বাংলাদেশের আফগানিস্তান পরীক্ষা

Print Friendly and PDF

মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

কয়েকমাস বিরতির পর আবারো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। জুনের প্রথম সপ্তাহে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিনটি টোয়েন্টি-২০ ম্যাচের সিরিজ খেলবে সাকিব আল হাসানের দল। ম্যাচগুলো আফগানিস্তানে নয়, অনুষ্ঠিত হবে ভারতের দেরাদুনে। রাজিব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামটি এই সিরিজ দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে অভিষেক হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ টোয়েন্টি-২০ র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দশে। যেখানে আফগানিস্তানের অবস্থান আটে। সে হিসেবে বাংলাদেশকে ফেভারিট ভাবার সুযোগ নেই। অনেকটা পিছিয়ে থেকেই সদ্য টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া দেশটির বিপক্ষে মাঠে নামবে লাল সবুজ প্রতিনিধিরা। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) এখন তিনজন আফগান খেলছেন। তারা হলেন রশিদ খান, মুজিব জাদরান ও মোহাম্মদ নবী। সেখানে বাংলাদেশ থেকে সাকিব ও মোস্তাফিজুর রহমান। পাশাপাশি স্পিন বোলিংয়ের হিসেবে এগিয়ে থাকবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। সে কথাই বলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। সে কারণেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সতর্ক টাইগাররা। টোয়েন্টি-২০ ক্রিকেটে তাদের ভয়ঙ্কর দল মানছেন মুশি। বিশেষ করে দুই আফগান লেগস্পিনার রশিদ খান ও মুজিব জাদরানের দিকে নজর রেখেছেন খেলোয়াড়রা। তবে সর্বশেষ নিদাহাস ট্রফিতে নৈপুণ্য নিয়ে টাইগাররা নিজেরাও আত্মবিশ্বাসী। আর আফগান স্পিন আক্রমণ মোকাবিলা করতে বিশেষ প্রস্তুতিও নিচ্ছেন ক্রিকেটাররা। পবিত্র ওমরাহ হজ পালন শেষে দেশে ফিরে অনুশীলন শেষে মুশফিক বলেন, ‘সন্দেহ নেই টোয়েন্টি-২০’তে আফগানিস্তান ভয়ঙ্কর দল। ওদের অনেক বিশ্বমানের বোলার আছে। আইপিএলেও তারা অসাধারণ বোলিং করছে। বিশেষ করে না দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কৃপণতার পরিচয়ও দিচ্ছে। তাছাড়া ওদের বিপক্ষে আমরা আমাদের কন্ডিশনেও ম্যাচ হেরেছি। সবদিক থেকেই আমরা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। তবে নিদাহাস ট্রফিতে আমরা যেমন খেলেছি, তাতে আত্মবিশ্বাসী হয়েই মাঠে নামতে পারবো।’ দেরাদুনে সিরিজের প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়াবে ৩ জুন। একই মাঠে পরের দুই ম্যাচে আগামী ৫ ও ৭ জুন দু’দল মুখোমুখি হবে। টোয়েন্টি-২০’তে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। এতে সুখম্মৃতি টাইগারদের। ঢাকায় ২০১৪ সালে আফগানদের ৭১ রানে গুঁড়িয়ে ৯ উইকেটে জয় দেখে বাংলাদেশ।  ওয়ানডেতে পাঁচ সাক্ষাতে অবশ্য দুইবার হার দেখেছে টাইগাররা। তবে গত দুই বছরে কোনো ফরম্যাটের ক্রিকেটেই সাক্ষাৎ হয়নি দু’দলের। যদিও ঘরোয়া টোয়েন্টি-২০ আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) বল হাতে রশিদ খানের নেয়া ১৯ উইকেটের ১২টিই বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের। এ তালিকায় রয়েছে সাকিব-মুশফিকের নামও। সর্বশেষ বিপিএলে খেলেছেন মুজিব জাদরানও। আর বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে মোহাম্মদ নবী ও মোহাম্মদ শেহজাদ নিয়মিত মুখই। বলা যায় পরিচিত খেলোয়াড়দেরই মোকাবিলা করতে হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এরই মধ্যে প্রতিনিধি পাঠিয়ে ভারতের দেরাদুনে মাঠ, হোটেল এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যবেক্ষণ করেছে। সেখানকার ভেন্যু ও হোটেল তাদের পছন্দ হয়েছে। যদিও হোটেল থেকে মাঠে যেতে সময় লাগে প্রায় ৫০ মিনিট, এটাকে দেখা হচ্ছে অসঙ্গতি হিসেবে। আগে কখনও ওই মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ না হওয়ায় উইকেটের চরিত্র নিয়েও ধোয়াশা থেকেই যাচ্ছে। পাশাপাশি দেরাদুনে এখন প্রচন্ড গরম চলছে। এই পটভূমিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দেরাদুনে তিন ম্যাচের টোয়েন্টি-২০ সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। যদিও শুরুতে গরমের বিষয়টি বিবেচনা করে ৫টায় ম্যাচ শুরুর সময় ঠিক করার কথা ভাবছে বিসিবি। সিরিজ শুরু হওয়ার আগে সফরে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবেন সাকিব আল হাসানের দল। বিসিবি’র প্রতিনিধি দলকে দেরাদুনের  কিউরেটর জানিয়েছেন, উইকেট ভালো হবে। তাপমাত্রা বেশি থাকায় আফগানিস্তান কিছুটা সুবিধা পাবে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হয় ১৩ মে। ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়নের অধীনে চলবে অনুশীলন ক্যাম্প। এরপর যোগ দেবে ভারপ্রাপ্ত কোচ কোটনি ওয়ালশ।

অনুশীলনে জোবায়ের হোসেন লিখন
জাতীয় দলে অনেকদিন ধরেই কোনো স্পেশালিস্ট লেগ স্পিনার নেই। সে হিসেবে বড় ধরনের হুমকি হতে পারে রশিদ খান, মজিব জাদরানের মতো বোলাররা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরীক্ষিত এই দুজন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মাথাব্যথার কারণ যে হবে এটা আগে থেকেই অনুমান করা যায়। সে কারণেই জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে লেগ স্পিনার জোবায়ের হোসেন লিখনকে। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য ৩১ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। দল ঘোষণার আগে শোনা যাচ্ছিল এই ক্যাম্পে ডাক পেতে পারেন লেগস্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন। কিন্তু না। দলে তিনি জায়গা পাননি। দলে জায়গা না পেলেও অনুশীলন ক্যাম্পে থাকবেন তিনি। স্কোয়াডে না, অনুশীলন ক্যাম্পের জন্য তাকে ডেকেছে বিসিবি। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেছেন, ‘জুবায়ের হোসেন লিখন শুধু অনুশীলন করবে। নেটে লিগস্পিনারের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু আমাদের তো লেগস্পিনার নেই। তাই আমরা তাকে ডেকেছি।’ ২০১৪ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় জুবায়ের হোসেন লিখনের। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও একটি টোয়েন্টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন। তিনি টেস্টে ১৬টি, ওয়ানডেতে চারটি ও টোয়েন্টি-২০’তে ২টি উইকেট শিকার করেছেন।

আক্ষেপের নাম তুষার ইমরান
জাতীয় দলে ফেরার আশা পূরণ হলো না তুষার ইমরানের। ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের ফুলঝুরি ফোটাতে ফোটাতেও নির্বাচকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেননি। এখন যশোরের এই ব্যাটসম্যানকে ‘এ’ দলে রাখা হবে বলে শোনা যাচ্ছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে একের পর এক ঝলমলে পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে যাচ্ছেন তুষার ইমরান। গেল তিন বছরে তিন হাজারেরও বেশি রান এসেছে এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে। তাই তিনি ভেবেছিলেন ‘এ’ দলের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জাতীয় দলের জন্য নির্বাচকদের ভাবনায় নিজেকে রাখবেন। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো হলো। জাতীয় দলের প্রাথমিক দলের জন্য ঘোষিত ৩১ সদস্যের দল কিংবা হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) ২৪ সদস্যের দল; কোথাও নেই প্রথম শ্রেণিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ এই রান সংগ্রাহকের নাম। আগামী জুনের শেষদিকে ওয়েস্ট উইন্ডিজে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ দল।

ইনজুরিমুক্ত স্কোয়াড চায় নির্বাচকরা
সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সফরে বেশ কয়েকজন ইনজুরি আক্রান্ত হন। তাদের নিয়েই দল সাজাতে চাইছেন নির্বাচকরা। সে কারণে প্রত্যাশা যারা ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের নিয়ে দ্রুতই সুস্থভাবে ফিরে পাওয়া। হাঁটুর ইনজুরি কাটিয়ে প্রথম ব্যাট হাতে অনুশীলন শুরু করেছেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। একাডেমির মাঠে ব্যাট হাতে অনুশীলন করেন তিনি। তিনি ব্যাটিং শুরু করায় বেশ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার চাচা ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান, ‘কিছুটা বিলম্বে হলেও তামিম ব্যাটিং শুরু করেছে। ভালো লাগছে যে ইনজুরি কাটিয়ে অনেক দিন পর ব্যাটিং করলো। আশা করি আফগানিস্তান সিরিজে ওকে ফিট পাবো। এর বাইরে যারা ইনজুরিতে পড়েছেন সবাইকে ফিট হিসেবে পাওয়া আশা করছি’। অন্যদিকে ইনজুরিতে ছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহীম, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদও। তাদেরও আফগান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে ফিট পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আকরাম খান।

এবারো কোচ ওয়ালশ

জাতীয় দলে বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কোটনি ওয়ালশ সর্বশেষ নিদাহাস ট্রফিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারও আগে থেকেই প্রধান কোচ নেই জাতীয় দলে। আবারও ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন এই ক্যারিবীয় লিজেন্ড। শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন পেস বোলিং কোচ ওয়ালশ। তাই নয়া কোচ না পেলে আফগান সফরেও ওয়ালশই ভরসা হবেন সেটি অনেকটাই নিশ্চিত। অন্যদিকে বছরের শুরুতে প্রধান কোচ চ-িকা হাথুরুসিংহে বিদায় নেন। এরপর থেকেই বিসিবি আদাজল খেয়ে কোচ খুঁজতে মাঠে নামে। কিন্তু ৫ মাস অতিক্রম হলেও নতুন কোচের সন্ধান পায়নি বিসিবি। শোনা যাচ্ছে বিদেশি কোচ খুঁজতে  খুঁজতে হাল ছাড়ার অবস্থা তাদের। কোচ নিয়োগের বিষয়ে আকরাম খান জানালেন, তাদের খোঁজ আগের চেয়েও বেশি জোরালো গতিতে চলছে। কারণ ২০১৯ বিশ্বকাপের খুব দেরি নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা মোটেও হাল ছাড়িনি। এখন আরো জোরালোভাবেই খোঁজা হচ্ছে। আপনারা জানেন যে হাথুরু চলে যাওয়ার পর থেকে আমরা অনেক কোচের সঙ্গে কথা বলেছি। এখনো কথা হচ্ছে। তবে এখনো আমরা আমাদের মনের মতো বা যে মানের কোচ চাচ্ছি তা পাচ্ছি না। তবে আমরা বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই কোচ খোঁজা আরো জোরালো করেছি।’

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান সূচি
    তারিখ    ম্যাচ

    ৩ জুন    ১ম টি-টোয়েন্টি
    ৫ জুন     ২য় টি-টোয়েন্টি
    ৭ জুন    ৩য় টি-টোয়েন্টি
সকল খেলা দেরাদুন রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে, খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়।

৩১ সদস্যের প্রাথমিক দল

তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন কুমার দাস, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাঈম হাসান, আবু হায়দার রনি, কামরুল ইসলাম রাব্বি, রুবেল হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, এনামুল হক বিজয়, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি, নাজমুল হোসেন শান্ত—, নাজমুল ইসলাম অপু, মোহাম্মদ মিথুন, আরিফুল হক, শফিউল ইসলাম, সাদমান ইসলাম অনিক, ইয়াসিন আরাফাত মিশু, আবুল হাসান রাজু ও আব্দুর রাজ্জাক রাজ।

২৪ সদস্যের এইচপি দল
মোহাম্মদ সাইফ হাসান, মোহাম্মদ সাদমান ইসলাম, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, মিজানুর রহমান, ফারদিন হোসেন অনি, রবিউল ইসলাম রবি, মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, মোহাম্মদ জাকির হাসান, আফিফ হোসেন ধ্রুব, ইয়াসির আলি চৌধুরী, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া অঙ্কন, মোহাম্মদ তৌহিদ হৃদয়, মোহাম্মদ মেহেদি হাসান, আসিফ হাসান, তানভির ইসলাম, নাঈম হাসান, মোহাম্মদ রিসাদ আহমেদ, কাজী অনিক ইসলাম, রকিবুল হক, হাসান মাহমুদ, ইয়াসিন আরাফাত, সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও মোহাম্মদ এবাদত হোসেন চৌধুরী।
mhrashel00@gmail.com

সাপ?তাহিক পতিবেদন

খেলা
  • ধানম-িতে উদ্বোধন হলো ‘তাগা ম্যান’
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.