‘রাসায়নিক পদ্ধতিতে আম পাকালেই তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়’-মোহাম্মদ মাহফুজুল হক

Print Friendly and PDF

মোহাম্মদ মাহফুজুল হক। চেয়ারম্যান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। খাদ্যে ভেজাল এবং ভেজালবিরোধী প্রসঙ্গ নিয়ে সম্প্রতি মুখোমুখি হন সাপ্তাহিক-এর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ভেজাল আম ধ্বংস করার ঘটনাকে ভুল বোঝাবুঝি মনে করেন রাষ্ট্রীয় এই কর্তা। ফরমালিন বা অন্যান্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য নিয়ে জনমনে আতঙ্ক থাকলেও, তিনি অবশ্য ‘এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই’ বলে উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

সাপ্তাহিক : চলমান ভেজালবিরোধী অভিযান কীভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন?
মাহফুজুল হক : চলমান ভেজালবিরোধী অভিযানকে সবাই স্বাগত জানিয়েছে বলেই আমি মনে করি। এ নিয়ে কোনো দ্বিমত আছে বলেও আমার জানা নেই।
খাবারে বিষ! এটি কোনো সভ্য, সুস্থ সমাজের দৃষ্টান্ত হতে পারে না। খাবারে রঙ, রঙে বিষ, পচা-বাসি খাবার নিয়ে তো অভিযোগের শেষ নাই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। নিম্নমানের প্যাকেটে খাবার প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। চলমান অভিযান মানুষের মাঝে স্বস্তি  ফিরে এনেছে বলে আমি বিশ্বাস করি।
সাপ্তাহিক : বিষাক্ত বলে হাজার হাজার মণ আম ধ্বংস করল র‌্যাব-পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্প্রতি এই অভিযান নিয়ে কী বলবেন?  
মাহফুজুল হক : কোনো অঞ্চলের আম কখন বাজারে আসবে তার একটি পঞ্জিকা তৈরি করে দিয়েছে সরকার। এটি অবশ্যই আমের পরিপক্বতার সময় যাচাই করেই করা হয়েছে। এর আগে আম বাজারজাত করা অন্যায় এবং সে আমে পুষ্টিমান কম থাকবে। কারণ অপরিপক্ক আমের গুণাবলি থাকে না। এর পুষ্টিমান নিম্ন। কৃত্রিম উপায়ে আম পাকানো যায় বটে, তবে সেটা অবশ্যই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে। রাসায়নিক পদ্ধতিতে আম পাকালেই তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না,  যদি সেটা সহনীয় মাত্রায় হয়।
সাপ্তাহিক : কোথাও সিস্টেমের বালাই নেই। রাসায়নিক দ্রব্য কতটুকু ব্যবহার করছে কারবারিরা, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও নেই। এরপরেও আপনি যদি বলেন, ‘রাসায়নিক পদ্ধতিতে ফল পাকালে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়’- তা এমন মন্তব্যে কারবারিরা বিষ প্রয়োগে আরও বেপরোয়া হবে কিনা?
মাহফুজুল হক : অনেকেই তো এখন ফলের নাম শুনলেই মনে করেন, এতে বিষ। রাসায়নিক দ্রব্য মেশালেই যে ফল বিষ হয় না, তা পরিষ্কার করার জন্যই আমরা ব্যাখ্যা দিচ্ছি। আতঙ্ক যাতে না ছড়ায়, তার জন্যই আমার পরিষ্কার ধারণা।
সাপ্তাহিক : আতঙ্ক ছড়ানোর তো যথেষ্ট কারণও আছে। মানুষকে তো বিষ খাওয়ানো হচ্ছে!  
মাহফুজুল হক : ফলে ইথোফেন থাকলে, তা ক্ষতিকর হয় না। বিআরসি’র একটি গবেষণা আছে এ নিয়ে। সেখানে ২৫০ পিপিএম থেকে ১০ হাজার পিপিএম মাত্রার ইথোফেন ব্যবহার করা হয়েছে। দেখা গেছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ২ পিপিএম-এর নিচে চলে এসেছে।
তার মানে এর উচ্চমাত্রার ব্যবহার থাকলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব থাকে না। এ কারণে আমরা বলেছি, এর ব্যবহারে ঝুঁকি নেই।
সাপ্তাহিক : সম্প্রতি র‌্যাব-পুলিশের পক্ষ থেকে ভেজালবিরোধী অভিযান মনিটরিং করেছেন?
মাহফুজুল হক : মনিটরিং ঠিক না। তবে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। মানুষের মাঝে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, তার ব্যাখ্যা দিয়েছি। গত ২৩ মে ২০১৮ তারিখে আমরা একটি কর্মশালাও করেছি এ নিয়ে। সেখানে অনেক বিশেষজ্ঞও ছিলেন।
সাপ্তাহিক : আপনারা বলছেন, তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেই। তাহলে র‌্যাব-পুলিশ কিসের ভিত্তিতে আম ধ্বংস করল?
মাহফুজুল হক : তারা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করছেন। ইথোফেন এবং কার্বাইড ব্যবহারের প্রমাণ পাচ্ছে বলেই তারা আম ধ্বংস করছেন।
সাপ্তাহিক : কিন্তু আপনি বললেন, ইথোফেন মেশালেই ক্ষতি নয়?
মাহফুজুল হক : ইথোফেন ব্যবহার নিয়ে ভুল ধারণা আছে এবং আমরা তার ব্যাখ্যা দিয়েছি। কর্মশালার আলোচনায় এসেছে ইথোফেন দিয়ে আম পাকানো আমাদের দেশে স্বীকৃত।
সাপ্তাহিক : আপনার ব্যাখ্যায় স্ববিরোধিতা মিলছে...
মাহফুজুল হক : আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আম কেটে কেটে দেখেছে। অপরিপক্ব আম ইথোফেন এবং অন্যান্য  কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকানো হয়েছে। অননুমোদিত কেমিক্যাল ব্যবহার করেছে এবং তা কারবারিরা স্বীকার করেছেন। তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সাপ্তাহিক : আপনার অবস্থান ঠিক পরিষ্কার করতে পারছেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও রাষ্ট্রীয় সংস্থা এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তাহলে রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে!
মাহফুজুল হক : প্রাথমিক অবস্থায় ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করি। সবাই খাদ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাতারাতি সবাই এক কাতারে চলে আসবে তা মনে করা ঠিক হবে না। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোও দাঁড় করিয়েছি। সমন্বয়ের যে ঘাটতি আছে তা পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবো ।
সাপ্তাহিক : আপনার প্রতিষ্ঠান ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’এর সক্ষমতা আছে?
মাহফুজুল হক : আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করত খাদ্য নিয়ে। সেন্ট্রাল রেগুলেটরি বডি হিসেবে কাজ করার জন্যই নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান যাতে নিজ নিজ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে, সে জন্যই আমরা শুধু কো-অর্ডিনেট করব। ঘাটতি থাকলে আমরা তা পূরণ করার পথ বাতলে দেব।
সাপ্তাহিক : সমন্বয়ের অভাব তো সর্বত্রই। আপনার বাতলানো পথে হাঁটবে সবাই?
মাহফুজুল হক : ঠিকই বলেছেন। আমাদের দেশে কেউ কারও কর্তৃত্ব মানতে নারাজ। সবাই স্ব স্ব অবস্থান থেকে নিজের শক্তি প্রকাশ করতে অভ্যস্ত। অথচ নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার স্বার্থে আমরা যে কোনো নির্দেশনা দিলে সে প্রতিষ্ঠান মানতে বাধ্য। তবে আমরা বাধ্য করতে চাই না। আমরা সবার সহযোগিতা নিয়েই এগুতে চাই। আমরা সমন্বয় করার চেষ্টা করছি। ইন্ডিয়ার নিরাপদ খাদ্য নিয়ে যে আইন করা হয়েছে, তার সঙ্গে আমাদেরও মিল আছে। আমরা আশাবাদী।
সাপ্তাহিক : ইন্ডিয়ায় রাষ্ট্রীয় অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী। তাদের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন নিজ প্রতিষ্ঠানকে?
মাহফুজুল হক : সরকার তো কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালন করে যাচ্ছি। প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।
সাপ্তাহিক : দিবস পালন করে কি আর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যায়?
মাহফুজুল হক : আমাদের এখানে দুইভাবে খাবার অনিরাপদ হচ্ছে। একটি হচ্ছে খাবারে ভেজাল। আরেকটি হচ্ছে দূষণ। দূষণের মাধ্যমেই খাদ্য অনিরাপদ হচ্ছে।
জেনেশুনে খাবার ভেজাল করা হচ্ছে। এটি জানার সুযোগ মেলে। কিন্তু দূষণের মাধ্যমে খাদ্য কীভাবে অনিরাপদ হচ্ছে, সে সম্পর্কে হয়ত অনেকেই অবগতই নয়। মাটি, পানি, বায়ু নানাভাবেই দূষিত হচ্ছে। শিল্পের বর্জ্য দিয়ে সব কিছুই নষ্ট হচ্ছে। বাজার থেকে নিরাপদ খাবার নিয়ে বাড়িতেও দূষিত হয়।
এক্ষেত্রে সচেতন করার কোনো বিকল্প নেই। যে খাবার অনিরাপদ করছেন, তার বিরুদ্ধে হয়তো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, কিন্তু তাকে সচেতন করে তোলা হয়নি। আমরা এখন সচেতন করার উপরেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকল্পে  সক্ষমতা অর্জনে যা যা করার তাই করছি।
আমরা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। অনুমাননির্ভর কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। অতীতে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।
সাপ্তাহিক :  যেমন?
মাহফুজুল হক : ফরমালিন নিয়ে সমাজে অনেক কথা। অনেকে ফরমালিনের কারণে শাকসবজিও খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ একজন মানুষের জন্য শাক শবজি খুবই গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। ফরমালিন প্রোটিন ছাড়া অন্য কোনো উপাদানে প্রভাব রাখতে পারে না।
সাপ্তাহিক : প্রোটিন তো শাক সবজিতেও আছে। ফরমালিনের প্রভাব এখানেও কার্যকর।
মাহফুজুল হক : শাক সবজিতে প্রোটিনের মাত্রা খুবই কম।
সাপ্তাহিক : তাহলে ফরমালিন আতঙ্কের এই দায় কার?
মাহফুজুল হক : যারা ফরমালিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন, তারা হয়তো সৎ উদ্দেশ্যেই নিচ্ছেন। একটি মাছ দীর্ঘদিন ফরমালিনের পানিতে চুবিয়ে রাখছে। এতে মাছটির গুণাগুণ নষ্ট হতে পারে। কিন্তু ফরমালিনের দ্রবণে মাছ বা মাংস চুবিয়ে তুলে ফেললেই এর গুণাগুণ নষ্ট হয় না। ফরমালিন নিয়ে নানা বিভ্রান্তি আছে মানুষের মধ্যে।
আমরা এ ব্যাপারে একটি গণবিজ্ঞপ্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গণমাধ্যমেও এই নিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়ার কথা রয়েছে।
ফরমালিন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কারণে মানুষের মনে বদ্ধমূল এক প্রকার ধারণা সৃষ্টি হয়েছে,  যে কারণে অনেকেই পুষ্টিকর খাবার আতঙ্কে খাচ্ছে না। আমরা পুষ্টির অভাবে দক্ষ জনশক্তি গঠন করতে পারব না। পরবর্তী প্রজন্ম মেধাসম্পন্ন হবে না। ডিম নিয়েও নানা বিভ্রান্তি আছে। অপপ্রচার আছে।
সাপ্তাহিক : আপনি অপপ্রচার বলছেন। অথচ সরকারই নানাভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে। একদিনে দশ হাজার মণ আম ধ্বংস করল র‌্যাব। ফরমালিনের ব্যাপারেও নানা সময় ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে। এসব তো প্রমাণের ভিত্তিতেই?
মাহফুজুল হক : ভুল বোঝাবুঝি আছে, আমি তা আগেই বলেছি। আমরা এখন তাদের সঙ্গেও কাজ করছি। যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। এখন তো আর হচ্ছে না। আমরা চাই ভবিষ্যতে যেন বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।
ফরমালিন নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক দূর করার জন্য আমরা নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
সাপ্তাহিক : তার মানে আপনি ফরমালিন ব্যবহারের পক্ষে?
মাহফুজুল হক : আমি ঠিক পক্ষের কথা বলছি না। চাহিদা মেটাতে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হচ্ছে। সার, কীটনাশকও ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্তমান সভ্যতায় এর কোনো বিকল্প নেই। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এসবের ব্যবহার করা যেতেই পারে। গুড এগ্রিকালচার প্রাকটিস শুরু হয়ে গেছে অনেক আগে থেকেই।
কীটনাশক, রাসায়নিক সার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
সাপ্তাহিক : আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তা কিসের ভিত্তিতে বলছেন? স্বাস্থ্য বিজ্ঞান তো আতঙ্কের কথাই বলে।
মাহফুজুল হক : আমরা বিআরসি’র মাধ্যমে ১২ পদের সবজি ভারতের চেন্নাইয়ে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে কীটনাশকের অবশিষ্ট বেশিমাত্রায় পাওয়া যায়নি। ফরমালিন নিয়ে ২৮টি খাদ্যপণ্য গবেষণা করেছি। কোনো খাদ্যপণ্যে ফরমালিন মেশানোর অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অথচ প্রাকৃতিকভাবেই আমরা ফরমালিন খেয়ে আসছি, নানান খাবারের মাধ্যমে।
আমের নমুনাও চেন্নাইয়ে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে ইথোফেন বা কার্বাইডের মাত্রা বেশি মেলেনি।
সাপ্তাহিক : চেন্নাইয়ে পাঠাতে হচ্ছে কেন? নিজেদের পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেই?  
মাহফুজুল হক : আমাদের গবেষণাগারগুলো স্বীকৃত না। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো ল্যাবরেটরি নেই আমাদের এখানে।
সাপ্তাহিক : এখন পর্যন্ত একটি স্বীকৃত গবেষণাগার-ই প্রতিষ্ঠা দেয়া গেল না।  
মাহফুজুল হক : আমাদের ল্যাবরেটরিগুলোর অবস্থা খুবই করুণ।
সাপ্তাহিক : তাহলে তো অনুমানের উপরেই চলছেন আপনারা। আপনার কথাও ঠিক অনুমানের ওপর নির্ভর করে। সাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছেই বটে?
মাহফুজুল হক : না। আমরা বাইরে থেকেও তো গবেষণা করিয়ে আনছি।
সাপ্তাহিক : পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন সচেতনতার জন্য। অথচ একটি ল্যাবরেটরি-ই দিতে পারলেন না এত দিনে।
মাহফুজুল হক : রাতারাতি সব সম্ভব না। আমরা ল্যাবরেটরিগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি। একদিনে সব সমাধান হয় না।
সাপ্তাহিক : একদিন বলছেন কেন? নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তিন বছর আগে। আইন হয়েছে আরও আগে। এরপরেও জোড়াতালির সমাধান হচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। আপনারা লিফলেট বিতরণেই আটকে আছেন। এই প্রশ্নে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ অথর্ব হয়ে পড়ছে কিনা?
মাহফুজুল হক : স্থানীয় সরকার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনবল উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। তাদের আমরা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। আমরা ইতোমধ্যেই ৭০০ জনের মতো খাদ্য পরিদর্শক কাজে লাগিয়েছি। তারা নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। রাতারাতি কিছুই সম্ভব হয় না। আগের চেয়ে অনেক কিছুই বদলে গেছে। মানুষ এখন সচেতন। মানুষের গড় আয়ুও তো বাড়ছে। মানুষ সচেতন হচ্ছে বলেই আয়ু বাড়ছে। খাবার তৈরি নিয়ে নানা নীতিমালা করা হয়েছে। আরও নীতিমালা করা হচ্ছে। উন্নত দেশগুলো যা করতে পারেনি, আমরা তা করতে পারব বলে  মনে করি। ১১ জন জনবল নিয়ে আমরা অনেক কিছুই করে যাচ্ছি বলে মনে করি।
ছবি : মাহবুব আলম

সাপ?তাহিক পতিবেদন

সাক্ষাৎকার
  • ধানম-িতে উদ্বোধন হলো ‘তাগা ম্যান’
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.