[অভিমত] উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি পরীক্ষা

Print Friendly and PDF

আমি একজন শিক্ষার্থীকে জানি যে প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষা পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি-তে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সে বরাবরই ক্লাসে প্রথম হয়েছে। কিন্তু উচ্চ শিক্ষার জন্য সে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিলিটারী ইনস্টিটিউট অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি, ইসলামিক ইউনির্ভাসিটি অফ টেকনোলজিতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়নি। আমি কাকে দায়ী করবো ? ক্রমাগত চারটি পাবলিক পরীক্ষায় খুব ভালো ফল অর্জন করেও ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য না হওয়ার কারণ কী হতে পারে? ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরিতেই গলদ রয়েছে। প্রশ্নপত্র এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হতে পারে। আমরা জানি, জ্ঞান অসীম। তাই নির্দিষ্ট পাঠ্যসূচিতে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নসমূহ সীমাবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। সকল বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় সাধারণ পাঠ্যসূচির মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নসমূহ সীমাবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘ তিন ঘণ্টাব্যাপী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন। এক অথবা দেড় ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সময়ে মেধা যাচাই যৌক্তিক হয় না। কেবল গোলক পূরণ করে বিকল্প উত্তর হতে উত্তর বাছাই পদ্ধতি প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। অনুমান করে বিকল্প উত্তর বাছাই করে কাকতালীয়ভাবে সঠিক উত্তর হয়ে যেতে পারে।
কিছু প্রশ্ন এমন হওয়া প্রয়োজন যার উত্তর প্রদান করতে হলে অন্ততঃ একটি পূর্ণ বাক্য লিখতে হবে।
কিছু প্রশ্ন এমন হওয়া প্রয়োজন যার উত্তর প্রদান করতে হলে চার-পাঁচটি বাক্য লিখতে হবে।
কিছু প্রশ্ন এমন হওয়া প্রয়োজন যার উত্তর লিখতে হলে একটি অনুচ্ছেদ লিখতে হবে।
প্রশ্ন প্রস্তুতকারীর নিজস্ব জ্ঞানের ওপর নির্ভর করে প্রশ্ন প্রস্তুত না করে এইচএসসি এর সাধারণ পাঠ্যসূচির মধ্যে প্রশ্ন সীমাবদ্ধ রাখা নিশ্চিত করতে হবে। তবেই প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করবে।
বিগত কয়েক বছর উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, ভর্তির জন্য যে সকল শিক্ষার্থী বেসরকারি কোচিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা গ্রহণ করেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারাই ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। দিনে দিনে কোচিং সেন্টারগুলো এতে উচ্চ হারে ফি ইত্যাদি নির্ধারণ করছে যে সাধারণ তো দূরের কথা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও তা পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যে সকল শিক্ষার্থী উচ্চদরের কোচিং সেন্টার সেবা ক্রয় করতে পারছে না তারা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ভর্তি হতে পিছিয়ে পড়ছে। যে সকল শিক্ষার্থী কোচিং সেন্টারের সেবা ক্রয় করে ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারাই উচ্চ শিক্ষা প্রদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেশি হারে ভর্তির সুযোগ পায়। উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের সিলেবাসের অধ্যয়ন ভর্তি পরীক্ষায় খুব বেশি অবদান রাখে না। আমরা জানি জ্ঞানের শেষ নেই। কোন একজন শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করার জন্য নির্দিষ্ট পাঠ্যসূচি থাকা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় যারা প্রশ্ন প্রণয়ন করেন তাদের কোচিং সেন্টারসমূহের প্রশ্নগুলো সংগ্রহ করা প্রয়োজন। তাদের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সময় কোচিং সেন্টারগুলো প্রশ্ন এড়িয়ে কেবল বোর্ডসমূহের সাধারণ পাঠ্যসূচি অনুসরণ করে প্রশ্ন প্রণয়ন করতে হবে। কয়েক বছর এ কৌশল অবলম্বন করলে কোচিং সেন্টারসমূহের ওপর শিক্ষার্থীদের নির্ভশীলতা হ্রাস পাবে। প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে। দেশ উপকৃত হবে। কোচিং ব্যবসায় ভাটা পড়বে।
মো. আশারাফ হোসেন
১২০, সেন্ট্রাল বাসাবো, ঢাকা-১২১৪



শূন্যতা, পূর্ণতা
বিভিন্ন প্রশ্নের খাতায় অনেক সময় শূন্যস্থান পূরণ করার কথা বলা হয়। যারা দক্ষ তারা শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেন আর যারা দক্ষ নন তারা শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেন না। আজ থেকে ৮০০ বছর পূর্বে বিশ্বখ্যাত রূবাইয়াত এর লেখক ওমর খৈয়াম বলেছেন, অনেক শূন্যস্থান আছে যেটা পূরণ করতে পেরেছি, অনেক শূন্যস্থান আছে যা পূরণ করতে চাইলেও পূরণ করতে পারিনি, এটাই একজন মানুষের কর্মফল। একজন মানুষ তার জীবদ্দশায় কোনো অবস্থাতেই নিজের সাফল্য ছাড়া ব্যর্থতা দেখতে রাজি নয়। সে ভাবতেই পারে না তার জীবনে কখনো শূন্যতা চলে আসবে। এই শূন্যতা কাউকে ফরহাদ বানিয়ে দিচ্ছে, কাউকে মজনু বানিয়ে দিচ্ছে, কাউকে কবি বানিয়ে দিচ্ছে, কাউকে প্রেমিক লেখক বানিয়ে দিচ্ছে। শূন্যতা আছে বলেই একজন মানুষ তার অদক্ষতা, অযোগ্যতাকে উপলব্ধি করতে পারে। তার জীবনে যদি সবকিছু পেয়ে যায় তাহলে শূন্যতার সঙ্গে সে পরিচিত হতে পারবে না। একজন লড়াকু মানুষে পরিণত হতে পারবে না।
বিশ্ব ইতিহাসে দেখা যাবে যারা খ্যাতনামা হয়েছেন, বিশ্ব জয় করেছেন তাদের শুরুটা ছিল শূন্যতা দিয়ে। বার বার তারা  হোঁচট খেয়ে পড়ে গেছেন, তারপরও তারা আবার নতুন করে দাঁড়িয়ে গেছেন শূন্যতাকে পরাস্থ করতে পেরেছেন। আর যারা পারেনি তারা হতাশার জগতে বিচরণ করছেন। খ্যাতনামা গজল গায়ক মেহেদী হাসান তার একটি গানে বলেছেন, ‘আমার পৃথিবীকে তুমি উজাড় করে দিলে/হে আমার জীবনের মালিক একি তুমি করলে?’ যদিও একটি প্রশ্ন কিন্তু এই প্রশ্নের কোনো উত্তর মেহেদী হাসান দিতে পারেননি, কেউই পারে না। যিনি হারিছেন তিনি জানেন, তিনি কি হারিয়েছেন। শূন্যতার মধ্যে বেঁচে থেকেও তিনি লড়াই করে যাচ্ছেন। বার বার পরাজিত হচ্ছেন। আবারও শূন্যতার কাছে পরাস্ত হচ্ছেন। যিনি ভাগ্য বিধাতা তিনি কিছু মানুষের জন্য সুখের স্বর্গ গড়েছেন। কিছু মানুষের জন্য শূন্যতা তৈরি করেছেন। যারা এই শূন্যতার মাঝেও বেঁচে থাকেন তারা জানেন বেঁচে থাকা কতটা কষ্টকর। যেহেতু নিজের ভাগ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়, সে কারণে সেই ব্যক্তি শূন্যতার মাঝে দিয়ে তার এক জীবনের সমাপ্তি ঘটান, যুগযুগ থেকে এটা হয়ে আসছে। তাই একের পর এক প্রেমের মহাকাব্য রচিত হচ্ছে। যিনি সুখী তিনিও শূন্যতার মাঝে বসবাসকারীদের প্রতি একটি সময় সহানুভূতি দেখান। তিনি বুঝতে পারেন আমার সব আছে তার কিছুই নেই। বিশ্বখ্যাত গজল লেখক মির্জা গালিব যথার্থই বলেছেন- যত বেশি শূন্যতা আমাকে আঁকড়ে ধরে ততবেশি শূন্যতার বর্ণনা আমি দিতে পারি। শূন্যতা আছে বলেই আমি মির্জা গালিব একেরপর এক প্রেম কাব্য তৈরি করছি। যদি আমার জীবনে পরিপূর্ণতা থাকত তাহলে কোনো দিনই না শূন্যতাকে উপলব্ধি করতে পারতাম, না শূন্যতাকে তুলে ধরতে পারতাম।
শেষে তিনি বলেছেন- হে শূন্যতা আমাকে কখনোই পরিত্যাগ করো না, তুমি আছ বলেই আমিও আছি।
সৈয়দ রশিদ আলম, মিরপুর, ঢাকা

সাপ?তাহিক পতিবেদন

 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.