৯ম প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা ২০১৮ পেয়েছেন সাদি মহম্মদ

Print Friendly and PDF

জা পা ন

রাহমান মনি

৯ম প্রবাস প্রজন্ম জাপান সম্মাননা ২০১৮ পেয়েছেন বাংলাদেশের সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, জীবন্ত কিংবদন্তী সাদি মহম্মদ। বাংলাদেশের সংগীত ভুবনে তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে অবদান রাখার জন্য সাদি মহম্মদকে  এই সন্মাননা দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও একই সঙ্গে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অবদান রাখায় এশিয়ান পিপলস সোসাইটির (এপিএফএস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বর্তমান উপদেষ্টা ইয়োশিনারি  কাতসুওকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। জাপান প্রবাসীদের পরম এই বন্ধু দীর্ঘ তিন দশক ধরে প্রবাসীদের কল্যানে কাজ করে আসছেন।
৬ মে ২০১৮ রোববার টোকিওতে এক জাঁকজমক আয়োজনের মাধ্যমে তাদের হাতে এ সন্মাননা তুলে দেয়া হয়। বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিতিতে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত আশরাফ উদ দৌলার সভাপতিত্বে আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বাগতিক ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রবাস প্রজন্ম জাপান এর সদস্য সচিব রাহমান মনি। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডঃ তপন কুমার পাল। এছাড়াও সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এপিএফএস এর বর্তমান সভাপতি ইয়োশিদা মায়োমি, বিশেষ অতিথি, জাপান ফরেন প্রেস সেন্টার এর সভাপতি আকাসাকা কিয়োতাকা, বিশেষ অতিথি, জাপান নিউ কোমেইতো পার্টি প্রাক্তন সভাপতি, বর্তমান নীতিনির্ধারক, জাপান সরকারের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ওতা আকিহিরো।
 এ উপলক্ষে ৬ মে ২০১৮ টোকিওর কিতা সিটি তাকিনোগাওয়া কাইকান-এ প্রবাস প্রজন্ম জাপান আয়োজিত এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাপান সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ এবং জাপান-বাংলা উভয় দেশের সংস্কৃতিমনা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সান্ধ্যকালীন জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনে টোকিও এবং আশপাশের প্রদেশগুলো থেকে অর্ধশতাধিক শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাদের মেধার বিকাশ ঘটায়। নাচ, গান, আবৃতি, অভিনয়, পিয়ানো, ভায়োলিন দিয়ে শিশুকিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছিল।
বিপুলসংখ্যক দর্শক বিরতিহীন ৫ ঘণ্টা শিশু-কিশোরদের সঙ্গে বড়দের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানটি জাপানে ‘দুই প্রজন্মের মিলন মেলা’ হিসেবে খ্যাত। জাপানে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সংস্কৃতিমনা সহৃদয় ব্যক্তিবর্গ এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক। সহযোগিতায় থাকেন জাপানে বাংলাদেশ কমিউনিটি, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন জাপান (বিসিসিআইজে) এবং বাংলাদেশ দূতাবাস।
প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননাপ্রাপ্ত শিল্পীর তত্ত্বাবধানে এই বছর প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী এক ওয়ার্কশপ পরিচালিত হয়। একঝাঁক শিশু-কিশোরসহ বড়রাও ওয়ার্কশপে অংশ নিয়ে থাকেন। ওয়ার্কশপে বড়দের জন্য ৩টি, ছোটদের জন্য ২টি এবং সমবেতভাবে ২টি, মোট ৭টি গান মাত্র ৩ দিন-এ শিখিয়ে মূল আয়োজনে পরিবেশনা রীতিমতো বিস্ময়ের হলেও সাদি মহম্মদের পক্ষেই যে কেবল সম্ভব তা জাপান প্রবাসীরা অবলোকন করেছেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও এ উপলক্ষে আয়োজিত শিশু-কিশোরদের চিত্রকলা প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ করা হয় অনুষ্ঠানে। ২টি বিভাগে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ৪ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত ছিল ‘ক’ বিভাগ / আর এই বিভাগে প্রথম হবার গৌরব অর্জন করে সুবহা রুজেন করিম। আর ৮ বছর থেকে ১২ বছর পর্যন্ত ছিল ‘খ’ বিভাগ। খ বিভাগে প্রথম হবার গৌরব অর্জন করে ফারিয়াল রামিহা।
চিত্র শিল্প প্রদর্শনীটি ছিল এযাবতকালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং দেখার মতো। উপস্থাপনও ছিল খুব সুন্দরভাবে।
বাংলাদেশ থেকেও অনেক খুদে চিত্রশিল্পী ইএমএস এর মাধ্যমেও জাপানে তাদের চিত্রকর্ম পাঠিয়ে অংশ নিয়ে থাকে। দু’টি  ১ম, ২য়, ৩য় ও বিশেষ পুরস্কার দেয়া ছাড়াও অংশগ্রহণকারী সকলকেই প্রবাস প্রজন্ম উপহার দেয়া হয়। উপহারের মধ্যে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, বর্ণমালা বই এবং গল্পের বই। এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া সকল শিশু-কিশোরকে একটি করে মেডেল দেয়া হয়।
সবশেষে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ছিল অনুষ্ঠানের বিশেষ শোভাবর্ধন। এ সময় জাপানি অতিথিরাও দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন / কেউবা ঠোঁট মিলিয়ে অংশ নিয়ে থাকেন।
জাপানে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রেখে শিশু-কিশোরদের জীবনে মননে দেশ, মাটি ও মানুষের নিরবচ্ছিন্ন সুরধারা সঞ্চারণের লক্ষ্যে ২০০৭ সালে জন্ম নেয়া জাপানে বাংলাদেশীদের দ্বারা পরিচালিত একমাত্র শিশু সংগঠন  ‘প্রবাস প্রজন্ম জাপান’ যাত্রা শুরু করে। সেই থেকে নিয়মিত প্রতিবছর প্রবাস প্রজন্ম জাপান বার্ষিক আয়োজনের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের উৎসাহ দেয়ার জন্য বাংলাদেশের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা’ দিয়ে আসছে।
এ পর্যন্ত যারা প্রবাস প্রজন্ম জাপান সম্মাননা পেয়েছেন তারা হলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিক্ষক, গবেষক ও কলামিস্ট ডঃ  মুহাম্মদ জাফর ইকবাল (২০০৭), শিশু সাহিত্যিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, একুশে পদকপ্রাপ্ত ফরিদুর রেজা সাগর ও সিনিয়র সাংবাদিক, সঞ্চালক, কলামিস্ট, টক শো খ্যাত লেখক গোলাম  মোর্তোজা (২০০৮), বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, একুশে পদকপ্রাপ্ত রেজোয়ানা চৌধুরী বন্যা (২০১০), সংগীত ভুবনে গানের পাখী খ্যাত সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী (২০১১), সংগীতজগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র সুবীর নন্দী ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার (২০১২), সংগীতজগতের আরেক দিকপাল, গীতিকার, সুরকার ও বংশী বাদক (প্রয়াত) বারী সিদ্দিকি (২০১৪), সংগীত জগতের উজ্জ্বল তারকা দম্পতি মুক্তিযোদ্ধারা রফিকুল আলম ও আবিদা সুলতানা (২০১৫), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংগীত জগতের জীবন্ত কিংবদন্তী, উজ্জ্বল নক্ষত্র, একুশে পদকপ্রাপ্ত মোঃ খুরশীদ আলম (২০১৬)। এছাড়াও জাপানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, হলিউড অভিনেত্রী, টিভি ব্যক্তিত্ব, এসময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় মডেল, সংগীত শিল্পী রোলা  কে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ রোববার টোকিওর কিতা সিটি তাকিনোগাওয়া বুনকা সেন্টারে আয়োজিত শিশু-কিশোরদের এক প্রস্তুতি সভায় অভিভাবক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আয়োজকদের পক্ষে রাহমান মনি ৯ম প্রবাস প্রজন্ম জাপান সম্মাননা ২০১৮ সংগীত শিল্পী সাদী মহম্মদের নাম প্রস্তাব করলে উপস্থিত সকলে তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য, ‘সাপ্তাহিক’ এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সাপ্তাহিক ‘প্রবাস প্রজন্ম জাপান’র মিডিয়া পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করে আসছে। ২০০৭ সালে প্রবাস প্রজন্ম জাপান প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০০৮ সাল থেকে সাপ্তাহিক তার যাত্রা শুরু করে।
rahmanmoni@gmail.com

সাপ?তাহিক পতিবেদন

প্রবাসে
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.