[কর্পোরেট সাক্ষাৎকার] ‘এসিআইয়ের ২৫ বছরের সফলতা মানুষের ভালোবাসায় অর্জিত’-আনিস উদ দৌলা

Print Friendly and PDF

চেয়ারম্যান, এসিআই লিমিটেড

সম্প্রতি দেশের শীর্ষ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এনসিআই গ্রুপ তাদের সফল পথচলার ২৫ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বরেণ্য শিল্পোদ্যোক্তা আনিস উদ দৌলা এক সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। তার সাথে যোগ দেন ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। দেশের শিল্প, উন্নয়ন এবং উদ্যোগের নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন তারা। তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজু আলীম

এসিআই সম্প্রতি তাদের পথচলার ২৫ বছর অতিক্রম  করেছে। এই দীর্ঘ পথচলা সম্পর্কে জানতে চাই?
আনিস উদ দৌলা : আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমরা প্রাতিষ্ঠানিক একটা অবস্থানে আসতে পেরেছি। এই ২৫ বছরে আমরা থিম নিয়েছি- ইয়ুথ, টেকনোলজি এন্ড অ্যাচিভমেন্টস অব বাংলাদেশ। আমরা আমাদের নিজের অবস্থান থেকে বলতে পারি যে, দেশের ব্যবসা ক্ষেত্রে যে প্রযুক্তি চালু হয়েছে সেগুলো আমরা সক্ষমভাবে ব্যবহার করতে পারছি। এটা আমাদের একটি অর্জন। আর বাংলাদেশ মিডিল ইনকাম কান্ট্রি হতে যাচ্ছে। আমরা ঠিক ২৫ বছরের এই পূর্তিতে খুবই আনন্দিত যে, এই সময়েই আমরা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছি। আমরা খুবই উৎসাহিত এবং আমরা ইয়ুথদের সেলিব্রেট করতে চাই।
আপনাদের ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনের সঙ্গে ইয়ুথ ফোর্থ কতোটা গভিরভাবে জড়িত?
আনিস উদ দৌলা : আজকার সব জায়গায় নলেজ ওয়ার্কার প্রযুক্তির ব্যবহার আছে। আমরা যে রিক্রুটমেন্ট করি তাদের সবই গ্রাজুয়েটস মাস্টার্স ডিগ্রি হোল্ডার। ভেরি ব্রাইট পিপল। আর তাদের যে এনথোজিয়াজম, স্পিরিট তাদের কাজ করার আগ্রহ তা আমারদের ভীষণভাবে উৎসাহিত করে।
২৫ বছরে আপনার গ্রুপ অব কোম্পানির পারফরমেন্স সম্পর্কে বলুন?
আনিস উদ দৌলা : আমাদের ইনিশিয়ালি ছিল ফার্মাসিউটিক্যালস। তারপরে আমরা এগ্রিকালচারে গেলাম- এগ্রিকালচারে গিয়ে আমরা মনে করলাম, আমাদের অবজেক্টিভ হওয়া উচিত- টু ইমপ্রুভ দ্যা কোয়ালিটি লাইফ অব পিপল। পিপল মানে দেশের অধিকাংশই তো ফার্মার। তাই তাদের দিকে আমরা নজর দিলাম। এগ্রিকালচারে সম্পৃক্ত হয়ে এর মেকানাইজেশনে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। এখন দেশের কৃষকের ৩০ পারসেন্ট কিন্তু মেকানিজমের মাধ্যমে টিলিং অব দ্যা সয়েল, হারভেস্টিং এইগুলোতে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি। তারপরে আমরা সীডে। বাংলাদেশে আপনারা এখন দেখেন- খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ কিন্তু ৭১ সালে ছিলাম না।
জমির পরিমাণ অর্ধেক কমে গেছে। লোক সংখ্যাও বাড়ছে?
আনিস উদ দৌলা : হ্যাঁ- তার জন্যে আমাদের প্রতিষ্ঠান অনেক কাজ করেছে। এরপরে রিটেইল ট্রেড এ আমরা গেছি। মডার্ন ট্রেন্ড। এখন মানুষ একটা আউটলেটে গিয়ে নিজে হাত বাছাই করে পণ্যটা কিনতে পারে। এখন আর দোকানদার দিচ্ছে না। সে নিজেই পছন্দ করে কিনে নিচ্ছে। এই সবের মাধ্যমে আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। তারপরে আমরা কনজ্যমুার গুডস কতোগুলো করেছি। প্রথম আয়োডাইজড সল্ট আমরা করেছি। এখন আমরা রাইস ব্র্যান্ড ওয়েল করছি। প্যাকেজিং করছি আধুনিক কোনো ধোঁয়া লাগবে না।
২৫ বছরে তরুণদের নিয়ে আপনার দুঃসাহসী বাংলাদেশ সেøাগানে সেলিব্রেট করেছেন? তরুণদের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের জন্যে পুরস্কারও দিয়েছেন?
আনিস উদ দৌলা : আমাদের তো তরুণরাই বিগেস্ট অ্যাসেট। এর জন্যে জাতিকে কোনো পে করতে হয়নি। কিন্তু এদের যে মেধা এবং  এনথোজিয়াজম আমরা ধরে রাখতে চাই এবং এটাকেই আমরা আমাদের উন্নতির সোপান বলে মনে করছি।
এসিআই এর এতোগুলো ব্র্র্যান্ড মেডিসিন, মশার কয়েল থেকে শুরু করে বাইক ইয়ামাহা, রিটেনল শপ স্বপ্ন, এগ্রিকালচার প্রডাক্ট আরও কতো কি? এই যে সব ব্যবসায় সাকসেস- এই সাকসেসের রহস্য কী?  
আনিস উদ দৌলা : এই সব কিছু কিন্তু একটি লিংক এর উপরে। এটি আইসোলেটেড কিছু না। ধরেন- ইয়ামাহায় কী করে আসলো? মোটরসাইকেল। আমরা এগ্রিকালচার মেশিনারির জন্যে যখন চেষ্টা করলাম তখন দেখলাম ট্রাক্টর যদি আমরা বিক্রি করি তাহলে এর সার্ভিসই এর জন্যে খুবই প্রম্পট সার্ভিস দরকার। দেশে ৬০০ টেকনিশিয়ান আমরা নিয়োগ করলাম- মোটরসাইকেল আছে তাদের। টেলিফোন আসলে উইথ ইন সিক্স আওয়ারস দে উইল গো এন্ড রিপেয়ার দ্যা মেশিন। এটি করে আমরা একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করলাম। এটি সুন্দর কাজ করছে। এখন ইয়ামাহা যখন আসলো তখন ইয়ামাহার সার্ভিসও এই ৬০০ টিমের মাধ্যমে অটোমেটিক্যালি হয়ে যাবে। যেমন রিটেনল চেইন শপ স্বপ্ন। এগ্রিকালচারে আমরা জানি ফারমারদের আমরা চিনি । তাদের থেকে উৎপাদনের পণ্য নিয়ে আমরা আউটলেটে বিক্রি করছি এবং কৃষকদের আমরা ফেয়ার প্রাইস এনশিওর করছি। মিডল ম্যান কৃষকদের যে লাভের অংশ খেয়ে নিতো সেটি আমরা কৃষকদের সাথে শেয়ার করবো। এভাবেই এগ্রির সাথে আমাদের সুন্দর সম্পর্ক হয়ে গেছে।  এইভাবেই ব্যবসা এগিয়েছে। ইটস লাইক এ ট্রি। ব্যাঞ্চেজ আর কামিং আপ। আমরা ম্যানেজমেন্ট যেভাবে করি সেখানে সবাইকে এমপাওয়ার করি অথোরিটি দেই রেসপন্সিবিলিটি দেই। দে আর রিকগনাইজ দেয়ার পারফরমেন্স। সুতরাং প্রত্যেকেই মনোযোগ দিয়ে কাজ করে। আমরা যেটাই করি না কেন সেখানে লোক আছে তাদের দায়িত্ব আছে। আমাদের অসুবিধা হয় না।
আপনাদের এতো বড় গ্রুপ অব কোম্পানি এবং তার আলাদা উইংয়ের আলাদা আলাদা ব্যবস্থাপনা পরিচালক রয়েছেন- এর সমন্বয় কীভাবে হয়?
আনিস উদ দৌলা : প্রপারলি এমপাওয়ার করতে পারলে নট হোল্ডিং ব্যাক। ফুল অথরিটি এন্ড ক্লিয়ার রেসপন্সিবিলিটি আর মনিটর এটি যদি করা যায়- মানুষ তো চায় সাকসেস এবং একটা রেজাল্ট দেখানোর।
এমডিদের ভেতরে প্রতিযোগিতা আছে?

আনিস উদ দৌলা : হ্যাঁ। নিশ্চয়ই। এই প্রতিযোগিতা হয় খুবই পজিটিভ ওয়েতে এক জনের সাথে আরেকজন কো-অপারেটিভ করেই প্রতিযোগিতা করে। আমরা সবাই মিলেই সবার পারফরমেন্স সেলিব্রেট করি। যে কোনো জায়গায় একটি রেকর্ড পারফরমেন্স হলে আমরা সবাই মিলে সেখানে গিয়ে সেলিব্রেট করি।
এতো বড় প্রতিষ্ঠান কিন্তু প্রচার তো সেভাবে নাই?
আনিস উদ দৌলা : প্রচার তো কাজের মধ্যে। আপনি যদি স্বপ্নে গিয়ে দেখেন তাহলে দেখবেন আমরা ক্রমশই তাড়াতাড়ি কি উন্নতি করছি। সার্ভিসটা অনেক ভালো হচ্ছে। এর কারণ আমরা সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নেই। সবার পরামর্শকে অ্যাপ্রিশিয়েট করি এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করি।
দুঃসাহসী বাংলাদেশ সেøাগানে এবার অনেকেই পুরস্কৃত করলেন আগামীর পরিকল্পনা কী?
আনিস উদ দৌলা : সবই স্টেপ বাই স্টেপ যেতে হবে। আমরা আপনার যা প্রয়োজন সেটাকে আমরা যদি ফুল স্যাটেসফেকশনে মেটাতে পারি একটা ফেয়ার কস্ট টু ইউ। তাহলে আপনি আমাকে পেট্টোনাইজ করবেন এবং আমি ক্রমশই বড় হবো।
আপনাদের আইসিটি  সাইডটা নিয়ে কিছু বলুন?    
আনিস উদ দৌলা : আমাদের ফুল ফ্লেজেড আইসিটি সাইড আছে এবং সেখানে ক্যাপাবল মানুষজন কাজ করছেন। আমাদের ফুল অপারেশন বর্তমানে আইসিটি বেজড এমনকি আমাদের  রিপ্রেজেনটিটিভ যারা ফার্মারের কাছে যায় সেখানেও তারা ওই আইসিটি সূত্র ধরেই কতোদিন পর তার সাথে দেখা করবে সে সব রেকর্ড রাখে। এভাবে সর্বত্রই আমরা আইসিটি এর ব্যবহার করছি।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

সাক্ষাৎকার
  • ধানম-িতে উদ্বোধন হলো ‘তাগা ম্যান’
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.