[স ম্পা দ কী য়] মহাকাশে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা

Print Friendly and PDF

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। বাংলাদেশ শুরু করল মাহাকাশের অচেনা পথে নতুন যাত্রা। পাঁচ বছর আগেও যা কেউ ভাবেনি, সেটাই হয়ে উঠল বাস্তব। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে সফল উড্ডয়নের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে শুরু করেছে বাংলাদেশের গৌরগাঁথা। বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে এমন কীর্তি গড়ল দক্ষিণ এশিয়ার ছোট্ট এই দেশটি। অভাব, অভিযোগ, দুর্যোগ যার নিত্যসঙ্গী, সেই বাংলাদেশ এখন শুধু দেশের মাটিতেই নয়, মহাকাশেও তুলে ধরেছে তার উন্নতির চিত্র।
সাম্প্রতিক বাংলাদেশ যেন অপ্রতিরোধ্য। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে অর্থনৈতিক সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ। ক্রমবর্ধমান ও ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব তো সবার কাছে রয়েছেই। এছাড়া মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মতো বিশাল বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের পথেও এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। মহাকাশে স্যাটেলাইট প্রেরণ নিঃসন্দেহে সেই সাফল্যের মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত করল।
লালসবুজের পতাকা খচিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে পা রাখল ১৩ মে ২০১৮। এই স্যাটেলাইট থেকে তিন ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। ১) সম্প্রচার, ২) টেলিযোগাযোগ ও ৩) ডাটা কমিউনিকেশনস। দর্শক ও শ্রোতাদের কাছে সরাসরি পৌঁছাতে টেলিভিশন এবং রেডিও স্টেশনগুলো ব্রডকাস্টিং সেবা ব্যবহার করে থাকে। ইন্টারনেট সেবা সরবরাহকারীরা (আইএসপি-ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) ইন্টারনেট সেবা দিতে স্যাটেলাইট ব্যবহার করেন। সেল ফোন এবং ল্যান্ড ফোন অপারেটররা তাদের সাবস্ক্রাইবারদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির জন্য স্যাটেলাইটের টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশি টিভি চ্যানেলগুলো তাদের সম্প্রচারের জন্য বিদেশি মালিকানাধীন স্যাটেলাইটের ওপরে নির্ভরশীল। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এই বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে আনবে এবং দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়ে সহায়তা করবে।
এই স্যাটেলাইট তৈরি এবং উৎক্ষেপণের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে বাংলাদেশ সরকার। জানা গেছে, বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ বাংলাদেশের প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেল মাসে ২৪ হাজার ডলার খরচ করে। সেই হিসেবে বাংলাদেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলের বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে মোট খরচের পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ ডলার। সরকারের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, এই স্যাটেলাইটের জন্য যে টাকা খরচ হয়েছে, আগামী সাত বছরের মধ্যে সে খরচ উঠে আসবে। তবে সেক্ষেত্রে প্রশ্নও আছে। বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো বর্তমানে অ্যাপস্টার নামে যে স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে সেটি বাংলাদেশের উপরে ৯০ ডিগ্রিতে অবস্থান করছে। অ্যাপস্টার সেভেনের মাধ্যমে একদিকে দুবাই এবং অন্যদিকে মালয়েশিয়া পর্যন্ত সম্প্রচারের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অবস্থান হবে ইন্দোনেশিয়ার উপর ১১৯ ডিগ্রিতে এবং বাংলাদেশ থেকে ৪৫ ডিগ্রি কোণে এই স্যাটেলাইট থাকবে। ফলে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
দেশের জনগণের বিভিন্ন অগ্রাধিকারের খাত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ এমন প্রশ্নও তুলেছেন যে, অগ্রাধিকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিলে দেশ আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে পারত। সরকার নিশ্চয়ই এই প্রশ্নগুলোকে আমলে নেবে এবং দেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এই প্রত্যাশার পাশাপাশি বাংলাদেশের নতুন যাত্রার প্রতি শুভকামনা।
১৭ মে ২০১৮  বর্ষ ১০  সংখ্যা ৪৯

সাপ?তাহিক পতিবেদন

নিয়মিত বিভাগ
  • ধানম-িতে উদ্বোধন হলো ‘তাগা ম্যান’
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.