এ সপ্তাহের পর্ব- বায়ুদূষণে পরিবেশ বিপর্যয়

Print Friendly and PDF

বায়ুদূষণে শুধু পরিবেশই নয়, মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দূষণের কারণে চোখ, নাক ও শ্বাসনালিতে জ্বালাপোড়া, নিউমোনিয়া, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, এমনকি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘমেয়াদি বায়ুদূষণে নবজাতক ও শিশুদের মারাত্মক ক্ষতি হয়

পৃথিবীতে উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সহায়ক উপাদানগুলোর মধ্যে বায়ুম-ল অন্যতম। উদ্ভিদের খাদ্য থেকে শুরু করে প্রাণীর শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য বাতাসে অক্সিজেন দরকার। কিন্তু প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কর্মকা-ে বাতাস দূষিত হয়ে দিন দিন বায়ুদূষণ মারাত্মক রূপ ধারণ করছে।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে শিল্পায়ন ও নগরায়ণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিল্প-কারখানার গ্যাস পরিশোধিত না হয়েই খোলা পরিবেশে মিশছে। একইসঙ্গে জ্বালানি হিসেবে পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ইত্যাদির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। নগরায়ণের নামে বনভূমি ধ্বংস, নদী ভরাট ও কৃষিজমি দখল করে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন। এসব দালান-কোঠা নির্মাণের সময় ধুলোবালি বাতাসে মিশে বায়ুদূষণ হচ্ছে। নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবহন খাতেরও প্রসার ঘটছে। ত্রুটিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে। এসব যানবাহন পরিবেশের গায়ে ক্ষত সৃষ্টি করছে।
বায়ুদূষণের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী জলবায়ু দূষক এক ধরনের বায়ু দূষণকারী গ্যাস, যা বায়ুম-লে অল্প সময়ের জন্য অবস্থান করে মারাত্মক ক্ষতি করছে। দূষকগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ কালো কার্বন, মিথেন, বায়ুম-লের নিম্নস্তরের ওজোন গ্যাস এবং হাইড্রোফ্লুরোকার্বন। ধানের চাতাল, ইটভাটা, রাস্তার পিচঢালাই ইত্যাদি থেকে অধিক কালোকার্বন নিঃসরিত হচ্ছে। গ্রামে ব্যবহৃত মাটির চুলা থেকেও অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণে বায়ুদূষণ সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রতিনিয়ত বায়ুদূষণে বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। বাতাসে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ বৃষ্টির সঙ্গে মিশে কৃষিজমি ও বিভিন্ন জলাশয়ে পড়ছে। এতে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ মারা যাচ্ছে। এসিড বৃষ্টির কারণে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। বায়ুদূষণে শুধু পরিবেশই নয়, মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দূষণের কারণে চোখ, নাক ও শ্বাসনালিতে জ্বালাপোড়া, নিউমোনিয়া, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, এমনকি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘমেয়াদি বায়ুদূষণে নবজাতক ও শিশুদের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
বায়ুদূষণ রোধে পরিবহন খাত ও শিল্প-কারখানায় নবায়নযোগ্য শক্তির যেমনÑ সৌরশক্তি, বায়োগ্যাস ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগও বাস্তবায়ন করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব। বায়ুদূষণের জানা-অজানা তথ্য নিয়ে এ সপ্তাহের পর্ব ’বায়ুদূষণে পরিবেশ বিপর্যয়’। অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করছেন মুকিত মজুমদার বাবু। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন ড. মনজুরুল হান্নান খান। বাংলাদেশের প্রথম জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ নিয়ে ধারাবাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘প্রকৃতি ও জীবন’ প্রচারিত হচ্ছে চ্যানেল আইয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১.৩০ মিনিটে। পুনঃপ্রচার শুক্রবার সকাল ১১.০৫ মিনিট এবং রবিবার সকাল ৫.৩০ মিনিটে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.