[করপোরেট সাক্ষাৎকার] ‘সবকিছু মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে আনতে চাই’-দিলীপ কুমার আগারওয়াল সিআইপি

Print Friendly and PDF

সিআইপি, পরিচালক, এফবিসিসিআই, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজু আলীম

প্রথমবারের মতো আপনি সিআইপি অ্যাওয়ার্ড পেয়ে কেমন লাগছে?
দিলীপ কুমার আগারওয়াল সিআইপি :
নরমালি এক কথায় যদি বলি- যখনই মানুষকে কোনো স্বীকৃতি দেয়া হয় তখন কিন্তু খুব ভালো লাগে। কিন্তু কোনো স্বীকৃতির পাশাপাশি দায়বদ্ধতা কিন্তু বেড়ে যায়। তাই আমার বেলায়ই অনুরূপ আপনি ধরে নিতে পারেন আমারও খুব ভালো লাগছে। জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেই হিসাবে স্বর্ণ নীতিমালা থেকে শুরু করে এফবিসিসিআই এর পরিচালক হিসাবে চুয়াডাঙ্গা চেম্বারের প্রতিনিধি আমি। তাই এখানেও আমার সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতা যা দিয়ে মানুষ আমাকে চেনে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এর আজকে যে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি এটি সমন্বিত প্রচেষ্টা। শুধু একার প্রচেষ্টা না। এর জন্যে আমি ধন্যবাদ দেবো আমার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড টিম, চুয়াডাঙ্গা চেম্বার, ফেডারেশন, জুয়েলারি সমিতি এদের সবাইকে আপনি আপনার মাধ্যমে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এই সরকার একটা ব্যবসা বান্ধবসরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি স্পেশাল ইকোনমি জোন থেকে শুরু করে এই যে ব্যবসার জন্যে ব্যাংক ইন্টারেস্ট সিঙ্গেল ডিজিট করেছেন। তিনি সেদিন বলেছেন যে, ‘কোন ব্যাংক যদি সিঙ্গেল ডিজিট না করে থাকে তাহলে আপনারা সরাসরি আমাকে জানান।’ এই যে উদ্যোগ এই উদ্যোগ স্বাধীনতার পরে কোনো প্রধানমন্ত্রী নেয়নি। আমাদের কমার্স মিনিস্টার বললেন যে, জাস্ট কী পরিমাণ জিডিপিতে ভূমিকা রাখছে এক্সপোর্ট। এক্সপোর্ট ২০০৯ সালে যেখানে ছিল ১৪ সেখান থেকে আজকে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ এ। এই যে আমাদের প্রাপ্তি। একটার পর একটা স্বীকৃতি। রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে খেতাব পেয়েছেন। ক্রিকেট সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশকে চিনিয়েছে। আমার অনুভূতি ঠিক সেই রকমই।
ডায়মন্ড এর ব্যবসা করে সিআইপি হলেন- এটি বাংলাদেশে আপনিই প্রথম। এটি কীভাবে সম্ভব হলো?
দিলীপ কুমার আগারওয়াল :
একজনের গোল ক্লিয়ার হওয়া দরকার। ভিশন ক্লিয়ার হওয়া দরকার। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এর এখন ২৪টা আউটলেট আছে। তিন বছর আগে আমরা অনলাইন চালু করেছি। আমরা জানি আমাদের ভিশন কি? মানুষ ভবিষ্যতে শপে যাবে না? ডিজিটাল চিন্তা-ভাবনা থাকতে হবে। আমাদের ওয়েব সাইটে ১০ লক্ষ এর উপরে ভিউয়ার আছে। এক কথায় যদি বলা যায়, এই দেশে মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে যদি কোনো কিছু করে থাকে ডায়মন্ডের জন্যে তা হলো ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। আমরা ইতোমধ্যে গেলো মাসে এক্সপোর্ট করেছি। যেখানে ডায়মন্ড এখনো আমদানিনির্ভর শিল্প এখনো আমদানি না করলে এই দেশের ডমেস্টিক মার্কেট চালানো সম্ভব নয়। সেখানে আমরা রাফ ডায়মন্ড নিয়ে এসে, এই রাফ ডায়মন্ড কিন্তু আবার বন্ডের থ্রুতে আনতে হয়। আমরা আইএম ফোর এর আন্ডারে আনছি। যাতে ডিউটি দিয়ে আমরা নিয়ে আসছি এবং এখানে আমরা রাফ ডায়মন্ডকে কাট এন্ড পলিস ডায়মন্ডে রূপান্তরিত করে এক্সপোর্ট করছি।
কোন কোন দেশে?
দিলীপ কুমার আগারওয়াল :
আমরা দুবাইতে এক্সপোর্ট করলাম। যদি সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা এই জুয়েলারি শিল্পের জন্যে করা হয় তাহলে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি এটি বাংলাদেশে অন্যতম ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট সেক্টর হবে।
আপনি কোন  ক্যাটাগরিতে সিআইপি হলেন?
দিলীপ কুমার আগারওয়াল :
আমি ট্রেড ক্যাটাগরিতে সিআইপি হয়েছি।
সিআইপি হওয়ার পরে দায়িত্ব তো বেড়ে গেল?
দিলীপ কুমার আগারওয়াল :
আমাকে দেখে আমার মতো বাংলাদেশে আরও অনেক ব্যবসায়ী গড়ে উঠবে- সেই দিন আমার খুব ভালো লাগবে যে- না, আমি পেয়েছি । আজকে যেন আমাদের প্রমিজ হয় আমাদের মতো প্রত্যেকের যেন একটা ভিশন হয় ।  
আপনার নেপথ্যের গল্প শুনতে চাই?
দিলীপ কুমার আগারওয়াল :
আমি চুয়াডাঙ্গায় বড় হয়েছি। ২০০০ সালে ঢাকায় আসি। বাসে চড়ার কষ্ট আমি ঢাকায় এসে টের পেয়েছি। বাসে ঝুলে জীবনযুদ্ধে জিতে যাওয়া সত্যিই কঠিন।
আপনাদের গ্রুপ এবং প্রেম কালেকশন সম্পর্কে জানতে চাই?
দিলীপ কুমার আগারওয়াল :
আমাদের ইউনিয়ন গ্রুপ। আমাদের মালয়েশিয়ান এয়ার লাইন্সের জিএসএ আছে। আমরা নকিয়া এবং আই ফোনের অফিসিয়াল ডিস্ট্রিবিউটর। কয়েকটি গার্মেন্টস, এসপি কেমিক্যালসহ নানা ব্যবসা।
এই সব ব্যবসার প্রবৃদ্ধি কেমন?
দিলীপ কুমার আগারওয়াল :
এই গ্রুপের প্রতিটি ব্যবসা চালানোর জনে আলাদা আলাদা এমডি/সিইও আছেন। জিডিপিতে গার্মেন্টস এর কিন্তু বিরাট ভূমিকা। টোটালি কিন্তু গার্মেন্টস। এর মধ্যে একটি নিটিং, আবার আরেকটা টেক্সটাইল কিন্তু ব্যাপার একই। আমরা যারা গার্মেন্টস এর সঙ্গে জড়িত না। সাধারণ মানুষ কিন্তু জানে দিস ইজ গার্মেন্টস সেক্টর।
আপনাদের গ্রুপ নিয়ে পরিকল্পনা কী?
দিলীপ কুমার আগারওয়াল :
আমাদের প্রতিটি প্রডাক্ট তৈরি করি মধ্যবিত্ত মানুষকে কেন্দ্র করে। মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের মধ্যে আমরা সেই প্রডাক্ট তৈরি করার চেষ্টা করছি। যাতে মানুষ সবকিছু স্বাচ্ছন্দ্যে কিনতে পারে। 

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.