বিশ্বকাপের লড়াই -শুভ কিবরিয়া

Print Friendly and PDF

র- রাশিয়া, রাজনীতি
আবার দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্ব ফুটবলের সেরা আসর, দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ, বিশ্বকাপ ফুটবল-২০১৮। এবারের স্বাগতিক দেশ রাশিয়া। ১৪ জুন-১৫ জুলাই মাসব্যাপী এ আসরে রাশিয়ার ১১ শহরে ১২ ভেন্যুতে ৩২ দলের ফুটবল লড়াই চলবে। সারা পৃথিবীর কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ থাকবে এ আসরে। ৬৪তম খেলায় নির্ধারিত হবে চ্যাম্পিয়নশিপ যাবে কার ঘরে।
কে জিতবে এই আসরের ট্রফি, কার হাতে উঠবে সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা সেসব আলোচনার আগে দেখা যাক রাশিয়ায় এই বড় আসর আসলো কীভাবে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্ররা হয়ে ওঠে একচ্ছত্র অধিশ্বর। খ-িত রাশিয়া এরপর সাবেক কেজিবি স্পাই ভøাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে সেই পুরনো গৌরব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের ভেতর সকল বিরোধীদের কঠোর হাতে দমন করে লৌহমানব হয়ে ওঠা ভøাদিমির পুতিন, এখন আমেরিকা ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করছেন শক্তহাতেই। পুতিনের শক্ত অবস্থান বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকার একচ্ছত্র প্রভাবকে যারপরনাই চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছে। ফলে, আমেরিকাও রাশিয়াকে ছেড়ে কথা কইছে না। যার প্রমাণ মেলে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের স্বাগতিক দেশ হওয়ার লড়াইয়েও।
২০১০ সালের ডিসেম্বরে ফিফার সভায় চূড়ান্ত হয় ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করবে রাশিয়া, ২০২২ সালের বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হবে কাতার। রাশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ফিফার নির্বাহী সভায় প্রতিনিধিদের ভোটে লজ্জাজনকভাবে হেরে যায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ হওয়ার লড়াইয়ে কাতারের প্রতিদ্বন্দ্বী হয় আমেরিকা। ফিফার সভায় আমেরিকাও কাতারের কাছে হেরে যায়। আমেরিকা, ইংল্যান্ডের এই পরাজয় তাদের জন্য অসহ্য হয়ে উঠলে তারা ফিফার  বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনে। আমেরিকা-ইংল্যান্ড বলা শুরু করে রাশিয়া, কাতার টাকা খরচ করে ভোট কিনে বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বাগতিক দেশ হওয়ার লড়াইয়ে জিতেছে। তদন্তের পর এ অভিযোগ আর হালে পানি পায় নাই। একপর্যায়ে বিশ্বকাপ-২০১৮ বর্জনের ডাক দেয়ার চেষ্টা করে ইংল্যান্ড। আমেরিকাও নানা উপায়ে বাধার সৃষ্টি তৈরি করতে থাকে। নিজের দেশের ক্রীড়ামোদিদের রাশিয়ায় যেতে আমেরিকা অনুৎসাহিত করতে থাকে।
 এর মধ্যে রাজনীতিতেও বইতে থাকে লু-হাওয়া। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে রাশিয়ার হস্তক্ষেপে পশ্চিমা দুনিয়ার চোখে ভিলেন সাজা আসাদ সরকারের টিকে থাকা,  ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার অনুপ্রবেশ, পূর্ব ইউক্রেনে রুশ সমর্থনপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা, গোয়েন্দা ডাবল এজেন্ট সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার কন্যার ওপর ইংল্যান্ডে রাশিয়ার রাসায়নিক আক্রমণের অভিযোগ উঠতে থাকে। রাশিয়া-ইংল্যান্ডের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। দুই দেশ বিপুল সংখ্যায় কূটনীতিকদের বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কার খেলায় মেতে ওঠে। রাজনীতির এই দ্বৈরথ ঠেলেই রাশিয়া সাফল্যজনকভাবে তার দেশে বিশ্বকাপ ফুটবলের সব আয়োজন সুসম্পন্ন করে। এখন অপেক্ষা শুধু ১৪ জুনের। ওই দিনেই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক রাশিয়া আর সৌদি আরবের খেলার মধ্যে দিয়ে এ আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।  এ স্টেডিয়ামের ধারণ ক্ষমতা ৮১ হাজার দর্শক। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচও হবে এ স্টেডিয়ামেই।
উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক, ২০১৪ সালের সোচির শীতকালীন অলিম্পিক সাফল্যজনকভাবে আয়োজনের পর এবার ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজনের দ্বারপ্রান্তে রাশিয়া।
বলা ভালো, রাশিয়ার এই আসরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ আমেরিকার ফুটবল দল থাকছে না। বিশ্বকাপ আসরের চূড়ান্ত পর্বেই এবার উঠতে পারে নাই আমেরিকা। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরের চূড়ান্ত পর্বে বাদ পড়েছে আমেরিকা। অন্যদিকে স্বাগতিক আয়োজক দেশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই চূড়ান্ত পর্বে খেলছে রাশিয়া। অবশ্য এই আয়োজনের স্বাগতিক দেশ হওয়ার লড়াইয়ে থাকা ইংল্যান্ড শক্তিমান দল হিসেবেই থাকছে রাশিয়ার এই আসরে। যদিও ইংল্যান্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবার ও সেদেশের সরকারের কোনো প্রতিনিধি বিশ্বকাপ আসর দেখতে উপস্থিত থাকবে না রাশিয়ার মাটিতে।

পতাকা জ্বর
খেলা রাশিয়ায় আর পতাকার জ্বর চলছে বাংলাদেশে। বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের যে আবেগ তার প্রকাশ মেলে যে যে দলকে তারা সমর্থন করেন তাদের পতাকা টাঙিয়ে। এটা শুধু রাজধানী বা বিভাগীয় শহরেই নয়, দেশের যে কোনো প্রান্তে গেলেই দেখা মিলবে এ পতাকা জ্বরের। বাংলাদেশে যেহেতু ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক বেশি তাই তাদের পতাকা আর জার্সি নিয়েও উন্মাদনা বেশি।  এর পরে জার্মানি, স্পেন দলের প্রতি সমর্থন বাংলাদেশিদের বেশি। ভিন দেশের পতাকা টাঙানো নিয়ে একশ্রেণির উগ্র জাতীয়তাবাদীদের বিরোধিতা এবার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আদালতেও এ  বিষয়ে রিট করেছেন কেউ। ফলে এবার দেখা মিলছে ভিন্ন চিত্র। অনেক ক্ষেত্রেই আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের বিরাট পতাকার  ওপর শোভা পাচ্ছে ক্ষুদ্রকায় বাংলাদেশি পতাকাও।
মানুষের এই আবেগ এবার বিস্তরভাবেই জায়গা নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল সমর্থকরা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ফেসবুকে নানারকম ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ করে। চলছে একে অপরকে ঘায়েল করে ট্রলিং। বোঝা যাচ্ছে আগামী এক মাস চলবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মল্লযুদ্ধ। নিজ দলের জয় বা পরাজয়ে আনন্দ ও বেদনার ছড়াছড়িও থাকবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়েই।

আট গ্রুপে ৩২ দল
১৪ জুন ২০১৮ থেকে শুরু হচ্ছে গ্রুপ পর্বের খেলা। এ,বি,সি,ডি, ই,এফ,জি,এইচ- সর্বমোট ৮ গ্রুপে ৩২টি দল গ্রুপ পর্বে অংশ নেবে। প্রতিটি গ্রুপের প্রতিটি দল প্রথম পর্বে ৩টি খেলা খেলবে। প্রথম পর্বে সর্বমোট ৪৮ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্বে পয়েন্টের ভিত্তিতে প্রতিটি গ্রুপের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও গ্রুপ রানার্সআপ নির্ধারিত হবে।
এভাবে দ্বিতীয় রাউ-ে ১৬টি দল (৮ গ্রুপ থেকে দুটি করে সর্বমোট ষোল দল) অংশ নেবে। একটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে লড়বে অপর গ্রুপ রানারআপ। কোন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন কোন গ্রুপের রানারআপের সঙ্গে লড়বে তা পূর্বেই নির্ধারণ করা আছে (যেমন, ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন লড়বে ‘বি’ গ্রুপের রানারআপের সঙ্গে....)
দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই মূলত নকআউট পর্ব শুরু। দ্বিতীয় রাউন্ডে ১৬টি দল ৮টি ম্যাচে অংশ নেবে। পরাজিত প্রতিটি দল বিশ্বকাপ আসর থেকে বিদায় নেবে। দ্বিতীয় রাউন্ডের নকআউট পর্বে বিজয়ী ৮ দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। কোয়ার্টার ফাইনালেও পূর্ব নির্ধারিত ফরমেট অনুযায়ী (যেমন ৪৯ নম্বর খেলায় জয়ী দল মুখোমুখি হবে ৫০ নম্বর খেলার জয়ীর সঙ্গে) দ্বিতীয় রাউন্ডের ৮ দল ৪টি খেলায় অংশ নেবে। ৪ খেলায় বিজয়ী দল উত্তীর্ণ হবে সেমিফাইনালে। সেমিফাইনালে ৪ দল ২ খেলায় মুখোমুখি হবে পূর্ব নির্ধারিত ফরমেট অনুযায়ীই। বিজয়ী দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে।
১০ জুলাই, ১১ জুলাই সেমিফাইনাল খেলা হবে। ১৪ জুলাই তৃতীয়স্থান নির্ধারণী খেলা হবে সেমিফাইনালের দুই ম্যাচে পরাজিত দুই দলের মধ্যে।
১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ২০১৮-এর ফাইনাল খেলা।
প্রথম পর্বে ৩২ দল, দ্বিতীয় রাউন্ডে ১৬ দল, কোয়ার্টার ফাইনালে ৮ দল, সেমিফাইনালে ৪ দল- এভাবেই ফাইনালে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যবনিকা ঘটবে বিশ্বকাপ ২০১৮-এর। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই শুরু হবে নকআউট পর্ব।
এখন, বিলিয়ন ডলার কোশ্চিন হচ্ছে- কে নেবে এই বিজয় মুকুট। কোন দলের হাতে উঠবে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি।

পূর্বাভাস!
শেষপর্যন্ত দ্বিতীয় পর্বে উঠবে কোন দল?
সেই বিবেচনায় যাওয়ার আগে ৮ গ্রুপের অবস্থা দেখা যেতে পারে। একটা পূর্বাভাসের ছকে এগুলে কেমন হয়?

গ্রুপ ‘এ’ থেকে উরুগুয়ে, রাশিয়া, গ্রুপ ‘বি’ থেকে স্পেন, পর্তুগাল, গ্রুপ ‘সি’ থেকে ফ্রান্স, ডেনমার্ক, গ্রুপ ‘ডি’ থেকে আর্জেন্টিনা, ক্রোয়েশিয়া দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে না আসাটাই হবে অস্বাভাবিক। যদিও গ্রুপ ‘ডি’তে আফ্রিকান জায়ান্ট ‘নাইজেরিয়া’ চমক তৈরি করলে এই গ্রুপে ক্রোয়েশিয়ার কপাল পুড়তে পারে।
যদিও ফিফা প্রকাশিত সর্বশেষ র‌্যাংকিংকে ‘ক্রোয়েশিয়া’- নাইজেরিয়ার তুলনায় অনেক এগিয়ে।
গ্রুপ ‘ই’-তে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে ফিফা র‌্যাংকিং বিবেচনা করলে এই গ্রুপে ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ডেরই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে যাওয়ার কথা। এই গ্রুপে কোস্টারিকা কিংবা সার্বিয়া চমক দেখালে বাংলাদেশি ব্রাজিল ভক্তদের হৃদয় ভেঙে যেতে পারে।
গ্রুপ ‘এফ’-জার্মানি, সুইডেন, গ্রুপ ‘জি’-তে ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং গ্রুপ ‘এইচ-তে পোল্যান্ড, কলম্বিয়া দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে যেতে পারে অনায়াসে। তবে আফ্রিকান দল ‘সেনেগাল’ জ্বলে উঠলে অঘটন কিছু ঘটতেও পারে ‘এইচ’ গ্রুপে।
ফিফা র‌্যাংকিং, স্টার খেলোয়াড়, দলের অভিজ্ঞতা, খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক নানান এক্সপোজার বিবেচনায় নিলে দ্বিতীয় রাউন্ডের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হতে পারে ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া, উরুগুয়ে-পর্তুগাল, স্পেন-রাশিয়া, আর্জেন্টিনা-ডেনমার্ক, ব্রাজিল-সুইডেন, ইংল্যান্ড-কলম্বিয়া, জার্মানি-সুইজারল্যান্ড, পোল্যান্ড-বেলজিয়াম।
আপাতত আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডের এই লড়াইয়ে ফ্রান্স, উরুগুয়ে, স্পেন, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, জার্মানি, বেলজিয়ামের এগিয়ে যাওয়াকে পূর্বাভাস হিসেবে ধরলে কোয়ার্টার ফাইনালে  ইউরোপ আর ল্যাটিন আমেরিকার মল্লযুদ্ধই দেখতে পাবো।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এশিয়া ও ইউরোপের সংমিশ্রিত রাশিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপ আসরের চূড়ান্ত জয় কি ইউরোপ বজায় রাখতে পারবে? যদি পারে তাহলে জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম কার ঘরে উঠবে এই শিরোপা। আবার ল্যাটিন জাদু যদি সাফল্য পায় তাহলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ের মধ্যে কে থাকবে এগিয়ে?

কার ঘরে বিশ্বকাপ
প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স উরুগুয়ে মুখোমুখি হলে, ইউরোপ জায়ান্টেরই এগিয়ে থাকার কথা। ব্রাজিল-ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের খেলা খেললে ব্রাজিলের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ৫৯তম ম্যাচে স্পেন আর আর্জেন্টিনা যদি মল্লযুদ্ধে নামে, আর মেসি যদি তার জাদুকরী ফুটবল অব্যাহত রাখে তবে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উল্লসিত হবার সুযোগ থাকছে। অন্যথায় স্পেনকে দেখা যেতে পারে সেমিফাইনালে। কোয়ার্টার ফাইনালের অপর ম্যাচে জার্মানি-বেলজিয়াম মুখোমুখি লড়লে জার্মানির এগিয়ে যাবার সম্ভাবনাই বেশি।
এই হিসাবে এগুলে সেমিফাইনালে ব্রাজিল-ফ্রান্স এবং জার্মানি-আর্জেন্টিনার দেখা হবার সম্ভাবনা থাকছে।
নেইমার জাদু অব্যাহত থাকলে ব্রাজিল হয়তো পৌঁছে যাবে ফাইনালে। অন্যদিকে জার্মানি-আর্জেন্টিনার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই সত্ত্বেও মেসি কি পারবে জার্মানির টোটাল ফুটবলের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। এটা একটা বড় প্রশ্ন। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফাইনাল হলে সেটা হবে বাংলাদেশি ফুটবল সমর্থকদের প্রাণের আশা।
কিন্তু সেটা কি ঘটবে?
যে প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এ মুহূর্তে দেয়া না গেলেও বিশ্লেষণ বলে ফাইনালে ব্রাজিল-জার্মানি মুখোমুখি হবার সম্ভাবনাই বেশি।
ফিফা র‌্যাংকিং, দলের শক্তি, কোচের যোগ্যতা এসব শর্ত হিসাবে ধরেই এই বিশ্লেষণ বলছে, জার্মানি-ব্রাজিল ফাইনালে লড়লে ২০১৪ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। অন্যথায় ব্রাজিলের হাতে রেকর্ডবারের জন্যও উঠে আসতে পারে বিশ্বকাপের ট্রফি।
বলাবাহুল্য, এসবই অনুমান। প্রতি পদে এর অন্যথা হতে পারে। ঘটতে পারে অনেক অঘটন। তবে ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ গোটা পৃথিবীকে যে মাতিয়ে রাখবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন শুধু প্রহর গোনার পালা...।

গ্রুপ বিভাজন
গ্রুপ-এ: রাশিয়া, উরুগুয়ে, মিসর, সৌদি আরব
গ্রুপ-বি: স্পেন, পর্তুগাল, ইরান, মরক্কো
গ্রুপ-সি: ফ্রান্স, ডেনমার্ক, পেরু, অস্ট্রেলিয়া
গ্রুপ-ডি: আর্জেন্টিনা, ক্রোয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আইসল্যান্ড
গ্রুপ-ই: ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, সার্বিয়া, কোস্টারিকা
গ্রুপ-এফ: জার্মানি, সুইডেন, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া
গ্রুপ-জি: ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, তিউনিশিয়া, পানামা
গ্রুপ-এইচ: পোল্যান্ড, কলম্বিয়া, সেনেগাল, জাপান

সাপ?তাহিক পতিবেদন

প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
  • ফরিদপুরে এসএমই ব্যাংকিং বিষয়ে আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মশালা
  •  মতামত সমূহ
    পিছনে 
     আপনার মতামত লিখুন
    English বাংলা
    নাম:
    ই-মেইল:
    মন্তব্য :

    Please enter the text shown in the image.