ডা. সুসানে গীতি : প্রথম নারী মেজর জেনারেল

Print Friendly and PDF

সুইটি আক্তার

চ্যালেঞ্জিং পেশায় একসময় নারীদের অভিগমন ভাবাই যেত না। ঝুঁকিপূর্ণ কর্মজগৎ ছিল নারীর প্রায়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে। সেখানে সাহসী নারীদের সদর্প অনুপ্রবেশ শুধুমাত্র দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলে চলবে না অনুসারীদের নিজের যোগ্যতায় তৈরি হতে হবে। এমনই এক সাহসী নারী মেজর জেনারেল ডা.সুসানে গীতি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম নারী মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়েছেন ডা. সুসানে গীতি। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বাংলাদেশে এই প্রথম সেনাবাহিনীতে নারী মেজর জেনারেল হলেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, রোবাবর ডা. সুসানে গীতিকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সামছুল হক। এ সময় ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মেজর জেনারেল সুসানে গীতি তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, আমার খুবই ভালো লাগছে বিশেষ করে যে কোনো নতুন কিছু শুরু করার মধ্যেই অন্যরকম আনন্দ থাকে। সেক্ষেত্রে আমাকে দিয়ে প্রথম শুরু হয়েছে এজন্যে আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নে যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন সেনাবাহিনীতে মহিলা অফিসারকে মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি প্রদানের মাধ্যমে সেই পদক্ষেপের আরও একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হয়।
মেজর জেনারেল সুসানে গীতি ১৯৫৮ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নারী ডাক্তার হিসেবে ক্যাপ্টেন পদবিতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথম নারী হিসেবে হেমাটোলজিতে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন এবং বিভিন্ন সামরিক হাসপাতালে প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি  বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
ডা. সুসানে গীতি শহীদ পরিবারের একজন সন্তান। বাবা পুলিশ অফিসার খলিলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। মেয়েও যখন ইতিহাসের অংশ তখন ভালো লাগা অবশ্যই একটু বেশি। বাবা ছাড়া আট সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে মায়ের সংগ্রাম ও অবদানের কথা স্মরণ করে সুসানে গীতি জানানÑ ‘আমার এই সফলতার পেছনে সব থেকে বেশি অবদান আমার মায়ের। কিন্তু আমার নানি আমাদের বেড়ে ওঠার পেছনে সাহায্য করেছেন। আমার মা যেভাবে ধৈর্য নিয়ে আমাদের মানুষ করেছেন আমরা অবশ্যই তার কাছে কৃতজ্ঞ।’
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীদের এগিয়ে আসা চ্যালেঞ্জ হলেও নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন সুসানে গীতি। দুই মেয়ে ও এক ছেলের জননী সুসানে গীতি পেয়েছেন পরিবারের সহায়তা।
উল্লেখ্য, ডা. সুসানে গীতির স্বামী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুল্লাহ মো. হোসেন সাদ (অব.) একজন সফল সামরিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন।
নতুন প্রজন্মের জন্যে সুসানে গীতির পরামর্শ ‘বি ডেডিকেটেড টু ইয়োর সার্ভিস। অটুট লক্ষ্য ও আস্থা নিয়ে এগিয়ে আসলে কেউ পিছিয়ে থাকবে না। বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাক বিশেষ করে আমি একজন শহীদ পরিবারের সন্তান আমার বাবার রক্ত যেন বৃথা না যায়।’
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, স্পিকার, সংসদ উপনেতার দায়িত্বেও নারীরা সমাসীন। এই সরকার আমলেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারক হিসেবে এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নারীদের দায়িত্ব পালন শুরু হয়।
মেজর জেনারেল সুসানে গীতি অনুসরণ করে আরও অনেক দক্ষ সামরিক কর্মকর্তা এগিয়ে এসে এই স্পর্শকাতর, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্রকে জোর কদমে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে প্রত্যাশা সবার। তথ্যপ্রযুক্তির নিরন্তর গতি প্রবাহ এবং বিশ্বপরিসরে সহজ অভিগামিতাকে জোরদার করে নারীরা যেন নিজের দক্ষতা এবং সক্ষমতা প্রমাণ করে সমতাভিত্তিক সামাজিক অবস্থানে যোগ্যতম জায়গায় বসতে পারে সেটাই এখন লক্ষ্য। সেটা যে অসম্ভব কিছু নয় সুসানে গীতি তা দেখিয়ে দিলেন। উদাহরণ তৈরি করে অন্যদের উদ্দীপ্তও করলেন।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

ফিচার ও অন্যান্য
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.