অপ্রতিরোধ্য পুতিন -শুভ কিবরিয়া

Print Friendly and PDF

১৯তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ভারতে এসে ৪-৫ অক্টোবর ২০১৮ যে সামরিক চুক্তি করে গেলেন তা এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট বদলে দিতে কী ভূমিকা রাখবে সেটাই এখন আলোচ্য বিষয়। ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক অনেক পুরনো। বিশেষ করে ১৯৭১ সালে ভারত-সোভিয়েত ইউনিয়ন মৈত্রী চুক্তি, ১৯৯৩ সালে রাশিয়া ফেডারেশনের সঙ্গে ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্ব ও মৈত্রী চুক্তি, ২০০০ ও ২০১০ সালে সহযোগিতার চুক্তি সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব বেড়েছিল ভারত ও আমেরিকার নয়া মিলনের ফলে। এবারের পুতিনের সফর সেই ভারত-আমেরিকা নয়া বন্ধুত্বের জাল ছিঁড়ে আবার পুরনো ভারত-রাশিয়া মৈত্রী যুগেই ফিরল।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ভারত সফরে যা যা ঘটল-
১.    ভারত-রাশিয়া দ্বিমুখী বিনিয়োগ ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছুবে বলে দুই নেতা সম্মত।
২.    অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জ্বালানি (গ্যাস, এলএনজি ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র), সামরিক-কারিগরি খাত, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে দুই দেশ পরস্পরকে অধিকতর সহযোগিতা করতে সম্মত।
৩.    ভারতের কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণে রাশিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ভারতের কুদানকুলামের পরে রাশিয়ার সহযোগিতায় দ্বিতীয় পরমাণু চুল্লি বসানোর বিষয়েও সম্মত হয়েছে ভারত-রাশিয়া।
৪.     এস-৪০০ লং রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল ভারতকে সরবরাহ করবে রাশিয়া। এস-৪০০ লং রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করতে পারে। ৪৮টি ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করতে পারে এই সিস্টেম। ২০০৭ সালে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী সিস্টেম তৈরি করে রাশিয়া।
৫.    ইরান ও সিরিয়া বিষয়ে রাশিয়ার নীতির সঙ্গে ভারতের সহযোগিতার বিষয়টিতে উভয়পক্ষ সম্মত।
৬.    ৩৯ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য চুক্তি।
৭.    ভারতীয় নভোচারীদের মহাকাশে যাওয়ার প্রশিক্ষণ বিষয়েও ভারত-রাশিয়া চুক্তি হয়েছে। রাশিয়ার মহাকাশযানে চড়িয়ে ভারতীয় নভোচারীদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এর ‘রাশিয়ান অরবিট সেগমেন্ট’-এ নিয়ে যাবে রাশিয়া। মস্কোর মহাকাশ সংস্থা ‘রসকসমস’ এই প্রশিক্ষণের কাজ করবে। ২০২২-এ ভারতের মহাকাশ অভিযানেও সাহায্য করবে মস্কো।
৮. এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াও প্রতিরক্ষা, পরমাণু বিদ্যুৎ, মহাকাশ, রেলসহ বিভিন্ন খাতে মোট ২০টি চুক্তি হয়েছে। মোদি-পুতিন দুই নেতা ইরানের তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতেও কথা বলেছেন। চুক্তির পাশাপাশি ভারতের ছয়টি পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের উন্নয়নে কাজ করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া।

দুই.

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ভারত সফরে উভয় দেশের সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
পুতিনের রাশিয়া সফরের প্রধানতম সাফল্য হলো ভারত-রাশিয়া পুরনো সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এই সফরে পুতিন ভারতের সঙ্গে ৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থাৎ ৩৯ হাজার কোটি টাকার এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ভারতের কাছে বিক্রির চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের হাতে আসতে শুরু করবে।
রাশিয়ার এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বিশ্বের সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে এখন বিশ্বের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক মারণাস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের টার্গেট চিহ্নিত করা যাবে। একইসঙ্গে ৩৬টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পাশাপাশি একই সময়ে ৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যাবে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
এর ফলে আমেরিকার মার্কিন কাউন্টারিং অ্যামেরিকা’স অ্যাডভার্সারিজ থ্রু স্যাঙ্কশান্স অ্যাক্টের (সিএএটিএসএ) অধীনে এই ধরনের সমরাস্ত্র কেনাবেচার ক্ষেত্রে আমেরিকার একধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার ঝুঁকি আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই আইনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যেসব দেশ বাণিজ্য করবে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ২০১৪ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক এ ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছিল চীন। সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির কাছে হস্তান্তর শুরু করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার কাছ থেকে সুখোই সু-৩৫ জঙ্গি বিমান এবং এস-৪০০ কেনার কারণে চীনের সামরিক বাহিনীর ওপর গত মাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। ভারতের ক্ষেত্রে কী ঘটে সেটা একটা দেখার বিষয়। কেননা, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র বলেছেন, ‘এস-৪০০ এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমসহ অন্যান্য অস্ত্র সিস্টেম আপগ্রেডের বিষয়টি বিশেষভাবে সিএএটিএসএ আইনের দৃষ্টিতে থাকবে।’
তবে চুক্তির পর ভারতের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নরম মনোভাবের আভাস মিলছে। তারা বলেছে, কোনো ধরনের পূর্ব মূল্যায়ন ছাড়াই নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তে আসতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে লেনদেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
যদিও ভারতের বিষয়ে আমেরিকা এখন একটা রাজনৈতিক ও পলিসিগত জটিলতার মধ্যে পড়ে গেছে। আমেরিকার দরকার এই অঞ্চলে চীনের প্রভাবকে সংকুচিত করা। সেজন্য তার দরকার ভারতকে মিত্র হিসেবে কাছে পাওয়া। সে কারণেই ভারতের সঙ্গে আমেরিকার এস্টাবলিশমেন্ট নানাভাবে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি গত মাসে পরিকল্পনা ঘোষণা করে যে, তারা ২০১৯ সালে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে। তাছাড়াও  উভয় দেশ স্পর্শকাতর সামরিক তথ্য বিনিময়ের ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে। বলাবাহুল্য, যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ।
ভারত বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আমদানিকারক দেশগুলোর অন্যতম। শুধু তাই নয়, ভারত তার পুরনো সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়নের জন্যও ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। এগুলোর অধিকাংশই সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে কেনা যার মধ্যে মিগ বিমানও আছে। আবার আমেরিকার কাছ থেকে সমরাস্ত্র কেনার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত।

তিন.

ভারতের নীতিনির্ধারকরা নানাভাবেই বলে আসছিলেন যে ভারত-রাশিয়া সমরাস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা হবে এই অঞ্চলে ভারতের প্রভাব বিস্তারের অন্যতম নিয়ামক। এটা কাজ করবে গেমচেঞ্জার হিসেবেই। ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান বি এস ধানোয়া রাখঢাক না করেই বলেছেন, রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভারতের হাতে এলে উপমহাদেশের খেলাটাই ঘুরে যাবে। কেননা, রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থায় শত্রু দেশের যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন চিহ্নিত করে তাকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে গুঁড়িয়ে দেবে।  এই অস্ত্র হাতে থাকলে পাকিস্তানের সব বিমানঘাঁটিই ভারতের নাগালের মধ্যে চলে আসবে। চীনও ভারতের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর আওতায় আসবে।
গত এক দশকে ভারত অনেক বেশি যুদ্ধাস্ত্র কিনেছে আমেরিকার কাছ থেকে। এই সময়ে ক্রমে রাশিয়ার সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে দিল্লির। এর মধ্যে বেড়ে চলে ভারতের শত্রুদেশ পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে রাশিয়ার মিত্রতা। বিশেষ করে রাশিয়া পাকিস্তানকে সামরিক হেলিকপ্টার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে এই একচোখা মার্কিন প্রীতির সম্পর্ক বদলাতে হবে। এই নীতির বদলে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই চলতে হবে। উল্টো দিকে রাশিয়াও আমেরিকাকে দেখাতে চাইছিল যে, ওয়াশিংটনের বাধা ও হুমকি মোকাবিলা করেই মস্কো তার সমরাস্ত্র বিক্রি করতে পারে।
এই ভারসাম্য রক্ষা করতেই গত কয়েক মাসে ভারতীয় কূটনীতিকরা ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার আগেই রাশিয়ার সঙ্গে পাকা কথা হয়ে গিয়েছে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আমেরিকায় গিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থেই ভারতের দরকার দূরপাল্লার  এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেম। দেখার বিষয় ভারতীয় এই দেনদরবার বা যুক্তি ট্রাম্প প্রশাসনের চিন্তাকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে!

চার
ভারতের চোখ প্রধানত চীন ও পাকিস্তানের দিকে। এই দুই দেশকে মোকাবিলায় তাদের দরকার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিজের হাতে থাকা। ইতোমধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাশিয়ার কাছ  থেকে এস-৪০০ কিনেছে চীন ।
অতীতে আমেরিকার দিকে যত ঝুঁকেছে ভারত, সেই ফাঁকে রাশিয়ার কাছাকাছি হয়েছে চীন ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের ওপর মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি চাপ বাড়ানোর ফলে রাশিয়ার সঙ্গে নৌবাহিনী সমঝোতা চুক্তি করে বসেছে ইসলামাবাদ। রাশিয়া-চীন-পাকিস্তানের এই মৈত্রীর দেয়াল ভাঙতে চায় ভারত। রাশিয়ার সঙ্গে পুরনো বন্ধুত্বের দিনেই তাই ফেরত যেতে চায় ভারত। আঞ্চলিক রাজনীতির এমন মারপ্যাঁচে ভারত দুই কূলই রক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ রাশিয়ার সঙ্গে পুরনো বন্ধুত্ব টিকিয়ে রেখে চীনকে রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন। সেই সূত্র মেনেই পুতিনকে স্বাগত জানানো হয়েছে ভারতে।
এ বছরে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনে ভারতের পূর্ণ সদস্য হওয়ার পিছনে সহযোগিতা করেছে রাশিয়া। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হতে ভারতের দীর্ঘদিনের চেষ্টাকেও সমর্থন করছে রাশিয়া। এই বন্ধুত্বের ফলস্বরূপ রাশিয়া চেয়েছে ভারতের সমরাস্ত্র বাজারে তার শক্তিমান অনুপ্রেবশ।
চীনকে মোকাবিলা করতে ভারতকে পাশে চায় আমেরিকা। এটা সত্য। কিন্তু রাশিয়া, ইরানের মতো ভারতের বন্ধু দেশগুলো থেকে সামরিক ব্যবস্থা কিংবা তেল কিনলে আবার আইনি বেড়াজালে আটকাচ্ছে আমেরিকা। এই চাপের কাছে মাথা নোয়াতে চায় না ভারত। বরং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে আমেরিকার সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে চাইছে ভারত। রাশিয়ার সঙ্গে এই মৈত্রীর সেটাও একটা বড় কারণ।
ইতোমধ্যে নানা ইস্যুতে আমেরিকার নীতির বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে ভারত। বিশেষত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে চীন ও রাশিয়ার নীতির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ভারত। ভারত দেখেছে, মার্কিন নীতি যতই চীন ও রাশিয়া বিরোধী হোক না কেন, সেটা ভারতের স্বার্থ নিরঙ্কুশ সমর্থন করে না। ভারত তার নিজের স্বার্থেই এই অঞ্চলে আমেরিকা ও রাশিয়ার সঙ্গে একদিকে ভারসাম্যের মিত্রতা রাখতে চায়। অন্যদিকে পাকিস্তান যাতে আমেরিকা বা রাশিয়ার সঙ্গে খুব বড় দহরম-মহরম সম্পর্কে না জড়ায় সেটাও ঠেকাতে চায়।

পাঁচ

সামনের বছরে ভারতে লোকসভা নির্বাচন। মোদির জন্য এই নির্বাচন খুব সুখকর নাও হতে পারে। দেশজুড়ে বিরোধী দল এখন মোদির বিরুদ্ধে ফ্রান্স থেকে রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার দুর্নীতির তদন্ত দাবি করছে। মোদি, বিরোধী দলের এই আওয়াজকে স্তব্ধ করে দিতে রাশিয়ার সঙ্গে সমরাস্ত্র কেনার সুযোগকে কাজে লাগাবেন। ভারত, চীন ও পাকিস্তানকে টেক্কা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্র কিনছে রাশিয়ার কাছ থেকে- এই শক্তিমত্ত ইমেজকে নির্বাচনে কাজে লাগাতে চাইবেন মোদি।
অন্যদিকে, ভারতের হাতে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা আসায় সেটা পাকিস্তানের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয়। পাকিস্তান এখন চাইবে রাশিয়ার কাছ থেকে এ ধরনের যুদ্ধাস্ত্র কিনতে।
চীন, ভারতের পর তাই রাশিয়ার লক্ষ্য হলো পাকিস্তানের সমরাস্ত্র বাজারে রাশিয়ার নয়া অনুপ্রবেশ। সে হিসেবে এই অঞ্চলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাজার বিস্তৃত হবে। আমেরিকাও নড়েচড়ে উঠবে। ভারতের বাজারে আমেরিকান অস্ত্রসম্ভার বিক্রির যে ব্যবস্থা এতদিন ধরে তৈরি করেছে মার্কিন প্রশাসন তা এখন আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে। রাশিয়া-আমেরিকার অস্ত্র ব্যবসার প্রতিযোগিতা এই অঞ্চলে বাড়বে। এই অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে বাধ্য হবে সরকারগুলো। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়বে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

প্রচ্ছদ কাহিনী/প্রতিবেদন
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.