'বাংলাদেশ বিমানকে আমরা এখনো লাভজনক করতে পারিনি' -এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি

Print Friendly and PDF

মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশের পর্যটন এবং বিমান পরিবহন খাতসহ নানাবিধ বিষয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে মিলিত হন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি। সায়মন রিসোর্ট এবং দ্যা পেনিনসুলা চট্টগ্রাম ও স্টার সিনেপ্লেক্স বসুন্ধরা এর চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান রুহেল। তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজু আলীম

চলতি বছরের ০২ জানুয়ারী আপনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে আপনি কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন এবং কীভাবে তা উৎরে গেছেন?

এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি : আমাকে তেমন কোন চ্যালেঞ্জিং অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। আমি খুবই আনন্দ পাচ্ছি। এই মন্ত্রণালয়ে আমাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রী করেছেন।  জানুয়ারি মাসের ২ তারিখে আমার শপথ হয়েছে বঙ্গভবনে। এই পর্যন্ত আমার দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালনের চেষ্টা করছি। আমি কাজ করে মজা পাচ্ছি এবং বিভিন্ন কাছে সবসময়ই আমি আত্মনিয়োগ করেছি এবং দেশের সেবা করার চেষ্টা করছি। দায়িত্ব পালনে আমাকে কোন অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।
মন্ত্রণালয় থেকে কি ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ট্যুরিজম সেক্টরকে বিকশিত করতে?
এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি : এই ট্যুরিজম সেক্টর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে  শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি ক্ষমতায় আসার পরে এই সেক্টরকে অনেক গুরুত্ব দেন। পর্যটনকে তিনি অর্থনৈতিক কর্মকা-ের অন্যতম উৎসে পরিণত করার জন্যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এই জন্যেই বঙ্গবন্ধু পর্যটন করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন।  তিনি সুইজারল্যান্ডের মতো বাংলাদেশকে নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। কক্সবাজার সমুদ্র বিচে ঝাউবনের গোড়াপত্তন কিন্তু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। এই সমুদ্রের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ১৯৭৪ সালে সমুদ্রসীমা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের দ্বার উন্মোচন করেছিলেন এই দেশে। ট্যুরিজম সেক্টর নিয়ে বাংলাদেশের বাইরে আমি অনেক গেছি এবং আগামী ৫, ৬ এবং ৭ তারিখে আমরা কোলকাতা যাব সেখানে ট্যুরিজম নিয়ে একটা মেলা হবে। সেই মেলাতে আমি বাংলাদেশ থেকে নেতৃত্ব দেব। ট্যুরিজম সেক্টরে অনেক কাজ হচ্ছে। ট্যুরিজমে অফিস আছে সেখানে ট্যুরিজম এর চেয়ারম্যান আছেন কর্মকর্তারা ট্যুরিজম নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন।
ট্যুরিজম এর জন্যে অভ্যন্তরীণ বিমান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে করণীয় কী আছে?
এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি : দেখেন- আমার মন্ত্রিত্বের মাত্র ৬ মাস হয়েছে। আমি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি যে, বিদেশ থেকে পর্যটকরা আসলে তাদের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার জন্যে আমাদের অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে এবং আমরা ৬টা গাড়িও কিনেছি। তারা যেখানে যেতে চান সেখানে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে। এই ব্যাপারে আমাদের কোনো বাধ্যবাধকতা নাই।
হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুন্দর করতে কি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?
এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি : প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখেরও বেশি মানুষ হজে যায়। এইবার দ্ুিট ভাগ হয়েছে। আমাদের এখান থেকে ৬৫ হাজার আর  সৌদি আরব থেকে ৬৫ হাজার হাজী যাবেন। ভাগ করে নেয়া হয়েছে। আমরা কয়েকবার মিটিং করেছি মন্ত্রণালয়ে মিটিং হয়েছে। আমরা এখন প্রায় সমস্ত প্রস্তুতি নিয়েছি এবং এবার হজে আমরা পলিসি নিয়েছি তাতে এবার হাজীদের নিয়ে কোনো ধাপ্পাবাজি  কেউ করতে পারবে না। এই ব্যাপারে সব ধরনের প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে এবং আশা করি এবার হজে হাজীদের কোনো রকমের সমস্যা হবে না। এর ভেতরে অনেকে চাইবে ষড়যন্ত্র করার। কিন্তু কেউ কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রে সফল হবে না বলে মনে করি আমরা।  
সামনে এই মন্ত্রণালয়কে নিয়ে কী পরিকল্পনা করছেন?
এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি : আমার পরিকল্পনা হলো- ২০০৭ সালে বিমানকে আমরা একটা কোম্পানির কাছে ছেড়ে দিয়েছি। তাদের নিজস্ব ধ্যান-ধারণায় তারা বিমানকে পরিচালনা করছে এবং আমরা তাদের সহযোগিতা করছি। বাংলাদেশ বিমানকে লাভজনক খাতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছি। ২৭ তারিখে যে বক্তৃতা আমি পার্লামেন্টে দিয়েছি সেখানে প্রতিটি বিমানবন্দর যেমন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর, রাজশাহী বিমান বন্দর, সৈয়দপুর, খানজাহান আলী ইত্যাদি। খুলনা এয়ারপোর্টে যাচ্ছি আগামী ৩ তারিখে। সিলেট, বরিশাল বিমানবন্দর আর কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিটির জন্যে আমি অর্থ বরাদ্দ করে দিয়েছি এবং রানওয়েগুলোকে সুন্দর করার জন্যে এবং আধুনিকীকরণ করার জন্যে যেমন, সিলেট বিমানবন্দরে ট্রিপল সেভেন নামলে ওয়েটগুলো যাতে ঠিক থাকে তার জন্যে দেড়ফুট থেকে ২ ফুট রানওয়ে শক্ত করার কাজ করছি। ওভার লে করার জন্যে আমি টাকা বরাদ্দ করে দিয়েছি। আর বিভিন্ন বিমানবন্দরের লাইটিংয়ের জন্যে- লাইটিংয়ে অসুবিধা ছিল। আমি টাকা বরাদ্দ করে দিয়েছি লাইটিংয়ের জন্যে যাতে বিমান ল্যান্ডিংয়ের সময় কোনো অসুবিধা না হয়।
বাংলাদেশ বিমান ছাড়াও দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠানের বিমান এই দেশে ব্যবসা করছে- এদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই?
এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি : বিদেশি বিমান যেমন এমিরেটস, সৌদি অ্যারাবিয়া, ইত্তেহাদ, মালয়েশিয়ান, টার্কিজ এয়ারলাইন্স সবাই সবার মতো ভালো ব্যবসা করছে। আমাদের সঙ্গে কারও কোনো সংঘাত নেই। সব এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা আমার সঙ্গে দেখা করেছেন তাদের বলেছি- আপনাদের ব্যবসা আপনারা করে যান। তারা কেউ বলতে পারবেন না আমি যে কয়দিন মন্ত্রী হয়েছি তাদের কোন অসুবিধা করেছি।
এমিরেটস এর প্রায় তিনটা ফ্লাইট আসে। তাদের ফ্রিকোয়েন্সি অনেক বেশি। আর আমাদের এদিকে বিমানের বা লোকাল এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্রিকোয়েন্সি কিন্তু ততটা নেই। এখানে বৈষম্য হচ্ছে? আমাদের বাইল্যাটারাল এগ্রিমেন্ট যদি এভাবে করা যায় যে, যতগুলো এয়ার লাইন্স তাদের আসবে, ততটা এয়ারলাইন্স আমাদের যাবে ফ্ল্যাগ ক্যারিয়ার বা প্রাইভেট এয়ারলাইন্স যাই হোক?
এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি : এখানে আসলেই কিছু সমস্যা আছে আমাদের? যেমন, চায়নাতে- তাদের বিমান আমাদের দেশে আসে কিন্তু আমরা এখনো পাঠাতে পারিনি?
কিন্তু আমরা কোন রয়্যালিটি নিচ্ছি না?
এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি : হ্যাঁ। আমরা কোন রয়্যালিটি নিচ্ছি না। এই সমস্যা আছে। তবে অচিরেই এই  সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আমি আজ থেকে ১ মাস আগে অস্ট্রেলিয়ায় গেছিলাম । সেখানে আমাদের একটা চুক্তি হয়েছে- তাদের মন্ত্রীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াতে চুক্তি করে এসেছি আমাদের বিমান চালু করার জন্যে। কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু বাংলাদেশ বিমানকে আমরা এখনো লাভজনক করতে পারিনি।  আমরা এখনো অনেক লসে আছি।
পলিসির জায়গায় চেঞ্জ আনলে লাভ করা সম্ভব হবে?
এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি : আপনি ঠিকই বলেছেন। এই জায়গায় আমরা চিন্তা ভাবনা করছি এবং সংসদেও আমি এটি বলেছি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে।
দেশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আপনার কাছে জানতে চাই?
এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই অভিযান চলছে এবং জনগণের কাছ থেকে এই ব্যাপারে যথেষ্ট সহযোগিতা পাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই দেশে হলি আর্টিজানের মতো ঘটনা ঘটে গেছে। এই দেশে একযোগে ৭০-৮০টার মতো জায়গায় এক সঙ্গে বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে এক সময়ে। বিদেশিদেরও হত্যা করা হয়েছে এখানে- এই রকমেরও ঘটনা কিন্তু ঘটেছে আগে মৌলবাদের উদ্যোগে এবং তথাকথিত ইসলামের নামে। সেই জায়গা থেকে আমরা উত্তরণ করতে পেরেছি জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে। আর এখন যুবকদের ধ্বংস করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারণ যুবকদের ধ্বংস করতে পারলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইয়াবা সেবন ব্যাধির মতো ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে অপশক্তি। আমরা এই শক্তিকেও অবশ্যই প্রতিরোধ করতে পারব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

সাক্ষাৎকার
 মতামত সমূহ
Author : মাহমুদ
ইনি যে কিছু করতে পারবেন না, তা ইনার জি হুজুর মার্কা উত্তর পড়ে বুঝা যায়। অপ্রাসঙ্গিকভাবে বঙ্গবন্ধু আর প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে আনা তোষামোদী। মন্ত্রী যদি ভিশনারী না হয়, তাহলে অবস্থার কোন পরিবর্তন ঘটবে না।
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.