[স ম্পা দ কী য়] মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ বাংলাদেশ কি প্রস্তুতি নিচ্ছে?

Print Friendly and PDF

০৭ জুলাই ২০১৮ থেকে আনুষ্ঠানিক শুরু হয়ে গেল মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ। দেশ দুটি পরস্পরের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে। মোট ৩৪ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম পদক্ষেপ নেয়। চীনও ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করলেই একই পরিমাণ অর্থের পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে সে দেশ থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর। শুক্রবার মধ্যরাত পেরোতেই শুরু হয়ে গেলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এ বাণিজ্যযুদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে ৩৭৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তারা আরও অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দ্বিতীয় দফার পদক্ষেপে আরোপিত মোট শুল্কের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন ডলার বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে অসম বাণিজ্যের অভিযোগ করে আসছেন। দেশটির সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তিনি বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত এবং ‘বাণিজ্যযুদ্ধে জেতা খুব সহজ’ এ কথা ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন। চীনও বরাবরই এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং মাথা নত না করার, কোনো ছাড় না দেয়ার ঘোষণা দিয়ে এসেছে। ট্রাম্প অবশ্য কেবল চীনের সঙ্গে নয়, প্রতিবেশী কানাডা থেকে শুরু করে ভারতসহ ইউরোপের মিত্র দেশগুলোকেও শুল্কের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাণিজ্যযুদ্ধ পুরো মাত্রায় সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লে তাতে কোনো এক পক্ষের জেতার সম্ভাবনা কম এবং এতে করে ভোক্তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি কয়েকটি দেশের মধ্যে এই যুদ্ধ সীমাবদ্ধ থাকে তবে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশগুলো আমদানির বিকল্প বাজার খুঁজবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো রপ্তানিমুখী দেশগুলোর লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রপ্তানির সুযোগ আরও বেড়ে যাবে। যথাযথ প্রস্তুতি থাকলে বাংলাদেশ এর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে যেতে পারবে। অর্থাৎ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
তবে বাণিজ্যখাতের এই যুদ্ধ বৈশি^কভাবে ছড়িয়ে পড়লে ও দীর্ঘমেয়াদি হলে বাংলাদেশের মতো বাণিজ্যনির্ভর দেশগুলো বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। এতে করে বাংলাদেশ এতদিন যাদের কাছ থেকে আমদানি করতে, তাদের পণ্য ওইসব দেশে যাওয়া শুরু করবে, ফলে বাংলাদেশের আমদানি খরচ ও ঝক্কি বেড়ে যাবে। যেমন ভারত মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা তুলার ওপর চীন শুল্ক আরোপ করায় সে দেশের ব্যবসায়ীরা এখন তুলার জন্য ভারতের বাজারের দিকে ঝুঁকবে। এসব হিসেবে ভারতের তুলার দাম গত এক মাসের ব্যবধানে বেড়ে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশের বাজারেও সুতার দাম বাড়তে শুরু করেছে। জানা গেছে, এক মাস আগেও ভারত থেকে তুলা আমদানিতে প্রতি পাউন্ডের দাম পড়ত ৮০ থেকে ৮২ সেন্ট। সেটি এখন বেড়ে ৯০-৯৫ সেন্ট হয়ে গেছে। এর ফলে সুতার দাম এখন বাড়তি।
আবার চীন রপ্তানি করে এমন কোনো পণ্য যদি বাংলাদেশও রপ্তানি করে, তাহলে বিপদ আছে।  যেমন চীন থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র যদি শুল্ক বৃদ্ধি করে, তবে এটি বাংলাদেশের তৈরি কাপড়ের ওপরও প্রযোজ্য হবে। চীন কোনো না কোনো উপায়ে এটা মোকাবিলা করতে পারলেও ছোট অর্থনীতির দেশ হিসেবে এর ফলে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হবে। এক্ষেত্রে নতুন বাজার সন্ধান এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
সরকার কি এসব বিষয় যথাযথভাবে আমলে নিচ্ছে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কি নেয়া হচ্ছে? অর্থনৈতিক উন্নতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বাণিজ্যযুদ্ধের এই পরিস্থিতিকে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে পারতে হবে।
১২ জুলাই ২০১৮  বর্ষ ১১  সংখ্যা ৪

সাপ?তাহিক পতিবেদন

নিয়মিত বিভাগ
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.