‘সংসদ ভেঙে না দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে না’-ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

Print Friendly and PDF

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। অর্থনীতিবিদ। রাজনীতি ও সমাজ বিশ্লেষক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।
নির্বাচন, সংলাপ ও রাজনীতির চলমান প্রসঙ্গ নিয়ে মুখোমুখি হন সাপ্তাহিক-এর। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে পরিস্থিতি ফের সংঘাতের দিকে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

সাপ্তাহিক : রাজনীতির সংলাপ কীভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন?
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান : চলমান রাজনীতির যে প্রতিযোগিতা রয়েছে, সংলাপকে তার মধ্যে রেখে আলোচনা করাই শ্রেয়। সংলাপকে আলাদা করে মূল্যায়ন করলে রাজনীতির অন্য বিষয় চাপা পড়ে যায়।
নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে দেবে কী-না এটিই  এখন রাজনীতির প্রধান ইস্যু। অন্যদিকে  কোন রাজনৈতিক কৌশলে বিরোধীপক্ষকে আরও দুর্বল করা যায়, তা হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের কাছে আরেকটি ইস্যু। এ দুটি বিষয় একবারে পরিষ্কার এবং এ নিয়ে রাজনীতিতে ছায়া বক্সিং চলছে।
সাপ্তাহিক : এমন ছায়া বক্সিং আগেও ছিল। এবারে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে হলে কী বলবেন?
ড. হোসেন জিল্লুর : প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংকট কাটিয়ে ওঠা অনেকটাই সহজ ছিল। সে প্রেক্ষাপট এখন ভিন্ন। এবারে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের আলামত দেখতে পাচ্ছি।
সাপ্তাহিক : কীসের আলামত পাচ্ছেন, যা প্রেক্ষাপট আলাদা করে তুলছে?
ড. হোসেন জিল্লুর : বিরোধীপক্ষ নির্বাচনে অংশ না নিলেও ২০১৪ সালে সরকার এক ধরনের ব্যাখ্যা তৈরি করেছিল, যা নির্বাচনে বৈধতার ঘাটতি থাকলেও দেশি-বিদেশি সমর্থন পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, প্রধান প্রতিযোগী বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলা এবং বিরোধীপক্ষের ভাবমূর্তির অভাব- এই তিন কারণে সরকারি দল বিশেষ অবস্থান তৈরি করে ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ পেয়েছিল। এরপরেও সরকার মধ্যবর্তী একটি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। এর মধ্য দিয়ে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য  না হলেও স্বল্পগ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার সফল উপস্থাপন করতে প্রয়াস চালায় সরকার। বিদেশি একটি শক্তিও সরকারকে সমর্থন করেছিল প্রত্যক্ষভাবে।  
সাপ্তাহিক : একই অবস্থা এখনও চলমান?
ড. হোসেন জিল্লুর : ঠিক তা নয়। প্রধান প্রতিযোগী নির্বাচন বয়কট করার পরিবর্তে এবারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। আলোচনা হচ্ছে, বিরোধিতা হচ্ছে, এরপরেও বিরোধীপক্ষ নির্বাচনমুখী বলে মনে করা হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, এই মুহূর্তে বিরোধীপক্ষের চাইতে ভাবমূর্তি সংকটে আছে সরকারি দলের, যা ২০১৪ সালের নির্বাচনে উল্টো ছিল। বৈধতার সংকট নিয়ে ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রীয়বাহিনী দিয়ে গত ৫ বছর অতিমাত্রায় দমন-পীড়ন করেছে সরকার। আমরা নিরাপদ সড়ক এবং কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে দমন-পীড়নের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছি। এ ছাড়া সরকারের দুঃশাসন আর দুর্নীতি ভাবমূর্তি আরও সংকটে ফেলেছে।
১৫৪ জন সাংসদ গতবারে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার যে কৌশল নিয়েছিল সরকার এবার তা সম্ভব হবে না বলে মনে করি। আর ওই ধরনের কৌশল ফের নিলে সংকট আরও বাড়িয়ে দেবে।  এ নিয়ে সরকারও সজাগ বলে মনে হচ্ছে।
এ কারণে সরকার চাইছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক, তবে প্রতিপক্ষকে যতটুকু দুর্বল করে রাখা যায় এবং ফলাফল সরকারের পক্ষে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। যদিও এ নিয়ে সরকারি দলের মধ্যেও টানাপড়েন আছে।
সাপ্তাহিক  : এই টানাপড়েন প্রশ্নে বিরোধীপক্ষের অবস্থান কোথায়?
ড. হোসেন জিল্লুর : বিএনপি বা বিরোধীপক্ষও এক ধরনের টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। বিএনপি যে দাবি তুলেছে, তার মধ্যে নির্বাচন বয়কট করবে কী করবে না তারও সম্পর্ক রয়ে গেছে। যেমন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিটি ধোঁয়াশার মতো। সরকারের কৌশলের কাছে বিএনপির নেতৃত্ব যে সংকটের মধ্যে আছে, তা অস্বীকার করার জো নেই। আইনি সংকট এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে বিএনপি আসলে কীভাবে হিসাব মিলাবে তা নিয়েও দ্বিধা আছে।
এ কারণে আপনি একটি সংলাপ থেকেই সমাধান বা সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে পারবেন না।
সাপ্তাহিক : আপনি সরকার এবং বিএনপির টানাপড়েনের কথা বললেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যাত্রা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিয়েছে কী- না?
ড. হোসেন জিল্লুর : বিএনপি ভাবমূর্তি সংকটে ছিল দীর্ঘমেয়াদে। সে সংকট এখনও খানিক আছে। এ কারণে সরকার একঘরে করে ফেলার সুযোগ পেয়েছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর একঘরে করে ফেলার সংকট থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছে বলে ধারণা করা যায়।
আর এই পরিস্থিতিতে সংলাপকে আমি ছায়া বক্সিংয়ের সঙ্গে তুলনা করতে চাই। অর্থাৎ মূল লড়াই বা প্রতিযোগিতার আগে এদিক ওদিক একটু লড়াই করে নেয়া চলছে মাত্র। সংলাপটা ঠিক তাই। ড. কামাল হোসেনের চিঠি, প্রধানমন্ত্রীর জবাব, পরবর্তী ঘটনা প্রবাহের সমস্তটাই দেখতে হবে ছায়া বক্সিংয়ের মতো করে। সংলাপেই সমাধান এমন মানসিকতা রাজনৈতিক মহলে এখনও তৈরি হয়নি।
সংলাপের চমক অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। সংলাপ প্রসঙ্গ কাটিয়ে রাজনীতি ফের আগের জায়গায় ফিরতে চাইছে। এখন প্রধান প্রতিযোগী একঘরে হওয়ার সংকট কাটিয়ে কিছুটা নির্বাচনমুখী হতে আগ্রহী। অন্যদিকে ক্ষমতায় থাকতে সরকারও মরিয়া। এ দুটি বিষয় অন্তত এখন পরিষ্কার। সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ২০১৪ সালের মতো করে আর নির্বাচন আয়োজন করতে পারছে না।
সাপ্তাহিক : সরকার তো এখন অধিক আত্মবিশ্বাসী। রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে মাঠ নিয়ন্ত্রণ। দমন-পীড়ন করে আগের থেকে শক্তিশালী। উন্নয়ন প্রশ্নেও এগিয়ে সরকার। তাহলে কেন মনে করছেন, ২০১৪ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন হবে না বা সরকার কেন চ্যালেঞ্জ নেবে না?
ড. হোসেন জিল্লুর : সব কিছু রেখেও সরকারের মধ্যে জনমত প্রশ্নে শঙ্কা কাজ করছে। এর প্রমাণ হচ্ছে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সভায় আলোচনা হয়েছে ৭০ এর অধিক এমপি ঝুঁকিতে রয়েছেন। জনমত গুরুত্ব না পেলে তো এমন আলোচনা হতে পারে না। তার মানে ওই ৭০ জন এমপির কর্মকা- এবং জনসমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ ভয়ে আছে। এই ভয়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে যদি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হয়।
নেতৃত্ব সংকট থাকলেও বিএনপি এখন নির্বাচনে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এর মধ্য দিয়ে বিএনপি এক ধরনের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিচ্ছে বলে মনে করি। ২০১৪ সালে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বয়কট (ওয়াকওভার) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি। আর ২০১৮ সালে ওয়াকওভার (বয়কট) করার পরিবর্তে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি। যদিও পরিস্থিতি ফের সংঘাতের দিকেও যেতে পারে। আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যেই আছি।
তবে চলমান রাজনৈতিক প্রবণতা থেকে বলা যায়, রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তাই হবে লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার। এক বছর পরে যখন আমরা ফিরে তাকাবো তখন হয়তো আজকের সংলাপ পরিস্থিতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার  সুযোগ আসবে।
সাপ্তাহিক : নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে। তাহলে এই ‘সংলাপ’ বা ‘ছায়া বক্সিং’ থেকে আমরা কী পাচ্ছি?
ড. হোসেন জিল্লুর : সংলাপ থেকে যা প্রত্যাশা করা হয়, তা আমরা পাবো বলে মনে করি না। পরস্পরবিরোধী আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক বা গায়েবি মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। এটি একটি মাত্র আলোচনা। আরও অনেক বিষয় আছে।
সুতরাং রাজনীতির অন্য প্রবণতাগুলোর কারণে সংলাপ তুলনামূলক গুরুত্বহীন হয়ে গেছে।
সাপ্তাহিক : সংলাপ থেকে কি আসলে বেশি কিছু আশা করা হয়েছিল?
ড. হোসেন জিল্লুর : অন্ধকার পরিস্থিতিতে আলোর আশা করা যেতেই পারে। তবে সংলাপ থেকেই ফল আসবে এমন ধারণা বদ্ধমূল হলে ভুল হবে। এক প্রকার চাপ থেকে সংলাপের আয়োজন। কিন্তু যেভাবে সংলাপ আলোচনা ফিকে হচ্ছে, তা মূলত চাপকেই দুর্বল করা হলো।
সাপ্তাহিক : চাপ বলতে কী বোঝাবেন?
ড. হোসেন জিল্লুর : বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণ আছে।  আবার রাজনীতির নতুন মেরুকরণ ঘটেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে। সভা-সমাবেশের প্রসঙ্গও সামনে আসছে, যদিও এটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার।
সব মিলিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে আকাক্সক্ষার চাপ আছে। সরকার বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খেলে সেই চাপ দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
সাপ্তাহিক : তাহলে বলতে চাইছেন, নির্বাচন ঘিরে সরকার চাপমুক্ত হতে পারছে?  
ড. হোসেন জিল্লুর : না। সরকারের কৌশলে খানিক দুর্বল হতে পারে চাপ। কিন্তু জনআকাক্সক্ষার চাপ কিন্তু দূর হয়নি। তবে মুহূর্তের যে চাপ ছিল, তা থেকে সরকার কিছুটা রেহাই পেয়েছে। চাপমুক্ত হবে নাকি আরও তীব্র হবে তা নির্ভর করবে বিরোধীপক্ষের সামনের দিনের রাজনৈতিক কর্মকা- এবং কৌশলের ওপর।
সাপ্তাহিক :  চাপ তীব্র হওয়া আবার দুর্বল হওয়ার এমন পরিস্থিতির মধ্যে রাজনীতি যাচ্ছে কোথায়?
ড. হোসেন জিল্লুর : আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। সংসদ ভেঙে না দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে না। সংসদ ভেঙে না দিয়ে তফসিল ঘোষণা করলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতেই পারে। কারণ এখন ট্র্যাডিশন হয়েছে, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার। ছোট পরিসরে সরকার থাকতেই পারে। কিন্তু সংসদ না ভাঙলে নির্বাচনের মাঠ সমান্তরাল হবে না। আর এটিই মূলত জটিলতা সৃষ্টি করবে।
কারণ অসমান্তরাল মাঠে বিরোধীপক্ষ কীভাবে খেলবে, সেটাই এখন চ্যালেঞ্জ। সরকার তাদের দাবি না মানলে খেলা তো আর থেমে থাকবে না। কঠিন হলেও বিরোধীপক্ষও খেলতে চাইবে এবার।
সাপ্তাহিক : এমন খেলায় কী ফল আসবে?  
ড. হোসেন জিল্লুর : প্রশ্ন হচ্ছে, সংলাপের মাধ্যমে কিছু দাবির সমাধান নাকি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তৈরি করা বা অক্ষুণœ রাখা? সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চালিয়ে নেয়ার কোনো বিকল্প নেই।
সাপ্তাহিক : এই মুহূর্তে বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোন পথে হাঁটতে পারে বলে মনে করেন?
ড. হোসেন জিল্লুর : আমার মনে হয় ক্ষমতাসীনরা না মানলেও বিএনপি এখন এই দাবিগুলো নিয়ে দ্বারে যাবে। অফিসিয়ালি না মানলেও দাবির প্রতি জনসমর্থন আদায় করতে চাইবে এবং রাজনীতির মাঠে শক্ত অবস্থান দাঁড় করাতে পারবে।
কিন্তু বিএনপিও অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেনি। যেমন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নির্বাচন না-কী তিনি জেলে থাকতেই নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি, এটি কিন্তু এখনও সুরাহা করতে পারেনি। এই দো-টানা বিএনপির জন্য সংকট এবং ক্ষমতাসীনদের জন্য সুবিধারও বটে। যদিও প্রার্থী বাছাই, আসন বণ্টনসহ নানা প্রশ্নে উভয় জোটই সংকটে পড়বে।
সাপ্তাহিক : বলা হচ্ছে সরকারের কোর্টে বল। তাহলে কী বল নিয়ন্ত্রণে রেখে ‘৫ জানুয়ারি’র মতো আরেকটি নির্বাচন ...
ড. হোসেন জিল্লুর : কী ঘটবে তা বলা মুশকিল। সরকার আরও বেপরোয়া হতে পারে। আরও অসহিষ্ণু আচরণে বিরোধী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করতে পারে। এর বিপরীতে বিরোধী জোটও অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে পারে। এই অনিশ্চয়তা তো আছেই।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হবে না তা বলা যেতে পারে। মৌলিক প্রশ্নে তখন আর এখনকার মধ্যে তফাৎ আছে। সরকার জুলুম করে একতরফা নির্বাচন করে আর গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। সরকারও জানে ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনে গেলে বাংলাদেশ সইতে পারবে না। এমনকি আওয়ামী লীগের মধ্যকার অস্বস্তি আরও বাড়বে। এ কারণে সরকারও চাইছে নিয়ন্ত্রণে রেখে একধরনের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। সরকারের মধ্যে আর আগের ব্যাখ্যাও কাজে দিচ্ছে না। একতরফা নির্বাচনের দিকেও যেমন হাঁটতে পারে সরকার আবার তার ফলাফল নিয়েও শঙ্কিত তারা।
৫ বছর চালিয়ে যেতে পারলেও পরবর্তী সময় নিয়ে সরকারের মধ্যেও দ্বিচারিতা আছে।
সাপ্তাহিক : বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিকধারা দুইভাবে বিভাজিত। এক হচ্ছে ভারত, আর বাকি বিশ্ব। বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতের মনোবলের পরিবর্তন তো হচ্ছে না?
ড. হোসেন জিল্লুর : সময় একদিন গড়ালেই বিশ্ব রাজনীতি পরিবর্তিত হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত-চীন-আমেরিকার মধ্যে বাংলাদেশের ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্ব মিলছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে এখন অধিকমাত্রায় সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। এ কারণে ভারতনীতি সব সময় এক থাকবে তা মনে করারও কোনো কারণ নেই।
সাপ্তাহিক : তাহলে এই অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশ যাত্রার শেষ কোথায়?  
ড. হোসেন জিল্লুর : শেষ কোথায়, তা এক বাক্যে বলা যাবে না। অনিশ্চয়তার মধ্যেই হয়তো আশার আলো ফুটবে।
সাপ্তাহিক : চলমান সংকট উত্তরণে আপনার পরামর্শ কী?
ড. হোসেন জিল্লুর : সরকার নানা উন্নয়নের কথা বলে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। ভালো কথা। কিন্তু গণতন্ত্র আড়াল রেখে উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। আমি আশা করি, ক্ষমতাসীনরাও এখন তা বুঝতে পারছে।
বাংলাদেশে এই মুহূর্তে দ্বি-মাত্রিক সংকট রয়েছে। একটি হচ্ছে নির্বাচন ব্যবস্থাকেন্দ্রিক সংকট, আরেকটি হচ্ছে উন্নয়ন ধারণার সংকট। উন্নয়নের নামে বৈষম্য, দুর্নীতি আর দুঃশাসন যেভাবে রাষ্ট্র, সমাজকে গ্রাস করছে তা অত্যন্ত ভয়ের কথা। সাধারণ মানুষ এই উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কর্মসংস্থান বাড়ছে না। বৈশ্বিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণরা হতাশ হচ্ছে।
নির্বাচন সংকটের আলোচনায় উন্নয়ন ধারণা যে সংকট, তা আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। অথচ উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে আরও জোরালো আলোচনা হওয়ার কথা। শিক্ষার মান নিয়ে আলোচনা নেই, ব্যাংক লুট হচ্ছে- আলোচনা নেই, অর্থপাচারের আলোচনা নেই, শেয়ারবাজারের হাজার হাজার কোটি টাকা চলে গেল-আলোচনা নেই। এসব আলোচনা গুরুত্ব পেলেই রাজনীতির আলোচনা অর্থবহ হবে।
আমি মনে করি রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতির ব্যবস্থা নিয়ে সমান্তরালে আলোচনা তোলা উচিত। এটি শুধু রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দিলেই হবে না, নাগরিক সমাজেরও দায়িত্ব আছে।
বাংলাদেশের শেষ কোথায় এমন প্রশ্নে হতাশা না বাড়িয়ে বরং সার্বিক বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সমাধানের পথ বের করাই এখন সময়ের দাবি। আমাদের সমাধান আমাদেরই বের করতে হবে।

সাপ?তাহিক পতিবেদন

সাক্ষাৎকার
 মতামত সমূহ
পিছনে 
 আপনার মতামত লিখুন
English বাংলা
নাম:
ই-মেইল:
মন্তব্য :

Please enter the text shown in the image.