[বিশ্বকাপ] আলো ছড়াবেন যেসব তারকারা -মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল

Print Friendly and PDF

বিশ^কাপ মানে পুরনোদের সঙ্গে নতুনের সংমিশ্রণে দারুণ এক আসর। নতুন অনেক তারকার জন্ম হয় এখানে।
প্রথমবারের মতো খেলছে ৩২টি দল। প্রত্যেক দলে ২৩ জন ফুটবলার ধরে ৩২ দলে খেলবেন ৭৩৬ ফুটবলার। কিন্তু প্রায় ৭৫০ খেলোয়াড়ের মধ্যে ফুটবল দুনিয়া চোখ রাখবে ব্রাজিলের নেইমার জুনিয়র, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উপর।
এর বাইরেও অনেক তারকা খেলোয়াড় আছেন যারা চলে আসতে পারেন বিশ্বকাপে পাদ প্রদীপের আলোতে। এরকম কিছু খেলোয়াড়কে নিয়েই এবারের প্রতিবেদন।

লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা
২০০৬ সালে বিশ^কাপের মঞ্চে প্রথমবার নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। এরপর আরও দুটি বিশ^কাপ খেলা হয়ে গেছে এই সুপারস্টারের। হিসাব মতে এবারের আসরটি তার চতুর্থ বিশ^কাপ। অনেকেই তাই এটিকে তার শেষ বিশ^কাপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। শিরোপা জেতার জন্য এটাই তার শেষ সুযোগ হিসেবে মানছেন মেসি নিজেও। তবে নিজ দেশ আর্জেন্টিনাকে ফেভারিট না মেনে ম্যাচ বাই ম্যাচ জয়ের ওপরই জোর দিয়েছেন। আর্জেন্টিনা যখন খাদের কিনারে তখন ইকুয়েডরের বিপক্ষে দারুণ এক হ্যাটট্রিক করে দলকে রাশিয়ার টিকি পাওয়া নিশ্চিত করেছিলেন।
২০১৪ বিশ^কাপে ব্যর্থতার পর পরই হাতছাড়া হয়েছে কোপা আমেরিকা কাপের শিরোপাও। ভাঙা মন নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর দর্শকদের অনুরোধে আবারো ফিরে এসেছিলেন। তিনটি বিশ^কাপে ১৫টি ম্যাচ খেলে ১১টিতে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। বাকি চারটি ম্যাচের দুটি ড্র আর দুটি পরাজয়। মূল পর্বে ৫ গোল করলে বাছাইপর্বে ৪৫ ম্যাচে ২১ গোল মেসির। বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত এক মৌসুম শেষ করেছেন লিওনেল মেসি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা না পারলেও মেসির নিপুণ ঝলকে লা লিগা ও কোপা ডেল রে-এর শিরোপা জিতেছে বার্সেলোনা। বার্সার জার্সি পরে গোল করেছেন ৪৬টি। রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে।
তারকা খ্যাতিতে মেসির ধারেকাছে নেই। বিশ^কাপে সাফল্যের বিষয়ে মেসি বলেন, ’আমি একটা স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়েছি। সেই স্বপ্নটা পূর্ণতা পাবে বিশ^কাপের শিরোপা জিততে পারলে। এবার প্রত্যাশাটা একটু বেশি, কারণ ১৯৮৬ সালের পর আমরা বিশ^কাপের শিরোপা জিততে পারিনি। এবার সেই সুযোগটা আবার এসেছে। আমরা সেটিকে কাজে লাগাতে চাই’।

নেইমার জুনিয়র, ব্রাজিল
ব্রাজিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। বিশ্বকাপ জিততে পারেননি নেইমার। কিন্তু ২০১৪ সালের সামার অলিম্পিকে ব্রাজিলকে সোনা জিতিয়েছেন।
 এবারের বিশ্বকাপের ব্রাজিল অন্যতম ফেভারিট। তিতের পরিকল্পনায় ব্রাজিলের মূল ভরসা নেইমার। সেলেকাওদের জার্সি গায়ে ৮৪ ম্যাচে ৫৪ গোল করা নেইমার তিন মাস ছিলেন মাঠের বাইরে। শঙ্কার বেড়াজালে আটকা পড়েছিল নেইমারের বিশ্বকাপ। তারপরও সব শঙ্কা দূর করে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নেমে গোল করে আশ্বস্ত করেছেন কোচ তিতে, দল ব্রাজিল এবং সমর্থকদের। ক্রোয়েটদের বিপক্ষে ওই গোলটি শুধুমাত্র একটি গোল নয়, এটা গোটা ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখার রসদ। গোল এবং মাঠে নামা আরও একবার প্রমাণ করল ব্রাজিলের নির্ভরতার নাম নেইমার। ব্রাজিল নামছে ছয় নম্বর শিরোপা জিততে। নিজের প্রত্যাশা নিয়ে নেইমার বলেন, ‘এবার দুর্দান্ত একটা দল আমাদের। আমি বিশ^াস করি যে আমরা পারি এবং এবার শিরোপা নিয়েই ঘরে ফিরতে পারব। বিশ^কাপে ছোট দল বলতে কিছু নেই। এখানে আমি শিরোপা জিততেই এসেছি’।


ক্রিশ্চিয়ানা রোনালদো, পর্তুগাল
আর্জেন্টিনাকে যদি লিওনেল মেসি নির্ভর দল বলা হয় তাহলে পর্তুগালও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নির্ভর দল। সিআর সেভেনের দলটা মেসির দলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। সর্বশেষ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে পাওয়া সাফল্যের পাশাপাশি বিশ^কাপ বাছাইপর্বের ফলাফল দেখলে সহজেই অনুমান করা যায়। ক্লাব ফুটবলেও রয়েছেন সাফল্যের রাস্তায়। জিতেছেন সর্বশেষ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগও।

২০১৬ সালে ইউরো জেতা দলটি এবার ৩৩ বছর বয়সী রোনালদোকে কেন্দ্র করেই বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছে। ২০১৪ বিশ^কাপটা পর্তুগাল নিশ্চিত করেছিল প্লে অফের মাধ্যমে। বিশ^কাপে নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে রোনালদো বলেন, ‘বিশ^কাপে বড় লক্ষ্য নিয়েই যাচ্ছি আমি। শিরোপা জেতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করে যাব আমি। স্পেন, মরক্কো আর ইরানকে নিয়ে কঠিন এক গ্রুপে পড়েছি আমরা। শুরুতে লক্ষ্য থাকবে নক আউট পর্বে জায়গা করে নেয়া। এরপরের রাউন্ডগুলোতে আসলে সবকিছুই সম্ভব বলে মনে করছি আমি’।
 
থমাস মুলার, জার্মানি

জার্মানির ফরোয়ার্ড থমাস মুলার এখন দলের অন্যতম প্রাণভোমরা। জাতীয় দলের জার্সিতে ৯০ ম্যাচে অংশ নিয়ে গোল করেছেন ৩৮টি। এরমধ্যে বিশ্বকাপে ১৩ ম্যাচ থেকে তার ভা-ারে জমা হয়েছে ১০টি গোল।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে খেলা ১৩ ম্যাচে মুলারের গোল সংখ্যা ১০। গোলের এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে বিশ্ব মঞ্চে তিনি জার্মানির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পেশাদার স্ট্রাইকার না হয়েও গোলমুখে তার মতো ভয়ঙ্কর খেলোয়াড় খুব কমই আছে ফুটবল বিশ্বে।
২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানিকে শিরোপা জেতাতে না পারলেও গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। ব্রাজিলে জার্মানিকে চ্যাম্পিয়ন করে জিতেছেন সিলভার বুট।

টনি ক্রুস, জার্মানি
ফিলিপ লাম ও শোয়েনস্টেইগারের অবসরের পর জার্মান দলের মাঝমাঠের নেতৃত্বে আছেন টনি ক্রুস। রিয়াল মাদ্র্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপার হ্যাটট্রিকে মাঝমাঠে আলো ছড়িয়েছেন এই জার্মান তারকা। দেশের হয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপ জিতেছেন। জোয়াকিম লোর দল বিশ্বকাপ ধরে রাখতে চাইলে মাঝমাঠে ভরসা রাখতে হবে টনি ক্রুসের ওপরও।
যদিও ক্রুস মনে করেন, পরপর দুবার বিশ্বকাপ জেতা অত্যন্ত কঠিন কাজ।
 
আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, স্পেন
বলার অপেক্ষা রাখে না এই বিশ্বকাপ হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। ফাইনালে তার গোলই ২০১০ সালে স্পেনকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিল। রাশিয়ায়ও একই উচ্চাকাক্সক্ষা নিয়ে যাবে স্পেন, দিচ্ছেন সে নিশ্চয়তাও। ২০০৬ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর পর্যন্ত ১২৫ ম্যাচে ১৩টি গোল এসেছে তার পা থেকে। ২০১০ বিশ^কাপে দলের পাশাপাশি ২০০৮ ও ২০১২ ইউরো জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। বার্সেলোনায় ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে ৪৪২ মাঠে নামার সুযোগ হয়েছিল তার। সেখানে ৩৫টি গোলও করেছে ইনিয়েস্তা। এবারো শিরোপা জেতার লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়ায় যাবেন তিনি। ইনিয়েস্তা জানিয়েছেন, ‘২০১০ সালের সেই সাফল্যটা আমার জন্য অনুপ্র্র্র্র্রেরণা হয়ে কাজ করছে। সেই বিশ^কাপের ফাইনালে আমার গোলেই দল জিতেছিল। এবারও তেমন অবদান রেখে বিশ^কাপের আরও একটি শিরোপা জিতে বিদায় বলতে চাই’।

গ্যাব্রিয়েল জেসুস, ব্রাজিল
নেইমার নায়ক হলে জেসুসকে বলতে হবে পাশর্^নায়ক। ২১ বছর বয়সী জেসুসের গোল করার তাড়নায় রীতিমতো মুগ্ধ ব্রাজিল কোচ তিতে। সেই তাড়নার সঙ্গে দক্ষ ড্রিবলিং, দারুণ গতি, ভালো টেকনিক মিলে জেসুসকে বানিয়েছে এবারের ব্রাজিল স্কোয়াডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে সেলেসাওদের হয়ে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১৫ ম্যাচে নয় গোল করেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির হয়েও নজর কাড়ছেন নিয়মিতই। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে বড় দায়িত্ব নিতেও পিছপা হবেন না। তবে বিশ্বকাপে তিতে হয়তো জেসুসকে একটা দায়িত্বই দেবেন- বেশি বেশি গোল করা। তাতেই পাচঁবারের শিরোপাজয়ীদের আরও একটি কাপ জয় সহজ হবে।
 
হ্যারি কেন, ইংল্যান্ড
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের টানা তিন মৌসুমে ২৫ বা তার বেশি গোল, টানা দুই মৌসুমে গোল্ডেন বুট জয় বা প্রিমিয়ার লিগে ১০০ গোলের মাইলফলকে দ্বিতীয় দ্রুততম ফুটবলার- ইংল্যান্ডের ‘নাম্বার নাইন’ হ্যারি কেন প্রায় প্রতি মৌসুমেই যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনে নামেন। আর সেই মিশনে দারুণভাবে সফল ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। নিজের প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে নামার আগে কেবল গোল করার দায়িত্ব নয়, আরও একটি দায়িত্বও পেয়েছেন কেন, সেটি বিশ্বকাপে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব। সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে অধিনায়কত্ব করার উপলক্ষটা যে তিনি গোলের মাধ্যমেই উদযাপন করতে চাইবেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এবার বিশ^কাপে কিছু একটা করে দেখানোর লক্ষ্য নিয়েই রাশিয়া গেছেন কেন।

রোমেলু লুকাকু, বেলজিয়াম
বিশ^কাপে বেলজিয়াম যে বড় স্বপ্ন দেখছে তার মূল কারণ রোমেলু লুকাকুর দলে থাকা। ভিনসেন্ট কোম্পানির দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ও তিনি। গ্রাউন্ড হোক বা ইন দ্য এয়ার- বলের দখল নিতে রোমেলু লুকাকুর জুড়ি মেলা ভার। বেলজিয়ামের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় নাম তিনি। এভারটন থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পাড়ি জমিয়েছেন সর্বশেষ গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার মৌসুমে। নিজের মনের মতো পারফরম্যান্স দিতে পারেননি বটে, ৩৪ ম্যাচে করেছেন ১৬ গোল। জাতীয় দলের হয়ে ৬৭ ম্যাচে ৩৩ গোল এমনিতে খুব বেশি মনে হবে না। তবে এর ২২ গোলই এসেছে ২০১৬ থেকে এখন পর্যন্ত খেলা ২৫ ম্যাচে। ২৫ বছর বয়সেই বনে গেছেন বেলজিয়াম ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বিশ্বকাপে তার পা থেকে আরও কিছু গোলের আশা তো বেলজিয়াম করতেই পারে। সেটা হলে বড় সাফল্যের যে স্বপ্ন দেখছে দেশটি সেটি পূরণ হবে।

হামেস রদ্রিগেজ, কলম্বিয়া
কলম্বিয়ার অন্যতম তুরুপের তাস বলা যেতে পারে হামেস রদ্রিগেজকে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ৬২ ম্যাচে ২১ গোল করেছিলেন। সবচেয়ে বড় কথা ২০১৪ ব্রাজিল বিশ^কাপে প্রথম অংশ নিয়েই ৫ ম্যাচে ৬ করে চারিদিকে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন। পর্তুগালের ক্লাব পোর্তোতে থাকার সময় অনেক রথী মহারথীর নজরে পড়েছিলেন। তাতে জিতে নেয় ফরাসি ক্লাব মোনাকো। ২০১৩ সালে তাকে দলে ভেড়াতে খরচ করতে হয় মোটা অঙ্কের ইউরো। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে খ- খ- ভাগে আলোচনা হয়েছিল তাকে নিয়ে। তবে ব্রাজিলের বিশ্ব মঞ্চ যেভাবে আলোকিত করলেন রদ্রিগেজ, তা অনুমান করা কঠিন ছিল। বাঁ পায়ের জাদুতে অসাধারণ সব গোল করে কলম্বিয়াকে তুললেন কোয়ার্টার ফাইনালে, আর নিজেকে পরিণত করলেন ‘চরম আকাক্সিক্ষত’ এক খেলোয়াড়ে।
হোসে পেকেরমানের দলকে রাশিয়ার আসরের মূল পর্বে তোলার পথে হামেস করেছেন ৬ গোল। ব্রাজিল বিশ্বকাপের মূল মঞ্চেও ছয়বার লক্ষ্যভেদ করেছিলেন তিনি, যাতে হয়েছিলেন ২০১৪ সালের আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এবার গত আসরের সাফল্যটা বজায় থাকবে বলেই তার প্রত্যাশা।

সাদিও মানে, সেনেগাল
বর্তমান সেনেগাল ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা, লিভারপুলের উইঙ্গার সাদিও মানে বিশ্বসেরা হতে পারবেন, এমনটা মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকেই! ছেলেটা অনেক প্রতিভাধর, সঙ্গে অনেক বিনয়ীও। মানে’র নেতৃত্বে সেনেগাল যদি এবারের বিশ^কাপে তেমন কিছু করে ফেলে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

ইসকো, স্পেন
তার পজিশন মিডফিল্ডার হলেও মাঝে-মধ্যে গোল করে চলে আসেন আলোচনায়। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টানা তিনটি শিরোপা জিততে একেবারে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন ইসকো। স্পেন জাতীয় দলেরও গুরুত্বপূর্ণ
খেলোয়াড় তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে ২৬ ম্যাচে করেছেন ১০ গোল।

তারকার ছড়াছড়ি স্পেনে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, দাভিদ সিলভা, সার্জিও রামোস, ডিয়েগো কস্তারা থাকার পরও রাশিয়া বিশ্বকাপে স্প্যানিশদের ‘তুরুপের তাস’ ভাবা হচ্ছে ইসকোকে। জিদানের দলে ‘প্ল্যান বি’তে থাকেন তিনি। রাশিয়া বিশ^কাপে তার ভূমিকা কেমন হতে পারে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মোহাম্মদ সালাহ, মিসর
লিভারপুলের হয়ে এক মৌসুম খেলেই সুপারস্টারের খেতাবটা নিজের করে নিয়েছেন মোহাম্মদ সালাহ। মিসরের এই ফুটবলার আবার নিজ দেশকে বিশ^কাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠিয়েছেন। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়ালের সার্জিও রাসোর্স তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ষাঁড়ের মতো। তাতেই শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বিশ^কাপে খেলতে না পারার। কিন্তু সব শঙ্কা উড়িয়ে বিশ^কাপের জন্য প্রস্তুত এই ফরোয়ার্ড।
বিশ^কাপে মিসরীয়দের কি দিতে পারেন সালাহ সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

লুকা মডরিচ, ক্রোয়েশিয়া
তাকে বলা হয়ে থাকে ছোট দলের বড় তারকা। ক্রোয়েশিয়া এখনও ফুটবল বিশে^ বড় কোনো নাম নয়। তার ওপর এবার তারা পড়েছে আর্জেন্টিনার সঙ্গে একই গ্রুপে। সে হিসেবে কতটা ভালো খেলতে পারবে সেই সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তবে এই দলের আলাদা একজন লুকা মডরিচ। শরণার্থী শিবির থেকে বিশে^র অন্যতম সেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে জায়গা হয়েছে তার। সেখান থেকেই বিশ্বের সেরা দলে খেলা, বিশ্ব ফুটবলে সময়ের সেরাদের একজন হয়ে ওঠা, অঢেল বিত্ত ও খ্যাতি পেয়েছেন। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে ১০৪ ম্যাচে ১২ গোল করা এই মিডফিল্ডারই বিশ্বকাপে দলের অন্যতম ভরসার নাম।
বিশ^কাপে প্রথম পর্বে আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে এই মডরিচ।

এডেন হ্যাজার্ড, বেলজিয়াম
বেলজিয়ামের মেসি হিসেবে এরই মধ্যে নামডাক পড়েছে এডেন হ্যাজার্ডের। যদিও এই পদবীটা লেগেঠে সাত বছর আগে ২০১১ সালে। হ্যাজার্ড তখন ফরাসি লিগের দল লিলে’তে খেলেন। আর্সেনাল এই তরুণের ব্যাপারে বেশ উৎসাহ দেখাচ্ছিল, কারণ অল্প বয়সেই হ্যাজার্ড জিতেছিলেন লিগ ওয়ানের সেরা তরুণ খেলোয়াড় ও বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ২০১১ সালে তিনি বর্ষসেরা তরুণ ও বর্ষসেরা ফুটবলার, দুটি পুরস্কারই জেতেন। লিল থেকে চেলসিতে এসে নিজেকে চিনিয়েছেন হ্যাজার্ড, রাশিয়া বিশ্বকাপে কি আরেকটু মেলে ধরতে পারবেন নিজের প্রতিভা? সেটাই এখণ চাইছেন বেলজিয়ামের দর্শকরা।

লুইস সুয়ারেজ, উরুগুয়ে
বিশ্বকাপ তাকে প্রতারক, ভ্যাম্পায়ার ও কুরুচিকর উৎসবের কা-ারি’ পদবী দিয়েছে! ২০১০, ২০১৪ এই দুটি বিশ্বকাপ পেরিয়ে এবার রাশিয়ায় যাচ্ছেন তিনি। বিশ্বকাপ যাকে এমন বাছাই বাছাই শব্দ উপহার দেয়, তার কাছে কী সত্যিই ‘আকাক্সক্ষা’ শব্দটা অবশিষ্ট থাকে? লুইস সুয়ারেজ বলছেন, থাকে। পরিণত হওয়ার ইচ্ছে। নিজেকে চেনানোর তাগিদ। সবচেয়ে বেশি ‘বিতর্ক’ শব্দটাকে নিজের শরীর থেকে মুছে ফেলার জেদ। কী বললেন উরুগুয়ের স্বপ্নসারথি? সব বাঁকা চাহনি, তাচ্ছিল্যের খেলা শুরুর আগে সাফ জানালেন, সব ফুটবলার বিশ্বকাপে খেলার, বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখে। জেনে রাখুন, ২০১০, ২০১৪ আমার কাছে অতীত। আমি অন্য এক প্রত্যাশা নিয়ে পা রাখব রাশিয়ায়। আমার সঙ্গীরাও এবার অন্য। বিশ্বকাপে আরও অনেকদূর এগোব, এই লক্ষ্যটাই সামনে রেখেছি।

রবার্ট লেভানডভস্কি, পোল্যান্ড
ছোট দলের আরেক বড় তারকার নাম রবার্ট লেভানডভস্কি। পোল্যান্ডের এই তারকা খেলোয়াড় এবারের বিশ^কাপে নিজেকে মেলে ধরার অপেক্ষায় রয়েছেন। পায়ে হোক কিংবা হেডে, দু’ভাবেই গোল করতে সমান পারদর্শী এই পোলিশ তারকা। ২০১৬ ইউরোতে তার নেতৃত্বে শেষ আটে পৌঁছেছিল পোল্যান্ড। এবার রাশিয়াতেও গোলের জন্য কোচ অ্যাডাম নাওয়ালকা তাকিয়ে থাকবেন ২৯ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকারের দিকে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

খেলা
  • ধানম-িতে উদ্বোধন হলো ‘তাগা ম্যান’
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.