'ওপেন স্কাই পলিসিতে গেলে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন লাভ করবে' -মাহবুবুর রহমান রুহেল

Print Friendly and PDF

চেয়ারম্যান, সায়মন রিসোর্ট, দ্যা পেনিনসুলা চট্টগ্রাম ও স্টার সিনেপ্লেক্স বসুন্ধরা

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগে পারিবারিকভাবে আপনারা বিনিয়োগ করে চলেছেন। সব মিলিয়ে এই সেক্টর সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই?
মাহবুবুর রহমান রুহেল : ইনফ্যাক্ট আমার দাদা ১৯৬৫ সালে এই দেশের জন্মের আগেই পর্যটন খাতে বিনিয়োগের  শুরু করেছিল। এখন সায়মন হোটেল অনেকেই চেনেন। কক্সবাজারের প্রথম হোটেল এটা। কক্সবাজারের অবস্থা এখন অনেকটাই চেঞ্জ হয়ে গেছে। সেখানে এখন এখন অনেক হোটেল রিসোর্ট হয়ে গেছে। প্রতিযোগিতাও এখন প্রচুর। তারপরেও আমি বলব যে, আমাদের পারিবারিক যে হোটেলটা সেটা আমরা অনেক এক্সপানশন করেছি। এখনো নাম্বার ওয়ান  হোটেল হিসেবে আছে কক্সবাজারে।
সায়মন বিচ রিসোর্ট?
মাহবুবুর রহমান রুহেল : হ্যাঁ। সায়মন বিচ রিসোর্ট? একেবারে আমাদের নতুন যে প্রজেক্ট তাতে আরও প্ল্যান আছে যে- আমরা ইনানি, সেন্টমার্টিন এবং ওখানে আরও ৪টা প্রজেক্ট করতে যাচ্ছি। আমি অনেক বড় সম্ভাবনা দেখি। এত সুন্দর একটা বিচ। ১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘের বিচ পৃথিবীর কোথাও নেই। এই বিচের পটেনশিয়ালিটি প্রচুর। আর রিসেন্টলি আমরা সার্ফিং জোনে কাজ করছি। আমি মনে করি বালিতে যেমন মানুষ সার্ফিং করার জন্যে যায়। বাংলাদেশ ক্যান বি এনাদার ডেস্টিনেশন ফর সার্ফিং।
বিচ এন্টারটেইনমেন্ট বাড়ানো গেলে বিদেশি ট্যুরিস্টদের পরিমাণ বাড়বে?
মাহবুবুর রহমান রুহেল : ওটা আছে। তবে আমরা অনেকটা পিছিয়ে আছি পলিসির কারণে। এখানে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আছেন। সরকারের বেশ কিছু পলিসিজ নেয়া দরকার। আপনি যদি দুবাইতে যান, মালয়েশিয়াতে যান- তারাও কিন্তু মুসলিম কান্ট্রি। কিন্তু তাদের ওখানে অনেক কিছু রিলাক্স করা আছে।
ফরেনারদের জন্যে?
মাহবুবুর রহমান রুহেল : হ্যাঁ। ফরেনাররা যখন আসেন তখন তাদের জন্যে কস্ট ইফেক্টিভ হতে হবে। এটা করতে গেলে- এলকোহল প্রাইস থেকে শুরু করে কিছু বিষয় আছে যেগুলো চিন্তা করা দরকার যে, বাংলাদেশকে যদি কম্পিটিটিভি হতে হয়- আমি শুধু ইন্ডিয়ার সঙ্গে তুলনা করব না? আমাদের কম্পেয়ার করতে হবে থাইল্যান্ডের- ফিলিপিনস বা অন্য দেশের সঙ্গে।
কেন আসবে না পর্যটক বাংলাদেশে?
মাহবুবুর রহমান রুহেল : অবশ্যই। আমি মনে করি বাংলাদেশ যেহেতু আমাদের এত বড় একটা রিসোর্স আছে। আর আমাদের চারিদিকে যদি দেখি ল্যান্ড লকড এরিয়া আমাদের অনেক। ইন্ডিয়ার সেভেন সিস্টার্স, নেপাল, ভুটান সবাই কিন্তু ল্যান্ড লকড। ওদের কিন্তু বিচ এক্সেস নেই। ওরা ইজিলি আমাদের এখানে আসতে পারে। এখানে থ্রি হান্ড্রেড টু ফোর হান্ড্রেড মিলিয়ন ট্যুরিস্ট রেগুলার আসতে পারে। কুনমিং এর চায়নিজ ট্যুরিস্টদের আমরা এখানে অ্যাট্রাক্ট করতে পারব। এর জন্যে আমাদের আরও বেশি পর্যটকবান্ধব হতে হবে।
সরকারি বেসরকারিভাবে আরও বেশি গবেষণা করে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে?
মাহবুবুর রহমান রুহেল : একটা ভালো জিনিস করেছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে, কক্সবাজারে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট খুব শিগগিরই হতে যাচ্ছে। কাজ শুরু হয়ে গেছে। এখন অলরেডি বড় বড় এয়ারলাইন্সগুলো ল্যান্ড করছে এখানে। যখন এটি ওপেন হয়ে যাবে তখন কিন্তু অনায়াসেই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্যুরিস্ট এখানে পাব আমরা।
বাংলাদেশের বিনোদন সেক্টরে কাজ করছে স্টার সিনেপ্লেক্স এবং টগি ওয়ার্ল্ড- এই বিনোদন সেক্টর সম্পর্কে আপনার কাছে জানতে চাই?
মাহবুবুর রহমান রুহেল : শুধু ঢাকা শহর না সার্বিকভাবে সারা বাংলাদেশে যদি চিন্তা করি এই দেশে কিন্তু বিনোদনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই- আগে ছিল। আগে সারাদেশে ১২০০ এর বেশি সিনেমা হল ছিল সেখান থেকে তা কমে এখন ২০০ এর নিচে চলে এসেছে। এই কারণে ইয়াং জেনারেশনের কাছে হতাশা অনেক বেশি। তাদের জন্যে বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এই কারণে মাদকের প্রতি মানুষের অনেক চাহিদা বেড়েছে এবং এটি নিয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশে। এই মাদক বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বিনোদনের ব্যবস্থা বাড়ানো দরকার। এটি চিন্তা করেই ষ্টার সিনেপ্লেক্স ইয়ূথ সেন্ট্রিক নিয়ে আমরা কিছু কাজ করছি। যেমন, আমাদের যেসব সিনেমা আসছে যে সব সিনেমা আমরা ইম্পোর্ট করে নিয়ে এসে দেখাচ্ছি- আমরা সেগুলোর  বেশির ভাগই ইয়ূথ সেন্ট্রিক। আমাদের টার্গেট মার্কেট হচ্ছে ১২ বছর বয়স থেকে প্রায় ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত। এদের নিয়ে আমাদের কাজ এবং সাড়া পড়েছে প্রচুর। আমি বলব এই ঈদে আমাদের একটা ভয় ছিল যে বিশ্বকাপ ফুটবল হবে সবাই খেলা দেখবে কিন্তু তারপরেও কিন্তু প্রচুর লোক এসেছে। এটা ডিপেন্ড করে মুভির উপরে। ভালো ভালো মুভি এসেছে এবারের ঈদে। অ্যাভেঞ্জারস, জুরাসিক পার্ক আর লোকাল ছবি পোড়া মন এবং কমলা রকেট-এই সব ভালো ভালো  ছবির কারণে কিন্তু মানুষ হলমুখী ছিল।
ইমপ্রেস এর সঙ্গে আপনারা তো একসঙ্গে কাজ করছেন?
মাহবুবুর রহমান রুহেল : হ্যাঁ- ইমপ্রেসের সঙ্গে আমাদের যাত্রার শুরু থেকেই একসঙ্গে আছি এবং অনেক ভালো ভালো সিনেমা ইমপ্রেস আমরা রিলিজ করেছি এখানে। আমি আশা করব- ইমপ্রেস আরও বেশি ভালো ভালো বিনিয়োগ করে সুন্দর সিনেমা ইমপ্রেস আমাদের উপহার দেবে। কারণ এখন একটা ক্লাস তৈরি হয়ে গেছে যে, মাল্টিপ্লেক্সে মানুষ যাচ্ছে। স্টার সিনেপ্লেক্স এর মতো জায়গায় তারা যাচ্ছে। একটা সেফ এনভায়রনমেন্ট আমরা তৈরি করেছি। সবাই যাচ্ছেন তাদের বাচ্চাদের নিয়ে- এই রকম এনভায়রনমেন্ট আগে ছিল না।
বাচ্চাদের সিনেমা যখন আসছে তারা কিন্তু বাবা মাকে নিয়ে যাচ্ছে?
মাহবুবুর রহমান রুহেল : এটি অনেক এক্সসাইটিং। বাবা মাকে নিয়ে যাচ্ছে যে কারণে তা হলো এখন ইন্টারনেটের যুগ। ইউটিউব এবং বিভিন্ন জায়গায় তারা টেইলার দেখছে। আইএম টিভিতে দেখছে যে কি সিনেমা আসছে সামনে এবং তারা কিন্তু অনেক অনেক উৎসাহের সঙ্গে বাবা মাকে নিয়ে যাচ্ছে সিনেমা দেখাতে। এতে করে তাদের ভালো বিকাশ হচ্ছে যে, ক্রিয়েটিভি এবং তাদের জানার বিষয়গুলো। যেমন, যত অ্যানিমেটেড সিনেমা আসছে সেগুলো খুব ভালো চলছে।
বিমান পরিচালনার ওপেন স্কাই পলিসি নিয়ে কিছু শুনতে চাই আপনার কাছে?
মাহবুবুর রহমান রুহেল : একচুয়েলি, প্রটেকশিনিজম তো এখন আর কাজ করে না। আগে তো আর নিজের ফ্ল্যাগ ক্যারিয়ারকে প্রটেকশন করার জন্যে ওপেন স্কাই পলিসিতে তো যেত না? না যাওয়ার কারণে কিন্তু যতটুকু প্রটেকশন দিলে কিন্তু তা আর গ্রো করতে পারে না। তাই ওপেন কম্পিটিশন করতে দেয়া উচিত। যেমন, আমাদের আসিয়ান ওপেন স্কাই পলিসি যেটা ২০১৬ সালে হয়েছে ১০টা দেশ মিলে এটি করেছে। বাংলাদেশ ওপেন স্কাই পলিসিতে গেলে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন লাভ করবে। হয়তো বিমানের জন্যে আর কী লস হতে পারে?   
সারাদেশব্যাপী এন্টারটেইনমেন্ট ছড়িয়ে দিতে স্টার সিনেপ্লেক্সের কাজ করার ব্যাপারে জানতে চাই?
মাহবুবুর রহমান রুহেল : আমরা শুরু করেছিলাম প্রায় ১৪ বছর আগে। আর ইন্ডিয়াতে আমি যা দেখেছি সেখানে অল্প সময়ের মধ্যে এতগুলো স্ক্রিন করে ফেলেছে আমরা এখনো ওই পর্যায়ে যেতে পারিনি কারণ আমাদের সবচেয়ে প্রব্লেম হলো- কন্টেন্ট এর অভাব। আমাদের ওইভাবে বাংলা সিনেমা আসছে না। বিদেশি সিনেমা দিয়ে আমরা আর কতটুকু আগাতে পারি? তারপরেও আমরা সাহস করে অনেক দূর এগিয়েছি। আমরা বিজিবি স্কোয়ারে তিনটা স্ক্রিন খুলছি। এই রকম প্রায় প্ল্যান আছে ২০টি স্ক্রিন করার নেক্সট টু ইয়ারস এর ভেতরে। তবে আমার আলটিমেট টার্গেট হলো ১০০টা স্ক্রিন করার। কিন্তু তার জন্যে আমার দরকার জায়গা এবং আমি আশা করব যদি সরকার আমাকে সাহায্য করে তবে সম্ভব। একটু আগে আমি বলছিলাম যে, এন্টারটেইনমেন্টের অভাব বাংলাদেশে যার কারণে তরুণরা সন্ত্রাস এবং মাদকের পথ বেছে নিচ্ছে। তরুণরা হতাশাগ্রস্ত। তাদের ব্রেইন ড্রেন হচ্ছে এবং তারা খারাপ কাজ করছে। আমাদের সবারই এন্টারটেইনমেন্ট দরকার।
একটা সময় ছিল পরিবারের সবাই মিলে সিনেমা দেখতো?
মাহবুবুর রহমান রুহেল : হ্যাঁ। ওই সময় চলে গেছে কারণ আমাদের ভেন্যুজ নেই। তাই মুভি থিয়েটার হল তৈরি করতে হবে সারাদেশে।
আমাদের কিন্তু মুভির সংখ্যাও কম?
মাহবুবুর রহমান রুহেল : তা তো অবশ্যই। যেমন, আমাদের এন্ট্রি ড্রাগ মুভি তৈরি করা দরকার। মুক্তিযুদ্ধের উপরে মুভি তৈরি করা দরকার। এই ধরনের মুভি যত বেশি হবে তত মানুষের জ্ঞান হবে এবং শিক্ষার পরিমাণও বাড়বে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.