়েক বছরে সমিতির সদস্য ফি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ কারণে অনেকেই সদস্য হতে পারছেন না। আমরা এটি যুক্তিসংগত পর্যায়ে আনার চেষ্টা করব। তিন হাজার থেকে ত্রিশ হাজার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এটি হতে পারে না।
আমি একটি প্যানেলের লিডার ছিলাম। ২১ পরিচালকের মধ্যে আমাদের প্যানেল জিতেছে ২০টি পদে। নির্বাচনী ফলাফল থেকেই সদস্যদের প্রত্যাশা উপলব্ধি করা যায়।
আমরা নির্বাচনে কোনো বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি দিইনি। আমরা জানি, আসলে আমাদের সমস্যাটা কোথায়। আমাদের সঙ্গে প্রকাশকদের সম্পৃক্ততা অনেক বেশি। কী করা দরকার এবং কী করব তা প্রকাশকদের পরামর্শেই হবে।
সাপ্তাহিক : আপনার চিন্তা কী?
ফরিদ আহমেদ : প্রকাশনার মান বাড়ানোই চ্যালেঞ্জ। এর আগে আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন প্রকাশনার মান বাড়ানোর জন্য আমরা কর্মশালার আয়োজন করেছিলাম। গত পাঁচ বছরে এগুলো আর দেখা যায়নি। প্রকাশনা কোর্স ছিল। এখন আর নেই। উন্নত প্রকাশনা, বানান সংশোধনীর জন্য ভালো তাগিদ অনুভব করা সময়ের দাবি। নতুন প্রজন্মের মানসিক বিকারের জন্য এটি প্রকাশকদের দায় বলে মনে করি। এই দায় থেকেই নানা কর্মশালার আয়োজন করা হবে।
সাপ্তাহিক : অনলাইনের যুগ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী করণীয় বলে মনে করেন?
ফরিদ আহমেদ : মাঝের ক’বছর সমিতির দায়িত্বে ছিলাম না। কিন্তু আমি এই সময় ইলেকট্রনিক্স বুক এবং অনলনাইনে বইয়ের বাজারের জন্য কাজ করেছি। আমি বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইটও বানিয়েছি। আমরা অনলাইন বাজার নিয়ে ভাবছি বলেই এগুলো নিয়ে কাজ করেছি। এই ভাবনা শুধু তো নিজের জন্যই না।
সাপ্তাহিক : প্রকাশনার ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা পরম্পরায়। বইমেলায় বইয়ের কনটেন্ট মনিটরিং করেন পুলিশ। সৃজনশীলতায় এটিকে কতুটুকু চ্যালেঞ্জ মনে করেন?
ফরিদ আহমেদ : প্রকাশনার ওপর নিষেধাজ্ঞা অস্থায়ী। সরকারের প্রকাশনা আইন আছে। আমরা সেই আইন মান্য করেই বই প্রকাশ করি। আমি আইন অমান্য না করলে ঘোষণা দিয়েও সরকার আমাকে আটকাতে পারে না।
সাপ্তাহিক : এই ঘোষণা-ই মুক্তচিন্তার অন্তরায় কীনা?
ফরিদ আহমেদ : চিন্তাশক্তিকে আসলে বেঁধে ফেলা যায় না। সৃষ্টি তার মতোই। বইমেলায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা আমরা দেখেছি।
তবে সামগ্রিক বিবেচনায় গোটা প্রকাশনা সংস্থার জন্য বিশেষ চাপ সৃষ্টি হয়, তা মনে করি না। আমরা তো আসলে এই ধরনের বই প্রকাশ করি না। আইন, ধর্মের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করাই স্বাধীনতা না। আমি আমার ধর্মকে শ্রদ্ধা করি, ঠিক আমার বন্ধুর ধর্মকেও। যারা বিভাজন সৃষ্টির লক্ষ্যেই বই প্রকাশ করে থাকেন, তাদের বিশেষ উদ্দেশ্য থাকে। এটি সবার জন্যই ক্ষতিকর।
সাপ্তাহিক : প্রকাশকদের বড় আয়োজন অমর একুশে বইমেলা। বইমেলার আয়োজনে কতটুকু এগুলো আমাদের শিল্প-সাহিত্য?
ফরিদ আহমেদ : দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। রেকর্ড সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। বই, বিক্রি, বইয়ের মান নিয়ে বাংলা একাডেমির নানা ঘোষণা আসে। কিন্তু এই ঘোষণা সঠিক কীনা, তার কোনো রেকর্ড নেই।
তবে আমি ইতিবাচকভাবেই মনে করি, এগুনোর জন্য অন্তত কিছু একটি হচ্ছে। যদিও নানা প্রশ্ন আছে অগ্রগতি নিয়ে। বইমেলা তো পুরো জাতিকে এক করতে পারছে না। এখন বিদেশিদের মধ্যেও একুশে বইমেলা, বাংলা সাহিত্য আলো ফেলতে পারছে। বড় একটি অঙ্কের বাজার সৃষ্ট হয়েছে। হাজার হাজার বই কারো না কারো ঘরে যাচ্ছে। কেউ না কেউ বইয়ের পাতা উল্টিয়ে চোখ রাখছেন।
সাপ্তাহিক : একুশে বইমেলায় ভারতীয় লেখকদের বই প্রকাশ পায় না। বাংলা সাহিত্য বিকাশে এই সিদ্ধান্ত অন্তরায় কীনা?
ফরিদ আহমেদ : ব্যাখ্যার মধ্যে ত্রুটি আছে বলে মনে করি। আপনি আপনার শিল্প না বাঁচিয়ে তো অন্যকে প্রবেশ করতে দিতে পারেন না। সরকারের নীতি থাকতেই পারে। আমাদের কিন্তু এই নীতি শতভাগ অনুসরণ করতে হয় না। অমর একুশে বইমেলাটি একেবারেই দেশের আয়োজন। মেলার নামেই যার প্রমাণ। আবেগের জায়গা থেকে এই মেলা। এ দেশে প্রকাশিত বই কেবল মেলায় প্রকাশ পাবে। ভারতের লেখকরাও বাংলাদেশের প্রকাশনার মাধ্যমে বই প্রকাশ করতে পারেন। কোনো নিষেধাজ্ঞা তো নেই। বলা হয়েছে, দেশের বাইরে প্রকাশিত বই আমদানি করে মেলায় বিক্রি করা যবে না।
এটি হচ্ছে প্রকাশকদের মেলা। এই মেলা তো বিক্রেতাদের আয়োজনে হচ্ছে না।  


‘অনিয়মের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছি’
মনিরুল হক

প্রকাশক, অন্যান্য প্রকাশন। নির্বাহী পরিচালক, জ্ঞান ও প্রকাশনা সমিতি। সমিতির শুরু থেকেই বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কাজ করছেন, এর উন্নয়নে। নির্বাচনে বিজয়, প্রত্যাশা এবং সমিতির উন্নয়ন নিয়ে মুখোমুখি সাপ্তাহিক-এর...
সাপ্তাহিক : নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেন। অনুভূতি জানতে চাইছি।
মনিরুল হক :  ভোট বলছি না। আমি এটিকে সবার ভালোবাসা বলে মনে করছি। সমিতির সদস্যরা আস্থা রাখছেন, এর চেয়ে পরম পাওয়া আর কী হতে পারে! আমি এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ভাষা পাচ্ছি না। প্রকাশ করাও যায় না। দারুণ অনুভূতি কাজ করছে, এটিই এখন বলতে পারি।
সাপ্তাহিক : নির্বাচনের ফলাফলে কি এমনটিই প্রত্যাশা করছিলেন?
মনিরুল হক : হ্যাঁ, নির্বাচনের ফলাফলে এমনটিই প্রত্যাশা করেছিলাম। অনিয়মের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছি। আমি বিগত দিনেও সমিতির দায়িত্ব পালন করেছি। গত কমিটিতেও ছিলাম।  কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তার প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি হচ্ছিল।
নানা অনিয়মে সমিতির কর্মকা- স্থবির হয়ে গিয়েছে। বিগত কমিটির কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা সবার কাছেই প্রমাণিত। আমরা প্রতিবাদ করেও প্রতিকার করতে পারি নাই। সদস্যরা একটি নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিল। সুযোগ পেয়ে রায় দিয়েছেন।
সাপ্তাহিক : আগের কমিটির অনিয়মের কথা বলছেন। চ্যালেঞ্জ  তো বাড়লো তাহলে?
মনিরুল হক : অবশ্যই। যে কোনো কাজেই চ্যালেঞ্জ থাকে। আর কোনো সংগঠনে দায়িত্ব পালন করতে গেলে তো চ্যালেঞ্জ আরও বাড়ে।
আমরা সমস্যার কথা জানি। এতদিনে কী হয়েছে সমিতিতে, তা খুব কাছে থেকে দেখেছি। এ কারণে আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে বল মনে করি। একটি সংগঠন চালাতে গেলে নানামুখী চাপ বা সমস্যায় পড়তে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে সেই চাপ মোকাবিলায় আমি আন্তরিক থাকবো কীনা? ভালোকে ভালো আর মন্দকে মন্দ বলতে পারি, এটিই তো বড় শক্তি।
সাপ্তাহিক : সমিতির উন্নয়নে বিশেষ কোনো ভাবনা আছে কীনা?
মনিরুল হক : স্থবির হয়ে পড়া সমিতির গতি ফিরিয়ে আনতে এবং এর সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারব বলেই সদস্যরা আস্থা রেখেছে। আমরা ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতে নির্বাচিত হয়েছি। এটি তো একটি বড় অর্জন।  ভোটের এই ফলাফল একটি মাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে। দায় আরও বেড়েছে।
আমরা বিশেষ কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি। নিজের ভাবনা বলতে কিছু নেই। সকলের ভাবনাই আমার ভাবনা। সকলকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করবো। গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতেই আমাদের সকল ভাবনা। আর এর মধ্য দিয়েই সমিতির সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হবে বিশ্বাস রাখি।
সাপ্তাহিক : সমিতির সদস্য ফি বাড়ানো হয়েছে কয়েক গুণ। ফি কমানোর পরিকল্পনা আছে কীনা?
মনিরুল হক : আমরা নির্বাচনের আগে এ নিয়ে আলোচনা করেছি। প্যানেলের সবাই ফি কমানোর ব্যাপারে আন্তরিক। কয়েক বছরে ফি যে হারে বাড়ানো হয়েছে, তা অস্বাভাবিক বলে আমরা মনে করি।
ত্রিশ হাজার টাকা সদস্য ফি হতে পারে না। যৌক্তিক জায়গায় ফি কমিয়ে আনা হবে।
সাপ্তাহিক : প্রকাশনার মান উন্নয়নে কী বলবেন?
মনিরুল হক : প্রকাশনার মান উন্নয়নে শুরুর দিকে কাজ হয়েছিল। গত তিন বছরে এ নিয়ে আর কোনো কাজ হয়নি। নবনির্বাচিত সভাপতি এ ব্যাপারে আন্তরিক। সেমিনার, কর্মশালা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা প্রকাশনার মান উন্নয়ন করতে পারব বলে মনে করি।
প্রকাশনার মান উন্নয়ন প্রকাশকদেরই দায়। নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক এবং মানসম্পন্ন প্রকাশনা তুলে ধরতেই জ্ঞান ও সৃজনশীল সমিতির সৃষ্টি। আমরা এই দায় উপলব্ধি করেই এগিয়ে যাওয়াার চেষ্টা করব।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.